Wednesday, July 6th, 2022
‘বঙ্গবাহাদুর’র মৃত্যু, স্থানীয়দের ক্ষোভ
August 16th, 2016 at 12:48 pm
‘বঙ্গবাহাদুর’র মৃত্যু, স্থানীয়দের ক্ষোভ

জামালপুর: শেষ পর্যন্ত মারা গেছে ভারতের আসাম থেকে বন্যার পানিতে ভেসে আসা ভারতীয় বুনো হাতি ‘বঙ্গ বাহাদুর’। মঙ্গলবার সকাল ৭টায় সরিষাবাড়ি উপজেলার কয়রা গ্রামের বাদা বিলে বঙ্গবাহাদুর মারা যায় বলে জানান হাতি উদ্ধারকারী দলের সদস্য ঢাকার বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের পরিদর্শক অসীম মল্লিক।

বাংলাদেশ বন বিভাগের সাবেক বন সংরক্ষক কর্মকর্তা ড. তপন কুমার দে বলেন, উদ্ধার হওয়া ভারতীয় হাতিটিকে নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে বিপাকে পড়েন বন বিভাগের কর্মকর্তারা। সোমবার টাংকুলাইজারের মাধ্যমে আটক করার ২৪ ঘন্টা পার হতে না হতেই হাতিটি মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়ে। ক্রমশ ঝিমিয়ে পড়তে থাকে সে, এরপরই মঙ্গলবার ভোরে হাতিটি মারা যায়।

১১ আগস্ট থেকে অন্তত চারবার টাংকুইলাইজার দিয়ে হাতিটির শরীরে চেতনানাশক প্রয়োগ করা হয়। উদ্দেশ্য ছিলো, উদ্ধারের পর বনের পশুকে বনেই ফিরিয়ে দেয়া। কিন্তু, প্রতিকূল জায়গা থেকে প্রায় ৫ হাজার কেজি ওজনের একটি হাতিকে উদ্ধারযজ্ঞে নিয়োজিত ছিলেন বনবিভাগের গুটিকয়েক কর্মকর্তা। প্রয়োজনীয় ও কার্যকরি সরঞ্জামও নিয়ে যাওয়া হয়নি সেখানে। তাহলে কেনো হাতিটিকে বার বার চেতনানাশক দেয়া হলো, এই প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।

hati

স্থানীয়দের অভিযোগ, হাতি উদ্ধারের জন্য ট্রাংকুলাইজার গান দিয়ে অতিরিক্ত চেতনানাশক প্রয়োগ এবং প্রয়োজনীয় খাদ্য ও চিকিৎসা না পাওয়াই হাতিটির মৃত্যুর কারণ। তারা বলছেন, কারণ যাই হোক, দেড় মাসেও একটি হাতি উদ্ধার করতে না পারার ঘটনা জানান দিয়ে গেলো বনবিভাগের সক্ষমতার সীমা। এ কারণে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় জনগণ। যারা গত প্রায় একমাস ধরে উৎসাহ নিয়ে এটিকে দেখে আসছিলেন।

এর আগে জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার কয়ড়া গ্রামে জলাশয়ে থাকা হাতিটি রোববার ভোর ৫টার দিকে পেছনের পায়ের শেকল ছিঁড়ে পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে বন বিভাগের উদ্ধারকারী সদস্যরা সকাল ৭টার দিকে ঘটনাস্থলে এসে দেখে হাতিটি জলাশয়ে নেই। পরে তারা খোঁজাখুঁজির পর দুই কিলোমিটার দূরে উপজেলার কামরাবাদ ইউনিয়নের সোনাকান্দ গ্রামের একটি খোলা জায়গায় হাতিটিকে ঘোরাফেরা করতে দেখেন। তখন তাকে অচেতন করার জন্য ট্র্যাংকুলাইজারের মাধ্যমে ৪টি ডার্ট ছোড়া হয়। এরপর হাতিটি পড়ে না গিয়ে কাঁদা পানিতে দাঁড়ানো অবস্থায় ঝিমোতে ছিল। এ সময় হাতির পেছনের ও সামনের পায়ে শেকল ও রশি দিয়ে বেঁধে ফেলা হয়। শেষ পর্যন্ত ওই কাঁদা পানিতেই অবস্থান করছিল হাতিটি।

গত বৃহস্পতিবার দুপুরে হাতিটিকে চেতনানাশক ওষুধ দিয়ে অচেতন করা হয়। পরে হাতিটিকে ধরে শিকল ও রশি দিয়ে গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়। শুক্রবার রাতে সামনের দু’পায়ের শিকল ও রশি ছিঁড়ে ফেলে হাতিটি। এ সময় আশপাশের গাছপালা ভাংচুর করে। রাতভর হাতিটির গর্জন ও তাণ্ডবে আতংকিত হয়ে পড়েন স্থানীয়রা। শনিবার বেলা ১১টার দিকে বন বিভাগের সদস্যরা হাতিটির সামনের দুই পা বেঁধে ফেলার চেষ্টা করলে সেটি পাশের গভীর জলাশয়ে অবস্থান নেয়।

ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

ভারতের আসামের কাজি রাঙ্গা ন্যাশনাল পার্কের হাতিটি ১৭ জুন বন্যার পানিতে ভেসে কুড়িগ্রামের রৌমারীতে আসে। পরে গাইবান্দা, জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জের বিভিন্ন চরাঞ্চল ঘুরে ২৭ জুন সিরাজগঞ্জ জেলার কাজিপুর উপজেলার ছেন্নার চরের যমুনা নদীর দ্বীপে আটকে পড়ে।

ওখানে কয়েক দিন অবস্থান করার পর ২৮ জুলাই জামালপুরের সরিষাবাড়ী চলে আসে হাতিটি। এ সময় হাতিটিকে পর্যবেক্ষণ করেন বাংলাদেশ বন বিভাগের ৩টি ইউনিটের ১৭ সদস্য। তিনদফা চেতনানাশক ওষুধ প্রয়োগ করে উদ্ধার অভিযানে ব্যর্থ হন তারা। তারপর হাতিটি উদ্ধারের জন্য ভারতের তিন সদস্যের দল সরিষাবাড়ীতে আসেন ৪ আগস্ট। দলটি হাতি উদ্ধারে ব্যর্থ হয়ে ৭ আগস্ট সরিষাবাড়ী ত্যাগ করে।

বন বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তা অশীত রঞ্জন পাল বলেন, প্রায় তিনশো কিলোমিটার সাঁতার কেটে আসার পরও একটি হাতির সুস্থভাবে বেঁচে থাকার ঘটনা বিশ্বে বিরল।

নিউজনেক্সটবিডি ডটকম/শিপন আলী/মাহতাব/সাইফুল


সর্বশেষ

আরও খবর

সংসদে ৬,৭৮,০৬৪ কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব

সংসদে ৬,৭৮,০৬৪ কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব


আ’লীগ নেতা বিএম ডিপোর একক মালিক নন

আ’লীগ নেতা বিএম ডিপোর একক মালিক নন


চীনের সাথে বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে চায় বাংলাদেশ

চীনের সাথে বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে চায় বাংলাদেশ


ভোজ্যতেল ও খাদ্য নিয়ে যা ভাবছে সরকার

ভোজ্যতেল ও খাদ্য নিয়ে যা ভাবছে সরকার


তৎপর মন্ত্রীগণ, সীতাকুণ্ডে থামেনি দহন

তৎপর মন্ত্রীগণ, সীতাকুণ্ডে থামেনি দহন


অত আগুন, এত মৃত্যু, দায় কার?

অত আগুন, এত মৃত্যু, দায় কার?


যে গল্প এক অদম্য যোদ্ধার

যে গল্প এক অদম্য যোদ্ধার


আফগান ও ভারতীয় অনুপ্রবেশ: মে মাসে আটক ১০

আফগান ও ভারতীয় অনুপ্রবেশ: মে মাসে আটক ১০


সীমান্ত কাঁটাতারে বিদ্যুৎ: আলোচনায় বিজিবি-বিজিপি

সীমান্ত কাঁটাতারে বিদ্যুৎ: আলোচনায় বিজিবি-বিজিপি


চালের বাজার নিয়ন্ত্রণে কঠোর সরকার

চালের বাজার নিয়ন্ত্রণে কঠোর সরকার