Monday, September 5th, 2016
বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী
September 5th, 2016 at 8:57 am
বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী

ডেস্ক: বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী সোমবার। ১৯৭১ সালের ৫ সেপ্টেম্বর যশোরের গোয়ালহাটি ও ছুটিপুরে পাকবাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধে মৃত্যুবরণ করেন নূর মোহাম্মদ। যশোরের শার্শা থানার কাশিপুর গ্রামে তাকে সমাহিত করা হয়। সৈনিক জীবনের কঠিন কর্তব্য দায়িত্ববোধ থেকে বিচ্যুত না হয়ে জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। সহযোদ্ধাদের জীবন বাঁচাতে নিয়ে এগিয়ে গেছেন নিশ্চিত মৃত্যুর মুখে। তার সে চেষ্টা সার্থক হয়েছিল।

১৯৩৬ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি নড়াইল সদর উপজেলার মহিষখোলা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন নূর মোহাম্মদ শেখ। বাবা আমানত শেখ ও মা জেন্নাতুন্নেছা, মতান্তরে জেন্নাতা খানম। বাল্যকালেই বাবা-মাকে হারান। স্ত্রী বেগম ফজিলাতুন্নেসা, ছেলে গোলাম মোস্তফা কামাল ও তিন মেয়ে আছেন। তার ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী পালন উপলক্ষে ‘বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ নুর মোহাম্মদ শেখ ট্রাস্ট’ নড়াইলের নুর মোহাম্মদ নগরে ও যশোরের শার্শায় উপজেলা প্রশাসন বিভিন্ন কর্মসূচী পালন করছে।

১৯৬৯ সালে নূর মোহাম্মাদ ভর্তি হন ইপিআর বাহিনীতে (বর্তমানে বাংলাদেশে রাইফেল) তখন তার বয়স ২৩ বছর। ট্রেনিংয়ের পর তার পোস্টিং হয় দিনাজপুুর। সেখানে ছিলেন ১৯৭০ সাল পর্যন্ত। তারপর আসেন যশোর হেড কোয়ার্টারে। ১৯৭১ সালে মার্চ মাসে পাকিস্তানিরা বাঙালিদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়লে সিপাহী নূর মোহাম্মাদ সৈনিক মনে নাড়া দেয় স্বাধীনতা আর স্বদেশপ্রেম। তার সচেতন বিবেক বোধ তাকে মুক্তিযুদ্ধের উদ্ধুদ্ধ করে। যশোরে মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি ছিলেন ৮নং সেক্টরের অধীনে।

নূর মোহাম্মাদ প্রতিষ্ঠানিক সামরিক প্রশিক্ষণ থাকায় একটি কোম্পানির প্রধান নিযুক্ত করে যশোরের সীমান্তবর্তী গোয়ালহাটি টহলের দায়িত্ব দেয়া হয়। ৫ সেপ্টেম্বর ১৯৭১। মুক্তিবাহিনী বিকেলে বাধা দেয় পাক বাহিনীকে। নূর মোহাম্মদ সঙ্গে ছিলেন দুইজন সহযোদ্ধা গোয়ালহাটির দক্ষিণে ছুটিপরে অবস্থান করছিল পাক বাহিনী। তাদের উপরে সার্বক্ষণিক দায়িত্ব দেয়া হয় এই পাক বাহিনীর অবস্থানের ওপর। কিন্তু মুক্তিবাহিনীর অবস্থানের কথা বুঝে ফেলে পাক বাহিনী। তারা তিনজন পাক বাহিনীর নজরে পড়ে যান। চারো পাশে অবস্থান নেয় শত্রুসেনারা। শুরু হয় অবিরাম গুলিবর্ষণ।

নূর মোহাম্মাদ বুঝতে পারেননি তিনি তার জীবনের শেষ মুখোমুখি। নূর মোহাম্মাদ সহযোদ্ধা সিপাহী নান্নু মিয়া ও সিপাহী মোন্তফা। নান্নু হাতে হালকা মেশিনগান আর এটাই ছিল তাদের হাতে প্রধান অস্ত্র। গুলি ছুটতে ছুটতে ফিরতে থাকে তারা তিনজন। এমন সময় হঠাৎ একটি বুলেট এসে সিপাহী নান্নুর বুকে বিঁধে বেরিয়ে যায়। মাটিতে পড়ে যান নান্নু মিয়া।

এলএমজি হাতে তুলে নেন নূর মোহাম্মাদ। এক হাতে নান্নু মিয়াকে নিয়ে আর অন্য হাতে নূর মোহাম্মাদের মেশিনগান দিয়ে বের হচ্ছে অবিরাম গুলি। কারণ তিনি দলীয় অধিনায়ক। তার দায়িত্ব মুক্তিযোদ্ধাদের জীবন বাঁচানো। সঙ্গীদের নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে ফেরা। তাছাড়া তিনি ঘন ঘন অবস্থান পরিবর্তন করেছিলেন। যেন শত্রু সৈন্যরা বুঝতে না পারেন কোন দিক থেকে কতজন  মুক্তিযোদ্ধা তাদের সঙ্গে লড়ছে।

ঠিক এই সময় মর্টারের একটি গোলা এসে লাগে নূর মোহাম্মাদ ডান পায়ে। পাঁ গুড়িয়ে যায়। শেষ পরিণতির কথা জেনে গেছেন নূর মোহাম্মাদ। কিন্তু দমলে চলবে না। সহযোদ্ধদের বাঁচানোর জন্য শেষ চেষ্টা করে যেতে হবে তাকে। সহযোদ্ধা মোস্তফার এক হাতে ছিল এক এলএমজি। আদেশ দিলেন অবস্থান পাল্টে শত্রুর দিকে গুলি ছুঁড়তে। সেই সঙ্গে পেছনে ফিরতে। আহত নান্নুকে সঙ্গে নিলেন তিনি। তারপর এলএমজি আবার নিলেন নূর মোহাম্মাদ নিজ হাতে। শক্রদের ঠেকাতে থাকে সে যাতে মোস্তফা নান্নুকে সঙ্গে করে স্থল ঘাটিতে যেতে পারে। কিন্তু সহযোদ্ধাদের ঘাঁটিতে ফেরাতে পারলেও অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে নূর মোহাম্মাদ নিস্তেজ হয়ে পড়েন। তাকে পূর্ণ সামরিক মর্যাদায় সমাহিত করা হয় যশোরের শার্শা উপজেলার উত্তর সীমান্তবর্তী কাশিপুর গ্রামে।

গ্রন্থনা ও সম্পাদনা: ইয়াসিন


সর্বশেষ

আরও খবর

৪২ ও ৪৩তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ

৪২ ও ৪৩তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ


প্রয়াণের ২১ বছর…

প্রয়াণের ২১ বছর…


করোনায় আরও ৩০ জনের মৃত্যু, ৭৮ দিনের মধ্যে সর্বোচ্চ শনাক্ত

করোনায় আরও ৩০ জনের মৃত্যু, ৭৮ দিনের মধ্যে সর্বোচ্চ শনাক্ত


ঢাবি ছাত্রী ধর্ষণ মামলায় মজনুর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

ঢাবি ছাত্রী ধর্ষণ মামলায় মজনুর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড


মানুষের জন্য কিছু করতে পারাই আমাদের রাজনীতির লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী

মানুষের জন্য কিছু করতে পারাই আমাদের রাজনীতির লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী


আনিসুল হত্যা: মানসিক স্বাস্থ্য ইন্সটিটিউটের রেজিস্ট্রার গ্রেপ্তার

আনিসুল হত্যা: মানসিক স্বাস্থ্য ইন্সটিটিউটের রেজিস্ট্রার গ্রেপ্তার


পাওয়ার গ্রিডের আগুনে বিদ্যুৎ-বিচ্ছিন্ন পুরো সিলেট, ব্যাপক ক্ষতি

পাওয়ার গ্রিডের আগুনে বিদ্যুৎ-বিচ্ছিন্ন পুরো সিলেট, ব্যাপক ক্ষতি


দুইদিনের বিক্ষোভের ডাক বিএনপির

দুইদিনের বিক্ষোভের ডাক বিএনপির


বাস পোড়ানোর মামলায় বিএনপির ২৮ নেতাকর্মী রিমান্ডে

বাস পোড়ানোর মামলায় বিএনপির ২৮ নেতাকর্মী রিমান্ডে


অবশেষে পাঁচ বছর পর নেপালকে হারালো বাংলাদেশ

অবশেষে পাঁচ বছর পর নেপালকে হারালো বাংলাদেশ