Sunday, August 22nd, 2021
বরিশালে সংকটের নেপথ্যে ক্ষমতার সংঘাত
August 22nd, 2021 at 12:01 am
বরিশালে সংকটের নেপথ্যে ক্ষমতার সংঘাত

বিশেষ প্রতিনিধি, ঢাকা:

দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম বড় শহর বরিশালে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের একাংশের সাথে মাঠ প্রশাসনের সাংঘর্ষিক বিরোধের জন্য গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিকীকরণের সংকট এবং ক্ষমতার সংঘাতকে দায়ী করেছেন বিশ্লেষকরা। রাজধানীসহ সারাদেশে উত্তাপ ছড়ানো এ ঘটনা বর্তমান সরকারের জন্য একটি অশনি সংকেত বলেও মনে করছেন তারা। 

স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) মুনিবুর রহমানের বাড়িতে বুধবার রাতে হামলা ও ভাংচুরের ঘটনায় বৃহস্পতিবার বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের (বিসিসি) মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহকে প্রধান আসামি করে তাঁর অনুসারিদের বিরুদ্ধে দুটি মামলা করেছে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ। ইতিমধ্যে মামলায় দুটোয় অভিযুক্ত ঘটনায় ২২ জনকে আটকের কথা জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।  

অপরদিকে- বিসিসি মেয়রের উপর গু‌লিবর্ষনের অভিযোগ তুলে ইউএনও-কে বিচারের দাবি জানাতে শনিবার ব‌রিশা‌লে পৃথক সংবাদ স‌ম্মেলন করেছে বিভা‌গের পৌর মেয়র ও উপ‌জেলা চেয়ারম্যানরা। এছাড়া মেয়রের পক্ষে বি‌ক্ষোভ ক‌রে‌ছে বিসিসির কর্মকর্তা-কর্মচারী ও বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ।

এই পরিস্থিতি সম্পর্কে রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. এম আতাউর রহমান নিউজনেক্সটবিডিকে  বলেন, “ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের যারা নেতৃস্থানীয় আছেন তাদের দুঃশ্চিন্তাগ্রস্থ হওয়া উচিত। কারণ পরবর্তীতে দেশের অন্য কোনো জায়গায় যদি এমন ঘটনার পুনুরাবৃত্তি ঘটে তাহলে শাসন ব্যবস্থা হুমকীর মুখে পড়বে।”

বাংলাদেশ রাষ্ট্রবিজ্ঞান সমিতির এই সাবেক সভাপতির মতে, “রাজনৈতিক শক্তির সাথে রাষ্ট্রীয় শক্তির দ্বন্দ্বটা যতো প্রশমিত হয় ততোই ভালো। এটা প্রকট হলে সরকার ব্যবস্থা দুর্বল হবে, অর্থাৎ সরকারের শাসন করার ক্ষমতা কমে যাবে।”

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রাক্তন অধ্যাপক ড. আতাউর আরো বলেন, “এই দ্বন্দ্ব আগেও ছিল। কিন্তু এর আগে কখনো এতটা প্রকাশ্যে আসেনি, যেমনটা এবার আমরা দেখতে পাচ্ছি। এ ধরণের সংঘাদ ভালো না। এটা রাষ্ট্রের জন্য খুবই ক্ষতিকর।”

এই ঘটনায় গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিককরণে সমস্যার পাশাপাশি সেখানকার রাজনৈতিক ক্ষমতার সংঘাতও দৃশ্যমান হয়েছে বলে উল্লেখ করেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডীন ও রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারমা্যন ড. অরুণ কুমার গোস্বামী।  

নিউজনেক্সটবিডিকে  তিনি বলেন, “সিটি মেয়র এবং ইউএনও দুজনেই স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার অংশ। এক্ষেত্রে পার্থক্য হচ্ছে সিটি কর্পোরেশন স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন ব্যবস্থা, যা ওই এলাকার জনসাধারণ দ্বারা নির্বাচিত এবং ইউএনও হচ্ছে কেন্দ্রীয় শাসন ব্যবস্থা, তথা সারাদেশের জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারের নির্বাহী বিভাগের অংশ।”

তাঁর মতে, “বরিশালের ঘটনায় প্রাতিষ্ঠানিকীকরণের প্রশ্নে স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন ব্যবস্থা এবং কেন্দ্রীয় শাসন ব্যবস্থার মধ্যে ক্ষমতা ভাগাভাগির একটি বিষয় যেমন বিষয় রয়েছে, আবার স্থানীয় রাজনীতির সংঘাতও প্রকাশ্যে এসেছে।”

“ইউএনও-র ভাষ্য মতে, তিনি স্থানীয় সংসদ সদস্য ও পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক শামীমে ছবি সম্বলিত জাতীয় শোক দিবসের ব্যানার রক্ষার চেষ্টা করেছিলেন, মেয়রের অনুসারীরা যা অপসারণ করতে চাইছিল,” উল্লেখ করে এই রাজনৈতিক বিশ্লেষক বলেন, “প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী হিসেবে মন্ত্রীকে প্রটোকল দেওয়া যেমন ইউএনওর দায়িত্ব, তেমনই জাতির পিতার শাহাদাৎ বার্ষিকীর ব্যানার রক্ষাও তাঁর দায়িত্বের মধ্যে পরে, সেটা যার পক্ষ থেকেই টানানো হোক না কেন।”

ইউএনওর পক্ষ থেকে দায়ের করা মামলার এজাহারেও জানানো হয়েছে তিনি শোক দিবসের  ব্যানার আগস্ট মাস শেষ হওয়ার আগে নামিয়ে ফেলার বিরোধীতা করেছিলেন। এর আগে ঘটনার পরপরই বরিশাল জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি সাজ্জাদ সেরনিয়াবাত সাংবাদিকদের বলেছিলেন, “ইউএনও মুনিবুর রহমান নিজে বন্দুক নিয়ে গুলি ছুড়েছেন।” মেয়র ঘটনাস্থলে যাওয়ার পর তাঁকে লক্ষ্য করেও গুলি ছোঁড়া হয়েছে বলেও তিনি জানিয়েছিলেন।

ড. অরুণ বলেন, “১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ধানমণ্ডির ৩২ নম্বর সড়কে বঙ্গবন্ধুর পরিবার বা মিন্টো রোডের সেরনিয়াবাদ পরিবার দেশ এবং জনগণের জন্যই জীবন দিয়েছেন। সেদিন এই সাদিক আবদুল্লাহ, তাঁর বাবা আবুল হাসানাত আবদুল্লাহসহ কেউ কেউ ভাগ্যের জোরে বেঁচে গিয়েছিলেন বলেই আজও দক্ষিণবঙ্গে সেরনিয়াবাদ পরিবারকেই আওয়ামী লীগের অভিভাবক মনে করা হয়। তাদের অবদান অনস্বীকার্য হলেও বরিশালে এই পরিবারের বাইরের কেউ দলটির নেতা হবে পারবে না- এমন মনোভাব মোটেও সুস্থচর্চা নয়। তারাও এমনটা চায় কি-না সে ব্যাপারে আমার সন্দেহ রয়েছে।”

এই রাষ্ট্রবিজ্ঞানীর মতে, “কিছু অতি উৎসাহী অনুসারীই তাঁদের বিপদে ফেলেছে। যে কারণে ক্ষমতাসীন সরকার এবং দলটির দায়িত্বশীলরাও এখন বিব্রত।”

ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিকটাত্মীয় সাদিককে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছে দেশের প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস এসোসিয়েশন (বিএএসএ)। এ ব্যাপারে নিউজনেক্সটবিডি বরিশালের মেয়রের বক্তব্য জানার চেষ্টায় বহুবার যোগাযোগ করেও তাঁর সাড়া পায়নি।

তবে বিএএসএ এই দাবি জানানোর আগে বেসরকারি টিভি চ্যানেল আইয়ের একটি টকশোতে অংশ নিয়ে সাদিক বলেন, “এ ঘটনায়  যদি আমার অপরাধ হয়ে থাকে, আমি পদত্যাগপত্র দিয়ে দেবো।” তিনি আরো বলেন, “আমি বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্য। প্রধানমন্ত্রী আমার ফুপু হন। আমি চাইলে অনেক কিছুই করতে পারলাম। কোনো কিছু করি নাই।”ঘটনার পর থেকেই বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানিয়ে আসছে বরিশাল আওয়ামী লীগ ও বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠন।

বিএএসএ সভাপতি কবির বিন আনোয়ার এক বিবৃতিতে বলেন, “বরিশালের ঘটনাবলী বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, সরকারি কর্তব্য পালন করতে গিয়ে একজন নির্বাহী অফিসার কীভাবে রাজনৈতিক দুর্বৃত্তদের দ্বারা হেনস্থা হয়েছেন।” এই ঘটনার প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার রাতে সন্ধ্যায় জরুরী সভা ডেকে বিএএসএ সিদ্ধান্ত নেয়, “আইনের মাধ্যমেই দুর্বৃত্তদের মোকাবেলা করা হবে।”

মেয়রের অত্যাচারে সমগ্র বরিশালবাসী অত্যন্ত অতিষ্ট এবং তাঁর হুকুমেই এই ঘটনা সংঘটিত হয়েছে উল্লেখ করে তারা এমন কার্যকলাপের তীব্র নিন্দা জানায়। পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের ওই সিনিয়র সচিব বিবৃতিতে আরো উল্লেখ করেন, “মেয়র সাদিক ও তার দুর্বৃত্ত বাহিনী সিটি করপারেশনের কর্মচারীদের দিয়ে নানা প্রকার প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে এবং সমস্ত জেলায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে।”

যারই প্রেক্ষিতে শুক্রবার তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘আমি দেখেছি প্রশাসন ক্যাডারের পক্ষ থেকে তড়িঘড়ি করে একটি বিবৃতি দেয়া হয়েছে।” বরিশালের ঘটনাটি অনভিপ্রেত ও অত্যন্ত দুঃখজনক উল্লেখ করে ক্ষমতাসীন দলের এই যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আরো বলেন, “এই ঘটনাকে পুঁজি করে কাউকে পানি ঘোলা করতে দেয়া হবে না এবং আমি মনে করি, তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটিত হওয়ার আগে এ নিয়ে কারও অতিমাত্রায় কথা বলা বা কিছু করা সমীচীন হবে না।”

ড. আতাউর নিউজনেক্সটবিডিকে বলেন, “যদিও একটি ঘটনা দিয়ে দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করা যায় না। তবে এখন রাজনৈতিক শক্তি এবং প্রশাসনিক শক্তি, দুই পক্ষই নিজেদের আধিপাত্য বিস্তার করতে চাইবে। তাছাড়া স্থানীয় রাজনীতির কারণে বরিশালের ঘটনাটি এত জটিল হয়ে গেছে যে সরলীকরণের কোনো উপায় নেই। সেখাকার মেয়র ও প্রতিমন্ত্রী, দুই পক্ষই বেশ প্রভাবশালী। তাদের বিষয়টি দ্রুতই নিস্পত্তি করে ফেলা উচিত।”

বরিশাল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি স্বপন খন্দকার শনিবার দুপুরে নিউজনেক্সটবিডিকে  বলেন, “এখানকার পরিস্থিতি এখনো কিছুটা থমথমে। সাধারণ মানুষও ঘটনাটির দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রেখেছে।”

বিসিসি পরিচ্ছন্নকর্মীরা ঘটনার পর থেকে নগরীর ময়লা আবর্জনা অপসারণ বন্ধ করে দিয়েছে। এ ঘটনা উল্লেখ করে বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) প্রার্থী মেয়র নির্বাচনে অংশ নেওয়া ডা. মনীষা চক্রবর্তী ফেসবুকে লিখেছেন, “ব্যক্তিগত খেয়ালখুশির উপর জনগনের সেবাপ্রাপ্তি জিম্মি করা খুবই অপেশাদারি আচরণ।”

সর্বশেষ শনিবার সন্ধ্যায় এক সংবাদ সম্মেলনে মেয়র সাদিক তাঁর পক্ষে প্রতিবাদকারীদের ধন্যবাদ জানিয়ে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের কাজে ফেরার আহবান জানান। তিনি বলেন, “বরিশালের জনগণের যাতে ভোগান্তি না হয়, সেজন্য এটা জানান দিতেই আপনাদের (সাংবাদিকদের) ডেকেছি। দয়া করে আমাকে অন্য কোনো প্রশ্ন করবেন না।”  
 
“যদি এই অন্যায় করে থাকি তবে আমি সিটি কর্পোরেশন বা দলের পদে থাকার যোগ্য নই,” উল্লেখ করে সাদিক বলেন, “আমি যদি কোনো অন্যায় করে থাকি, অবশ্য্ই তার বিচার হওয়া উচিত।” গ্রেফতার হওয়ার আশঙ্কা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “গ্রেফতারের জন্য প্রস্তুত হয়ে আছি। আমার বাসা ঘেরাও করে রাখতে হবে না। আমি পালিয়ে যাব না। তবে এটা আবদুর রব সেরনিয়াবাদেরও বাড়ি, একটি রাজনৈতিক ঐতিহ্য ধারণ করে। আমাকে বললে আমি থানায় হাজির হয়ে যাব।”

ইতিপূর্বে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিলেও বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার সাইফুল হাসান বাদল শুক্রবার সাংবাদিকদের বলন, “বর্তমানে বরিশালের পরিস্থিতি শান্ত আছে। এই মুহূর্তে বিজিবি মোতায়েনের প্রয়োজন নেই। তবে বিজিবি প্রস্তুত রয়েছে। যদি প্রয়োজন হলে মোতায়েন হবে।”

স্থানীয় আওয়ামী লীগের সিটি মেয়র সমর্থিত অংশের নেতাকর্মীরা বুধবার রাতে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও)  বাসায় হামলা চালালে  তাদের প্রতিহত করতে গুলি বর্ষণ ও লাঠিচার্জ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।  এই সময় দুপক্ষের সংঘর্ষে অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী এবং বাহিনীগুলোর কয়েকজন সদস্য আহত হন।  যার প্রেক্ষিতে অঘোষিত ধর্মঘটে  বেশ কিছু সময় সারাদেশ থেকে যোগাযোগ বিচ্ছিন্নও ছিল বরিশাল।  শুরু থেকেই এ ব্যাপারে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও প্রশাসন।

গ্রেফতার অব্যাহত: বিসিসির ২১ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর এবং মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ সাঈদ আহমেদ মান্নাকে রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে শনিবার দুপুরে গণমাধ্যমকে জানিয়েছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইং। এর আগে শুক্রবার রাত পৌনে ১০টার দিকে মোহাম্মদপুরের শিয়া মসজিদ এলাকা থেকে দুটি মাইক্রোবাসে একদল সাদা পোশাকধারী তাকে তুলে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করেছিলেন মান্নার বোন কানিজ ফাতেমা বনা।

বরিশাল-পটুয়াখালী মিনিবাস মালিক সমিতির সভাপতি মমিন উদ্দিন কালুকে শুক্রবার রাতে গ্রেফতারের কথা উল্লেখ করে বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, শনিবার দুপুর পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে মোট ২১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আটককৃতদের মধ্যে মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসান মাহামুদ বাবু এবং বরিশাল জেলা বাস মিনিবাস কোচ ও মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আহমেদ শাহরিয়ার বাবুও রয়েছেন।

অভিযোগ রয়েছে, ঘটনার দিন ঢাকায় ছিল এমন ছাত্রলীগ নেতাকেও মামলার আসামি করা হয়েছে এবং কয়েকমাস আগে মারা যাওয়া মেয়রপন্থী কর্মীর বাসায়ও অভিযান চালিয়েছে র‌্যাব-পুলিশ। তবে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের (বিএমপি) উপ-পুলিশ কমিশনার জনাব মোঃ আলী আশরাফ ভূঞা সাংবাদিকদের বলেন, “মামলার তদন্তের স্বার্থে যাকে প্রয়োজন তাকেই গ্রেফতার করা হবে। তবে নিরপরাধ কাউকে হয়রানি করবে না পুলিশ।”

সরব কাদের-ফখরুল: বৃহস্পতিবার বিকেলেই রাজধানীতে এক সভায় আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, “নেত্রীর (প্রধানমন্ত্রীর) নির্দেশে কাজ করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। কাউকে ছাড় দেয়া হবে না,” সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী কাদেরের দাবি, “এটা আওয়ামী লীগ, এটা বিএনপি নয়। নিজেদের দলের কেউ অপরাধ করলে শাস্তি দেয়ার দৃষ্টান্ত বিএনপিতে নেই। আওয়ামী লীগ আমলে শেখ হাসিনা এমন ভূরি ভূরি দৃষ্টান্ত দিয়েছেন। আপন লোকদের শাস্তি দিয়ে, জেলে পাঠিয়ে প্রমাণ দিয়েছেন।” পরে শুক্রবার বিবৃতি দিয়ে একই কথা পুনুরাবৃত্তি করে তিনি বলেন, “বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সর্বদা আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় বদ্ধপরিকর।”

ওদিকে বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে বরিশালের ঘটনা উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, “সারাদেশে এরকম সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে তারা(ক্ষমতাসীন দল)। এটাকে কি কোনো সভ্য গণতান্ত্রিক দেশ বলবেন?” শুক্রবার আরেকটি অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “শুধু বরিশাল না, অনেক জায়গায় আমরা দেখেছি যে, প্রশাসনের সঙ্গে আওয়ামী লীগের যারা দায়িত্বে আছেন তাদের একটা সংঘর্ষ হচ্ছে, সংঘাত হচ্ছে। এটা ব্যর্থ রাষ্ট্রের লক্ষণ।”


সর্বশেষ

আরও খবর

করোনায় চার মাস পর সর্বনিম্ন ২১ জনের মৃত্যু

করোনায় চার মাস পর সর্বনিম্ন ২১ জনের মৃত্যু


ডিসেম্বরের মধ্যে দেওয়া হবে ১০ কোটি টিকা: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

ডিসেম্বরের মধ্যে দেওয়া হবে ১০ কোটি টিকা: স্বাস্থ্যমন্ত্রী


গ্রামীণ ব্যাংকের বিরুদ্ধে ২ মামলা

গ্রামীণ ব্যাংকের বিরুদ্ধে ২ মামলা


করোনায় সারাদেশে আরও ২৪ জনের মৃত্যু

করোনায় সারাদেশে আরও ২৪ জনের মৃত্যু


দাখিল পরীক্ষা শুরু ১৪ নভেম্বর

দাখিল পরীক্ষা শুরু ১৪ নভেম্বর


এ বছরই দেশে ফাইভ জি চালু হবে: জয়

এ বছরই দেশে ফাইভ জি চালু হবে: জয়


বিমানবন্দরে শুরু হলো করোনার পরীক্ষামূলক পরীক্ষা

বিমানবন্দরে শুরু হলো করোনার পরীক্ষামূলক পরীক্ষা


ই-কমার্স বন্ধ না করে প্রতারণা ঠেকাতে আইন করার মতামত ৪ মন্ত্রীর

ই-কমার্স বন্ধ না করে প্রতারণা ঠেকাতে আইন করার মতামত ৪ মন্ত্রীর


করোনায় আরও ২৬ জনের মৃত্যু, চার মসে সর্বনিম্ন

করোনায় আরও ২৬ জনের মৃত্যু, চার মসে সর্বনিম্ন


ভারতে দুই হাজার টন ইলিশ রফতানির অনুমতি

ভারতে দুই হাজার টন ইলিশ রফতানির অনুমতি