Tuesday, August 30th, 2016
‘বাঁচাও সুন্দরবন’ এবং আমাদের অবিশ্বাসী মন
August 30th, 2016 at 5:09 pm
‘বাঁচাও সুন্দরবন’ এবং আমাদের অবিশ্বাসী মন

বিধুনন জাঁ সিপাই: সুন্দরবন ইস্যুতে এখানকার বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর ব্যাপক অংশগ্রহণের মাধ্যমে তীব্র প্রতিবাদ এখনো আমাদের চোখে পড়ে নাই। এমন কোন রাজনৈতিক কর্মসূচিও এই আন্দোলনে দেখা যায় নাই, যার মাধ্যমে শাষক শ্রেণিকে রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্পের ব্যাপারে নিবিড়ভাবে পূনরায় ভাবতে বাধ্য করে। সুন্দরবন রক্ষার এই আন্দোলনের বাহ্য ক্রিয়াকরণ অথবা এই আন্দোলনের রঙ বৈচিত্র কিম্বা আরো সরাসরি বললে, ‘আন্দোলনের সামগ্রিকতা কেবলমাত্র বামবাদী আচরনের উপরেই দাঁড়িয়ে আছে।’

সুন্দরবন রক্ষার চলমান আন্দোলনের বিশেষ খবরাখবরও আমাদের কাছে মিডিয়া পৌঁছায় নাই, এটা সত্য। এ সত্য এখানকার গণমাধ্যম গুলো খুব বেশি এড়াতে পারবেন না। খুব কম কর্মসূচির সংবাদই আমরা পেয়েছি। সম্ভবত এখানকার এখনকার গনমাধ্যম গুলি তাদের ফায়দার অংশ বুঝতে নিতে পারছে না বলেই এই আন্দোলনে নিজেদের পুরোপুরিভাবে অন্তর্ভুক্ত করতে উদ্যোগী হচ্ছেন না। কিন্তু হক কথা হইল, সুন্দরবন রক্ষার চলমান আন্দোলনকে জাগরিত করতে বর্তমান মিডিয়া প্রধানতম নিয়ামকের ভূমিকায় নিজেকে জাহির করতে পারে।

সুন্দরবন ইস্যু এবং গনমাধ্যমের টিআরপি ব্যবসা উভয়ের রমরমা সম্মিলনের তরিকা এখনো আমাদের মিডিয়া ব্যক্তিদের মাথায় আসে নাই। ফলে মিডিয়া এই আন্দোলনের প্রচারের সাথে প্রধানভাবে জড়িত হচ্ছে না। কিন্তু আন্দোলনের জন্য প্রচার আবশ্যক। এবং অবশ্যই সুন্দরবন রক্ষার লড়াইয়ে সর্বোস্তরের মানুষের অংশগ্রহণ না হলে আন্দোলনকে সফল করা দুঃসাধ্য। আর বিশাল অংশের মানুষের অংশগ্রহণের জন্য আন্দোলনের প্রচার দরকার বা দরকার আন্দোলনে নতুনত্ব। এবং সে নতুনত্ব পদ্ধতিগত যেমন দরকার তেমনি দরকার চিন্তাগত নতুনত্ব।

আন্দোলনকারীদের এটা জানা আবশ্যক যে- লড়াইয়ের ক্ষেত্রে নতুনত্ব না আনা পর্যন্ত কিম্বা আন্দোলনের এজেন্ডাগত ঝামেলা দূর না হওয়া পর্যন্ত অথবা যদি লড়াই কেন করতে হবে তার সংকট স্পষ্টভাবে, স্পর্ধিত উচ্চারণে, সাধারণের মনের ও মুখের ভাষার যৌথ সম্মিলনে নতুন ভাষার উদ্ভব না ঘটানো পর্যন্ত আন্দোলনে ভিন্ন মাত্রা আসে না এবং বৃহত্তর জনগোষ্টী’র উপস্থিতিও পাওয়া যায় না।

সুন্দরবন আন্দোলনের ক্রিয়াগত ভিন্নমাত্রা পাওয়া যাবে সম্ভবত ‘মৌলিক বাঙলা’ নামের একটা সংগঠনের। সাংগঠনিকভাবে খুব বেশি সফল বলা যাবে না এদের। কিন্তু এখানে ‘মৌলিক বাঙলা’কে স্মরন করছি তার অন্যতম কারণ আন্দোলনে নতুন মাত্রা দেবার প্রচেষ্টাকে স্বাগত জানাতে। যতদূর মনে পড়ে, এই সংগঠনের কর্মীরাই প্রথম পায়ে হেঁটে ঢাকা প্রেসক্লাব থেকে সুন্দরবন অভিমুখে লং মার্চ করেছিল ২০১৪ সালের আট আগস্ট। ২৫৬ কি.মি রাস্তা পায়ে হেঁটে ১৫ আগস্ট যখন তারা রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্পে পৌঁছায় তখন স্থানীয় আওয়ামীলীগ কর্মীদের হাতে হামলা ও নির্যাতনের শিকার হয় সংগঠনের কর্মীরা। ২২ জন আহত হয় এবং তাদের সাথে থাকা নানা ধরনের বাদ্যযন্ত্রও ভাঙ্গচুর করা হয়। এটা বেশ পুরনো সংবাদ। কিন্তু আন্দোলনের পদ্ধতিগত ভিন্নতার জন্য এই পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার ছিল।

এটা বলছি না যে, পায়ে হেঁটে মৌলিক বাঙলাই প্রথম এধরনের প্রতিবাদ করেছে। অনেকেই এ ধরনের প্রতিবাদ রেখেছে। কিন্তু প্রচলিত মানববন্ধন কিম্বা কাঁচে ঘেরা শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ঘরে নিজেরা নিজেরা যতই তাত্ত্বিক এবং আন্দোলন্মুখ ভাষন দেয়া হউক না কেন, সুন্দরবন রক্ষার লড়াইয়ে সে সকল কর্মসূচি বিশেষ কিছু দেবে বলে মনে হচ্ছে না। এই মনে না হওয়ার কারণ শাষক শ্রেণির জেদ ধরার প্রবনতা এবং সেই প্রবনতা থেকে তাদেরকে আমরা সচারচার নিবৃতও করতে পারি নাই, সে ইতিহাস সম্পর্কে জ্ঞাত আছি।

একথা তো সর্বজন স্বীকৃত, জেদ সর্বদাই অযৌক্তিক। সংকল্প এবং জেদের মধ্যে বিশাল ফারাক আমাদের শাষন কর্তারা জানেন কি-না সে বিষয়ে প্রশ্ন রাখা যায়। হাজার যুক্তি, তথ্য, উপাত্ত, তত্ত্ব দিয়ে ঘটনাকে অযৌক্তিক উপদ্রব এবং ক্ষতিকর প্রমান করার পরও বিরোধী পক্ষ দাবি করবে তাদের আন্দোলনের তীব্রতার ফলাফলেই ঘটমান প্রক্রিয়াটা বন্ধ হয়েছে। এবং বিরোধীরা আন্দোলনকে সফল দাবি করে তৃপ্তির ঢেকুর তুলবে, এই জেদ এবং অসহিষ্ণুতাই আমাদের এখানে অনেক যৌক্তিক কাজ সুসম্পন্ন হয় নাই অদ্যাবধি।

বেগম জিয়া, রামপাল প্রকল্পের বিরোধিতা করেছেন। কিন্তু রামপাল প্রকল্পের বিরোধিতা করা আর সুন্দরবন রক্ষার লড়াই এক কথা না। আমাদের এখানকার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডগত খাসলত হলো বিরোধীপক্ষের কেবলই বিরোধিতা করা। এমন চরিত্রের অধিকারী বলেই, তাদের বিরোধীতা আমাদের মনে শঙ্কা জাগায়। ‘ঘর পোড়া গরু সিঁদুরে মেঘ দেখলেও ডরায়’, কিনা। এখন পর্যন্ত বিএনপি’র কোনো প্রকার বিরোধীতার রাজনৈতিক প্রজ্ঞা সম্পন্ন ক্রিয়াকাণ্ড বা কার্যকরি কর্মসূচি দেখি নাই। আন্দোলনের নামে তাদের বারবার পালিয়ে যাওয়ার ধরন আমাদের রাজনৈতিক ইতিহাসে অবিশ্বাস নামক অধ্যায়ের অবতারণা করেছে।

একথা শুনতে খারাপ লাগলেও সত্য এই, বিএনপি এখন হতাশার এবং অসহায়ত্বের মধ্যে দিন পার করছে। দলের মহাসচিবের চোখের জল আমাদেরকে আবেগ তাড়িত নয় বরং ভাবিয়ে তোলার মতো ইঙ্গিত করছে। বিএনপি যদি এই কান্নাকাটিকে নিজেদের ভাগ্য এবং দলীয় কর্মসূচি বানিয়ে ফেলে তাহলে ভবিষৎ খারাপ হতে বাধ্য। কান্নাকে হাতিয়ার করে রাজনৈতিক এজেন্ডা সফল করা যায় না। আপাত কথা হলো বেগম জিয়ার বিরোধিতা এই আন্দোলনের জন্য নতুন কোন কথা না কিম্বা সুন্দরন লড়াইয়ে নতুন মাত্রা দেবে বলে মনে হচ্ছে না। অতয়েব আন্দোলনে অবস্থানরত কর্মীদের এনাদের ব্যাপারে সতর্ক থাকা দরকার।

বিএনপির এহনো বিরোধিতা সম্পর্কে আওয়ামী লীগ বলেছে, ‘ভারত বিরোধিতার কারণেই বিএনপি রামপাল প্রকল্পের বিরোধিতা করছে।’ তাহলে প্রশ্ন থাকে, ভারতের সাথে সখ্যতার কারণেই কি আওয়ামী লীগ রামপাল প্রকল্পের মত আত্মঘাতী কাজে নিজেদের নিয়োজিত করেছে?

প্রধানমন্ত্রী’র প্রেস ব্রেফিং আমাদেরকে আরো গভীর শঙ্কার দিকে মনকে টেনে নিচ্ছে। হয়তো আমরা পুরোপুরি ভাবেই ‘বিশ্বাস’ শব্দটাকে মুছে ফেলতে যাচ্ছি। এখানে এ বিষয়ে বিস্তারিত বলবার সুযোগ হবে বলে মনে হচ্ছে না। কিন্তু কথা যখন ফাঁদছি তখন কিছুটা বলাও ‘জরুরত’ হয়ে পড়ে। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সম্মেলনের নানারুপ ব্যাখা ইতিমধ্যেই অনেকে করেছেন। রামপাল প্রকল্প বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর আন্দোলনরত মানুষদেরকে তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষভুক্ত করার প্রবনতা দেখেছি। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, অবশেষে বোঝা গেল আন্দোলনকারীদের প্রেরনা হলো বিএনপি।

আমার কেন জানি মনে হচ্ছে সুন্দরবন ইস্যুতে বেগম জিয়া কথা বলেছেন বলেই  প্রধানমন্ত্রী রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্পের ব্যাপারে আরো জেদী হয়ে উঠেছেন। ইগোটিক প্রবলেম সৃষ্টি হয়েছে। একটা ছোট্ট মজা করি, ধরুন, বেগম জিয়া রামপাল ইস্যুতে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সমর্থন দিচ্ছেন, প্রধানমন্ত্রী তখন এই ইস্যুতে কি করতেন? আমার কেন জানি মনে হচ্ছে, প্রধানমন্ত্রী প্রেস ব্রিফিং এসে বলতেন, ‘কই আমাকে মিষ্টি খাওয়ান, রামপালে বিদ্যুৎ প্রকল্প করব না, অন্য কোথাও করব’। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস ব্রিফিং আমরা অনেক জন একসাথে শুনেছি। প্রেস বিফিং শুরু হবার কিছুটা আগে আমার এমনটা মনে হচ্ছিল। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আলাপী মানুষ বরাবরই। একটা আড্ডা বেশ জমিয়ে রাখতে জানেন উনি। এইটা পারিবারিক শিক্ষা থেকেই উনি পেয়েছেন। একটা আড্ডার মধ্যমণি হয়ে উঠতে পারেন খুব তাড়াতাড়ি।

শেখ হাসিনার সব থেকে বড় দক্ষতা হলো, উনি যা বলেন তা বিশ্বাস করতে মন চায়। ওনার কথা আর বাস্তবতা মিশেল করা যায় না, তাই এই বিশ্বাস বেশ গাঢ় হয় না, খুব তাড়াতাড়ি সেই বিশ্বাসের ঘর ভাঙ্গে বালুর ঘরের ন্যায়। শেখ হাসিনা যখন বলেন, ‘আমার ওপর বিশ্বাস রাখুন। আমি বঙ্গবন্ধু কন্যা। প্রধানমন্ত্রী নয়, আমি বঙ্গবন্ধু কন্যা এটাই আমার বড় পরিচয়’। এটা শুনেই আমরা বঙ্গবন্ধুকে স্মরণ করি এবং তার কন্যার কথায় বিশ্বাস করতে চাই। কিন্তু অবিশ্বাসী হয়ে উঠেছে যে মন তা প্রশ্ন করে, রামপাল কেন অন্য কোথাও করা যাবে না? প্রকল্প অর্থ্যায়নের ৩০ শতাংশ বাংলাদেশ এবং ভারত সরকার দেবে এবং ভারতের এক্সিম ব্যাংক বাকি ৭০ শতাংশ ঋণ দিবে। কিন্তু সেই ঋণের একমাত্র নিশ্চয়তাকারী কেন বাংলাদেশ? ভারত সরকার কেন নয়? কিন্ত সুন্দরবন ঘেঁষা রামপালে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে বাংলাদেশের জন্য লাভজনক নয়।

মাত্র ১৫ শতাংশ বিনিয়োগ করে ভারতীয় ন্যাশনাল থারমাল পাওয়ার করপোরেশন (এনটিপিসি) ৫০ শতাংশ মালিকানা পাবে এবং বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডকে (পিডিবি) ওই কোম্পানি থেকে বিদ্যুৎ কিনতে হবে। অর্থাৎ আমাদের উৎপাদিত বিদ্যুৎ আমাদের পরিবেশ ও জনপদ নষ্ট করে উৎপাদিত বিদ্যুৎ অন্যের কাছ থেকে আমাদের কিনতে হবে! এই বেইনসাফি বঙ্গবন্ধু কন্যা কেন মানছেন? আমরা তা জানি না কিন্তু জানতে চাই।

এবার একটু পিছনে যাই, আশে-পাশে, ভূতে-বর্তমান ঘুরে ঘুরে দেখতে চাই কি হচ্ছে বা হয়েছে আমাদের রাজনৈতিক মানসে। শিরোনামে আমাদের অবিশ্বাসী মনের কথা বলেছি। কিন্তু এই অবিশ্বাস হঠাৎ করে আসমান থেকে তো নাযিল হয় নাই। অবশ্যই এ কথা মানতে হবে এই জনমানসের জমিনে অবিশ্বাসের বীজ রোপিত হয়েছিল, সেখানে যত্ন করে কেউ পরিচর্চা করেছিল বা করছে বলেই অবিশ্বাস জেগে উঠেছে, আর বিশ্বাস মরে গেছে। বিশ্বাস এখন একটা প্রাগৈতিহাসিক ব্যাপার। কোন কালে আমরা বিশ্বাসে ছিলাম, সেই বিশ্বাস বিশ্বাসঘাতকতা করেছিল বলেই আমরা এখন বিশ্বাসের আগে ‘অ’ বর্ণ যুক্ত করে দিয়েছি। ‘বিশ্বাস’ থেকেই যেহেতু ‘ঘাতক’ জন্মাইছে অতয়েব সেই ঘাতকের পরিচয় পেতে বিশ্বাসের অধিতে যেতে হবে।

সম্পাদনা: সজিব ঘোষ

দ্বিতীয় পর্বের জন্য চোখ রাখুন নিউজনেক্সটবিডি ডটকম’র পাতায়


সর্বশেষ

আরও খবর

আমি বাংলার, বাংলা আমার, ওতপ্রোত মেশামেশি…

আমি বাংলার, বাংলা আমার, ওতপ্রোত মেশামেশি…


শেখ হাসিনার ৭৪ তম জন্মদিন: ‘পুতুল’ খেলার আঙিনায় বেজে উঠুক ‘জয়’র বাঁশি

শেখ হাসিনার ৭৪ তম জন্মদিন: ‘পুতুল’ খেলার আঙিনায় বেজে উঠুক ‘জয়’র বাঁশি


বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীর আগেই পাকিস্তান ক্ষমা চাইবে ?

বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীর আগেই পাকিস্তান ক্ষমা চাইবে ?


শেখ হাসিনা কতোখানি চ্যালেঞ্জিং এখনো?

শেখ হাসিনা কতোখানি চ্যালেঞ্জিং এখনো?


প্রণব মুখোপাধ্যায় : বিশ্ব-রাজনীতির মহাপ্রাণ

প্রণব মুখোপাধ্যায় : বিশ্ব-রাজনীতির মহাপ্রাণ


দয়া করে ক্রসফায়ারের স্ক্রিপ্টটি ছিঁড়ে ফেলুন

দয়া করে ক্রসফায়ারের স্ক্রিপ্টটি ছিঁড়ে ফেলুন


দক্ষিণ এশিয়াঃ সীমান্তবিহীন এক অবিভাজিত অচলায়তন

দক্ষিণ এশিয়াঃ সীমান্তবিহীন এক অবিভাজিত অচলায়তন


লুণ্ঠন ঢাকতে বারো মাসে তেরো পার্বণ

লুণ্ঠন ঢাকতে বারো মাসে তেরো পার্বণ


লেটস্ কল অ্যা স্পেড অ্যা স্পেড!

লেটস্ কল অ্যা স্পেড অ্যা স্পেড!


পররাষ্ট্রনীতিতে, ম্যারেজ ইজ দ্য এন্ড অফ লাভ

পররাষ্ট্রনীতিতে, ম্যারেজ ইজ দ্য এন্ড অফ লাভ