Saturday, December 31st, 2016
বিএনপি শুধু হারিয়েছে, পায়নি কিছুই
December 31st, 2016 at 10:55 am
বিএনপি শুধু হারিয়েছে, পায়নি কিছুই

ঢাকা: বিএনপির রাজনৈতিক অঙ্গনে ২০১৬ সাল আশার নয় নিরাশার বাণী নিয়ে এসেছিল। এ বছর বিএনপি শুধু হারিয়েছে পায়নি কিছুই।

২০১৬ সালের ১৯ মার্চ নতুন আশা নিয়ে ‍ ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য কাউন্সিল করে বিএনপি। এবারই প্রথম কেন্দ্রীয় কমিটিতে ৫০২ সদস্য এবং ৭৩ জন উপদেষ্টা নিয়ে পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করেছিল দলটি।

বিএনপির এই কার্যনির্বাহী কমিটিতে স্থান পেয়েছে মোট ৫০২ জন। এর মধ্যে স্থায়ী কমিটির সদস্য হয়েছেন ১৯ জন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা রাখা হয়েছে ৭৩ জনকে, ভাইস চেয়ারম্যান হয়েছেন ৩৫ জন এবং যুগ্ম মহাসচিব হয়েছেন ৭ জন। বাকিরা হলেন সম্পাদক, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক, জাতীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য।

তবে এই কমিটি নিয়েও সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছিল বিএনপিকে। আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বিএনপির এ কমিটিকে ‘জাম্বু মার্কা কমিটি’বলে ব্যঙ্গ করেছিলেন।

এছাড়া এবছর সরকারের কাছে বিএনপি যে দাবি গুলো উপস্থাপন করেছিল তার একটি আমলে নেয়নি সরকার। বিএনপি নেতাদের দাবি তাদের সকল দাবি তাচ্ছিল্য করে প্রত্যাখ্যান করেছে আওয়ামী লীগ সরকার।

‘শুধু প্রত্যাখ্যান করে ক্ষান্ত হয়নি, বিএনপিকে নির্মূল করার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়েছে’, এমনটিই অভিমত বিএনপি নেতাদের।

দলটির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল জানান, দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে এ পর্যন্ত গুম হয়েছেন ৪২২ জন, নিহতের সংখ্যা ৫০০’র উপরে, গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছেন এক হাজারেরও বেশি, মিথ্যা মামলার আসামি হয়ে কারাগারে এবং আত্মগোপনে আছে হাজার-হাজার বিএনপি নেতাকর্মী।

এবছর দলটি তাদের বিজ্ঞ ৩১জন নেতাকে হারিয়েছে। দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম থেকে শুরু করে সাবেক সংসদ সদস্য ও বিভিন্ন স্তরের নেতাদের হারিয়ে অনেকটা মুহ্যমান এ দলটি।

এবছর, ১৫ জানুয়ারি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য, সাবেক সংসদ সদস্য, সাবেক মন্ত্রী, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ এবং বিজ্ঞানী ড. আর এ গণি, ১০ ফ্রেব্রুয়ারি নওগাঁ জেলা জাতীয়তাবাদী যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান আহ্বায়ক আবুল হাসান মোহাম্মদ মাসুদ (উৎপল), ১৫ ফেব্রুয়ারি মাদারীপুর জেলা বিএনপির উপদেষ্টা সিরাজুল ইসলাম বাচ্চু ভূঁইয়া, ১৬ ফেব্রুয়ারি কুষ্টিয়া জেলাধীন ভেড়ামারার ধরমপুর ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি আবদুল জলিল, একই দিনে ঢাকা মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আজগর মাতব্বর, ১৭ ফেব্রুয়ারি ঢাকা মহানগর ধানমন্ডি থানা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি ও সাবেক সভাপতি জামাল মাতব্বর, ২৮ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী কৃষক দল ঢাকা মহানগর মতিঝিল থানা শাখার সহ-সভাপতি ও নোয়াখালী জেলাধীন ১২নং কুতুবপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক নুরুল আমিন, ৩ মার্চ মানিকগঞ্জ জেলাধীন ঘিওর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট বজলুর রহমান, ২০ মার্চ বাগেরহাটের মোল্লারহাট উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হাজী আবদুল হান্নান, ১০ এপ্রিল ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলা বিএনপির সিনিয়র উপদেষ্টা মোশাররফ হোসেন সিকদার, ১৩ এপ্রিল চাঁদপুর জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য আলমগীর হায়দার খান, ১৪ এপ্রিল পিরোজপুর জেলা বিএনপির উপদেষ্টা ও কাউখালী উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আকবর আলী খান, ১৯ এপ্রিল তিতুমীর কলেজ শাখা ছাত্রদলের সাবেক নির্বাচিত জিএস আনোয়ারুল হক ভূঁইয়া, ২১ এপ্রিল ঝিনাইদহ থেকে পরপর চারবার নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য শহিদুল ইসলাম মাস্টার, ২৮ এপ্রিল রাজশাহীর বাঘা পৌর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক কমিশনার কলিমউদ্দিন, ১ মে রাজশাহী বাঘা-চারঘাট থেকে নির্বাচিত জাতীয় সংসদের সাবেক এমপি ও বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আজিজুর রহমান, ৩ মে ঢাকা মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক, চকবাজার থানা বিএনপির আহ্বায়ক ও ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক কমিশনার হাজী আজিজ উল্লাহ আজিজ, ৫ মে গাজীপুরের কালিগঞ্জ উপজেলা জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি মো. মোস্তফা মোড়ল, ১৩ জুন বিএনপিপন্থী বুদ্ধিজীবী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য, প্রখ্যাত ভূলোগবিদ, গবেষক, শিক্ষাবিদ, দুর্নীতি দমন কমিশনের সাবেক কমিশনার, সাবেক রাষ্ট্রদূত এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ রাকসুর প্রথম ভিপি অধ্যাপক ড. মনিরুজ্জামান মিঞা, ১৬ মে মাদারীপুরের শিবচর থানা বিএনপির সাবেক সভাপতি নাজমুল হুদা চৌধুরী মিঠু, ৩ জুন পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি, চন্দনবাড়ি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান মমতাজুল করিম জাহাঙ্গীর, ২০ জুন ভোলা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. ফারুক মিয়া, ৩ জুলাই জামালপুর সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি সাইদুর রহমান খোকা, ৩০ জুলাই হবিগঞ্জ জেলা বিএনপির মুক্তিযোদ্ধাবিষয়ক সম্পাদক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা শফিকুল হুসাইন চৌধুরী, ৪ আগস্ট চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সদস্য এহসান চেয়ারম্যান এবং ফটিকছড়ি থানা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক নুরুল আবছার চৌধুরী ও পিরোজপুরের জিয়ানগর উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি ও জেলা বিএনপির সদস্য আফজাল হোসেন হাওলাদার, ১২ আগস্ট বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী ফজলুর রহমান পটল, ২৭ সেপ্টেম্বর দলের আরেক নীতিনির্ধারক স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব) আ স ম হান্নান শাহ, ২১ অক্টোবর ময়মনসিংহের ফুলবাড়ি উপজেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আবদুল কাদের, ৫ নভেম্বর সাবেক এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী জিয়াউল হক জিয়া, ১২ নভেম্বর গাইবান্ধা জেলা বিএনপি সাধারণ সম্পাদক গাওসুল আজম ডলার, ২৯ নভেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন সাদা দলের শিক্ষক নেতা ও ফার্মেসি বিভাগের অধ্যাপক, নরসিংদীর বেলাবো উপজেলা ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও পেশাজীবী পরিষদের নেতা অধ্যাপক ড. আবুল হাসনাত চুন্নু।

২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচনকে বর্জনের মাধ্যমে সরকারকে অবৈধ ঘোষণা করে এবং তারপর থেকেই সরকার পতনের অনেক চেষ্টা এবং মধ্যবর্তী নির্বাচনের জন্য তোরজোড় করেও তেমন ফল না পেয়ে ২০১৯ সালের ১০তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ সরকার এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের অধীনে সম্পূর্ণ করার চেষ্টায় রত।

দলের ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলে কাউন্সিলরা বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে পূর্ণাঙ্গ নির্বাচনের ক্ষমতা দেয়। তারই প্রেক্ষিতে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া পূর্ণাঙ্গ কমিটির অনুমোদন দেন।

এই কমিটির মাধ্যমে বিএনপি স্বচল হবে এবং রাজপথে আন্দোলন করে সরকারের পতন ঘটিয়ে নির্বাচন ত্বরান্বিত করার যে প্রচেষ্টা সেটিও ব্যর্থ হয়েছে দলটির। তবে বিএনপির নেতাদের দাবি, আন্দোলনের কোনো সুযোগ এ সরকার তাদের দেয়নি। গণতান্ত্রিক দেশে বিরোধী দলের সকল প্রকার অধিকার হরণ করেছে আওয়ামী লীগ। বিএনপি সরকার বিরোধী আন্দোলনে নামলেই সরকারের সন্ত্রাসী বাহিনী এবং পুলিশ দিয়ে গুলি এবং গ্রেফতার করা হয়। কোনো প্রকারের সভা-সমাবেশ করতে দেওয়া হয় না বলেও জানান বিএনপির একাধিক নেতা।

সবশেষ ৭ নভেম্বরের বিপ্লব ও সংহতি দিবসকে কেন্দ্র করে বিএনপি রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করতে চাইলে সরকার এবং পুলিশ তাদের অনুমতি দেয়নি। ১৮ নভেম্বর গুলশানে নিরপেক্ষ সার্চ কমিটি এবং নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে ১৩ দফা প্রস্তাবনা উপস্থাপন করেন খালেদা জিয়া। কিন্তু সেই প্রস্তবনাকে আমলে না নিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সঙ্গে সঙ্গে প্রস্তাবনাকে ‘অন্তসার-শূন্য’বলে আখ্যা দেয়।

এর পর থেকেই নিরপেক্ষ সার্চ কমিটি এবং নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে মাঠে নামে বিএনপি। সবশেষ রাষ্ট্রপতির স্মরণাপন্ন হয় দলটি। এর ধারাবাহিকতায় গত ১৮ ডিসেম্বর খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে ১২ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল বঙ্গভবনে যান রাষ্ট্রপতির সঙ্গে স্বাক্ষাতের জন্য।

প্রতিবেদন: শেখ রিয়াল, গ্রন্থনা: রাকিব


সর্বশেষ

আরও খবর

ফরিদপুরের ১ হাজার চালককে ইফতার বিতরণ করলো শিবা ফাউন্ডেশন

ফরিদপুরের ১ হাজার চালককে ইফতার বিতরণ করলো শিবা ফাউন্ডেশন


রাজশাহী লকডাউন

রাজশাহী লকডাউন


আক্রান্ত না হলে মাস্ক ব্যবহার নয়: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

আক্রান্ত না হলে মাস্ক ব্যবহার নয়: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা


ই-কমার্স কোম্পানি “Slidesbd.com” এর যাত্রা শুরু

ই-কমার্স কোম্পানি “Slidesbd.com” এর যাত্রা শুরু


মিতুকে বাঁচাতে এগিয়ে আসুন

মিতুকে বাঁচাতে এগিয়ে আসুন


খিলগাঁও-প্রগতি সরণিতে রিকশাচালকদের বিক্ষোভ, চরম দুর্ভোগ

খিলগাঁও-প্রগতি সরণিতে রিকশাচালকদের বিক্ষোভ, চরম দুর্ভোগ


উন্নয়ন চাইলে গ্যাসের দাম মেনে নিতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

উন্নয়ন চাইলে গ্যাসের দাম মেনে নিতে হবে: প্রধানমন্ত্রী


সিলেটে ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহত ৬, তদন্ত কমিটি গঠন, সারা দেশের সাথে যোগাযোগ বন্ধ

সিলেটে ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহত ৬, তদন্ত কমিটি গঠন, সারা দেশের সাথে যোগাযোগ বন্ধ


বিএসটিআই সারাবছর কী করে, জানতে চায় হাইকোর্ট

বিএসটিআই সারাবছর কী করে, জানতে চায় হাইকোর্ট


শপথ নিলেন বিএনপির জাহিদুর রহমান

শপথ নিলেন বিএনপির জাহিদুর রহমান