Monday, July 4th, 2022
‘বাংলাদেশি নারীরা বিউটিফুল’
November 12th, 2016 at 2:46 pm
‘বাংলাদেশি নারীরা বিউটিফুল’

আবু তাহের সরফরাজ, ঢাকা: ঢাকার আর্মি স্টেডিয়াম। হালকা শীতের রাত। সিএনজি থেকে নেমেই দেখি, দীর্ঘ লাইন। সবই নতুন প্রজন্ম। বুড়োধুড়ো দু’চারটে আছে, তবে দেখে মনে হয়, তারা যেন দ্যাশের আর্ট-কালচারের হত্তাকত্তা। অনেক দূর হেঁটে লাইনের লেজে গিয়ে জুড়ে গেলাম আমরা চার বন্ধু। এরপর ছোট ছোট পায়ে হাঁটাহাঁটি। দেখি, বেশ হৃষ্টপুষ্ট দেহের এক মহিয়ষী নারী বেকায়দায় গাড়ি ঢুকায়া দিছে বেলাইনে। নাইমা আসলেন মহিলা। পুলিশরে কইলেন, সরি, আমি ভিআইপি রোডে ঢুকতে চায়। ওটা কোন দিকে? লাইনের পেছনে দুই নতুন প্রজন্ম কয়া উঠল, বালের ভিআইপি। চুরি কইরা গাড়িবাড়ি করলেই লোকে ভিআইপি হয়া গেল? আমরা ব্যাটা লাইনে খাঁড়ায়া আছি, আর তুমি ভিআইপি মারাও?

হালকা শীতের এই রাতে হিমহিম ঠাণ্ডা দিতেছে। এহেন শিরশিরে অনুভূতির কালে যুগলের তাই ঢল নেমেছে ঢাকা আন্তর্জাতিক ফোক ফেস্টিভ্যালে। এদের প্রত্যেকের হাতের মুঠোয় বিশ্ব। মানে ই-নেট। এ প্রজন্ম গ্রামের ধুলোমাটিকাদা আর নির্জন দুপুরে ঘাসফুলের সৌন্দর্য দ্যাখেনি। এরা এই সময়ের দ্রুতগতির যান্ত্রিক জীবনের এক একজন যাত্রী। ফোক, মানে লোকজ আবহাওয়া আমি কোত্থাও দেখতে পেলাম না। নতুন প্রজন্মের এ ঢল যেন আরো যান্ত্রিকতার দিকে যাত্রা।  

গিয়ে পৌঁছালাম মঞ্চের সামনে। একসময় বসার জায়গাও পেলাম। তখন চলতেছিল ভারতের গৌরব অ্যান্ড গংয়ের পরিবেশনা। আমার মনে হলো, এ পরিবেশনা দেখতে বা শুনতে এত কষ্ট কইরা আইলাম ক্যা? তবে সান্ত্বনা যে, কৈলাশ খের আসছেন। সংগীতে আত্মমগ্ন এক পাগলা। কিন্তু ফেস্টিভ্যাল কর্তৃপক্ষ তো জেনে বসেই আছে, কৈলাশই কেন্দ্রবিন্দু। ফলে গৌরবের পরে আইলেন শফি মন্ডল। এরবাদে বুনো। এরা কী কী সব যেন গায়া যাইতেছে, আর আমি ভাবতেছি, আহা, এ ফ্যাস্টিভ্যালে ক্যা যে আইলাম। এরা ব্যাবাকতে কী গাইতেছে এসব? লালন কী এত চড়া সুরে? লালন কী এত আয়োজন করে, লাল বাত্তি নীল বাত্তি জ্বালায়া হয়? আমি ভাবলাম, পশ্চিমি কেতায় নিজেকে সাজিয়েগুছিয়ে বাংলার মাটির সোঁদা গন্ধ পেতে চাওয়াও এক ধরনের বিভ্রান্তি।

তাই ফোক গানের নামে এ আয়োজন নগরের একটি পরিকল্পিত সংস্করণ। দুধের স্বাদ ঘোলে মেটানো আরকি। স্পেনের একটি দলের পরিবেশনা মোটামুটি ভাল্লাগছে। নানা যন্ত্রের ধ্বনিতে একটি ছেলে আর একটি মেয়ে উত্তাল নেচে দর্শক মাতিয়ে তোলে। খুবই সাধারণ পরিবেশনা, তবু কত উচ্ছ্বাস নতুন প্রজন্মের। হর্ষধ্বনিতে তারা মুখর করে তোলে আর্মি স্টেডিয়াম। বুঝতে পারি না, এ দেশের মানুষগুলো হুদাহুদি এত উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে? উৎসব প্রিয়? সব কিছু ঘাড় নিচু করে সয়ে নিয়ে যাওয়ার আশ্চর্য ক্ষমতা আছে, এজন্য? আমি ঠিক জানি না। তবে ভাবনা হয়।

ওস্তাদ এলেন মঞ্চে। পরপর গাইলেন বিখ্যাত কয়েকটি গান। প্রথম গান শেষে মঞ্চের সামনে এগিয়ে এসে বললেন, ধন্যবাদ ঢাকা। তোমাদের ভালোবাসা। তোমাদের নারীরা বিউটিফুল। মুহূর্তে চিৎকার দিয়ে উঠল কয়েকশো নারী। কৈলাশ শুরু করে দিলেন গান। কী স্বর! মঞ্চজুড়ে এত প্রগাঢ় ব্যক্তিত্ব নিয়ে এত নায়কোচিতভাবে তিনি পরিবেশনা করলেন যে, পুরো আর্মি স্টেডিয়ামজুড়ে সুরের ঢেউ ছাড়া আর কোনো শব্দ ছিল না।

গানের এক ফাঁকে কৈলাশ বললেন, “আমরা অনেক দেশ ঘুরি। কিছুদিন আগে মরিশাস থেকে ঘুরে এলাম। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষের গানের প্রতি, শিল্পের প্রতি ভালোবাসা অন্যরকম। বাংলাদেশে যে এ ধরনের অনুষ্ঠান প্রোমোট করা হয়, তাতে আমি মুগ্ধ।” এরপর তিনি একে একে গাইলেন, আওজি, ও পিয়া পিয়া, তওবা তওবা রে, আও নারান, তেরে দিওয়ানিসহ বেশ কিছু গান।

রাত দুটোর দিকে ভাঙল গানের মহফিল। আবারও নামল নতুন প্রজন্মের ঢল। সিএনজি নিয়ে বাসায় ফিরতে ফিরতে আমি ভাবতেছিলাম, আমার গ্রামে কুমারনদের পারে বটগাছের যে বেদি আছে, সেখানে কী এই মাঝরাতে চাঁদের আলোয় থই থই করছে? এ বেদিতে বসে সন্ধে থেকে সোহরাব ফকির তার একতারা নিয়ে লালনের গান গায়। প্রতি রাতেই দু’চার জন দর্শক তার জুটে যায়। দর্শক না হলেই বা তার কী? সে তো মনের সুখেই গানটান গায়।

লেখক: কথাসাহিত্যিক ও সংবাদকর্মী


সর্বশেষ

আরও খবর

সংসদে ৬,৭৮,০৬৪ কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব

সংসদে ৬,৭৮,০৬৪ কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব


আ’লীগ নেতা বিএম ডিপোর একক মালিক নন

আ’লীগ নেতা বিএম ডিপোর একক মালিক নন


চীনের সাথে বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে চায় বাংলাদেশ

চীনের সাথে বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে চায় বাংলাদেশ


তৎপর মন্ত্রীগণ, সীতাকুণ্ডে থামেনি দহন

তৎপর মন্ত্রীগণ, সীতাকুণ্ডে থামেনি দহন


যে গল্প এক অদম্য যোদ্ধার

যে গল্প এক অদম্য যোদ্ধার


আফগান ও ভারতীয় অনুপ্রবেশ: মে মাসে আটক ১০

আফগান ও ভারতীয় অনুপ্রবেশ: মে মাসে আটক ১০


সীমান্ত কাঁটাতারে বিদ্যুৎ: আলোচনায় বিজিবি-বিজিপি

সীমান্ত কাঁটাতারে বিদ্যুৎ: আলোচনায় বিজিবি-বিজিপি


চালের বাজার নিয়ন্ত্রণে কঠোর সরকার

চালের বাজার নিয়ন্ত্রণে কঠোর সরকার


সাংবাদিকতা বিরোধী আইন হবে না: মন্ত্রী

সাংবাদিকতা বিরোধী আইন হবে না: মন্ত্রী


সেনাবাহিনীতে নিরপেক্ষ মূল্যায়ন চান প্রধানমন্ত্রী

সেনাবাহিনীতে নিরপেক্ষ মূল্যায়ন চান প্রধানমন্ত্রী