Wednesday, October 5th, 2016
বাংলায় শারদীয়া দূর্গা পূজা
October 5th, 2016 at 1:14 pm
বাংলায় শারদীয়া দূর্গা পূজা

ঢাকা: ‘পরমাপ্রকৃতি, বিশ্বের আদি কারণ ও শিবপত্নী।’এই বাক্যটিতে যেন দেবী দুর্গার প্রকৃত পরিচয় অনেকটাই স্পষ্ট হয়ে ওঠে … যে রূপসী মাতৃদেবী বাংলায় পূজিত হন শরৎকালে, যখন নীলাভ আকাশে ফুরফুরে হাওয়ায় ভেসে বেড়ায় শাদা মেঘের ভেলা, নদীর ধারে উজ্জ্বল রোদে ফুটে থাকে বাতাসে দোল খাওয়া শাদা কাশের ফুল আর গ্রামীণ জনপদে দেবীর আগমনী ঘোষণায় উন্মাতাল ঢাকের শব্দে বাঙালির আদিম রক্তস্রোতে জেগে ওঠে এক আদিম মাতৃভক্ত নিষাদ… দেবী দুর্গার পরিচয় দিতে গিয়ে সুধীরচন্দ্র সরকার এমনটিই লিখেছেন। শিল্পীর তুলিতে পরমাপ্রকৃতি, বিশ্বের আদি কারণ ও শিবপত্নী দুর্গা। শরৎকাল থেকে বসন্ত কাল পর্যন্ত বাঙালির পূজার সময়; শারদীয়া দুর্গা পূজা দিয়ে এই বাৎসরিক মাতৃপূজার শুভ সূচনা। বারো মাসে তের পার্বণ কথাটি হিন্দু সম্প্রদায়ের জন্য প্রচলিত থাকলেও শারদীয়া বা দূর্গা পূজাই বেশি আনন্দ উৎসবের মাধ্যমে পালন করা হয়।

benqt60_1287080279_3-goddess_durga_maa_photoদেবী দূর্গা হলেন শক্তির রূপ, তিনি পরব্রহ্ম। অনান্য দেব দেবী মানুষের মঙ্গলার্থে তাঁর বিভিন্ন রূপের প্রকাশ মাত্র। হিন্দু ধর্মশাস্ত্র অনুসারে দেবী দূর্গা ‘দূর্গতিনাশিনী’বা সকল দুঃখ দুর্দশার বিনাশকারিনী। পুরাকালে দেবতারা মহিষাসুরের অত্যাচারে স্বর্গ থেকে বিতাড়িত হয়েছিল। ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও মহেশ্বর’র শরীর থেকে আগুনের মত তেজরশ্মি একত্রিত হয়ে বিশাল এক আলোক পূঞ্জে পরিণত হয়। ঐ আলোক পুঞ্জ থেকে আর্বিভূত এক দেবী মূর্তি। এই দেবীই হলেন দুর্গা। দিব্য অস্ত্রে সজ্জিত আদ্যশক্তি মহামায়া অসুর কূলকে একে একে বিনাশ করে স্বর্গ তথা বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ডে শান্তি স্থাপন করেন।

দূর্গা পূজা কবে, কখন, কোথায় প্রথম শুরু হয়েছিল তা জানা যায় না। ভারতের দ্রাবিড় সভ্যতায় মাতৃতান্ত্রিক দ্রাবিড় জাতির মধ্যে মাতৃদেবীর পূজার প্রচলন ছিল। সিন্ধু সভ্যতায় (হরপ্পা ও মহেঞ্জোদারো সভ্যতা) দেবীমাতা, ত্রিমস্তক দেবতা, পশুপতি শিবের পূজার প্রচলন ছিল। দূর্গা শিবের অর্ধাঙ্গিনী সে হিসাবে অথবা দেবী মাতা হিসাবে পূজা হতে পারে। তবে কৃত্তিবাসের রামায়নে আছে, শ্রী রাম চন্দ্র কালিদহ সাগর (বগুড়ার) থেকে ১০১ টি নীল পদ্ম সংগ্রহ করে সাগর কূলে বসে বসন্তকালে সীতা উদ্ধারের জন্য সর্বপ্রথম শক্তি তথা দুর্গোৎসবের (বাসন্তি পূজা বা অকাল বোধন) আয়োজন করেছিলেন। মার্কেন্ডেয় পুরাণ মতে, চেদী রাজবংশের রাজা সুরাথা খ্রীষ্ট্রের জন্মের ৩০০ বছর আগে কলিঙ্গে (বর্তমানে উরিষ্যা) নামে দূর্গা পুজা প্রচলন করেছিল। যদিও প্রাচীন উরিষ্যার সাথে নেপালের পূজার কোন যোগসূত্র আছে কিনা জানা নাই।

দ্বাদশ শতক থেকে বাংলায় দুর্গা পূজার প্রচলন হলেও বর্তমানরূপে পাওয়া যায় ওই ষোড়শ শতাব্দী থেকেই। তবে ঐতিহাসিকেরা যাই বলুক না কেন, ধান ও শস্যের এই দেশে দেবী দুর্গার প্রাচীনতা নিয়ে সন্দেহের কোনও অবকাশ নেই। প্রাচীনকালে দুর্গাপূজা শস্যপূজা রূপে বিরাজমান ছিল। পৃথিবী প্রাণশক্তি ও প্রজনন শক্তির প্রতীক হিসেবে প্রাচীনকাল থেকেই পূজিতা। প্রাচীন বাংলার কৃষিজীবি জনগন পৃথিবীকে মনে করত শস্যোৎপাদিনী মাতৃদেবী। এই ‘পৃথিবীদেবীর’পূজা থেকেই পরবর্তীকালে ‘শস্যদেবী’ও শস্যপূজার উৎপত্তি হয়েছে। এ কারণে পৃথিবীর দান শস্য দুর্গাপূজার একটি বড় দিক। দুর্গা পূজায় দেবীর বোধন হয় ষষ্ঠীর দিনে। বোধনের প্রতীক বিল্বশাখা (বেলগাছের ডাল)। পরে দেবীর স্নান, প্রতিষ্ঠা ও পূজা হয় নবপত্রিকায়। ‘ নবপত্রিকা’হচ্ছে ‘শস্যবধূ’। একটি কলাগাছের সঙ্গে কচু, হরিদ্রা, জয়ন্তী, বিল্ব (বেল), ডালিম, মানকচু, অশোক ও ধান একত্রে বেধে এই শস্যবধূ তৈরি করা হয়। এই নবপত্রিকা বা শস্যবধূকেই ‘দেবীর’প্রতীক হিসেবে প্রথম পূজা করতে হয়।

benqt60_1287075343_6-durga_1ইতিহাস থেকে যতটুকু জানা যায় মধ্যযুগে বাংলা সাহিত্যে দূর্গা পূজার অস্তিত্ব পাওয়া যায়। ১১শ শতকে অভিনির্ণয়-এ, মৈথিলী কবি বিদ্যাপতির দূর্গাভক্তিতরঙ্গিনীতে দূর্গা বন্দনা পাওয়া যায়। বঙ্গে ১৪শ শতকে দুর্গা পূজার প্রচলন ছিল কিনা ভালভাবে জানা যায় না। ১৫১০ সালে কুচ বংশের রাজা বিশ্ব সিংহ কুচবিহারে দূর্গা পূজার আয়োজন করেছিলেন। ১৬১০ সালে কলকাতার বারিশার রায় চৌধুরী পরিবার প্রথম দূর্গা পূজার আয়োজন করেছিল বলে ধারণা করা হয়। ১৭৯০ সালের দিকে এই পূজার আমেজে আকৃষ্ট হয়ে পশ্চিম বঙ্গের হুগলি জেলার গুপ্তি পাড়াতে বার জন বন্ধু মিলে টাকা পয়সা (চাঁদা) তুলে প্রথম সার্বজনীন ভাবে আয়োজন করে বড় আকারে দূর্গা উৎসব। যা বারোইয়ার বা বারবন্ধুর পূজা নামে ব্যাপক পরিচিতি পায়। আধুনিক দূর্গা পূজার প্রাথমিক ধাপ ১৮ম শতকে নানা বাদ্য যন্ত্র প্রয়োগে ব্যক্তিগত, বিশেষ করে জমিদার, বড় ব্যবসাযী, রাজদরবারের রাজ কর্মচারী পর্যায়ে প্রচলন ছিল। পাটনাতে ১৮০৯ সালের দূর্গা পূজার ওয়াটার কালার ছবির ডকুমেন্ট পাওয়া গেছে।

উরিষ্যার রামেশ্বরপুরে একই স্থানে ৪০০ শত বছর ধরে সম্রাট আকবরের আমল থেকে দূর্গা পূজা হয়ে আসছে। ১৯১০ সালে সনাতন ধর্মউৎসাহিনী সভা ভবানীপুরে বলরাম বসু ঘাট লেনে এবং একই জেলায় অন্যান্যরা রামধন মিত্র লেন, সিকদার বাগানে একই বছরে ঘটা করে প্রথম বারোয়ারী পুজার আয়োজন করে। ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে দূর্গা স্বাধীনতার প্রতীক হিসাবে জাগ্রত হয়। বিংশ শতাব্দির প্রথমার্ধে এই পূজা ঐতিহ্যবাহী বারোয়ারী বা কমিউনিটি পূজা হিসাবে জনপ্রিয়তা লাভ করে। আর স্বাধীনতার পর এই পূজা পৃথিবীর অন্যতম প্রধান উৎসবের মর্যাদা পায়।

বাংলাদেশের সাতক্ষীরার কলারোয়ার ১৮ শতকের মঠবাড়িয়ার নবরত্ন মন্দিরে (১৭৬৭) দূর্গা পূজা হত বলে লোকমুখে শোনা যায়। ঢাকেশ্বরী মন্দির চত্বরে আছে দুই ধরনের স্থাপত্যরীতি মন্দির। প্রাচীনতমটি পঞ্চরত্ন দেবী দূর্গার যা সংস্কারের ফলে মূল চেহেরা হারিয়েছে। মন্দিরের প্রাচীন গঠনশৈলী বৌদ্ধ মন্দিরের মত। ধারণা করা হয়, দশম শতকে এখানে বৌদ্ধ মন্দির ছিল যা পরে সেন আমলে হিন্দু মন্দির হয়েছিল এবং ১১শ বা ১২শ শতক থেকে এখানে কালী পূজার সাথে দূর্গা পূজাও হত। ইতিহাসবিদ দানীর মতে, প্রায় সাড়ে পাঁচশো বছর আগে রমনায় কালী মন্দির নির্মিত হয়েছিল এবং এখানেও কালী পূজার সাথে দূর্গা পূজাও হত।

বাংলায় দুর্গাপূজা বলতে ১৬১০ সালের লক্ষীকান্ত মজুমদারের পূজাকেই বোঝায়। কলকাতার এ পূজায় ভক্তির চেয়ে বেশি ছিল বিলাস ব্যসন। এ সময়ে প্রভাবশালী জমিদার, সামন্ত রাজরা ইংরেজদের সাথে সদ্ভাব বজায় রাখার জন্য এ পূজার চল করেন। আঠার উনিশ শতকের পূজা মূলত জমিদারদের মাঝেই সীমাবদ্ধ ছিল। দেবী দুর্গা ঢাকায় ঠিক কবে এসেছিলেন তা বলা বেশ শক্ত।

ইতিহাস বলে বল্লাল সেন চতুর্দশ শতাব্দীতে তৈরি করেন ঢাকেশ্বরী মন্দির। অর্থাৎ দেবী দূর্গা সে আমলে ঢাকায় অপরিচিত ছিলেন না। অবশ্য বল্লাল সেনের ঢাকেশ্বরী মন্দির তৈরির ঘটনা এখনো প্রমাণিত নয়। ঢাকেশ্বরী মন্দিরের প্রাচীন যে কাঠামো এখনো দাঁড়িয়ে তা কোন ভাবেই কোম্পানি আমলের আগেকার নয়।

benqt60_1287075218_5-shiva_parvatiঢাকার দুর্গাপূজার সবচেয়ে পুরোন তথ্য পাওয়া যায় অর্থনীতিবিদ ভবতোষ দত্তের আত্মজীবনী থেকে। ১৮৩০ সালের সূত্রাপুরের একটি পূজার উল্লেখ করেছেন তিনি। প্রায় দোতলা উঁচু ছিল দুর্গা প্রতিমাটি। সে সময়ে নন্দ লাল বাবুর মৈসুন্ডির বাড়িতে পূজাটি হয়েছিল। তবে এরপর আর কোন বিস্তারিত বর্ণনা নেই সে পূজার।

এছাড়াও ইতিহাস বলে ঢাকার রামকৃষ্ণ মিশনের পূজাও এক সময়ে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিল। সে সময়ে গোটা বাংলাতেই ব্রাক্ষ্মণদের মধ্যে প্রাণচাঞ্চল্য লক্ষ্য করা যেত। তবে কিছুকাল পরেই অন্যান্য শ্রেণীর মানুষের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে ব্রাক্ষ্মণদের আধিপত্য। অনেকে পুরোহিত ছাড়াই শুরু করে দেন পূজা। তবে সেটাও যে খুব একটা প্রচলিত রীতি ছিল তা নয়।

ঢাকায় দুর্গা পূজা সাধারণ্যে আসতে প্রচুর সময়ের প্রয়োজন পড়ে। এর প্রমাণ পাওয়া যায় ঢাকায় সময় কাটানো বিভিন্ন মানুষের আত্মজীবনী থেকেই। হৃদয়নাথ, গণিউর রাজা, বুদ্ধদেব বসুসহ গত শতকের শুরুর দিকে যারা ঢাকায় সময় কাটিয়েছেন, তাদের কারো লেখাতেই আসেনি দুর্গাপূজার প্রসঙ্গ।

ঢাকাবিদ অধ্যাপক মুনতাসীর মামুনের পুরনো ঢাকার উৎসব ও ঘরবাড়ি বইটিতে ঢাকার উৎসব হিসেবে ঈদ, মুহররম, জন্মাষ্টমী, হোলি ও ঝুলনের উল্লেখ রয়েছে। এর অর্থ এই দাঁড়ায় দুর্গাপূজা বিংশ শতকের শুরুতেও ছিল পারিবারিক, অভিজাতদের মাঝে। অভিজাতদের বাইরে কেবল এর সার্বজনীনতা অর্থাৎ এখন যে ধরণের পূজা প্রচলিত, তা শুরু হতে গত শতকের তিরিশের দশক লেগে যায়।

তবে সার্বজনীন পূজা ব্যাপক আকারে শুরু হয় ১৯৪৭ এর দেশ বিভাগের পর। দেশ ভাগের পর একক ভাবে পূজা করাটা বেশ ব্যয় সাপেক্ষ হয়ে ওঠে। এর ফলে ব্রাক্ষ্মণ-অব্রাক্ষ্মণ নির্বিশেষে মিলেমিশে পূজা করার চল শুরু হয়। তবে এখনো পারিবারিক পূজার চল রয়ে গেছে পুরোন ঢাকার বিভিন্ন এলাকায়। ৭১ এ দেশ স্বাধীন হওয়ার পর কিংবদন্তীর ঢাকেশ্বরী মন্দিরে শুরু হয় দেশের কেন্দ্রীয় দুর্গা পূজা।

প্রথমদিকে যেহেতু কেবল বাবুগিরি আর ইংরেজদের সাথে সদ্ভাব বজায় রাখার জন্যই পালিত হত এ উৎসব, সে কারণেই ধর্মীয়ভাবের চেয়ে সেখানে বেশি প্রাধান্য পেত আমোদ-প্রমোদ। কিন্তু বিত্তবান বাবুরা দুর্গোৎসবের যে জোয়ার আনতে চেষ্টা করেছিলেন তাতে পাঁক ও আবর্জনাই ছিল বেশি।

বাবুদের অর্থকৌলিন্য প্রকাশের পাশাপাশি সামাজিক মর্যাদা লাভের উপায়ও ছিল এ উৎসব। কালী প্রসন্ন সিংহের হুতোম প্যাঁচার নক্সায় দুর্গাপূজার বর্ণনায় এসেছে বাঈজি নাচ, খেমটা নাচ, কবিগান, কীর্তনের। পূজায় ইংরেজদের আপ্যায়ণের জন্য প্রস্তুত থাকত ব্র্যান্ডি, শেরি, শ্যাম্পেন।

সনাতন ধর্মের অনুসারী সাংস্কৃতিক ব্যক্তিদের পদচারণায়, তাদের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানমালায় এ পূজা এখন অন্যতম আকর্ষণ ঢাকার। মূলত গুলশান, বনানী, উত্তরার হিন্দুরাই এ মেলার মূল আয়োজক। পুরোন ঢাকার পূজামন্ডপে যেমন পাওয়া যায় ঐতিহ্যের আর ইতিহাসের, সেখানে বনানী মাঠের পূজা মন্ডপে খোঁজ মিলে আধুনিকতার। তবে এ কথা অস্বীকার করার উপায় নেই যে, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিতে দুর্গাপূজা একটি অন্যতম অনুসঙ্গ। দুর্গোৎসব বাঙালি হিন্দুদের সর্বশ্রেষ্ঠ পূজা।

বিভিন্ন পুরাণ শাস্ত্রে দুর্গা দেবীর আদ্যাশক্তি মহামায়া, চন্ডী, উমা, ভগবতী, পার্বতী প্রভৃতি নামে পূজিতা। ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণ, কালিকা পুরাণ, দেবী পুরাণ, দেবী ভগবত প্রভৃতি গ্রন্থে দেবী দুর্গার কাহিনী, কাঠামো ও লীলার বর্ণনা পাওয়া যায়। সেখানে কিছু কিছু পার্থক্য দেখা যায়। শরতের দুর্গাপূজা শারদীয়-দুর্গোৎসব মূলত মার্কন্ডেয় পুরাণের অন্তগর্ত শ্রী শ্রী চন্ডী গ্রন্থ অনুসারে হয়ে থাকে।

চন্ডী গ্রন্থ খ্রিস্টীয় তৃতীয় শতাব্দীতে রচিত এবং যা ভাগবত পুরাণের পূর্বে রচিত হয়। মার্কন্ডেয় পুরাণের মূল অংশ চন্ডী। কেউ কেউ মনে করেন, ভারতের নর্মদা অঞ্চল অথবা উজ্জয়িনীতে চন্ডীর উৎপত্তি। অনেক গবেষক মনে করেন, চট্টগ্রাম করালডালা পাহাড় শ্রী চন্ডীর আবির্ভাব স্থল। বৈদিক যুগ থেকেই দুর্গা নাম প্রচলিত। ঋগবেদে বিশ্বদুর্গা, সিন্ধুদুর্গা, অগ্নিদুর্গা এই তিনটি নাম পাওয়া যায়। দুর্গাপূজা কেবল শাক্ত সমাজেই নয়, প্রাচীন বৈষ্ণব সমাজেও অনুষ্ঠিত হয়েছে।

benqt60_1287074900_1-durgapujaমহাপ্রভু চৈতন্যদেব চন্ডীমণ্ডপেই চতুষ্পাঠী চালু করেন। প্রাচীন বৈষ্ণব কবি চন্ডী দাস, বৈষ্ণবাচার্য্য নিত্যান্দজীও দুর্গাদেবীর ভক্ত ছিলেন। মার্কন্ডেয় পুরাণ মতে, সত্য যুগের রাজা সুরথ, সমাধি বৈশ্য দেবীর মৃন্ময়ী মূর্তি গড়ে পূজা আরম্ভ করেছিলেন। কৃত্তিবাস রামায়ণ থেকে জানা যায়, ত্রেতা যুগে লঙ্কার রাজা রাবণ দেবীপূজার আয়োজন করে দেবীর আশীর্বাদধন্য হয়েছিলেন।

বাংলাদেশে প্রথম দুর্গাপূজার প্রচলন হয় মোগল সম্রাট আকবরের রাজত্বকালে, ষোড়শ শতাব্দীতে। মোগল সম্রাট বিদূষক কুলুক ভট্টের পিতা উদয় নারায়ণের পৌত্র অর্থাৎ কুলুক ভট্টের পুত্র তাহিরপুরের রাজা (বর্তমান রাজশাহী) কংস নারায়ণ রায় প্রায় সাড়ে আট লাখ টাকা ব্যয় করে প্রথম শারদীয় দুর্গোৎসবে আয়োজন করেন। পড়ে তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ভাদুরিয়ার (রাজশাহী) রাজা জয় জগৎ নারায়ণ প্রায় ৯ লাখ টাকা ব্যয় করে বাসন্তী দুর্গোৎসব করেন।

তারপর থেকে রাজা ভুঁইয়ারা নিয়মিতভাবে দুর্গাপূজা আরম্ভ করেন। ১৮৫৭ সালে সিপাহি বিপ্লবের সময় বিক্রমপুর পরগনায় ভাগ্যকুল জমিদার বাড়ির রাজা ব্রাদার্স এস্টেটের এবং সাটুরিয়া থানার বালিহাটির জমিদার বাড়ির দুর্গাপূজা আয়োজনের ব্যাপকতা কিংবদন্তি হয়ে আছে।

সূত্র: ১.দূর্গা পূজা, উইকিপিডিয়া, ফ্রি এনসাইক্লোপিডিয়া, সুধীরচন্দ্র সরকার; পৌরাণিক অভিধান

গ্রন্থনা ও সম্পাদনা: মাহতাব শফি, প্রণব আচার্য্য


সর্বশেষ

আরও খবর

সম্মিলনী পূজা কমিটির ৬৮তম দুর্গাপূজা

সম্মিলনী পূজা কমিটির ৬৮তম দুর্গাপূজা


ঢাকা মহানগরে ২৩১টি মঠ-মন্ডপে পূজা

ঢাকা মহানগরে ২৩১টি মঠ-মন্ডপে পূজা


চট্টগ্রামে বৈরি আবহাওয়ার মধ্যে প্রতিমা বিসর্জন

চট্টগ্রামে বৈরি আবহাওয়ার মধ্যে প্রতিমা বিসর্জন


‘দুর্গা দেবীকে শেষ দেখা দেখে গেলাম’

‘দুর্গা দেবীকে শেষ দেখা দেখে গেলাম’


প্রতিমা বিসর্জন সম্পন্ন

প্রতিমা বিসর্জন সম্পন্ন


বাজছে প্রতিমা বিসর্জনের সুর

বাজছে প্রতিমা বিসর্জনের সুর


সাজুন দশমীর সাজে

সাজুন দশমীর সাজে


মহানবমী আজ (ভিডিও)

মহানবমী আজ (ভিডিও)


ছবিতে কুমারী পূজা

ছবিতে কুমারী পূজা


পুরান ঢাকার বিভিন্ন মণ্ডপে অষ্টমী পূজা (ভিডিও)

পুরান ঢাকার বিভিন্ন মণ্ডপে অষ্টমী পূজা (ভিডিও)