Wednesday, January 4th, 2017
বিএনপির পরিণতি আরো ভয়াবহ হবে
January 4th, 2017 at 10:54 pm
বিএনপির পরিণতি আরো ভয়াবহ হবে

আশিক মাহমুদ, ঢাকা:

পাঁচ জানুয়ারি। স্বাধীনতা পরবর্তী দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের তারিখগুলোর মধ্যে এখন গুরুত্বপূর্ণ দিন হয়ে উঠেছে। কেননা এই একটি দিনকেই ভিন্ন দৃষ্টিতে পালন করছে দেশের বৃহতম দু’টি রাজনৈতিক দল। এক পক্ষের মতে এদিন গণতন্ত্রের বিজয় হয়েছে অন্য পক্ষ বলছে এদিনই হত্যা করা হয়েছে গণতন্ত্রকে। তাই পাঁচ জানুয়ারিকে ঘিরে তিন বছর ধরেই উঠে আলোচনার ঝড়। সঙ্গে রাজপথে থাকে পক্ষে বিপক্ষে নানা কর্মসূচি।

এবারের পাঁচ জানুয়ারি নিয়ে শঙ্কা এবং সম্ভাবনা সহ বর্তমান রাজনৈতিক বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সাবেক খাদ্যমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাকের সঙ্গে কথা বলেন নিউজনেক্সটবিডি ডটকম’র এই প্রতিনিধি।


পাঁচ জানুয়ারি, গণতন্ত্র রক্ষা না হত্যার দিবস?

একটা নির্বাচন হয়েছে তার ভিত্তিতে একটা সরকার পাঁচ বছরের তিন বছর শেষ করেছে। আগামী ১৯ সালে সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন হবে এবং দেশ সুন্দরভাবে চলছে। দেশকে সামনের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। দেশের মানুষের উন্নয়ন হচ্ছে এতে তো গণতন্ত্র ধ্বংস হতে পারে না। বরং আমরা বলবো এই দিনে আমরা গণতন্ত্রকে রক্ষা করেছি এবং এই গণতান্ত্রিক চিন্তা চেতনা মূল্যবোধে দেশকে পরিচালনা করার পথ আরো সুগম হয়েছে।

এদিন দুই দলের কর্মসূচি নিয়ে কোনো সংঘাতের শঙ্কা আছে কি?

যখন বিএনপি ক্ষমতায় ছিল তখনও আমরা তাদের রাজনৈতিক ভাবে মোকাবেলা করেছি। এখনও আমরা ক্ষমতায় আছি পুলিশ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের দায়িত্ব তারা পালন করবে। তাদের অবস্থান থেকে কেউ যদি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থির অবনতি ঘটাতে চাই তাহলে রাজনৈতিক ভাবেও আমরা তার মোকাবেলা করবো। ইনশাল্লাহ্ কোনো সমস্যা হবে না। জনগণকে নিয়ে আমরা মোকাবেলা করবো।

বিএনপি অভিযোগ করেছে বর্তমানে দেশে কোন গণতন্ত্র নেই, দেশ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছেআপানি কী মনে করেন?

দেশ ধ্বংস করছে কি-না আপনারা দেখেন। সবার তো চোখ কান খোলা। পত্রপত্রিকা এতো বড় মিডিয়া সব জয়গায় আসছে। দেশের উন্নয়ন, অর্থনীতিক অবস্থা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, মানুষের জীবনে নিরাপত্তা কেমন আছে? আমি তো মনে করি দেশের স্কুল কলেজ সুন্দর ভাবে চলছে। ছাত্ররা স্কুলে যাচ্ছে। দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি খুবই ভালো। বিচ্ছিন্ন কিছু কিছু ঘটনা তো থাকবেই। সার্বিকভাবে দেশ খুব ভালো ভাবেই চলছে। দেশ ধ্বংস হয় নাই। বিএনপি যখন ক্ষমতায় ছিলো তখনই দেশ ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম অভিযোগ করেছেন বর্তমান সরকার দেশের সব গণমাধ্যম দখল করে নিয়েছে, এবিষয়ে আপনার মত?

এতো বড় গণমাধ্যম। একটা ছোট দেশ ওই রকম উন্নত দেশও না। এই এতো বড় গণমাধ্যম এটা কেমনে নিয়ন্ত্রন করা সম্ভব? যে যার খুশি তার মতো পত্রিকা বের করছে। নতুন নতুন ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া করছে। এগুলো নিয়ন্ত্রণ করার সুযোগটা কোথায়?

বিএনপি সরকারের সঙ্গে সংলাপের দাবি জানাচ্ছে। সরকারের কি সংলাপে বসা উচিৎ নয়?

সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন হবে। সংবিধানে যে ভাবে দেয়া আছে। সংবিধানে নির্বাচন কমিশন কিভাবে গঠিত হবে সেটি বলা হয়েছে। মহামান্য রাষ্ট্রপতি তার সাংবিধানিক ক্ষমতা ব্যবহার করে নির্বাচন কমিশন গঠন করবে। উনি যদি সার্চ কমিটি করে করবেন। উনি বিভিন্ন দলের সাথে আলোচনা করছেন। সেই আলোচনার ভিত্তিতে সব বিষয়গুলো বিবেচনা করে উনি উনার ক্ষমতা ব্যবহার করে নির্বাচন কমিশন গঠন করবে। এই মুহূর্তে বিএনপির সাথে সংলাপে বসার কোনো বিষয় সরকারের আছে বলে আমি মনে করি না।

নির্বাচন কমিশন গঠনের জন্য রাষ্ট্রপতি যে উদ্যোগ নিয়েছেন, সব দলের সঙ্গে সংলাপ করছেন। এই সংলাপেও কি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন কমিশন হবে?

রাষ্ট্রপতি যে নির্বাচন কমিশন গঠন করবেন বিএনপির সেটি মানা উচিৎ। মানবে না কেন? আমার তো মনে হয় বিএনপি অতীতে ভুল করেছে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করে। তারা নির্বাচনে যদি আসতো তখন তো মাননীয় প্রধানমন্ত্রী টেলিফনে কথা বলেছেন, নির্বাচনে তাদের অংশগ্রহণের কথাও বলেছিল। সেগুলো তারা কিছুই মানেনি। তারা মনে করেছিলেন আন্দোলন সংগ্রাম করে এই সরকারের পতন ঘটাতে পারলে তারা বেশি লাভবান হবে। কাজেই আমার ধারণা এই বার আর তারা সেই ভুল করবে না। তারা অবশ্যই নির্বাচন কমিশনকে মেনে নিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে। আর যদি নির্বাচনে না আসে পরিণতি আরো ভয়াবহ হবে। তারা এমনি জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। আরো বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে।

জেলা পরিষদ নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিরুদ্ধে কি আওয়ামী লীগ কোনো ব্যবস্থা নেবে?

এখনও এই ব্যাপারে আলোচনা হয়নি। আগামী মিটিং এ এই বিষয়ে আলোচনা হতে পারে। যেহেতু বিরোধী দল অংশ নেয়নি। সেই পরিপ্রেক্ষিতে দলের একটা সিদ্ধান্ত ছিল। যারা নির্বাচন করছে তারা করুক।

পরবর্তী কোনো নির্বাচনে এর প্রভাব পরবে কি?

না, ইনশাল্লাহ আমরা এগুলো সেভ করবো। ছোটখাটো পার্থক্য তো হয়ই। সমঝোতা থাকলে সব ঠিক হয়ে যাবে।

নারায়ণগঞ্জ নির্বাচনে সরকারের সামনে দু’টি চ্যালেঞ্জ ছিল। একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন করা অন্যটি দলীয় প্রার্থীকে বিজয়ী করা। এই দুই চ্যালেঞ্জেই কি আওয়ামী লীগ জয় করতে পেরেছে?

নারায়ণগঞ্জের নির্বাচনকে এই ভাবে দেখতে হবে। আপনারা জানেন এই নির্বাচন কমিশনের মেয়াদ শেষ হবে আগামী মাসে। এই নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিএনপি এক এক সময় এক এক বক্তব্য দিয়েছে। কোনো সময় এই নির্বাচন কমিশনকে তারা অভিনন্দন জানিয়েছে। আবার যখন এটা তাদের বিরুদ্ধে গেছে তখন তার আবার এই নির্বাচন কমিশনের তীব্র সমালোচনা করেছে। নির্বাচন বাতিল করতে বলছে নির্বাচন কমিশনকে পদত্যাগ করতে বলছে।

নারায়ণগঞ্জ নির্বাচনে আমাদের সামনে দু’টি চ্যালেঞ্জ ছিল। আমরা সেই চ্যালেঞ্জ জয়লাভ করতে পেরেছি। নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে। আইভী বিপুল ভোটে জয়লাভ করেছে। নারায়ণগঞ্জের নির্বাচনে আমরা দেখিয়েছি এই সরকার সুষ্ঠু নির্বাচন চায় এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন চায় সেটি প্রমাণ হয়েছে।

বেশ কিছুদিন ধরে জনপ্রতিনিধিদের ওপর হামলা ঘটনা দেখা যাচ্ছেসর্বশেষ এমপি লিটনকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। আসলে জনপ্রতিনিধিদের বাড়তি নিরাপত্তার প্রয়োজন আছে কী?

একটা ঘটনা হয়েছে এটা খুবই দুঃখজনক। সবার জন্যই এটা দূর্ভাবনার বিষয়। আমরা এই জন্য সকলেই উদ্বিগ্ন। আমি মনে করি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এটা নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে। অবশ্যই তাদের নিরাপত্তার দরকার আছে।

জাতীয় পার্টি সরকাররে আছে বিরোধী দলেও আছে। এই বিষয়টা নিয়ে নানা মহলে সমালোচনাও আছে। জাতীয় পার্টিকে গ্রহণযোগ্য বিরোধী দল মনে করেন?

তারা কাজও কারছে সমালোচনাও করছে। সমালোচনাও করছে সবাই দেখছে। তাতে তো সরকারের জনপ্রিয়তা কমার কথা তো জনপ্রিয়তা তো কমেনি।

বিগত বছরটা আওয়ামী লীগ সরকারের জন্য কেমন ছিল?

তুলনামূলকভাবে ২০১৬ সাল আওয়ামী লীগ ও বর্তমান সরকারের জন্য খুবই ভালো ছিল। আপনারা জানেন, ২০০৮ সালের নির্বাচনে জনগণের বিপুল ভোটের জনসমর্থন নিয়ে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের দায়িত্ব পাই। সরকার পরিচালনা করে। সেই নির্বাচনের আগে নির্বাচনী ইশতেহার ভিশন ডকুমেন্ট ২০২১ এবং দিন বদলের সনদ এগুলো দিয়ে আমরা জাতির কাছে কথা দিয়েছিলাম, বাংলাদেশকে আমরা খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করবো। নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস পত্রের দাম মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে নিয়ে আসবো।

আমাদের অগ্রাধিকার ছিল পাঁচটি বিষয়ে। তার মধ্যে একটি ছিলো জ্বালানী বিশেষ করে জ্বালানী বিদ্যুৎ এর উৎপাদন করা। সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা দুর্নীতি কমিয়ে নিয়ে আসা। শিক্ষা স্বাস্থ্যের মতো গুরুত্বপূর্ণ সেবাখাতের উন্নয়ন করা। আমার মনে হয় পাঁচ বছর আওয়ামী লীগ খুব সুন্দরভাবে দেশ পরিচালনা করেছে। আমরা সত্যিকার অর্থে দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করেছি। কিন্তু ২০১৪ সালে দেশের প্রধান বিরোধীদল নির্বাচনে না এসে নির্বাচন বানচাল করার জন্য জ্বালাও পোড়াও করেছে। আসলে তারা চাই বাংলাদেশকে অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত করতে। ব্যর্থ একটা রাষ্ট্র করতে। কিন্তু তারা সফল হতে পারেনি। তারা ব্যর্থ হয়েছে।

তারপর থেকে ২০১৫ সাল ২০১৬ সালে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি তুলনামূলক ভাবে ভালো ছিল। উন্নয়নমূলক প্রকল্পে নতুন নতুন দিগন্ত সৃষ্টি হয়েছে। কাজেই ১৬ সাল আমাদের জন্য খুবই ভালো একটি বছর ছিল। আমি মনে করি ১৭ সালও ইনশাল্লাহ্ ভালো হবে।

কিছুদিন আগেই আওয়ামী লীগের সম্মেলন হয়ে গেলআপনি আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্যের দায়িত্ব পেয়েছেন। এতো দূর পর্যন্ত আসার পেছনের গল্প যদি একটু বলেন।

ষাটের দশকের শেষের দিকে আমি বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলাম। তখন থেকেই আমি স্টুডেন্ট এক্টিভিস্ট হিসেবে সমাজের যে অনিয়ম, অসমতা, অন্যায়, অবিচার এগুলোর বিরুদ্ধে ছাত্রজীবন থেকেই সোচ্চার ছিলাম। পরবর্তীতে ছাত্রলীগে সঙ্গে আমি নিজেকে সম্পৃক্ত করি। তারপর ১৯৭০ সালে যে নির্বাচন হয় সেই নির্বাচনেও আমরা ভূমিকা রাখি যাতে আওয়ামী লীগের পক্ষে ছয় দফার পক্ষে গণ রায় আসে। ৬৯’র অভ্যুত্থানে সময় আমি গ্রেফতার হয়েছিলাম।

৭০’র নির্বাচনে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ জনসমর্থন পেল গণ রায় হলো। তারপর পাকিস্তানিরা আমাদের ক্ষমতা হস্তান্তর করেনি। এর পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশের মানুষ প্রতিরোধ গড়ে তোলে। মুক্তিযুদ্ধ হয়। মু্ক্তিযুদ্ধে আমি অংশগ্রহণ করি। সামাজিক কর্মকাণ্ডেও আমার সম্পৃক্ততা আছে। প্রায় ছাত্রজীবন থেকেই সার্বিক ভাবে সামাজিক এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে আমি সম্পৃক্ত ছিলাম। তারপর আস্তে আস্তে এই পর্যন্ত এসেছি।

সময় দেয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ

নিউজনেক্সটবিডি ডটকম’কেও ধন্যবাদ।

সম্পাদনা: সজিব ঘোষ


সর্বশেষ

আরও খবর

সমাজ ব্যর্থ হয়েছে; নাকি রাষ্ট্র ব্যর্থ হয়েছে?

সমাজ ব্যর্থ হয়েছে; নাকি রাষ্ট্র ব্যর্থ হয়েছে?


বঙ্গবন্ধুর মুক্তির নেপথ্যে

বঙ্গবন্ধুর মুক্তির নেপথ্যে


সামরিক ডাইজেষ্ট: আকাশে উড়ছে কমব্যাট ঘাস ফড়িং

সামরিক ডাইজেষ্ট: আকাশে উড়ছে কমব্যাট ঘাস ফড়িং


যুদ্ধ এবং প্রার্থনায় যে এসেছিলো সেদিন বঙ্গবন্ধুকে নিয়েই আমাদের স্বাধীনতা থাকবে

যুদ্ধ এবং প্রার্থনায় যে এসেছিলো সেদিন বঙ্গবন্ধুকে নিয়েই আমাদের স্বাধীনতা থাকবে


ঢাকার ১৫ মাইলের মধ্যে মিত্রবাহিনী

ঢাকার ১৫ মাইলের মধ্যে মিত্রবাহিনী


যুক্তরাষ্ট্রের হুমকীর মুখেও অটল ভারত

যুক্তরাষ্ট্রের হুমকীর মুখেও অটল ভারত


বেসামাল প্রেসিডেন্ট, গভর্নর দিশেহারা

বেসামাল প্রেসিডেন্ট, গভর্নর দিশেহারা


পালানোর চেষ্টা ব্যর্থ নিয়াজির

পালানোর চেষ্টা ব্যর্থ নিয়াজির


জাতীয় চলচ্চিত্র পুরষ্কারে ধাপ্পার অভিযোগ ভারতীয় লেখকের!

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরষ্কারে ধাপ্পার অভিযোগ ভারতীয় লেখকের!


চীন-ভারত বৈরিতা নতুন করে জঙ্গিবাদ  উত্থানের সম্ভাবনা তৈরী করেছে

চীন-ভারত বৈরিতা নতুন করে জঙ্গিবাদ উত্থানের সম্ভাবনা তৈরী করেছে