Thursday, December 15th, 2016
বিজয়ের ছোঁয়া ফুল বাজারে
December 15th, 2016 at 10:14 pm
বিজয়ের ছোঁয়া ফুল বাজারে

রিজাউল করিম, ঢাকা: ফুলের প্রতি মানুষের ভালোবাসা চিরন্তন। সৌন্দর্য ও বিশুদ্ধতার প্রতীক ফুলের চাহিদা কোনো কালেই কম ছিলো না। সারা বছরই বিয়ে, জন্মদিন, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীসহ নানান অনুষ্ঠানে প্রয়োজন ফুলের। রয়েছে একুশে ফেব্রুয়ারি ও ১৬ ডিসেম্বরের মতো জাতীয় উৎসবও। প্রতিবারের মতো এবারও তাই মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে নগরীর ফুলের দোকানগুলোতে লেগেছে ব্যস্ততার ছোঁয়া।

ফুলের দোকানগুলোতে শেষ মহূর্তের প্রস্তুতিতে ব্যাস্ত কারিগররা। হাতে সময় না থাকায় এর মধ্যে দোকানগুলোতে নিজের পছন্দ মতো ফুলের ডালার অর্ডার দেয়া প্রায় শেষ। আর যারা অর্ডার দিতে পারেনি তাদের জন্য রয়েছে বিভিন্ন দামের রেডিমেন্ট ফুলের ডালা।

রাজধানীর কয়েকটি ফুল বাজার শাহবাগ, ফার্মগেট ও আগারগাঁও ঘুরে জানা যায়, এবার রাজধানীর বেশির ভাগ ফুল যশোরের গদখালি থেকে কেনা হচ্ছে। বিজয় দিবস উপলক্ষে সারা দেশে ফুলের চাহিদা হওয়ায় দাম কিছুটা বেশি। তাছাড়া পরিবহন খরচ ফুলের বান্ডিল প্রতি অন্য সময়ের থেকে বেড়েছে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা বেশি। তার পরেও তেমন প্রভাব পড়বে না এমনটিই বলছেন ফুল ব্যবসায়ীরা। বুধবার রাতেই যশোর গদখালি থেকে বাসে করে ফুল নিয়ে আসা হচ্ছে। অর্ডার অনুয়ায়ী বুধবার রাতের মধ্যেই ফুল চলে আসেদোকানে। রাত থেকে পুরো দমে ডালা তৈরীর কাজ শুরু হয়েছে। আর যেগুলা বাকি থাকবে সেগুলো ভোরের মধ্যে সম্পন্ন করা হবে।

জানা গেছে, এবার ফুলপ্রতি চার থেকে পাঁচ টাকা বেড়ে হয়েছে ১০০ গাঁদাফুল ৫০ টাকা, রজনীগন্ধা প্রতিটি ৭ থেকে ১০টাকা, গোলাপ ফুল ৫ থেকে ১০ টাকা, গ্যালোডিয়াস ১৫ থেকে ২০ টাকা। আর প্রতি ২০ ইঞ্চি ফুলের ডালা ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা, ৩০ ইঞ্চি ফুলের ডালা ১২’শ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা, ৩৮ ইঞ্চি ২৫’শ থেকে ৩ হাজার টাকা, ভিআইপি ৫ হাজার ৮ হাজার টাকা।

বিক্রেতারা বলছেন, ফুলের দামটা ও পরিবহন খরচ একটু বেড়েছে। তাতে ফুলের ডালায় তেমন প্রভাব পড়বে না। তাদের দোকানের সব অর্ডার নেয়া হয়ে গেছে। আর যাদের অর্ডারগুলো আসেনি তারা হয়তো বা রেডিমেন্ট নিবে। তার পরেও সব কিছু ভালো থাকলে এ ডিসেম্বরের ৫ থেকে ৬ লাখ টাকার ফুল বিক্রি হবে।

বিক্রেতারা আরো জানান, তাদের কাজ কাল রাত থেকে শুরু করেছে। চলবে শুক্রবার ভোর পর্যন্ত। এখানে সর্বনিম্ন ডালার দাম ৪০০ টাকা থেকে শুরু।

শাহবাগে আদর্শ ফ্লাওয়ার শপের মালিক আব্দুর রহমান বলেন, আমাদের প্রতিদিনই ফুল আমদানি করতে হয়। কিছু ফুল আসে বিদেশ থেকে আর কিছু দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে। আমাদানি শীতের সময় বেশি থাকে। ফলে চাহিদার তুলনায় ফুল বেশি থাকায় ফুলের দামও কমে। আর গ্রীষ্মে পুরো তার উল্টো হয়।

শাহবাগের ফুলবাহার পুষ্প কেন্দ্রের খুচরা বিক্রেতা জালাল মিয়া বলেন, পাইকারি বাজারে ফুলের দাম বাড়লে আমাদেরও বাড়াতে হয়। কারণ ৪ থেকে ৫ টাকা লাভ না করলে তো ব্যবসা চলে না। এছাড়া আমরা ফুল ব্যবসায়ীরা মূলত ডিসেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত ব্যবসা করি। এসময় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিবস ছাড়াও বিয়ে ও কনসার্টের আয়োজন চলে। তখন ব্যবসায়ীরা নির্দিষ্ট দামের বাইরে গিয়েও যে যার মতো ফুল বিক্রি করে।

তবে ফুলের দাম বেশি হওয়ায় দাম বেড়েছে ফুলের তৈরি অন্যান্য জিনিসেরও। এখন ফুলের তৈরি এনবুকে ১২০ টাকা, ফুলের সাইড ঝুড়ি বড়টি ৩০০ টাকা এবং ছোটটি ১৫০ টাকা, ফুলের কর্নার ঝুড়ি ২০০ থেকে ৩০০, গাদা ফুলের মালা প্রতি পিছ ১৫ টাকা, কাঠবেলি মালা প্রতি পিছ ৮ টাকা, ফুলের রিং ২০ টাকা, ফুলের গয়না সেট ৮০০ টাকা।

ফুল ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন অনুষ্ঠানের জন্য ফুল দিয়ে মঞ্চ সাজানোর পাশাপাশি বিয়ের অনুষ্ঠানের জন্য ফুল দিয়ে গাড়ি সাজানো, বাসর ঘর সাজানো, ফ্লোর আলপনা ও পালকি সাজানো ইত্যাদি কাজও করে।

দেশে উৎপাদিত ফুল নিয়ে খামারবাড়ির কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হয় ‘ফ্লাওয়ার ফেস্ট-২০১৬’। অনুষ্ঠানে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, দেশে ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ফুল উৎপাদন হয়েছে প্রায় ৫৭ হাজার মেট্রিক টন। বিক্রি হয়েছে প্রায় ৮০০ কোটি টাকার ফুল। ২০১৩-১৪ বছরে উৎপাদিত হয়েছিল প্রায় ৫০ হাজার মেট্রিক টন। এভাবে প্রতিবছরই ফুল চাষের জমির পরিমাণ ও উৎপাদন বাড়ছে। অগ্রসরমাণ এ খাতকে এগিয়ে নিতে সমন্বিত ফুল নীতি, ফুলের স্থায়ী বাজার এবং ফুল নিয়ে গবেষণার দাবি জানান ফুল ব্যবসায়ী ও চাষিরা।

খামার বাড়ীর ওই অনুষ্ঠানে ‘ফুল চাষের সমস্যা ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক মূল প্রবন্ধে বলা হয়, বর্তমানে ২২টি জেলার প্রায় ১৫ হাজার কৃষক ফুল চাষের সঙ্গে জড়িত। দেড় লাখের বেশি মানুষ ফুল পরিবহন, বিপণন ও ব্যবসার সঙ্গে জড়িত।

প্রবন্ধে বলা হয়, ১৯৮৩ সালে দেশে বাণিজ্যিকভাবে ফুলের চাষ শুরু হয়। বর্তমানে খুলনা বিভাগে সবচেয়ে বেশি প্রায় ২ হাজার ৬শ’ হেক্টর জমিতে ফুল চাষ হচ্ছে। মোট উৎপাদিত ফুলের ৩১ শতাংশ গ্লাডিওলাস, ২৪ শতাংশ গোলাপ, ১৯ শতাংশ রজনীগন্ধা। প্রতি হেক্টর জমিতে খাদ্যশস্য ও অর্থকরী ফসলের তুলনায় ফুল চাষ বেশি লাভজনক।

সম্পাদনা: জাহিদ


সর্বশেষ

আরও খবর

কার্টুনিস্ট আহমেদ কবির কিশোরের জামিন মঞ্জুর

কার্টুনিস্ট আহমেদ কবির কিশোরের জামিন মঞ্জুর


একদিনেই সড়কে ঝড়ল ১৯ প্রাণ

একদিনেই সড়কে ঝড়ল ১৯ প্রাণ


শাহবাগে মশাল মিছিলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ, আটক ৩

শাহবাগে মশাল মিছিলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ, আটক ৩


গুলিবিদ্ধ সাংবাদিক মারা যাওয়ার ৬০ ঘন্টা পরে পরিবারের মামলা

গুলিবিদ্ধ সাংবাদিক মারা যাওয়ার ৬০ ঘন্টা পরে পরিবারের মামলা


করোনায় ২৪ ঘণ্টায় আরও ৭ মৃত্যু, নতুন শনাক্ত ৩২৭

করোনায় ২৪ ঘণ্টায় আরও ৭ মৃত্যু, নতুন শনাক্ত ৩২৭


নামাজ পড়ানোর সময় সিজদারত অবস্থায় ইমামের মৃত্যু

নামাজ পড়ানোর সময় সিজদারত অবস্থায় ইমামের মৃত্যু


ভাষার বৈচিত্র্য ধরে রাখার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

ভাষার বৈচিত্র্য ধরে রাখার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর


করোনায় আরও জনের ১৫ মৃত্যু, শনাক্ত ৩৯১

করোনায় আরও জনের ১৫ মৃত্যু, শনাক্ত ৩৯১


৩ কোটি ২০ লাখ রুপিতে কেকেআরে সাকিব

৩ কোটি ২০ লাখ রুপিতে কেকেআরে সাকিব


খাদ্যে ভেজাল রোধে কঠোর আইন প্রয়োগের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

খাদ্যে ভেজাল রোধে কঠোর আইন প্রয়োগের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর