Wednesday, June 3rd, 2020
বর্ণবাদ নিপাত যাক
June 3rd, 2020 at 1:45 pm
বর্ণবাদ নিপাত যাক

কাজি ফৌজিয়া;

আমি একজন বাংলাদেশী অরিজিন আমেরিকান, কালো মানুষদের সম্পর্কে কোন রকমের বর্ণবাদী আচরণ বরদাস্ত করতে পারি না। এই যে “ব্ল্যাক লাইভ ম্যাটার” আন্দোলন চলছে এই আন্দোলন কে পুরাপুরি সাপোর্ট করি। মনে প্রাণে সাপোর্ট করি – সামাজিক মাধ্যম বা মিডিয়া তে দেখছি যে ক্ষুব্ধ আন্দোনলকারীরা রাস্তা দখল করে আছেন। এরই মধ্যেই কিছু ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনাও ঘটেছে।

গত এক শতাব্দী আমেরিকার এমন চেহারা কেউ দেখেনি তাই সবাই হয়ত রেগে যাচ্ছে যে কেন আন্দলনের নামে এই লুটপাট? আমার প্রশ্ন গত দুই দশকের উপরে আমরা বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ড দেখেছি, অগুনিত “পুলিশ কিলিং”। আমি গত ১২ বছরে অসংখ্যবার রাস্তায় নেমেছি বিচারের দাবিতে ! হাতেগোনা কয়েকজন পুলিশ অফিসার সাজা পেয়েছে আর বাকিরা ডিউটিতে ফিরে গেছে! অন্যায় যখন আমাদের সামনে ঘটে আর বেশির ভাগ মানুষ চুপ থাকে আর কেউ কেউ প্রতিবাদ করে, একদিন সেই চুপ থাকার অপরাধে সেই অন্যায় আমাদের সবাইকে ভাসিয়ে নিয়ে যায়।


আজ আমরা যারা কোন অন্যায় করিনি প্রতিবাদ করেছি বা চুপ থেকেছি সবাই ভুক্তভোগী। মিনেসোটার বাংলাদেশী রেস্টুরেন্ট যে আগুনে পুড়ে গেল সেই আগুন যে ব্যক্তিগত প্রতিশোধের আগুন নয় সমষ্টিগত মানুষের চুপ থাকার আগুন তা আমাদের শ্রদ্ধেয় বাংলাদেশী ভাই, আপা আর তাদের সন্তানেরা বুঝেছে তাই তারাও আন্দোলন কে সাপোর্ট করছে। ‘আমার ব্যবসা হয়ত আমি আবার গড়ে তুলতে পারব কিন্তু ফ্লয়েড জীবন তো আর ফিরে পাওয়া যাবে না। আমার ব্যবসা জ্বলে জ্বলুক ন্যায় বিচার কায়েম হউক” – যতবার আমি কথাটি পড়ি আমার চোখ অশ্রুসিক্ত হয়ে পরে। আমি এই বাংলাদেশী ভাই-বোন ও তাদের বাচ্চার জন্য গর্ব বোধ করি।

গত কয়েকদিন অনেক দোকানপাটে আগুন,লুটতরাজ, ভাংচুর হয়েছে – সব বড় করপোরেট বিজনেস নয়, অনেক ক্ষুদ্র ব্যবসা করোনার পরে কি করে ব্যবসা চালাবে সেই চিন্তায় অস্থির ছিল। এমন মহাদুর্যোগে তাদের ব্যবসা ধ্বংসের মুখে পরা সত্যি কঠিন বাস্তবতা, অনেক বাংলাদেশীদের ব্যবসা ও এই ধংসের মুখে পরেছে। এটা খুব কষ্টের সময় সকলের জন্য আমরা এমন একটি কঠিন বাস্তবতা মোকাবিলা করছি যার জন্য আমরা দায়ী নই, প্রস্তুতও নই। এই অবস্থা কেটে গেলে আমাদের সকলে মিলে চিন্তা করতে হবে আমাদের ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে কিভাবে সাহায্য করতে পারি যাতে তারা আবার নতুনভাবে ব্যবসা শুরু করতে পারেন।

করোনা ভাইরাস আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল যে আমাদের পাবলিক হেলথ কতটা ভঙ্গুর। ফেডারেল গভর্নমেন্ট ও প্রতিটি অঙ্গরাজ্য সরকার পুরোপুরি ব্যর্থ হল জনগণের জানের নিরাপত্তা দিতে।যে আমেরিকার স্বাস্থব্যবস্থা নিয়ে আমাদের এত গর্ব সেই আমরা হারালাম এক লক্ষের উপর আপনজন।

স্বজন হারানোর শোক, লক-ডাউন এর মানসিক যাতনা, কর্মহীনতা আর স্বাভাবিক জীবন ফিরে পাওয়ার অনিশ্চয়তা, ভবিষ্যৎ খাদ্য সংকট-এর আশংকার মাঝেই মানুষ দেখল জর্জ ফ্লয়েড এর বর্বরোচিত মৃত্যু । প্রশাসনের উদাসীনতা, বর্ণবাদ আর চার পুলিশ কে শাস্তির জন্য যথেষ্ট আইনি ব্যবস্থা না নেওয়া মানুষ মেনে নিতে পারল না।

করোনা মহামারি হেরে গেল বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের কাছে। মানুষ আক্রান্ত হওয়া সামাজিক দূরত্ব কে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বেড়িয়ে পরল রাস্তায়।আমিও গিয়েছিলাম মিছিল করতে মাস্ক আর গ্লাভস পরে গেলেও সামাজিক দূরত্ব নেই কিন্তু আছে সকলের ভিতরে রাগ, আছে আগুন – বর্ণবাদ কে আজই শেষ করার আগুন। আমার মত অহিংস মিছিলকারীরা ঘরে ফিরেছে কিন্তু বর্ণবাদের শেষ দেখে নিবে,আর আন্দোলন উসিলায় কিছু খারাপ লোক তাদের স্বার্থসিদ্ধি করছে আর কিছু আমেরিকান যুবা যারা অনেকদিন লক-ডাউন থেকে জীবনে কোন আনন্দ খুঁজে পাচ্ছিল না তারা ভাংচুর লুটপাট এ ফান খুঁজে পাচ্ছে – এরা ঘরে ফিরেনি । এদের ঘরে ফিরাতে কারফিউ দিয়েও লাভ হয়নি আরও বেশী পরিমাণ লোক কারফিউ অমান্য করে বাইরে চলে গেছে। হোয়াইট হাউজের সামনে তো বর্ডার পেট্রোল এনেও কাজ হচ্ছে না , রাতভর মানুষ অবরোধ করে বসে আছে।

আমেরিকার পুলিশ প্রশাসন ফ্লয়েড-এর খুনি পুলিশ এর বিষয়ে শত বছরের বর্ণবাদী নিয়মে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়েছিল – তারা দাবার চালের মত চালে ভুল করে ফেলেছে। এখন এই চার পুলিশের বিরুদ্ধে প্রথম ডিগ্রি মার্ডার চার্জ আনলেও মানুষ ঘরে ফিরে আসবে কি না কেউ বলতে পারছে না।

করোনার আক্রান্তের সংখ্যা বাড়বে বলে আশংকা করছে বিশ্ব স্বাস্থ সংস্থা – কিন্তু কে শুনবে কার কথা, এক কালো বাবা তার বাচ্চা কাঁধে আন্দোলনে সাংবাদিক জানতে চাইল কভিড আক্রান্ত হবার ভয় নেই তোমার? তার জবাব আছে তবে এই “পুলিশ কিলিং” তার চেয়ে বড় ভয় প্রথমে এটাকে শেষ করতে চাই! আমি মনে করি পুলিশ আর্মি দিয়ে দমননীতি কাজ হবে না ঐ চার পুলিশের বিরুদ্ধে সঠিক চার্জ আনা আর জনগণ কে বুঝিয়ে সুজিয়ে ঘরে ফেরানোর চেষ্টা করতে হবে।

বিভিন্ন রাজ্যে পুলিশদের হাঁটু গেড়ে ক্ষমা পার্থনায় কিছুটা কাজ হচ্ছে একজন নগর পিতা রাজ্য সরকার পুলিশের প্রধান সবাইকে সংযম দেখাতে হবে। আর আপোষ আলোচনা করে সবাইকে ঘরে ফিরাতে হবে। ট্রাম্প নামক প্রসিডেন্ট এর উপর এই দায়িত্ব ছেড়ে দিলে আমাদের অবশ্যই একটি আইন সংস্থা বনাম নাগরিকদের ধ্বংসের সামনাসামনি হতে হবে। কাল মানুষদের সাথে ঘটে যাওয়া অন্যায় সহ্য করার দিন শেষ হয়ে যাক কাল আর বাদামী মানুষের অধিকার ও হয়ে উঠুক শাদাদের সমান এই হোক চলমান আন্দোলনের লক্ষ্য।

কাজি ফৌজিয়া


সর্বশেষ

আরও খবর

এরকম ভীতিপ্রদ সমাজে নারী নির্ভয়া হবে কী করে

এরকম ভীতিপ্রদ সমাজে নারী নির্ভয়া হবে কী করে


গুড বাই গোল্ডেন ফাইবার!

গুড বাই গোল্ডেন ফাইবার!


করোনাকালঃ ওল্ড নরমালে প্রত্যাবর্তন

করোনাকালঃ ওল্ড নরমালে প্রত্যাবর্তন


ব্যবসায়ী লতিফুর রহমানের প্রয়াণ ও গণমাধ্যমের সংবাদ পর্যবেক্ষণ

ব্যবসায়ী লতিফুর রহমানের প্রয়াণ ও গণমাধ্যমের সংবাদ পর্যবেক্ষণ


বাংলাভাষীর আপোষের খনি

বাংলাভাষীর আপোষের খনি


মুছে ফেলো দক্ষিণ এশিয়ার মানুষের বিভাজন রেখা

মুছে ফেলো দক্ষিণ এশিয়ার মানুষের বিভাজন রেখা


প্রসঙ্গঃ গ্রাম্যতার সংকট

প্রসঙ্গঃ গ্রাম্যতার সংকট


ভালোবাসার বাতিঘর

ভালোবাসার বাতিঘর


মানুষঃ অসীম ক্ষমায় আর সম্ভাবনায়

মানুষঃ অসীম ক্ষমায় আর সম্ভাবনায়


এ দেশে কেবল মানুষ বাস করে!

এ দেশে কেবল মানুষ বাস করে!