Wednesday, December 21st, 2016
বিএনপির বর্জন না অর্জন?
December 21st, 2016 at 9:24 pm
বিএনপির বর্জন না অর্জন?

শেখ রিয়াল, ঢাকা:

ভোট কারচুপি, ভোট ডাকাতির অভিযোগ এনে ভোট বর্জন করা বিএনপির অভ্যাসে পরিনত হয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকার এবং কাজী রকিবুদ্দিন আহমদের অধীনে যে কয়টি নির্বাচন হয়েছে প্রত্যেকটিতেই ভোট বর্জন করেছে বিএনপি। নির্বাচনের আগে না হয় নির্বাচন চলাকালে বিভিন্ন অভিযোগ এনে বিএনপির কেন্দ্র এবং দলীয় প্রার্থীর তরফ থেকে ভোট বর্জনের নির্দেশ আসে। তবে এবার নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে তেমনটি ভাবছে না দলের কেন্দ্রীয় নেতারা।

এরইমধ্যে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ বুধবার নয়পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, ‘ভোট বর্জনের কোনো প্রশ্নই আসে না। ভোট শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এবং ফলাফল প্রকাশ অবধি মাঠে থাকবে বিএনপি। তবে নির্বাচনের অবস্থা বুঝে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

এদিকে বিএনপির কেন্দ্রীয় এক নেতা নাম প্রকাশে অনিচ্ছা সত্ত্বে জানান, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনেও যদি আগের নির্বাচনের মতো ভোট ডাকাতি, আগের রাতেই ব্যালট বাক্স ভরাট, ভোট কেন্দ্র দখল করে তবে সকাল ১০টার মধ্যে ভোট বর্জন করবে বিএনপি। তবে সেটি নির্ভর করছে ভোটের পরিস্থিতির উপর।

তবে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা আশা করছে, নির্বাচন কমিশনের শেষ সময়ে ভোটকে শান্তিপূর্ণ এবং নিরপেক্ষ করবে। ভোট নিরপেক্ষ হলে বিএনপি সমর্থীত প্রার্থী সাখাওয়াত হোসেন জয়ী হবে।

এবারই প্রথমবারের মতো মেয়র পদে সিটি করপোরেশন নির্বাচন দলীয় প্রতীকে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। তাইতো এই নির্বাচনকে ঘিরে চলছে জাতীয় রাজনীতির হিসাব-নিকাশ।

বিএনপির প্রার্থীকে বিজয়ী করার জন্য অনেক আগে থেকেই প্রচারণায় অংশ নিয়েছে কেন্দ্রীয় নেতা এবং স্থানীয় নেতাকর্মীরা। তবে বিএনপি প্রার্থী সাখাওয়াত হোসেনকে নিয়ে নারায়ণগঞ্জের স্থানীয় নেতাদের মধ্যে একধনের কোন্দল রয়েছে। যা প্রচারণায় অনেকটা বাঁধা সম্মুখিন করেছে বিএনপি প্রার্থীকে। তবে কেন্দ্র থেকে ২০ দলীয় জোটের একক প্রার্থী হিসেবে তাকে সকল স্তরের নেতাকর্মীদের সমর্থন করতে বলা হয়েছে। প্রচারণরা প্রথম থেকেই কেন্দ্রীয় নেতারা অংশ নিয়েছে।

অপর দিকে আওয়ামী লীগের সমর্থীত প্রার্থী সেলিনা হায়াত আইভির পক্ষে দলের সকল নেতা দিন-রাত প্রচারণা এবং গণসংযোগ করছেন। বাদ পরেনি ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতারাও। ছাত্রলীগের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকের নেতৃত্বে নির্বাচনী প্রচারণা চলেছে দুই দিন।

আইভির একমাত্র ‘প্রতিদ্বন্দ্বী’ শামীম ওসমানও নৌকা প্রতীকে সমর্থন করেছেন। যেহেতু আইভি সাবেক মেয়র ছিলেন। সেহেতু আইভির পেছনের কর্মকাণ্ডগুলোকে নজরে রেখেই ভোটের মাঠে নামবেন নারায়ণগঞ্জবাসী। নির্বাচন নিয়ে আইভি বলেন, ‘আমি যেখানে যাচ্ছি সেখানেই নৌকার জন্য সারা পাচ্ছি।’

এই নির্বাচনে মেয়র পদে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে আওয়ামী লীগের ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী (নৌকা) এবং বিএনপি মনোনীত অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানের (ধানের শীষ) মধ্যে।

এছাড়া বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, ইসলামী আন্দোলন ও ইসলামী ঐক্যজোট মনোনীত প্রার্থীও মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এরইমধ্যে বিএনপির মেয়র প্রার্থীকে সমর্থন জানিয়ে নির্বাচন থেকে সরে গেছেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) ও বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির প্রার্থী। অপরদিকে আওয়ামী লীগের মেয়রপ্রার্থী আইভিকে সমর্থন জানিয়েছেন জাতীয় পার্টি।

এই নির্বাচনের মধ্যে দিয়ে নারায়ণগঞ্জবাসী পাবেন; একজন মেয়র, ৯ জন সংরক্ষিত কাউন্সিলর এবং ২৭ কাউন্সিলর। তবে ২৭টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত এ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ৩৮ জন সংরক্ষিত কাউন্সিলর ও ১৫৬ জন কাউন্সিলর প্রার্থী রয়েছেন।

১৭৪টি কেন্দ্রের এক হাজার ৩০৪টি ভোটকক্ষে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে শুরু হয়ে ভোট গ্রহণ চলবে বিকেল চারটা পর্যন্ত। এ নির্বাচনে ভোটার সংখ্যা চার লাখ ৭৪ হাজার ৯৩১ জন। এর মধ্যে পুরুষ দুই লাখ ৩৯ হাজার ৬৬২ জন ও মহিলা ভোটার দুই লাখ ৩৫ হাজার ২৬৯ জন। ১৭৪টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে চারটি অস্থায়ী কেন্দ্র। বুথের সংখ্যা এক হাজার ৩০৪টি। নিয়োগ দেয়া হয়েছে চার হাজারের বেশি নির্বাচন কর্মকর্তা। এ নির্বাচনে থাকবেন ৩২০ জন পর্যবেক্ষক। এর মধ্যে ৯টি স্থানীয় সংস্থার ৩১৮ জন ও একটি বিদেশি সংস্থার দু’জন। ৯টি সংস্থার ১৮৫ জন স্থানীয়ভাবে ও এর মধ্যে সাত সংস্থার ১৩৩ জন কেন্দ্রীয়ভাবে ভোট পর্যবেক্ষণ করবেন এবং এশিয়া ফাউন্ডেশনের আওতায় দুই বিদেশি পর্যবেক্ষক নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করবেন।

আইন-শৃঙ্খলা

আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় নির্বাচনী এলাকায় পুলিশ, র‌্যাব ও বিজিবির সদস্যরা টহল দিচ্ছেন। গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বসানো হয়েছে চেকপোস্ট। নির্বাচনে সব মিলিয়ে আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রায় দশ হাজার সদস্য থাকছেন। এর মধ্যে ২২ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। যার ১২ প্লাটুনই থাকবে বন্দর নগরীতে। ভোটের দিন বৃহস্পতিবার নির্বাচনী এলাকায় সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. নুরুজ্জামান তালুকদার বলেন, ‘উৎসবমুখর পরিবেশ বজায় আছে। আমরা আশা করছি, ভোট শেষ হওয়া পর্যন্ত এ অবস্থা থাকবে। সুষ্ঠু ভাবে ভোট গ্রহণে সব ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। কেউ আইনশৃংখলা পরিস্থিতি অবনতির চেষ্টা করলে কোনো ছাড় দেয়া হবে না।’

প্রয়োজনে গুলি

মঙ্গলবার নারায়ণগঞ্জের মাসদাইর পুলিশ লাইনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে নাসিক নির্বাচনে ভোট কেন্দ্র দখল বা বিশৃংখলার চেষ্টা করা হলে পুলিশ সদস্যদের গুলি চালানোর নির্দেশনা দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি মাহফুজুল হক নুরুজ্জামান।

তিনি বলেন, ‘নির্বাচনে কেউ ভোট কেন্দ্র দখল, ব্যালট বাক্স ছিনতাই বা জনগণের জানমালের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার চেষ্টা করলে আইনশৃংখলা বাহিনী গুলি ছুড়বে। যদি কোনো পুলিশ সদস্য গুলি না ছোড়ে, তাহলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

সম্পাদনা: সজিব ঘোষ


সর্বশেষ

আরও খবর

সিনেটে ১ লাখ ৯০ হাজার কোটি ডলারের করোনা সহায়তা বিল পাস

সিনেটে ১ লাখ ৯০ হাজার কোটি ডলারের করোনা সহায়তা বিল পাস


বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা


একদিনেই সড়কে ঝড়ল ১৯ প্রাণ

একদিনেই সড়কে ঝড়ল ১৯ প্রাণ


ক্রোকোডাইল ফার্ম

ক্রোকোডাইল ফার্ম


সৈয়দ আবুল মকসুদঃ মৃত জোনাকির থমথমে চোখ

সৈয়দ আবুল মকসুদঃ মৃত জোনাকির থমথমে চোখ


গুলিবিদ্ধ সাংবাদিক মারা যাওয়ার ৬০ ঘন্টা পরে পরিবারের মামলা

গুলিবিদ্ধ সাংবাদিক মারা যাওয়ার ৬০ ঘন্টা পরে পরিবারের মামলা


করোনায় ২৪ ঘণ্টায় আরও ৭ মৃত্যু, নতুন শনাক্ত ৩২৭

করোনায় ২৪ ঘণ্টায় আরও ৭ মৃত্যু, নতুন শনাক্ত ৩২৭


নামাজ পড়ানোর সময় সিজদারত অবস্থায় ইমামের মৃত্যু

নামাজ পড়ানোর সময় সিজদারত অবস্থায় ইমামের মৃত্যু


মাতৃভাষা বাংলা’র প্রথম লড়াই ১৮৩৫ সালে হলেও নেই ইতিহাসে!

মাতৃভাষা বাংলা’র প্রথম লড়াই ১৮৩৫ সালে হলেও নেই ইতিহাসে!


করোনায় আরও জনের ১৫ মৃত্যু, শনাক্ত ৩৯১

করোনায় আরও জনের ১৫ মৃত্যু, শনাক্ত ৩৯১