Wednesday, June 22nd, 2016
বিবিধ বিরক্তি বিষয়ক কড়চা
June 22nd, 2016 at 4:29 am
বিবিধ বিরক্তি বিষয়ক কড়চা

তাহিয়া আনান ধীরা: কেন এত বিরক্তি? অল্পতে, বেশিতে, নরমে, গরমে, চাহিদায়, প্রাপ্তিতে, শীতে, বর্ষায়, ঝগড়ায়, ঘেন্নায়, মায়ার আধিক্যে, মায়াহীনতায়, একাকীত্বে, বন্ধুত্বে, খবরে, খাদ্যে, বাতাসে বা শব্দে…প্রায় সবকিছুতেই যেন কেমন কেমন লাগা। উফফফ, ধ্যাত্তেরি বা ধুৎ ধুৎ ভাব কেন এতো? কেনই বা অজান্তে ভ্রু যুগলের মাঝের সংক্ষিপ্ত পরিসরটুকু কুঁচকে যাচ্ছে বারবার। আগে যাকে দেখতে শুনতে মাইল পাড়ি দিতে হতো তাকে তো মেইলেই পাওয়া যায় যখন তখন।

‘আগে যাকে দেখতে শুনতে মাইল পাড়ি দিতে হতো তাকে তো মেইলেই পাওয়া যায় যখন তখন’

যা খেতে নানী দাদীর ‘রেসিপি বুক’ খুঁজে হয়রান হতে হতো তা নতুন ফরমায়েশি রেস্তোরায় অর্ডার করলেই পাওয়া যায়। যে প্রিয় গানগুলো খুঁজতে খুঁজতে অমুক পাড়ার তমুক ভাইয়ের অডিও শপে অর্ডার দিতে হতো তা এখন কেউ না কেউ আপলোড করেই রেখেছে অন্তর্জালে। বন্ধুর সময় পাওয়া নিয়েও ঝক্কি নেই। সে তো আছেই মুঠোফোনে, ফেসবুকে, ভাইবারে। বিনোদনের যেমন অভাব নেই, সঙ্গীরও তেমনি। তবে কেন এই ভালো না লাগার অনুভুতি। ফেসবুকের টাইমলাইনে একের পর এক বিতৃষ্ণায় ভরা স্ট্যাটাস দেখতে দেখতে মনে হতেই পারে ‘কেউ তো ভালো নেই সত্যিকার অর্থে’।

‘কেউ তো ভালো নেই সত্যিকার অর্থে’

অমত হলে বলব ‘আমরা ভালো থাকার মার্জিন অনেক কমিয়ে এনেই ভালো আছি’ যদি আগের ভোলাভালা ভালো থাকাটা তুল্য হয়। এত থাকার মাঝে নেই শুধু তৃপ্তি। এই বিরক্তি বা বিতৃষ্ণা নিয়ে গত কয়েক দশকে চর্চা এবং গবেষণাও কম হয়নি। যদিও বাংলায় বিরক্তি আর বিতৃষ্ণার গভীরতায় বড় পার্থক্য আছে, তবে দুটোই মনকে যন্ত্রণা দেয়। তাৎক্ষণিকভাবে দুটোর রেশই বেশ শক্তিশালী। তবে বিতৃষ্ণা হয়তো বা কিছুটা কাব্যিক বা হাহাকার মেশানো বোধ আর বিরক্তিটা আরেকটু স্টেরিওটিপিকাল। যাই হোক। সেসবের বিশদে আপাতত যাচ্ছি না।

বিরক্তিবোধের উৎপত্তি: সমাজ বিজ্ঞানীরা যেখানে বলছেন কমে গেছে সহনশীলতা, সেখানে মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন বেড়ে গেছে বিরক্তি। পেনিসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞানের অধ্যাপক পল রজিনের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিলো – ‘আপেলে কামড় দেয়ার পর ভেতরে একটা পোকা পাওয়ার চেয়ে বিরক্তিকর আর কি হতে পারে?’ উত্তরে তিনি বলেছেন ‘আপেলে কামড় দেয়ার পর ভেতরে একটা অর্ধেক পোকা পাওয়াটা এর চেয়েও বিরক্তিকর।’ বিরক্তির অর্থ, উৎস, বিবর্তন নিয়ে ভাবতে গেলে পল রজিনের কথা এসেই যায় যিনি বিরক্তির উদ্রেক খুঁজেছেন মানুষ ও পশুর সীমারেখায়। তিনি প্রথমত মানুষের ভেতরের পাশবিকতা থেকে বিরক্তির উৎস খুঁজতে খুঁজতে পৌঁছেছেন বিরক্তির সাথে নীতিবোধের সম্পর্কে। বলেছেন ‘বিরক্তি বিকশিত হয় সংস্কৃতি থেকে এবং একটি অনন্য প্রক্রিয়ায় সেটা পূর্ণতা পায় যা শরীর ও আত্মাকে দুষণমুক্ত রাখার কাজ করে।’ তার মতে, চোখ কুঁচকে যাওয়া, জীভ এগিয়ে আসা, দম বন্ধ হয়ে আসা এসব সেই প্রক্রিয়ার অংশ যা দ্বারা আমাদের সিস্টেম (শরীর ও মন) কোন কিছুকে প্রত্যাখ্যান করে।আপেলে কামড় দেয়ার পর আধখানা পোকা পাওয়ায় যে বিরক্তি, বমিবমি লাগা, মুখাবয়বের পরিবর্তন তা এজন্য নয় যে পোকার স্বাদ খারাপ ছিলো, বরং আমাদের সিস্টেমের প্রি-সেট আদেশেই এটা হলো। এই আদেশ সংরক্ষিত হয় আমাদের মস্তিষ্ক, সমাজ, সম্পর্ক, জ্ঞান, প্রযুক্তি ইত্যাদি অজস্র অনুঘটকের মাধ্যমে। অর্থাৎ আমাদের নীতিবোধ তৈরিতে যা কিছু অনুঘটক তার সবকিছুই আমাদের বিরক্তি তৈরিতেও অনুঘটক। রজিনের এই ধারণা পড়ার সাথে সাথেই মাথায় কড়া নাড়ল ‘জটিলতা’। হ্যা। বর্তমানে সম্পর্কগুলো জটিল, সমাজ তো অনেকখানি ভার্চুয়াল, প্রযুক্তির দুর্বোধ্যতা বাড়ছেই আর ‘জ্ঞান’ সহজলভ্য হবার সাথে সাথেই বাড়িয়ে চলেছে পরিধি। আর সোশ্যাল মিডিয়া দ্বারা মানুষ এত বেশি সচেতনে অবচেতনে প্রভাবিত যা সহজেই কেড়ে নিয়েছে স্থিরতা। আমরা নিজেরাও জানি না কখন মস্তিস্ক কোন গোল সেট করে কোন ভাবনায় মজিয়ে রাখছে ব্যাক্তিগত সময়কে। তাই মন এখন জটিল। যেমন, আস্তাকুড়ে খাবার কুড়িয়ে খাওয়া শিশুটিকে দেখে মনের যতটা বেশি সমব্যাথী হবার কথা তার চেয়ে বেশি ঘেন্না বা ‘ইয়াক’ ফিলিং হচ্ছে। কারণ নিজের সিস্টেম তো একটু আগেই বন্ধুর সাথে ঝকঝকে রেস্তোরায় চপ্সটিক দিয়ে খাবার মূহুর্তটা ছাড়া অন্য কোনভাবে আহার গ্রহণকে ঠিক মানতে পারছে না।

সেই ঘেন্না বা বিরক্তিবোধ কিন্তু এখানে থেমে থাকে না। আরেকটু শক্তিশালী হয়ে ওঠে কিছুক্ষণ পর। যখন আবার মন বলে ওঠে ‘ওরে, তুই ওকে দেখে বিরক্ত হলি? তুই না ভালো মানুষ?’ ‘ধুৎ’ ভাবটা তখন ‘ইশশশ…’ ভাব হয়ে যায়। আমরা প্রত্যেকেই বিশ্বাস করি আমরা ভালো মানুষ। কোন ক্ষেত্রে আবার ভাবি খারাপ মানুষ। যাই ভাবি না কেনো মোটকথা নিজের সম্পর্কে ধারণাটাকে আমরা মোটামোটি অপরিবর্তিত রাখতে চাই। তাই নিজের আচরণের সাথে এই বিশ্বাসের সংঘাত আরও ভয়াবহ বিরক্তি তৈরি করতে পারে। বিতৃষ্ণা শব্দটা প্রয়োগের এটাই হয়ত সঠিক সময়। কিন্তু মনোবিজ্ঞানীরা কর্ম ও বিশ্বাসের এই যুগপৎ সংঘাতকে বলেন ‘কগনিটিভ ডিসোনেন্স’ ; অর্থনীতিতে যা ‘irrational decision making’ এর একটা বড় কারণ। কগনিটিভ ডিসোনেন্সের একটা উদাহরণ হতে পারে এমন; ‘আমি জানি আমি মানুষ খুন করা ঘৃণা করি। কেউ খুন হলে আমি নানা রকম মুভমেন্টে ঝাঁপিয়ে পরি। কিন্তু আমার চোখের সামনে একটা খুন হলো রাস্তায়। চাপাতি হাতে বেশ কিছু টগবগে তরুণকে দেখে বাঁধা দেবার সাহস কারো হল না। আমারো হল না। আমিও দেখে শুনে চুপচাপ কেটে পরলাম। কিন্তু তারপর শুরু হল বিতৃষ্ণা। মনে হতে থাকলো আমার কি কিছুই করার ছিলো না? ক’জন লোক জড়ো করেও তো যেতে পারতাম। ইশশশ…কি করলাম। আমি তো এমন না..’। নিজেকে ক্ষমা না করতে পারাটা ভয়াবহ বিরক্ত করে আমাদের আত্মাকে। এই উদাহরণটা হয়ত একটু সাংঘাতিক ছিলো। কিন্তু ছোটখাট কগনিটিভ ডিসোনেন্সের স্বীকার আমরা প্রতিদিনই হই। কখন কোন ইশশশ বোধ কিভাবে ধ্যাৎ বোধ হয়ে ওঠে তা খোঁজার জন্য ভাবার মতো অতিরিক্ত সময় আমাদের নেই।

পল রজিন মানব মনের নেতিবাচকতাকেও বিরক্তির শক্রিশালী কারণ হিসেবে দেখেছেন। রজিন বলেছেন ‘একটা ছোট্ট তেলাপোকা এক বাটি টসটসে চেরির আবেদনকে পুরোপুরি নষ্ট করে দিতে পারে। কিন্তু একটা চেরি এক বাটি তেলাপোকার ক্ষেত্রে সেটা করতেই পারবে না।’

বিরক্তির উদ্রেক করা আচরণ এবং বিরক্তিবোধের থাকে কিছু পারিবারিক এবং জীনগত বিবর্তনের ইতহাস যার দীর্ঘ তথ্য উপাত্ত এখনো মেলেনি। আবার হিউম্যান বিহেভিয়ারের আলোচনা বরাবরই জটিল এবং অনিশ্চিত। তাই গবেষণায় অনুমানই বহুল ব্যাবহৃত মাধ্যম যা সাধারণত মিলেই যায়। তবে মনোবিদ জশোয়া এম টাইবার এবং তার সহকর্মীরা তাদের জরিপভিত্তিক গবেষণাপত্র ‘The quantitative genetics of disgust sensitivity’তে বলেছেন মানুষের রোগপ্রসূত, যৌনতাসংক্রান্ত এবং নীতিবোধ থেকে তৈরি বিরক্তিবোধের ব্যাক্তি বিশেষে পার্থক্যের প্রায় অর্ধেকাংশের কারণই জীনগত। জীন কিছু প্রি-সেট আদেশ নিষেধ বয়েই নিয়ে আসে। সেখান থেকে বেরিয়ে আসা যায় পারিপার্শ্বিকতার প্রভাবে এবং চর্চার সাহায্যে যা সবার ক্ষেত্রে ঘটে না।

এখানে মনোবিজ্ঞানী এবং নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড্যানিয়েল কাহনেম্যানের চিন্তার দুই পদ্ধতির দ্বিতীয়টার কথা বলব। সংক্ষেপে বলি। তিনি বলেছেন মানুষ দুই পদ্ধতিতে ভাবে–

পদ্ধতি এক – দ্রুত এবং সংবেদনশীল, যেমন বাঘ দেখলে ভয় পাওয়া। 

পদ্ধতি দুই – ধীর, মনোযোগী, যৌক্তিক, যেমন ২৭ কে ৯৮ দিয়ে গুণ করা।

পারিবারিক বিশ্বাসগুলো বেশিরভাগ ক্ষেত্রে মানুষের ব্যাক্তিগত বিশ্বাস হয়ে ওঠে। সেখান থেকে বেরিয়ে আসার জন্য প্রয়োজন আরেকটু যৌক্তিক হয়ে ওঠা। আরেকটু ধীর ও মনোযোগী হয়ে ওঠা। অর্থাৎ কাহনেম্যানের পদ্ধতি দুই -এর প্রয়োগ।

বিরক্তির আরেকটা বড় কারণ – অবচেতন মন। মনোবিজ্ঞানী ব্রায়ান ট্রেসি বলেছেন- ‘আমাদের সচেতন মন আদেশ করে আর অবচেতন মন তা পালন করে। অবচেতন মন সেই ক্রীতদাস যে দিন রাত প্রচেষ্টা করে চলে আমাদের আচরণকে রীতিমাফিক বা সঙ্গতিপূর্ণ রাখার জন্য। জীবনের বাগানে অবচেতন মন হয় ফুল ফোটায় নাহয় আগাছা বাড়ায় ঠিক যেটার বীজ আমরা বুনি। আমাদের চিন্তার কমফোর্ট জোনগুলো মুখস্থ করে নিয়ে সেগুলো ধরে রাখাই অবচেতনের কাজ।’ সুতরাং টানা হ্যাঁচড়া মাত্রই বিরক্তির কাঁটা ফুটে ওঠে মনে। এখানে মনে পরে যায় মৌলবাদের কথা। মূলকে আঁকড়ে ধরে থাকাই মৌলবাদ সেটা কোন জাত ধর্ম ভাষা বা বিদ্বেষ কেন্দ্রিক নয়। আসল কথা অবচেতন মনের সুপার গ্লু সুলভ ক্রিয়া প্রতিক্রিয়াই মৌলবাদ।

বিরক্তির শক্তি ও প্রভাব: শারীরিক স্বাস্থ্যের ওপর বিরক্তির প্রভাবকে পুরোপুরি মন্দ বলা যাবে না। কারণ নানা রকম রোগবালাই থেকে বাঁচার জন্য এটা একটা প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া যা আমাদের পচা, বাসি খাবার বর্জন করায়, দুর্গন্ধে নাক বন্ধ করায়, দীর্ঘ কায়িক পরিশ্রমের পর একটুখানি ঘুমের তৃষ্ণা জাগায় । কিন্তু মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর বিরক্তির প্রভাবটা ভয়াবহ কুৎসিত হতে পারে। এক গবেষণায় দেখা যায় সত্তর শতাংশ যৌন নিপীড়নের স্বীকার নারীদের মধ্যে মাত্রাতিরিক্ত গোসলের প্রবণতা দেখা যায় যা শুধুমাত্র তাদের সাবান পানিতে ডলে ঘষে নিজের মনের চরম বিরক্তি আর অসহায়ত্ব দূর করার চেষ্টা। একজন নির্যাতিত নারীর মনে জমে থাকা বিরক্তির ভয়াবহতার কথা ভাবতে গেলে শিউরে উঠি আমরা।

বিরক্তিবোধ কতটা শক্তিশালী তা বলার অপেক্ষা রাখে না। মানুষ খুন করতে করতে বিরক্ত হয়ে কেউ খুন করা ছেড়ে দিতে পারে। আবার বিরক্তির মাত্রা চরমে উঠে কেউ খুনি হতে পারে। এগুলো চরম ঘটনা। কিন্তু বস্তুত বিরক্তিবোধের প্রচ্ছন্ন প্রভাব আরও ভয়াবহ। দার্শনিক ড্যানিয়েল ক্যানি বিরক্তি সংক্রান্ত তার একটি বইতে বলেন- ‘যদিও বিরক্তি একটি শারীরিক অনুভব, এটা আবেগের প্রতি একটি শক্রিশালী সতর্কবার্তা। প্রাথমিকভাবে বিরক্তি আমাদের পঁচা বাসি খাবার থেকে দূরে রাখার কাজ করত, কিন্তু সুরক্ষা প্রক্রিয়া বিরক্তিকে বিবর্তিত করে আমাদের একে অন্যের থেকে দূরে থাকার একটা কারণে পরিণত করেছে। তাই সামাজিক নীতি নির্ধারণে বিরক্তির ভূমিকা এখন অনস্বীকার্য।‘ বিশেষজ্ঞ ম্যাণ্ডি ভ্যান ডিভেন বলেন সংস্কৃতি আমাদের বিরক্তিতে নিজের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ন করে নেয়। আর বিরক্তির প্রতিক্রিয়াও অনেকটাই প্রাকৃতিকভাবে নির্ধারিত। তাই সাপের বা বাঁদুরের মাংস খাওয়া কোন সংস্কৃতিতে স্বাভাবিক আর কোন সংস্কৃতিতে জঘন্য বিরক্তিকর।

সময়ের সাথে সারাক্ষণ কোন ব্যাপারে বা কোন মানুষের উপর বিরক্ত থাকলে কর্মব্যস্ত থাকা যায় না। যে কাজ অল্প সময়ে হত তা মনের গোলযোগের জন্য অনেক বেশি সময় নিয়ে হতে পারে। এভাবে অনেকের সময়ের অপচয় কেড়ে নিতে পারে একটা ভাষার একটা সাহিত্যের একটা জাতির বহু বছর, যুগ, শতক। তৈরি হতে পারে অকেজো প্রজন্ম। মনে রাখতে হবে সময় হলো সবচেয়ে বড় ‘unrenewable resource’। তাছাড়া বিরক্তি নিয়ে করে ফেলা কাজগুলোও কি সেই মানের হয় যা আনন্দের সাথে করলে হতো? মোটেই না। লেখার জন্য লিখে ফেলা কবিতা, পরীক্ষার জন্য পড়ে ফেলা পাঠ্য, দায়সাড়া আলোচনা এসব ম্যাণ্ডেটরি আচরণগুলো কাউকে কখনো শান্তি দিতে পেরেছে কিনা সে ব্যাপারে প্রশ্ন থেকে যায়। আর বিরক্তির প্রকাশ ঘটতে থাকলে ব্যাক্তি ও পারিবারিক জীবনে যেমন ভজঘট লেগে যায় তার চেয়েও ভয়াবহ প্রভাব পড়ে সামগ্রিকতায়। জেনেশুনে বিষপান যাকে বলা যায়। আর মাদকাশক্তি ও অপরাধ বেড়ে যাওয়ার ব্যাপারে কোন সন্দেহের অবকাশ নেই।

সব থাকা সত্যেও কেনো এত বিরক্ত লাগছে বা কেনো এই ভালো না লাগার অনুভুতি তা ভাবতে হবে। মনে রাখতে হবে ‘অন্যের কারণে বিরক্তি না’। বিরক্তির কারণ চিন্তার দ্রুততা বা কগনিটিভ ডিসোনেন্স বা অবচেতন মন অথবা মৌলবাদ। তাই নিজেকে ক্রমাগত পরিবর্তনশীল রাখতে হবে। চিন্তার ছোটখাট ভুলের জন্য নিজেকে সচেতনভাবে ক্ষমা করে দেয়া যেতে পারে। আর বড় ভুলের জন্য যৌক্তিক বিশ্লেষণ করে নিজেকে বদলাবার চেষ্টা করতে হবে। আস্থাভাজন কোন ব্যাক্তি, লেখক বা চর্চা থাকতে পারে আলোচনায় সহায়তার জন্য। তবে সেক্ষত্রেও কোন গোড়ামী নয়। চূড়ান্ত বিশ্বাস বলে কিছু না থাকাই ভালো। আর বিরক্ত হয়ে অকেজো সময় ব্যয় একদম করা যাবে না। কারণ সময়টা বড় অসহায়। আমাদের দূর থেকে মন্তব্য, সোল্লাশে ভালোকে ভালো বলা, আর মন্দকে নিন্দা করাই যথেষ্ট নয়। আমাদেরই পরিবর্তন আনতে হবে কর্মে, মর্মে সবকিছুতে। আনন্দ ফিরিয়ে আনতে হবে খবরের পাতায়। আর তাই নিজের মনে আনন্দ ফিরিয়ে আনা সবার আগে দরকার। আমাদের মস্তিষ্ক আমাদের কল্পনার চেয়ে দ্রুতগামী। সেটার ব্যাবহার আবশ্যক। হেলাল হাফিজের ক’টা লাইন মনে পড়ে-

‘বুকের সীমান্ত বন্ধ তুমিই করেছো
খুলে রেখেছিলাম অর্গল,
আমার যুগল চোখে ছিলো মানবিক খেলা
তুমি শুধু দেখেছো অনল।’

সচেতনভাবে এমনটি এড়িয়ে চলা যায় একটু ইতিবাচক হয়ে। মনের বাগানে তখন শুধু ফুল ফুটবে। কোন আগাছা নয়। ড্যানিয়াল কাহনেম্যানের ভাষায়, ‘আমরা আমাদের অন্ধত্বের প্রতি অন্ধ। আমরা কত কম জানি সে সম্পর্কে আমাদের ধারণাও খুব কম। আমাদের মস্তিষ্ক নকশা করা এমনভাবেই যাতে আমরা না জানি যে আমরা কত কম জানি।’ সুতরাং কমতি সবার আছেই। সেগুলোকে গ্রহণ করে আশাবাদী হয়ে, চিন্তা করে এবং কাজ করে দিনাতিপাত করতে হবে। কারণ বিরক্ত হয়ে মুষড়ে থাকার সময় যে একেবারেই নেই।

Dhira

লেখিকাঃ শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।


সর্বশেষ

আরও খবর

আমি বাংলার, বাংলা আমার, ওতপ্রোত মেশামেশি…

আমি বাংলার, বাংলা আমার, ওতপ্রোত মেশামেশি…


শেখ হাসিনার ৭৪ তম জন্মদিন: ‘পুতুল’ খেলার আঙিনায় বেজে উঠুক ‘জয়’র বাঁশি

শেখ হাসিনার ৭৪ তম জন্মদিন: ‘পুতুল’ খেলার আঙিনায় বেজে উঠুক ‘জয়’র বাঁশি


বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীর আগেই পাকিস্তান ক্ষমা চাইবে ?

বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীর আগেই পাকিস্তান ক্ষমা চাইবে ?


শেখ হাসিনা কতোখানি চ্যালেঞ্জিং এখনো?

শেখ হাসিনা কতোখানি চ্যালেঞ্জিং এখনো?


প্রণব মুখোপাধ্যায় : বিশ্ব-রাজনীতির মহাপ্রাণ

প্রণব মুখোপাধ্যায় : বিশ্ব-রাজনীতির মহাপ্রাণ


দয়া করে ক্রসফায়ারের স্ক্রিপ্টটি ছিঁড়ে ফেলুন

দয়া করে ক্রসফায়ারের স্ক্রিপ্টটি ছিঁড়ে ফেলুন


দক্ষিণ এশিয়াঃ সীমান্তবিহীন এক অবিভাজিত অচলায়তন

দক্ষিণ এশিয়াঃ সীমান্তবিহীন এক অবিভাজিত অচলায়তন


লুণ্ঠন ঢাকতে বারো মাসে তেরো পার্বণ

লুণ্ঠন ঢাকতে বারো মাসে তেরো পার্বণ


লেটস্ কল অ্যা স্পেড অ্যা স্পেড!

লেটস্ কল অ্যা স্পেড অ্যা স্পেড!


পররাষ্ট্রনীতিতে, ম্যারেজ ইজ দ্য এন্ড অফ লাভ

পররাষ্ট্রনীতিতে, ম্যারেজ ইজ দ্য এন্ড অফ লাভ