Thursday, February 16th, 2017
বিপদে ব্রিটিশ বাহিনীকে সহায়তাকারী আফগান অনুবাদকরা
February 16th, 2017 at 10:23 am
বিপদে ব্রিটিশ বাহিনীকে সহায়তাকারী আফগান অনুবাদকরা

ডেস্ক: আফগানিস্তানে ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর সঙ্গে কাজ করেছেন অনেক আফগান অনুবাদক। কিন্তু পরে তাদের অনেকে তালেবানের হত্যার হুমকির শিকার হয়ে দেশ ছেড়েছেন। কেউ কেউ আশ্রয়ের জন্য এসেছেন যুক্তরাজ্যে, কিন্তু সেখানে এসে তারা স্বপ্নভঙ্গের শিকার হয়েছেন। ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র দপ্তর তাদের শরণার্থী আবেদন গ্রহণ করছে না, আবার মৃত্যুর ভয়ে তারা দেশেও ফেরত যেতে পারছেন না।

আফগানিস্তানে দু’বছর ব্রিটিশ বিশেষ বাহিনীর সঙ্গে অনুবাদক হিসাবে কাজ করার পর, এখন এমন একটা পরিস্থিতি দাঁড়িয়েছে, যা জাভেদ হটাক কখনো কল্পনাও করেননি। অথচ ব্রিটিশদের সাথে কাজ করছেন বলে গর্ব বোধ করতেন তখন। এখন তার উপলব্ধি, “গ্রেট ব্রিটেনের বিশেষ বাহিনীর জন্য আমি কাজ করি, এটা মনে করে আফগানিস্তানে আমি গর্ব বোধ করতাম। গ্রেট ব্রিটেন, বিরাট নাম। কিন্তু এখন আমার লজ্জা হয়। তাদের জন্য কাজ করায় আমার অনুশোচনা হয়।”

ব্রিটিশ বাহিনীর সাথে কাজ করার সময় দেয়া পরিচয়পত্র

তিনি বলেন, “আমি একজন সৈনিক আর একজন অনুবাদক হিসাবে ব্রিটিশ বিশেষ বাহিনীর সঙ্গে কাজ করেছি। কান্দাহার, হেলমন্দ, নিমরুজের মতো বিপদজনক জায়গাগুলোয় তাদের সঙ্গে অভিযানে অংশ নিয়েছি। বেশিরভাগ অভিযান হতো রাতের বেলায়, আমরা তালেবান আস্তানা গুলোয় অতর্কিতে অভিযান চালাতাম।”

তালেবানের কাছ থেকে হত্যার হুমকি পাওয়ার পর, ২০০৮ সালে আফগানিস্তান ছেড়ে আসতে বাধ্য হন জাভেদ। ক্যালের জঙ্গলে সাতমাস থাকতে হয়েছে তাকে। এরপর একটি ট্রাকে লুকিয়ে অবশেষে তিনি ব্রিটেনে প্রবেশ করতে সক্ষম হন। জাভেদের আশা ছিল, সেনাবাহিনীতে তার অবদানের জন্য ব্রিটেন তাকে আশ্রয় দেবে। কিন্তু ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র দপ্তর তার শরণার্থী আবেদন নাকচ করে দিয়েছে। কারণ তাদের বিশ্বাস, হত্যার হুমকি সত্যি নয়।

এরকম পরিস্থিতিতে শুধু যে জাভেদই একা রয়েছেন তা নয়। গত বছর এরকম আরেকজন আফগান অনুবাদক ব্রিটেনে আত্মহত্যা করেন, কারণ তিনি দেশে ফেরত যেতে চাননি। আরেকজন অনুবাদক, রাফি হকটা গত সপ্তাহে যুক্তরাজ্যের একটি সংসদীয় কমিটিতে তার জীবন সংশয়ের প্রমাণ তুলে ধরেন।

তালিবানদের কাছ থেকে পাওয়া হুমকি

র‍য়্যাল মেরিনে কাজ করেছেন ব্রিটিশ রাজনীতিবিদ লর্ড অ্যাশটন। অনুবাদকদের আশ্রয় দেয়ার জন্য সরকারকে রাজি করানোর চেষ্টা করছেন তিনি। অ্যাশটন বলেন, “যারা সেখানে কাজ করেছে, আমি জানি না এমন একজন সদস্যও বা অফিসার, যে জানে না যে, এই অনুবাদকরা কতটা সাহসী, প্রায় প্রতিটি অভিযানের জন্য তাদের উপর যাকে নির্ভর করতে হয়নি। এমন কেউ কি আছে যে, মনে করে, আমাদের জন্য তাদের এরকম অবদানের পুরস্কার হিসাবে, তারা যা চাইছে, সেই শরণার্থী আশ্রয় দেয়া উচিত।”

তিনি বলছেন, “তিনি মন্ত্রীদের সতর্ক করে দিয়েছেন যে, তাদের আশ্রয় দেয়া না হলে কি ঘটতে পারে। যদি তাদের দেশে ফেরত পাঠানো হয়, তা আমাদের সরকারের জন্য একটি লজ্জাজনক কাজ হবে।”

তবে এসব বিষয়ে সরকারের নীতি পর্যালোচনা করে দেখার জন্য একটি রিভিউ কমিটি গঠন করেছে সরকার। জাভেদের জন্য এখন এটাই যা একটু স্বস্তির বিষয়।

সূত্র: বিবিসি, সম্পাদনা: প্রণব


সর্বশেষ

আরও খবর

ওমিক্রন খুবই ঝুঁকিপূর্ণ; সবাইকে প্রস্তুত থাকার আহ্বান বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার

ওমিক্রন খুবই ঝুঁকিপূর্ণ; সবাইকে প্রস্তুত থাকার আহ্বান বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার


শান্তিতে নোবেল পেলেন দুই সাংবাদিক

শান্তিতে নোবেল পেলেন দুই সাংবাদিক


আফগানিস্তানে মসজিদে বোমা বিস্ফোরণে আহত শতাধিক

আফগানিস্তানে মসজিদে বোমা বিস্ফোরণে আহত শতাধিক


পাকিস্তানে ভূমিকম্পে কমপক্ষে ২০ জন নিহত

পাকিস্তানে ভূমিকম্পে কমপক্ষে ২০ জন নিহত


কাবুল বিমানবন্দরের কাছে আবার বিস্ফোরণ

কাবুল বিমানবন্দরের কাছে আবার বিস্ফোরণ


মেক্সিকোতে সাংবাদিককে গুলি করে হত্যা

মেক্সিকোতে সাংবাদিককে গুলি করে হত্যা


বিশ্বে একদিনে আরও ১০ হাজার মানুষের মৃত্যু

বিশ্বে একদিনে আরও ১০ হাজার মানুষের মৃত্যু


ভারতের উত্তর প্রদেশে ট্রাকের ধাক্কায় ১৮ বাসযাত্রী নিহত

ভারতের উত্তর প্রদেশে ট্রাকের ধাক্কায় ১৮ বাসযাত্রী নিহত


পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীকে আম পাঠালেন শেখ হাসিনা

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীকে আম পাঠালেন শেখ হাসিনা


ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবিতে ১৭ বাংলাদেশির মৃত্যু

ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবিতে ১৭ বাংলাদেশির মৃত্যু