Sunday, September 11th, 2016
‘বিলকুল সহি বাত’
September 11th, 2016 at 4:06 pm
‘বিলকুল সহি বাত’

বিধুনন জাঁ সিপাই, ঢাকা:

কবিতা শর্ত দিয়া হয় না। কবিতার ভূত ভবিষ্যৎ বলে আদতে কিছু নাই। কবি মাত্রই ফ্যান্টাসিতে ভোগে। এহনো সামাজিক ধারণা সম্পর্কে বিরুদ্ধাচারণ করেন মাহমুদুল হাসান। সেটা কবিতা নিয়ে কথা তুললেই টের পাবেন। মারাত্মক পূর্তিবাজ যেমন প্রায়োগিক জীবনে তেমনি চিন্তা চেতনায় স্বভাবে লেবাসে সদা সতর্ক মানুষ এই কথা প্রবল উচ্ছ্বাস নিয়েই স্বীকার করেন হাসান সাহেব, ‘আমার বন্ধুরা বলে আমার নাকি ফাও খাওয়ার বাতিক। আমি অহরহ অন্যদের কাছ থেকে মাগনা খেয়ে বেড়াই। আরো নানাবিধ সুবিধা গ্রহণ করে থাকি। আমি মোটেও অস্বীকার করছি না। বিলকুল সহি বাত’।

মোটামুটি ভ্রাম্যমান জীবনের অলিতে গলিতে মাহমুদ যাদের কে পেয়েছেন সবার সাথে একান্ত আপন হয়েই বলতে চেয়েছেন রাজনীতি, ধর্ম, আচার বিচার প্রচার এবং বিজ্ঞাপনের চরিত্র কি রকমের।

 ‘নদীয়ার বায়ুপরিপণ্ডলে ভাবান্দোলনের উঠেছে জোয়ার

তোমার আমার সম্পর্ক অস্বীকার করে যেসব মুখোশধারী

তাদের যোগ্য পরিণাম সবুজ লতাপাতাতৃণ ও খোঁয়াড়

প্রেমহীন বিপ্লব, রাজনীতি ও মিছিল নিছক বাকোয়াজগিরি’।

বাঙালের আদি যে নদীয়াতে, বিশেষত মহাপ্রভু শ্রীচৈতন্য’র পরম্পরা হয়ে ফকির লালন শাহ্‌’র সাথে মাহমুদুল হাসানের যোগাযোগ আমাদের জানা। সেটা পৈতৃক ভূমি সূত্রেও হতে পারে অথবা মাহমুদ জন্মগত রসিক বলেই তারে আমাদের পাগল পাগল মনে হয়। মাহমুদ হঠাতই গেয়ে উঠবে তখন,

‘তুই পাগল তোর মনও পাগল

পাগল পাগল করিস না

পাগল ছাড়া দুনিয়া চলে না।’   

মাহমুদুল হাসানের তিনটি কবিতা

আসল ও নকল

বঙ্গদেশের আকাশজুড়ে দেখিতাছি শ্রাবণমেঘের ঘনঘটা

সাবধান! আপ্লুত হবেন না, ওতে আছে এসিড রেইন

আপনাকে সাময়িক ভেজাবে বিষাক্ত বৃষ্টির ছটা

তারপর ঝলসে ফেলবে আপনার নরম শরীর, বুঝে নিন।

ঢাকার ছাদ ফুঁড়ে অকস্মাৎ বের হয়েছে জোনাকবিহীন চাঁদ

কচি খুকির মতন নেচে ওঠো না, পস্তাবে জীবনভর

চাঁদের আলো বেয়ে নেমেছে সূক্ষ্ম নাগরিক নর্দমা ও বিস্বাদ

নর্দমার কীটগুলো তোমার চোখে আজ বড়ই স্বস্তিকর।

নদীয়ার বায়ুপরিপণ্ডলে ভাবান্দোলনের উঠেছে জোয়ার

তোমার আমার সম্পর্ক অস্বীকার করে যেসব মুখোশধারী

তাদের যোগ্য পরিণাম সবুজ লতাপাতাতৃণ ও খোঁয়াড়

প্রেমহীন বিপ্লব, রাজনীতি ও মিছিল নিছক বাকোয়াজগিরি।

এত ভাবনাচিন্তা কেন? আছে না আমাদের গড়াই নদী

জোৎস্নারাতে নৌবিহারে যাব

তোমার একটা গতি করতে পারি যদি

আমার আছে পাটজাগদেয়া কৃষকের ঘামেভেজা সবর

আমার বুকে তুমি চিরজাগরুক। যতক্ষণ না পাই কবর।

ধান্দাবাজ

আমার বন্ধুরা বলে আমার নাকি ফাও খাওয়ার বাতিক। আমি অহরহ অন্য়দের কাছ থেকে মাগনা খেয়ে বেড়াই। আরো নানাবিধ সুবিধা গ্রহণ করে থাকি। আমি মোটেও অস্বীকার করছি না। বিলকুল সহি বাত।

এইযে আমাকে যারা ধান্দাবাজ বলে, গাঁটের পয়সা খরচ না করেই নানান কাজ উদ্ধার করে ফেলাই বলে যারা আমাকে গালাগালি করে; তারা আর কেউ নন- তারা আমারই কাছের বন্ধু। জিগরে দোস্ত। দিন শেষে বন্ধুরা ফের আমাকে খেতে ডাকে।

প্রতিবেশী

রাত শেষে যখন ঘুমাতে যাই

ভোরের দোয়েল গাছের পাতায়

কাঁপা কাঁপা মসৃণ মিহি গলায়

প্রতিবেশীর নাকফুল বাঁশি বাজায়।

সম্পাদনা: তুসা


সর্বশেষ

আরও খবর

মুক্তিযুদ্ধে যোগদান

মুক্তিযুদ্ধে যোগদান


স্বাধীনতার ঘোষণা ও অস্থায়ী সরকার গঠন

স্বাধীনতার ঘোষণা ও অস্থায়ী সরকার গঠন


শিশু ধর্ষণ নিয়ে লেখা উপন্যাস ‘বিষফোঁড়া’ নিষিদ্ধ!

শিশু ধর্ষণ নিয়ে লেখা উপন্যাস ‘বিষফোঁড়া’ নিষিদ্ধ!


১৯৭১ ভেতরে বাইরে সত্যের সন্ধানে

১৯৭১ ভেতরে বাইরে সত্যের সন্ধানে


সাংবাদিকতা প্রশিক্ষণে এলেন বেলারুশের সাংবাদিকেরা!

সাংবাদিকতা প্রশিক্ষণে এলেন বেলারুশের সাংবাদিকেরা!


লুণ্ঠন ঢাকতে বারো মাসে তেরো পার্বণ

লুণ্ঠন ঢাকতে বারো মাসে তেরো পার্বণ


দ্য লাস্ট খন্দকার

দ্য লাস্ট খন্দকার


১৯৭১ ভেতরে বাইরে সত্যের সন্ধানে

১৯৭১ ভেতরে বাইরে সত্যের সন্ধানে


নিউ নরমাল: শহরজুড়ে শ্রাবণ ধারা

নিউ নরমাল: শহরজুড়ে শ্রাবণ ধারা


তূর্ণা নিশীথা

তূর্ণা নিশীথা