Saturday, August 20th, 2016
বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান’র ৪৫ তম শাহাদাৎ বার্ষিকী
August 20th, 2016 at 1:07 pm
বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান’র ৪৫ তম শাহাদাৎ বার্ষিকী

ডেস্ক: স্বাধীনতা সংগ্রামের সাতজন বীরশ্রেষ্ঠ’র মধ্যে অনন্য ও অন্যতম বৈমানিক মতিউর রহমানের ৪৫ তম শাহাদাৎ বার্ষিকী শনিবার। ১৯৭১ সালের ২০ আগস্ট মুক্তিবাহিনীর ব্যবহারের জন্য শত্রু বাহিনীর ঘাঁটি থেকে বিমান ছিনিয়ে আনার সময় তিনি প্রাণদান করেন।

শৈশব থেকেই তার মেধার পরিচয় ও স্বীকৃতির নিদর্শন মিলতে থাকে। ঢাকা কলেজিয়েট স্কুলে ষষ্ঠ শ্রেণী পর্যন্ত পড়ার পর তিনি ভর্তি হন পাকিস্তান বিমান বাহিনী পাবলিক স্কুলে। কৃতিত্বের সাথে ম্যাট্রিকুলেশন পাশ করে ১৯৬১ সালে তিনি পাকিস্তান বিমান বাহিনীতে যোগ দেন। কর্মজীবনের বিভিন্ন ধাপে তিনি জেনারেল ডিউটি পাইলট, ফ্লাইং অফিসার, ফ্লাইট লেফট্যানেন্ট, ফ্লাইং ইন্সট্রাক্টর এবং জেট ফ্লাইং ইন্সট্রাক্টর হিসেবে কাজ করেন।

১৯৭১ সালের জানুয়ারির শেষ সপ্তাহে মতিউর দুই মাসের ছুটি নিয়ে সপরিবারে ঢাকা আসেন৷ ২৫ মার্চ কালরাতের নৃশংসতার প্রতিবাদ হিসেবে তিনি ভৈরবে একটি ট্রেনিং ক্যাম্প খোলেন যেখানে যুদ্ধ করতে আসা বাঙালি যুবকরা প্রশিক্ষণ নিতে থাকে৷মুক্তিযোদ্ধাদের বিভিন্ন স্থান থেকে সংগ্রহ করা অস্ত্র দিয়ে গড়ে ওঠে একটি প্রতিরোধ বাহিনী৷

১৪ এপ্রিল তাদের ঘাঁটির ওপর পাকিস্তানি বিমান বাহিনীর এফ-৮৬ স্যাবর জেট বোমাবর্ষণ করে৷এমন আক্রমণের আশঙ্কা মতিউর আগেও করেছিলেন তাই ঘাঁটি পরিবর্তনের কারণে ক্ষয়ক্ষতি থেকে রক্ষা পায় তার বাহিনী। মতিউর রহমান ৯ মে সপরিবারে করাচি ফিরে যান ও কর্মক্ষেত্রে যোগ দেন৷ ১৯৭১ সালের ২০ আগস্ট, শুক্রবার- ফ্লাইট শিডিউল অনুযায়ী মতিউরের এক ছাত্র রশীদ মিনহাজের উড্ডয়নের দিন। করাচির মৌরীপুর বিমান ঘাঁটিতে মিনহাজের কাছ থেকে একটি জঙ্গি বিমান ছিনতাই করেন মতিউর। কিন্তু মিনহাজ ক্লোরোফর্মের প্রভাবে অজ্ঞান হওয়ার পূর্ব মুহুর্তে এ ঘটনা কন্ট্রোল টাওয়ারে জানিয়ে দিলে অপর চারটি জঙ্গি বিমান মতিউরের বিমানকে ধাওয়া করে। এ সময় রশীদের সঙ্গে মতিউরের ধস্তাধস্তি চলতে থাকে এবং এক পর্যায়ে রশীদ ইজেক্ট সুইচ চাপলে মতিউর বিমান থেকে ছিটকে পড়েন। মতিউরের সঙ্গে প্যারাসুট না থাকায় তিনি প্রাণ হারান।

উল্লেখ্য, মিনহাজ রশীদকেও পাকিস্তান সরকার সম্মানসূচক খেতাব দান করে। একই ঘটনায় দুই বিপরীত ভূমিকার জন্য দু’জনকে দু’দেশের সর্বোচ্চ সম্মানসূচক খেতাব প্রদানের এমন ঘটনা বিরল।

বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনাস্থল থেকে আধ মাইল দূরে খুঁজে পাওয়া যায় মতিউরের মৃতদেহ। মতিউরকে করাচির মাসরুর বেসের চতুর্থ শ্রেণীর কবরস্থানে সমাহিত করে কর্তৃপক্ষ। শাহাদতের ৩৫ বছর পর ২৪শে জুন ২০০৬ মতিউরের দেহাবশেষ পাকিস্তান থেকে দেশে এনে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবর স্থানে পুনঃসমাহিত করা হয়।

প্রতিবেদন: এস. কে. সিদ্দিকী, সম্পাদনা: ইয়াসিন


সর্বশেষ

আরও খবর

প্রধানমন্ত্রীপরিচয়ে তাজউদ্দীন ইন্দিরার সমর্থন আদায় করেন যেভাবে!

প্রধানমন্ত্রীপরিচয়ে তাজউদ্দীন ইন্দিরার সমর্থন আদায় করেন যেভাবে!


প্রকৃতির নিয়ম রেখেছিল ঢেকে রাতের কালো, বিধাতার ডাকে বঙ্গবন্ধু এলো

প্রকৃতির নিয়ম রেখেছিল ঢেকে রাতের কালো, বিধাতার ডাকে বঙ্গবন্ধু এলো


সৈয়দ আবুল মকসুদঃ মৃত জোনাকির থমথমে চোখ

সৈয়দ আবুল মকসুদঃ মৃত জোনাকির থমথমে চোখ


বঙ্গবন্ধুর মুক্তির নেপথ্যে

বঙ্গবন্ধুর মুক্তির নেপথ্যে


প্রয়াণের ২১ বছর…

প্রয়াণের ২১ বছর…


বীর উত্তম সি আর দত্ত আর নেই, রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর শোক

বীর উত্তম সি আর দত্ত আর নেই, রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর শোক


সংগীতের ভিনসেন্ট নার্গিস পারভীন

সংগীতের ভিনসেন্ট নার্গিস পারভীন


সিরাজগঞ্জে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে কামাল লোহানীকে

সিরাজগঞ্জে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে কামাল লোহানীকে


জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান আর নেই

জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান আর নেই


ওয়াজেদ মিয়ার ১১তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

ওয়াজেদ মিয়ার ১১তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ