Sunday, February 26th, 2017
বিনোদন যোগাযোগ একসঙ্গে
February 26th, 2017 at 9:27 pm
বিনোদন যোগাযোগ একসঙ্গে

শেখ রিয়াল, ঢাকা: রাজধানীর হাতিরঝিল, নগরবাসীর বিনোদনের খোরাকের সঙ্গে সস্তির যোগাযোগকেও নিশ্চিত করেছে। কারওয়ান বাজার, তেজগাঁও, গুলশান, বাড্ডা, রামপুরাবাসীদের জন্য জ্যামের নগরিতে সস্তির নিঃশ্বাস।

হাতিরঝিলের চক্রাকারে বাস এবং ঝিলের পানিতে বয়ে চলা ওয়াটার বাস। কয়েক ঘণ্টার পথকে যা সহজেই নিয়ে যাবে কয়েক মিনিটে। সঙ্গে থাকবে নির্মল বাতাস, প্রকৃতির স্পর্শ।

সড়ক পথে হাতিরঝিলের সার্কেল করে ঘুরে আসার দূরত্ব ৯.৫ কিলোমিটার তবে পানি পথের দূরত্ব আরো কম। বাসে চেপে সড়ক পথে সার্কেল ঘুরে আসতে সময় লাগে ২৫ থেকে ৩০ মিনিট, পানি পথে আরো কম, মাত্র ১৮ থেকে ২০ মিনিট। বাসে চড়ে সড়ক পথের যাত্রায় সাময়িক জ্যামের নাগাল পেলেও পানি পথে জ্যাম খুঁজে পাবার কোনো সম্ভাবনা নেই।

এক সময় ছিল যখন দুর্গন্ধময় হাতিরঝিল দেখলেই মুখ ফিরিয়ে নিত ঢাকাবাসী। সে অবস্থায় ২০০৭ সালে সমন্বিত প্রকল্পের মাধ্যমে শুরু হয় এর উন্নয়ন। ২০১৩ সালের ২ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হাতিরঝিল প্রকল্পের উদ্বোধন করেন। এরপরেই ঢাকাবাসীর জীবনে যোগ হয় এই দৃষ্টিনন্দন অবকাঠামো। একের পর এক প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে ঢাকাবাসীসহ বিদেশীদেরও বিনোদনের খোরাক যোগাচ্ছে হাতিরঝিল প্রকল্প। হাতিরঝিলের সুন্দরর্য উপভোগ করার জন্য ২০১৫ সালের ২৩ ডিসেম্বর চালু হয় সার্কেল আকারে বাস সার্ভিস। যোগাযোগ এবং বিনোদনের মাধ্যম বাড়ানোর জন্য ২০১৬ সালের বিজয় দিবসে নামানো হয় ওয়াটার বাস। যা রাজধানীতে বিনোদনের মাধ্যমকে বাড়িয়ে নিয়েছে আরেক ধাপ।

বাসে চেপে হাতিরঝিল: আটটি বাস সকাল সাতটা থেকে বিরতীহীনভাবে রাত ১১টা পর্যন্ত চলে। ছয়টি স্থানে টিকিট কাউন্টার থাকবে। এগুলো হলো রামপুরা, মধুবাগ, এফডিসি, বৌবাজার, মেরুল বাড্ডা ও শ্যুটিংক্লাব। দূরত্ব ভেদে বাসের ভাড়া জনপ্রতি ১০-১৫-২০ টাকা লাগবে। তবে পুরো হাতিরঝিল ঘুরতে জনপ্রতি লাগবে ৩০ টাকা করে। বাস সার্ভিসের দায়িত্বে রয়েছে এইচ আর ট্রান্সপোর্ট এজেন্সি।

ওয়াটার বাসে চেপে হাতিরঝিল: ছয়টি ওয়াটার বাস প্রতিদিন সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত চলে। প্রতিটি ওয়াটার বাসে আসন রয়েছে ৩০-৪২টি। টিকিট কাটার জন্য কাউন্টার রয়েছে তিনটি-এফডিসি মোড়, লিংক রোড, মেরুল বাড্ডা। তবে আরো তিনটি গুলশান পুলিশ প্লাজা, রামপুরা, মহানগর বেরিবাঁধে কাউন্টার হবে। এফডিসি মোড় থেকে মেরুল বাড্ডা ভাড়া জনপ্রতি ২৫ টাকা এবং গুলশান লিংক রোড ৩০ টাকা। ওয়াটার সার্ভিসের দায়িত্বে রয়েছে করিম গ্রুপ।

বাস সার্ভিসের কাউন্টার মাস্টার সঞ্জয় হালদার নিউজনেক্সটবিডি ডটকমকে বলেন, প্রতিদিন সকাল ৭টা থেকে আমাদের টিকিট কাউন্টার খোলা হয়। প্রতি গাড়িতে ৩২-৪৫ জন যাত্রী যাতায়াত করে। তবে অফিস সময়ে যাত্রী দাঁড়িয়েও যাতায়াত করে কিন্তু দুপুরের সময় দুই একটা গাড়িতে যাত্রী কম যায়। বাস সার্ভিস চালু করায় নগরবাসীর যাতায়াতে অনেক সুবিধা হচ্ছে। বিশেষ করে যানযটে তেমন পড়তে হয় না।

ওয়াটার বাসের এডমিন অফিসার সার্জেন্ট আশরাফ নিউজনেক্সটবিডি ডটকমকে বলেন, তিন শ্রেণির যাত্রী ওয়াটার বাসে ওঠে। সকালে অফিসগামী, বিনোদন প্রেমিরা এবং বিদেশী অতিথিরা। তবে সকালে অফিসগামীদের জন্য আমরা দ্রুত সার্ভিস দেয়ার চেষ্টা করি। ওয়াটার বাসে যানযটের কোনো সম্ভাবনা নেই। মানুষ সুন্দর মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশ একই সঙ্গে নগর জীবনের ক্লান্তি থেকে মুক্তি পেতে বিনোদনও উপভোগ করে। নৌকায় নিরাপত্তার জন্য লাইভ জ্যাকেট রয়েছে। তবে কেউ পরে আবার কেউ পরে না।

তিনি আরো জানান, প্রতিদিনই যথেষ্ট যাত্রী থাকে তবে ছুটির দিনে অনেক যাত্রী হয়।

নিয়মিত এ পথে যাতায়াতকারী বেসরকারী চাকরিজীবী মো: মনিরুজ্জামান বলেন, হাতিরঝিলের বাস এবং নৌকার আগে অফিস যেতে অনেক সময় লাগতো। এখন সঠিক সময়ের মধ্যেই অফিসে পৌছাতে পারি। তবে ভাড়া একটু বেশি লাগে। অনেক সময় নৌকার জন্য অপেক্ষা করতে হয়। নৌকার সংখ্যা কমের জন্য। তবে নৌকা না পেলে বাসে করে আসা যায়।

ব্যবসায়ী আক্তার হোসেন পরিবার নিয়ে ঘুরতে এসেছেন হাতিরঝিলে। তিনি বলেন, বাচ্চারা কখনো নৌকায় ওঠেনি। হাতিরঝিলে নৌকায় চরে তারা একই সাথে নৌকায় চড়ার সাধ এবং বিনোদন উভয়ই পেল। তবে নৌকায় চরে ঘোরার সময় পানির গন্ধ পাওয়া যায়। ঝিলের পানিটা পরিষ্কার করতে পারলে আরো সুন্দর লাগবে।

২০০৭ সালে শুরু হওয়া হাতিরঝিল-বেগুনবাড়ি খাল সমন্বিত উন্নয়ন প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১ হাজার ৯৬০ কোটি টাকা। কিন্তু মূল প্রকল্পের কাজ শেষ না করেই ২০১৩ সালের ২ জানুয়ারি প্রকল্প এলাকাটি উদ্বোধন ও জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। তবে এখনো সম্পূর্ণভাবে শেষ হয়নি প্রকল্পের কাজ। প্রকল্পের গুরুত্ব বিবেচনা করে এরই মধ্যে যুক্ত হয়েছে নতুন-নতুন প্রকল্প। সাথে প্রকল্প ব্যয় বাড়িয়ে ধরা হয়েছে প্রায় ২ হাজার ২৩৭ কোটি টাকা। প্রয়োজনে এ ব্যয়ের পরিমাণ আরো বাড়ানো হতে পারে বলে জানা গেছে। সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে প্রকল্পটি বাস্তবায়নে কাজ করছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক), স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের এলজিইডি বিভাগ ও ঢাকা ওয়াসা। আর পরামর্শক হিসেবে রয়েছে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)।

প্রকল্প পরিচালক জানান, হাতিরঝিলের দ্বীপে ফাউন্টেন তৈরি করা হচ্ছে। এ জন্য এক–দুই মাস লাগতে পারে। এ ছাড়া গুলশান-নিকেতন মুক্তমঞ্চ নির্মাণের কাজও দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে। এ মঞ্চের নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হলে এখানে অনুষ্ঠান উপভোগ করতে পারবেন প্রায় দুই হাজার দর্শক।

তিনি জানান, হাতিরঝিলকে ঘিরে আরো বেশ কিছু পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এরমধ্যে রয়েছে মুক্তমঞ্চের কাছে দশতলা বিশিষ্ট আধুনিক গাড়ি পার্কিং ভবন নির্মাণ করা হবে। এ ভবনে থাকবে একটি সম্মেলন কেন্দ্র যেখানে লোকজন বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে পারবেন। আরো থাকবে হাতিরঝিল পরিচালনা অফিস, জাদুঘর ও রেস্টুরেন্ট।

সম্পাদনা: জাহিদ


সর্বশেষ

আরও খবর

টানা তৃতীয়বারের মতো নির্বাচিত হলেন আইভী

টানা তৃতীয়বারের মতো নির্বাচিত হলেন আইভী


অর্ধেক আসন ফাঁকা রেখে বাস চলার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন

অর্ধেক আসন ফাঁকা রেখে বাস চলার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন


আগুনে পুড়ল রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ১২০০ ঘর

আগুনে পুড়ল রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ১২০০ ঘর


এবারের বিজয় দিবসে দেশবাসীকে শপথ পড়াবেন প্রধানমন্ত্রী

এবারের বিজয় দিবসে দেশবাসীকে শপথ পড়াবেন প্রধানমন্ত্রী


কমলো এলপিজির দাম

কমলো এলপিজির দাম


উন্নয়নশীল দেশ নিয়ে খুশি না হয়ে, উন্নত দেশ গড়ার লক্ষ্যে কাজ করার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

উন্নয়নশীল দেশ নিয়ে খুশি না হয়ে, উন্নত দেশ গড়ার লক্ষ্যে কাজ করার আহ্বান রাষ্ট্রপতির


জাতীয় অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম মারা গেছেন

জাতীয় অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম মারা গেছেন


ডিআরইউর নতুন সভাপতি মিঠু, সাধারণ সম্পাদক হাসিব

ডিআরইউর নতুন সভাপতি মিঠু, সাধারণ সম্পাদক হাসিব


ওমিক্রন খুবই ঝুঁকিপূর্ণ; সবাইকে প্রস্তুত থাকার আহ্বান বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার

ওমিক্রন খুবই ঝুঁকিপূর্ণ; সবাইকে প্রস্তুত থাকার আহ্বান বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার


নির্বাচনী সহিংসতায় ছাত্রলীগ নেতার মৃত্যু

নির্বাচনী সহিংসতায় ছাত্রলীগ নেতার মৃত্যু