Tuesday, September 6th, 2016
‘বাঁচাও সুন্দরবন’ এবং আমাদের অবিশ্বাসী মন (দ্বিতীয়া পর্ব)
September 6th, 2016 at 2:16 pm
‘বাঁচাও সুন্দরবন’ এবং আমাদের অবিশ্বাসী মন  (দ্বিতীয়া পর্ব)

বিধুনন জাঁ সিপাই:

গত পর্বে যা বলছিলাম আশা রাখি পাঠক তা থেকে খুব বেশি ভুলতে পারেন নাই।

পহেলা কিস্তিতে শেষ করছিলাম এই বলে, ‘আশে-পাশে, ভূতে-বর্তমান ঘুরে ঘুরে দেখতে চাই কি হচ্ছে বা হয়েছে আমাদের রাজনৈতিক মানসে। শিরোনামে আমাদের অবিশ্বাসী মনের কথা বলেছি। কিন্তু এই অবিশ্বাস হঠাৎ করে আসমান থেকে তো নাযিল হয় নাই। অবশ্যই এ কথা মানতে হবে এই জনমানসের জমিনে অবিশ্বাসের বীজ রোপিত হয়েছিল, সেখানে যত্ন করে কেউ পরিচর্যা করেছিল বা করছে বলেই অবিশ্বাস জেগে উঠেছে, আর বিশ্বাস মরে গেছে। বিশ্বাস এখন একটা প্রাগৈতিহাসিক ব্যাপার। কোন কালে আমরা বিশ্বাসে ছিলাম, সেই বিশ্বাস বিশ্বাসঘাতকতা করেছিল বলেই আমরা এখন বিশ্বাসের আগে ‘অ’ বর্ণ যুক্ত করে দিয়েছি। ‘বিশ্বাস’ থেকেই যেহেতু ‘ঘাতক’ জন্মাইছে অতএব সেই ঘাতকের পরিচয় পেতে বিশ্বাসের অধিতে যেতে হবে।

আমরা আমাদের ‘অবিশ্বাস’র অধি এবং লড়াইয়ের গতি কোনদিকে যাচ্ছে তা বুঝতে চাচ্ছি। এখানকার সকল প্রকার চিন্তা এবং চেতনের সাথে সম্পর্কিত রাজনীতি’র ভাব, অভাব এবং ভাবনা কে এই মুহুর্তে দেখে নিতে চাচ্ছি। এটা প্রয়োজন হয়ে পড়ছে কেবলমাত্র সুন্দরবন রক্ষার লড়াইয়ের জন্য না, সকল প্রকার স্বেচ্ছাচারিতার বিপক্ষে চিরায়ত বাঙাল লড়াই চালিয়ে যাওয়ার করণ কারণ’র দরকারেই এই আলাপন।

আমাদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা ইতিহাস নতুন নয়, এ বেশ পুরানা মদ, নতুন লেবেলে কেবলমাত্র পরিবেশন করা হচ্ছে। সেই ইতিহাসের বিস্তারিত বয়ান করার সুযোগ এখানে পাব না। আবার আমাদের মধ্যে ইতিহাস সম্পর্কে একধরনের রুপকথা প্রচলিত আছে বলে ইতিহাসের চর্চা করা খুব একটা সুবিধারও নয় এখানে। সব থেকে বড় কথা হইল ‘গোল্ডফিশ’ মাছের স্মৃতি নিয়া ইতিহাসের পাঠ নেয়া যায় না। ঘটনার দোলনে আমরা এতটাই দুলে যাই যে, কেন দুলছি তাই আর জানি না? কখন থেকে কিভাবে এই দোলাদুলি শুরু হল তাই নিয়া কাটাকাটি বাঁধিয়ে নয়া ‘দোলন কাল’ শুরু হয়। অবিশ্বাসের যাত্রাপথের একটা ঘটনা ২০১৩ সালেই ঘটেছে। গোটা জপদ জুড়ে যেন এক দাবীর মঞ্চ বসেছিল। উদ্বেল সেনানীর মত এখানকার শিশু-কিশোর, যুবক-যুবতী সহ গোটা বঙ্গ মুল্লুক যেন এক শ্লোগানে নাচছিল যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবীতে। বাঙাল সন্তানেরা পূর্বপুরুষের হত্যাকারীর বিচারের দাবীতে ঘর থেকে নেমে এসে জড়ো হয়েছিল রাস্তায়। সেই অপূর্ব নয়নাভিরাম সতেজ যাত্রা আমাদের সকলেরই দেখা। কিন্তু একথা তো সত্য এই আন্দোলনের বিপক্ষের শক্তি ছিল। কিন্তু সেই বিপক্ষকে সঠিক সময়ে মোকাবিলা করতে ব্যর্থ হয়েছে বলেই, এখনকার নাগরিকদের মধ্যে গন আন্দোলন সম্পর্কিত অবিশ্বাস জড়ো হয়েছে। জনগনের নিজস্ব জাগরনের একতা মঞ্চ কি করে খন্ড বিখন্ড হয় সে বিষয়ে উদাহরন হিসেবে গনজাগরণ মঞ্চকে পাওয়া যাবে সর্বাগে।

যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসি কার্যকর এবং অন্যান্য দাবী সহ শাহবাগ আন্দোলনে শুরু হওয়ার কিছুদিন পরেই ধর্ম ইস্যুতে এখানকার আলেম তথা ধার্মিক গোষ্ঠীগুলোকে রাজপথে আমরা দেখেছি। কিন্তু উত্থাপিত হেফাজতের ১৩ দফা ধর্মীয় ইস্যু না, বরং জামায়াতে ইসলামের দাবী দাওয়াই ছিল। নিজস্ব চিন্তা চেতনা বিশ্বাসের সুরক্ষার দাবী নিয়া রাষ্ট্রে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার স্বাধীনতা প্রত্যেকেরই আছে। সে হিসেবে হেফাজত ইসলাম’র আন্দোলন করার স্বাধীনতাকে আমরা সম্মান করি। যদিও যুদ্ধাপরাধীদের বিষয়ে তাদের অবস্থান কি তা খোলাসা না করেই শাহবাগ’র বিরুদ্ধাচারণ প্রশ্নবিদ্ধও বটে। সে অন্য আলোচনা এখানে তা করার অবকাশ নাই। কিন্তু প্রশ্ন হইল, হেফাজত কিম্বা ধর্মীয় গোষ্টীদের কাজ কি কেবলই ধর্ম রক্ষার লড়াই? এবং ধর্ম কি নিজের পরিবেশ প্রতিবেশ রাজনীতি সম্পর্কে সচেতন এবং সংগ্রামী থাকতে বলে না?  সুন্দরবন রক্ষার লড়াইয়ে নিজেদের সামিল করাটা কি তাদের ধার্মিকতার জন্যে জরুরতী জেহাদ নয়? সুন্দরবন কি কেবলই বামদের আন্দোলন নাকি দেশের প্রত্যেক মানুষের মৌলিক অধিকার বিষয়ক সংগ্রাম? সে বিষয়ে সুস্পষ্ঠ বক্তব্য এখানকার ডানপন্থী রাজনৈতিক মঞ্চ থেকে আসে নাই এখন পর্যন্ত। কিন্তু এখানকার রাষ্ট্র প্রশ্নে তাদের অবস্থা তারা নিশ্চিত করে চলছেন। যদি ডানপন্থীরা মনে করেন কেবল, ‘বিসমিল্লাহীর রাহমানীর রাহীম’ কিম্বা ‘রাষ্ট্র ধর্ম ইসলাম’ রাখার জন্য ‘নারায়ে তাকবির’ হাঁক দিয়েই তাদের ধার্মিকতার ঈমানী দায়িত্ব হাসিল হইছে, তাইলে সামনের দিনে তাদের বিপদ ঘনিয়ে আসছে সে কথা বলে দেয়া যায়। অথবা যদি এখানকার প্রাতিষ্ঠানিক ধর্মজীবি রাজনৈতিকগন মনে করেন যে সুন্দরবন রক্ষার লড়াই যেহেতু এখনও বামপন্থি সিলসিলা নিয়া আছে তাই সেই আন্দোলনে নিজেকে সামিল করাটা বে-শরিয়তি হয়ে যাবে তাহলে আমাদের মন্তব্য হইল দয়া করে শরিয়তি কিতাবে আর একবার মনোনিবেশ করুন। একথা মান্য যে বঙ্গীয় মুসলিম সমাজের মানসে ধর্মতাত্ত্বিক সুরত সিলসিলার বেশ কার্যকর। উদাহরণ আমাদের সামনেই পাবেন। মাতৃভূমি কে স্বাধীনতা আন্দোলনে পরিচয় করানো হয়েছে ‘পবিত্র’ বিশেষণ দ্বারা। কিম্বা যদি ‘শাহাদাত’ ‘শহীদ’ ‘সতীত্ব’  শব্দগুলোর প্রকোপ দেখেন আমাদের রাষ্ট্র ব্যবস্থায় তাহলে বুঝবেন ধর্ম কিভাবে এখনো রাষ্ট্রের কোলের আয়শেই আছে। রাষ্ট্রও একই সময়ে ধর্মের এই প্রতিশব্দ গুলোর যথেচ্ছ ইসতেমালও করেছে। কিন্তু আমরা এখানে কোন ইসতেমাল করতে বলছি না। আমাদের আহ্বান হল, সুন্দরবন প্রশ্নে এখানকার ধার্মীকগন তাদের অবস্থানের রুপরেখা পেশ করুন।

ষোল কোটি মানুষের এই বিশাল জনসংখ্যার ক্ষুদ্রতম দেশের জঠর হল সুন্দরবন। সুন্দরবন রক্ষার লড়াই কোন এনজিওবাদী সুড়সুড়ি মূলক ‘ইকো-ফ্রেন্ডলি’ লড়াই না। এটা বোঝা ও জানা দরকার আন্দোলন এবং সুন্দরবন উভয়ের স্বার্থেই। এই আন্দোলন এখনও পর্যন্ত বিশাল শ্রেনী মানুষের আন্দোলন না হয়ে উঠতে পারার অন্যতম কারন এই আন্দোলনের কর্মসূচি শহর কেন্দ্রিক এবং আরো স্পষ্ট করে বললে ঢাকা শহরমুখি। গ্রাম অথবা মফস্বল এখনো এই আন্দোলনে নিজেদের শরিক করতে পারে নাই। এই দোষ গ্রামের যতটা না তার থেকেও বেশি আন্দোলনের পরিকল্পনাগত। শহুরেরা যদি মনে করেন, ভূমি রক্ষার লড়াই কেবল শহুরে শিক্ষিত মধ্যশ্রেনীর আন্দোলন তাহলে এই আন্দোলন সফল হবার নয়। একথা অবশ্য সত্য, গ্রাম এখন তো আর দূর্গম নয়। গ্রামে যেহেতু হাল আমলের আমদানী করা ফ্যাশন সহজলভ্য হয়ে আছে তখন সুন্দরবন রক্ষার মত জাতীয় ইস্যুও গ্রামে পৌঁছার কথা। তবে অবস্থা বলছে, গ্রাম কিম্বা মফস্বল সুন্দরবন বিরোধী রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্পের বিপক্ষে এখনো জোরদার আন্দোলন হয় নাই। তবে ‘বসত ভিটা রক্ষা কমিটি’র’ বাশখালী’র সমাবেশ গোটা সুন্দরবন রক্ষার লড়াইয়ের জন্য আলোকবর্তিকা। বাশখালী’র জনগণের মত বসত ভিটা রক্ষার লড়াইয়ে যতদিন পর্যন্ত সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণ পাবো না ততদিন পর্যন্ত সুন্দরবন রক্ষার আন্দোলন কেবল শহুরে বিলাসিতাই থেকে যাবে।  আন্দোলনে অংশগ্রহনকারীদের একটা বড় অংশই বিলাসীতা হিসেবেই এই আন্দোলনে নিজেদের উপস্থিত জানান দিচ্ছে একথা এখন পর্যন্ত সত্য।

এত কিছুর পরও আন্দোলনটা চলছে। ধীরে চলছে, কচ্ছপের গতিতে চলছে। কিন্তু এটা সত্য স্থবির হয়ে নাই। সুন্দরবনের সাথে যা হচ্ছে সেটা জুলুম এইটা এখনও বলা হচ্ছে কিন্তু কম শব্দে। কিন্তু এই প্রদীপের শিখাটা ধীর লয়ে যে জ্বলছে তাও কেবল অল্প কিছু মানুষের আত্মবিশ্বাস, আত্মত্যাগ আর আত্মলড়াইয়ের তেল পুড়িয়েই জ্বলছে। এরা নাম বিমুখী। তাই নামগুলো আমরা জানি না। আর আসলে নাম, পরিচয়, অবয়ব একটা আন্দোলনে নেতৃত্বের জন্য কিম্বা আন্দোলনটাকে বাঁচিয়ে রাখতে কতটা দরকার? সে বিষয়ে অন্যত্র আলোচনা করা যাবে।

সুন্দরবন রক্ষার লড়াইয়ে এই মুহূর্তে অভিনব, সৃস্টিশীল এবং দায়িত্বজ্ঞান সম্পন্ন সর্বাধিক গনসম্পৃক্ত লড়াইয়ের সাথে আমার পরিচয় হয়েছে মাত্র দু’দিন হল। আমাদের চতূর্পাশীয় পরিবেশের নিয়মতান্ত্রিক উপায়ের মধ্যদিয়েই এই চরম উদ্যমী পদ্ধতির লড়াইয়ের সাথে আপনারও সাক্ষাত হয়ে যাবে যে কোন সময়ে। একজন শীর্ণকায় মানুষকে আপনি হয়ত হঠাতই দেখবেন গলায় ছোট একটা গামছা ঝুলিয়ে, ছান্দিক গতিতে, ধীর স্থির প্রখর প্রকট দৃষ্টি নিয়ে মানুষটা তাকিয়ে দেখছে পরিবেশ প্রতিবেশ এবং প্রতিবেশিদের। এই বিষয়ে আপনাকে আমি পূর্বেই নিশ্চয়তা দিচ্ছি, আমার বলা এই মানুষটা সমাজ এবং তার সদস্যদের চিন্তা স্বভাব আচার প্রকৃতি কিভাবে গড়ে ওঠে তার ইতিহাস সম্পর্কে ওনার বোঝাবুঝিটা ব্যক্তির দায়িত্ববোধের এসিড টেষ্টে সিদ্ধতাপূর্ণ। কারন রাজনীতি কিম্বা লড়াইয়ের প্রতি নিজের দায়িত্ববোধ এবং লড়াই প্রশ্নের যথাযথ ক্রিয়া বিক্রিয়া এবং ফলাফল হাতে থাকলে পড়েই, একজন মানুষ পিঠের ব্যাগে বোর্ড ঝুলিয়ে সারা শহর ঘুরতে পারে, যাতে লেখা আছে একটাই শ্লোগান ‘বাঁচাও সুন্দরবন’। আমাদের প্রানের আকুতি নিবন্ধিত আছে যে শ্লোগানে। আমাদের টিকে থাকার প্রশ্ন থেকেই জন্ম নিয়েছে যে শ্লোগান। ওনার এহনো প্রতিবাদ আমাদের কে জানিয়ে দিচ্ছে, এখানে সুন্দরবন রক্ষার লড়াই কতটা বিপদে আছে? রামপাল প্রকল্পের বিরুদ্ধে আমরা প্রথমে যে সামষ্টিক আন্দোলনে বের হয়েছিলাম তা হুমকির মধ্যে পড়ছে বলেই কি এই ধরনের ব্যষ্টিক বিপ্লব জাহির হচ্ছে? ‘বাঁচাও সুন্দরবন’ শ্লোগান যতটা না বাঘের জন্য দরকার তার থেকেও বেশি দরকার যে ব্যক্তি মানুষের তা স্পষ্ট হয় এই মানুষটার আন্দোলন দেখে। যে নিজেকেই চলমান মডেল বানিয়েছে সুন্দরবন রক্ষার লড়াইয়ে। আসলে ওনাকে বলা চলে, ওয়ান ম্যান আর্মি’

(চলছে, চলবে)

সম্পাদনা- এস. কে. সিদ্দিকী

তৃতীয় পর্বের জন্য চোখ রাখুন নিউজনেক্সটবিডি ডটকম’র পাতায়


সর্বশেষ

আরও খবর

৪২ ও ৪৩তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ

৪২ ও ৪৩তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ


করোনায় আরও ৩০ জনের মৃত্যু, ৭৮ দিনের মধ্যে সর্বোচ্চ শনাক্ত

করোনায় আরও ৩০ জনের মৃত্যু, ৭৮ দিনের মধ্যে সর্বোচ্চ শনাক্ত


ঢাবি ছাত্রী ধর্ষণ মামলায় মজনুর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

ঢাবি ছাত্রী ধর্ষণ মামলায় মজনুর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড


মানুষের জন্য কিছু করতে পারাই আমাদের রাজনীতির লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী

মানুষের জন্য কিছু করতে পারাই আমাদের রাজনীতির লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী


আনিসুল হত্যা: মানসিক স্বাস্থ্য ইন্সটিটিউটের রেজিস্ট্রার গ্রেপ্তার

আনিসুল হত্যা: মানসিক স্বাস্থ্য ইন্সটিটিউটের রেজিস্ট্রার গ্রেপ্তার


পাওয়ার গ্রিডের আগুনে বিদ্যুৎ-বিচ্ছিন্ন পুরো সিলেট, ব্যাপক ক্ষতি

পাওয়ার গ্রিডের আগুনে বিদ্যুৎ-বিচ্ছিন্ন পুরো সিলেট, ব্যাপক ক্ষতি


দুইদিনের বিক্ষোভের ডাক বিএনপির

দুইদিনের বিক্ষোভের ডাক বিএনপির


বাস পোড়ানোর মামলায় বিএনপির ২৮ নেতাকর্মী রিমান্ডে

বাস পোড়ানোর মামলায় বিএনপির ২৮ নেতাকর্মী রিমান্ডে


অবশেষে পাঁচ বছর পর নেপালকে হারালো বাংলাদেশ

অবশেষে পাঁচ বছর পর নেপালকে হারালো বাংলাদেশ


মাইন্ড এইড হাসপাতালে তালা, মালিক গ্রেপ্তার

মাইন্ড এইড হাসপাতালে তালা, মালিক গ্রেপ্তার