Wednesday, December 21st, 2016
বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড প্রথম টেস্টের গল্প
December 21st, 2016 at 1:57 pm
বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড প্রথম টেস্টের গল্প

নাহিদ নেওয়াজ হৃদয়: আর মাত্র কদিন পরই শুরু হতে যাচ্ছে বহুল প্রতিক্ষিত বাংলাদেশ বনাম নিউজিল্যান্ডের পূর্ণাঙ্গ ক্রিকেট সিরিজ। সেখানে প্রতিকূল সিমিং কন্ডিশনে কঠিন চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে টাইগার বাহিনীর সামনে। এই নিয়ে চতুর্থবারের মত দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলতে নিউজিল্যান্ড যাচ্ছে বাঘ বাহিনী। এর আগে ২০০১ সালে ২ টেস্ট, ২০০৭ সালে ২ টেস্ট ও ৩ ওয়ানডে এবং ২০১০ সালে ১ টেস্ট, ১ টি২০ ও ৩ টি একদিনের ম্যাচের সিরিজ খেলেছিল টাইগাররা। এবারের সফরে বাংলাদেশ ২ টেস্ট, ৩ ওয়ানডে ও ৩ টি২০ খেলবে।

আসন্ন সিরিজের কথা উঠতেই মনে পড়ে গেল আজ থেকে প্রায় ১৫ বছর আগে প্রথম নিউজিল্যান্ড সফরের স্মৃতি। ২০০১ এর ডিসেম্বরে হ্যামিল্টন ও ওয়েলিংটনে হয়েছিল দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ। অনেকে হয়ত ভুলে গেছেন কিংবা জানেন না সেই সিরিজের কথা। খালেদ মাসুদ পাইলটের নেতৃত্বে খেলা সেই সময়কার বাংলাদেশ দল দুটি টেস্টেই ইনিংস ব্যবধানে পরাজিত হয়। আজকে আমি ওই সিরিজের প্রথম টেস্টের গল্প শোনাব আপনাদের।

বৃষ্টিবিঘ্নিত প্রথম টেস্টটি অনুষ্ঠিত হয়েছিল ১৮-২২ ডিসেম্বর হ্যামিল্টনের সেডন পার্কে। প্রথম দুই দিন টানা বৃষ্টিতে ভেসে যাওয়ায় পাঁচ দিনের টেস্ট নেমে দাঁড়িয়েছিল তিন দিনে। তৃতীয় দিন সকালে টসে জিতে আমাদের অধিনায়ক সঙ্গত কারনেই নিউজিল্যান্ডকে আগে ব্যাটিংয়ে পাঠিয়েছিলেন।

সেডন পার্কের ঘাসে ভরা সবুজ উইকেট সাথে বৃষ্টিভেজা ঠান্ডা আবহাওয়া ; পেস বোলারদের জন্য এর চেয়ে আদর্শ কন্ডিশন বোধ হয় আর হতে পারত না। টাইগার দল নায়কের আগে বোলিং করার সিদ্ধান্তকে সঠিক প্রমাণ করতে বোলাররা সেদিন একটুও দেরি করে নি। সেবারই ইতিহাসে প্রথমবারের মত কোন স্পেশালিস্ট স্পিনার ছাড়াই মাঠে নেমেছিল বাংলাদেশ। একাদশে পেসার ছিলেন চারজন, যথাক্রমে মাশরাফি, শরীফ, মঞ্জুরুল এবং খালেদ মাহমুদ সুজন। বৃষ্টিভেজা সবুজ উইকেটের সুবিধা কাজে লাগিয়ে দারুণ লাইন-লেংথে বোলিং করে শুরুতেই স্বাগতিকদের চমকে দিয়েছিল আমাদের তরুণ অনভিজ্ঞ পেস অ্যাটাক। মাত্র ১৬ ওভারের মধ্যে পঞ্চাশ পেরোতে না পেরোতেই কিউই টপ অর্ডারের ৪ উইকেট তুলে নিয়ে বাংলাদেশকে দারুণ সূচনা এনে দেয় মাশরাফি-মঞ্জুরুলের উদ্বোধনী বোলিং জুটি। ভিনদেশি বাইশ গজ সেদিন দেখেছিল বাংলার পেসারদের দাপট।

ভেজা ঘাসের উইকেটে সেদিন এক প্রান্ত থেকে গতির ঝড় তুলেছিলেন মাশরাফি বিন মুর্তজা আর অন্য প্রান্তে দুর্দান্ত সুইং বোলিংয়ের প্রদর্শনী দেখিয়েছিলেন বাঁহাতি পেসার মঞ্জুরুল ইসলাম। নিজের প্রথম ওভারেই দলীয় স্কোর মাত্র ১ রানে লু ভিনসেন্টের (০) উইকেট তুলে নিয়ে প্রথম আঘাত হানেন মাশরাফি। এরপর ২৯ রানের মাথায় কিউই দলপতি স্টিভেন ফ্লেমিংকে (৪) কট বিহাইন্ড করে নিজের দ্বিতীয় শিকারে পরিণত করেন তিনি। এর আগে ও পরে দারুণ দুটি ডেলিভারিতে ম্যাথু সিনক্লেয়ার (৭) ও নাথান অ্যাস্টলকে (৫) সাজঘরে ফেরত পাঠিয়ে স্বাগতিকদের ব্যাকফুটে ঠেলে দেন মঞ্জুরুল। ৫১/৪ স্কোর নিয়ে নবীন দুই পেসারের গতি-সুইংয়ের সামনে নিউজিল্যান্ড তখন রীতিমতো কাঁপছিল। পরবর্তীতে অবশ্য অন্য পেসাররা সেই ছন্দ ধরে রাখতে পারে নি। মার্ক রিচার্ডসন (১৪৩) ও ক্রেইগ ম্যাকমিলানের (১০৬) জোড়া সেঞ্চুরিতে ম্যাচে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ায় কিউইরা।

তৃতীয় দিনে খেলা হয়েছিল সর্বসাকুল্যে ৬৮ ওভার। দিনশেষে স্বাগতিকদের স্কোর দাঁড়ায় ৩০৬/৫। চতুর্থ দিনে লাঞ্চের আগে মাত্র ১০ ওভার ওভার ব্যাট করে ৯ উইকেটে ৩৬৫ রান সংগ্রহ করে ইনিংস ঘোষনা করেন কিউই অধিনায়ক ফ্লেমিং। বাংলাদেশের পক্ষে মাশরাফি ও শরীফ ৩ টি করে, মঞ্জু ২ টি এবং সুজন ১ টি উইকেট লাভ করেন।

টাইগারদের হয়ে ইনিংস ওপেন করতে নামেন জাভেদ ওমর বেলিম ও আল শাহরিয়ার রোকন। দুজনের কেউই অবশ্য ক্রিজে বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। মাত্র ৩২ রানে দুই ওপেনারকে হারালেও তৃতীয় উইকেট জুটিতে দারুণ এক পার্টনারশিপ গড়ে বিপর্যয় সামাল দেন হাবিবুল বাশার সুমন ও আমিনুল ইসলাম বুলবুল। শেন বন্ড, ক্রিস মার্টিন, ক্রিস কেয়ার্নস, ম্যাকমিলানদের সমন্বয়ে গঠিত কিউই পেস আক্রমণকে বেশ স্বাচ্ছন্দ্যেই মোকাবেলা করেছিলেন দুজনে। হাবিবুল বাশার দারুণ কিছু কাট ও পুল শটে মুগ্ধতা ছড়িয়েছিলেন সেদিন। বাংলাদেশের স্কোর একটা সময় বেশ ভাল অবস্থানে চলে আসে (৯২/২)। এরপরই দ্রুত উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচে ফেরে ব্ল্যাক ক্যাপসরা।

বুলবুলকে(১৪) কট বিহাইন্ড করে তৃতীয় উইকেট জুটির প্রতিরোধ ভেঙে দেন শেন বন্ড। আশরাফুল মাত্র ১ রান করে ভেট্টোরির বলে আউট হন। ভেট্টোরিরই দ্বিতীয় শিকারে পরিণত হবার আগে হাবিবুল দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৬১ রান (৮ টি চার ও ১টি ছয়) করেন। সানোয়ার হোসেন ৪৫ রানের একটি দায়িত্বশীল ইনিংস খেলেছিলেন সেদিন। ১৫৬ রানে ৮ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ যখন ফলোঅনের শংকায়, ঠিক সেই সময় খালেদ মাহমুদ সুজন ৬ টি চার ও ২ টি ছক্কায় সাজানো ৪২ বলে ৪৫ রানের একটি ঝড়োগতির ইনিংস খেলে বাংলাদেশের স্কোর দুইশ’র ওপর নিয়ে যেতে সমর্থ হন। তবে শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ ফলোঅন এড়াতে পারে নি। ১ম ইনিংসে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৫৮.১ ওভারে সবকটি উইকেট হারিয়ে ২০৫। শেন বন্ড সর্বোচ্চ ৪ টি উইকেট নেন।

যেহেতু পাঁচ দিনের টেস্ট তিনদিনে নেমে এসেছিল তাই বাংলাদেশকে ফলোঅন করাতে ওদের প্রয়োজন ছিল ঠিক ১৫০ বা তার বেশি রানের লিড। তারা সেটা ঠিকই পেয়েছিল এবং আমাদেরও ফলোঅন করতে বাধ্য করেছিল। ২য় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালই করেছিল টাইগাররা। উদ্বোধনী জুটিতে আসে ৩৯ রান। এরপর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় তারা। ওপেনার আল শাহরিয়ার রোকন ৫৩ রানের দারুণ একটি ইনিংস খেলেন। ৪ উইকেটে ৯০ থেকে আর মাত্র ১৮ রান যোগ করেই শেষ ৬ উইকেট পড়ে গেলে ১০৮ রানেই (৪৭.২ ওভার) থেমে যায় বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংস। কিউই অলরাউন্ডার ক্রিস কেয়ার্নস দারুণ বোলিংয়ে মাত্র ৫৩ রান খরচায় ৭ উইকেট তুলে নেন। ইনিংস ও ৫২ রানের ব্যবধানে হ্যামিল্টন টেস্ট জিতে নেয় নিউজিল্যান্ড।

সম্পাদনা: তুহিন সাইফুল


সর্বশেষ

আরও খবর

সিনেটে ১ লাখ ৯০ হাজার কোটি ডলারের করোনা সহায়তা বিল পাস

সিনেটে ১ লাখ ৯০ হাজার কোটি ডলারের করোনা সহায়তা বিল পাস


বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা


ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ৫০ বছর

ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ৫০ বছর


কার্টুনিস্ট আহমেদ কবির কিশোরের জামিন মঞ্জুর

কার্টুনিস্ট আহমেদ কবির কিশোরের জামিন মঞ্জুর


একদিনেই সড়কে ঝড়ল ১৯ প্রাণ

একদিনেই সড়কে ঝড়ল ১৯ প্রাণ


শাহবাগে মশাল মিছিলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ, আটক ৩

শাহবাগে মশাল মিছিলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ, আটক ৩


গুলিবিদ্ধ সাংবাদিক মারা যাওয়ার ৬০ ঘন্টা পরে পরিবারের মামলা

গুলিবিদ্ধ সাংবাদিক মারা যাওয়ার ৬০ ঘন্টা পরে পরিবারের মামলা


করোনায় ২৪ ঘণ্টায় আরও ৭ মৃত্যু, নতুন শনাক্ত ৩২৭

করোনায় ২৪ ঘণ্টায় আরও ৭ মৃত্যু, নতুন শনাক্ত ৩২৭


নামাজ পড়ানোর সময় সিজদারত অবস্থায় ইমামের মৃত্যু

নামাজ পড়ানোর সময় সিজদারত অবস্থায় ইমামের মৃত্যু


ভাষার বৈচিত্র্য ধরে রাখার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

ভাষার বৈচিত্র্য ধরে রাখার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর