Thursday, December 15th, 2016
বাংলাদেশের বিজয়ই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজয়
December 15th, 2016 at 10:23 pm
বাংলাদেশের বিজয়ই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজয়

মিশুক মনির, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়:  রাত পোহালেই বাংলাদেশের মহান বিজয় দিবস। বাংলাদেশের স্বাধীনতার চেতনার উন্মেষকেন্দ্র ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য সশস্ত্র সংগ্রামেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবদান অবিস্মরণীয়।

একাত্তরের মার্চ মাসে পাকিস্তানের সামরিক শাসক জেনারেল ইয়াহিয়া খান ও জুলফিকার আলী ভূট্টোর চক্রান্তে বাঙালিদের উপর নির্বিচারে হত্যাযজ্ঞ অভিযান অপারেশন সার্চ লাইট শুরু হয় এই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে শত্রুপক্ষের প্রথম বুলেট এ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে বিদ্ধ করে। আবার মুক্তিযু্দ্ধের শেষে বিজয়ের প্রাক্কালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর শেষ বুলেটটিও এ বিশ্ববিদ্যালয়ের সদস্যদের জীবন কেড়ে নেয়।

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের কালরাত থেকে শুরু করে স্বাধীনতা প্রাপ্তির আগ পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক ও বিভিন্ন পদমর্যাদার অসংখ্য কর্মকতা-কর্মচারী পাক-বাহিনীর হাতে নির্মমভাবে শহীদ হন। এদের মধ্যে যাদের নাম পরিচয় পাওয়া গেছে তাদের মধ্যে শিক্ষক রয়েছে ১৯ জন, ছাত্র ১০১ জন, কর্মকর্তা একজন ও কর্মচারী ২৮ জন। ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর হাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বহুসংখ্যক ছাত্র-শিক্ষক শহীদ হলে সারা বিশ্ববিদ্যালয়ে নেমে আসে মৃত্যুর হিম শীতল নীরবতা। এ দুর্দিনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষক এগিয়ে আসেন। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের অকুতোভয় ছাত্র-শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা হাতে অস্ত্র তুলে নিয়েছিলেন। প্রাণপণে রুখেছেন পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে। জীবন বিলিয়ে দিয়েছেন অকাতরে। শহীদ হয়েছেন হাসতে হাসতে। ছিনিয়ে এনেছেন বাংলাদেশের বিজয়। আর এ বিজয়ই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজয়।

বাংলাদেশের বিজয়ের এদিনটি উৎযাপনে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও টিএসসির সংগঠনগুলো যথাযথভাবে পালন করে থাকে। বিজয় দিবস উপলক্ষে টিএসসি, কলা ভবন, ও কার্জন হল বিজয়ের বর্ণিল আলোয় সজ্জিত করা হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিরাজ করছে এক মনোমুগ্ধকর পরিবেশ।

এদিনকে ঘিরে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি টিএসসির সংগঠনগুলো বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। প্রতিবছরের ধারাবাহিকতায় ১৫ ডিসেম্বর রাত বারোটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে আতশবাজি ফুটিয়ে বিজয় উৎযাপন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। বিজয় দিবস উপলক্ষে মলচত্বরে কনসার্ট, আলোচনা সভা, টিএসসির সব সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন বিভিন্ন প্রোগ্রামের আয়োজন করেছে। জাতীয় পতাকা নির্মাণ বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের উদ্যোগে বিজয় দিবসের কর্মসূচির অন্যতম একটি।

এদিকে টিএসসিতে বিজয় দিবস উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি কর্তৃক আয়োজিত দুই দিনব্যাপী আলোকচিত্র প্রদর্শনী চলছে। বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের কুইজ সোসাইটি উদ্যোগে কুইজ অনুষ্ঠিত হয়েছে। তিনদিনব্যাপী লোকজ মেলার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে ।

এছাড়া ভারতের কলকাতায় রবীন্দ্র ভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৬ ডিসেম্বর শুক্রবার থেকে শুরু হবে ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় উৎসব ২০১৬’। দুদিনের এ উৎসবে অংশ নিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নৃত্যকলা ও সংগীত বিভাগের ২৫ জন শিক্ষক ও শিক্ষার্থী ভারতের কলকাতায় পৌছেছেন।

১৬ ডিসেম্বর বিকাল ৪টা ১০মিনিটে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও ছায়ানটের যৌথ উদ্যোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে অনুষ্ঠিত হবে সঙ্গীতানুষ্ঠান। অনুষ্ঠান উদ্বোধন করবেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক। সন্ধ্যা ৬টা ৩০মিনিটে ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হবে বিজয় দিবসের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এছাড়া বাদ জুম্মা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদসহ বিভিন্ন হল মসজিদ ও উপাসনালয়ে শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা এবং দেশের সমৃদ্ধি ও উন্নতির জন্য দোয়া।

সম্পাদনা: জাহিদ


সর্বশেষ

আরও খবর

বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা


ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ৫০ বছর

ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ৫০ বছর


কার্টুনিস্ট আহমেদ কবির কিশোরের জামিন মঞ্জুর

কার্টুনিস্ট আহমেদ কবির কিশোরের জামিন মঞ্জুর


ফটোগ্রাফিক এসোসিয়েশনে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের আহ্ববান

ফটোগ্রাফিক এসোসিয়েশনে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের আহ্ববান


একদিনেই সড়কে ঝড়ল ১৯ প্রাণ

একদিনেই সড়কে ঝড়ল ১৯ প্রাণ


শাহবাগে মশাল মিছিলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ, আটক ৩

শাহবাগে মশাল মিছিলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ, আটক ৩


করোনায় ২৪ ঘণ্টায় আরও ৭ মৃত্যু, নতুন শনাক্ত ৩২৭

করোনায় ২৪ ঘণ্টায় আরও ৭ মৃত্যু, নতুন শনাক্ত ৩২৭


নামাজ পড়ানোর সময় সিজদারত অবস্থায় ইমামের মৃত্যু

নামাজ পড়ানোর সময় সিজদারত অবস্থায় ইমামের মৃত্যু


ভাষার বৈচিত্র্য ধরে রাখার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

ভাষার বৈচিত্র্য ধরে রাখার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর


তারুণ্যের ইচ্ছার স্বাধীনতা কোথায়!

তারুণ্যের ইচ্ছার স্বাধীনতা কোথায়!