Wednesday, September 7th, 2016
বেহাল অবস্থায় রাত্রি নিবাস
September 7th, 2016 at 5:44 pm
বেহাল অবস্থায় রাত্রি নিবাস

ঢাকা: নানা অবহেলা আর দেখাশোনার অভাবে বন্ধ হওয়ার পথে দেশের একমাত্র রাত্রিনিবাস কেন্দ্র ‘রাত্রিনিবাস’। মিরপুর ব্লক-ডি এর ৬ নাম্বার সেকশনে ভাসমান অসহায়–দুস্থ কর্মজীবিদের রাত্রিকালীন অবস্থানের জন্য গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধায়নে ঢাকা আহছানিয়া মিশনের পরিচালনায় ২০০৮ সালের ১৫ জুলাই ২০ কাঠা জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত হয় এক’শ শয্যা বিশিষ্ট রাত্রিকালীন আবাসন কেন্দ্রটি।

প্রতিনিয়ত কাজের সন্ধানে ঢাকায় আসছেন নানা রকমের মানুষ, আর ঈদকে সামনে রেখে রাজধানী জুড়ে বেড়ে চলেছে ভিক্ষুকের সংখ্যা। দিন শেষে রাত্রিযাপনের জন্য ছিন্নমূল এইসব মানুষদেরকে তাই বাধ্য হয়েই বেছে নিতে হচ্ছে ফুটপাত। এদের সাথে সাথে অল্প আয়ের নিম্মবিত্ত মানুষের কষ্টের কথা মাথায় রেখে গড়ে তোলা হয় সেবা প্রতিষ্ঠান রাত্রি নিবাস। তবে দেখতে যেয়ে দেখা গেছে তার উল্টো চিত্র। ঐসব মানুষের কথা মাথায় রেখে প্রতিষ্ঠানটি তৈরী করা হলেও নানাবিধ অব্যবস্থাপনার কারণে এই রাত্রিনিবাস কেন্দ্রে ঘুমায় মাত্র দশ থেকে বার জন।

কম মানুষের রাত যাপনের কারণ খুঁজতে যেয়ে দেখা গেল চরম অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে পাতা আছে কয়েকটি বিছানা আর তার মাঝে দেয়া আছে পাতলা কম্বল। বালিশগুলোতে ছাড়পোকার অভয়ারণ্য। পাশে একটি টয়লেট কিন্তু তাতে নাই কোন ধরনের পানির ব্যবস্থা। ফলে ঘরটিতে তৈরী হয়েছে উৎকট গন্ধ। রুমে আছে তিনটা পাখা যার মধ্যে একটা অচল। বৃষ্টি হলে উপর থেকে পানি না পরলেও নিচ থেকে আসা পানিতে ডুবে যায় পুরো ঘর। ফলে একজন জীবন্ত মানুষের পক্ষে এখানে  ঘুমানো বেশ কঠিন হয়ে উঠে।

ভিক্ষা করে জীবিকা নির্বাহের জন্য রংপুর থেকে আসা ৬৫ বছরের রমজান মিয়া জানান, ‘প্রতিরাত তিন টাকার বিনিময়ে এখানে থাকার কথা থাকলেও এখন দিতে হয় ৫ টাকা করে। কারণ হিসেবে বলা হয়েছে পানি ব্যবস্থা আর ভাল টয়লেটের ব্যবস্থা করার কথা। তবে এখনো তার কিছুই দেয়া হয়নি।’

তিনি আরো জানান, ‘একজন মানুষ তিন দিন করে থাকতে পারেন। তার বেশি দিন থাকতে হলে নাম পরিবর্তন করে রাত কাটাতে হয়।’

রিকশাচালক হানিফ মিয়া বলেন, ‘মাঝে মাঝে ৩ টাকার পরিবর্তে আমাদের ১০ টাকা দিতে হয়। আর রাত্রি নিবাসে আমাদের ঢুকতে দেয়া হয় ৯-১০টার মাঝে আর সকাল সকাল আবার ছেড়েও দিতে হয়।’

স্থানীয় একজন দোকানি জানান, ‘প্রথমে অনেক ভাল চললেও এখন আর তা চলে না। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ, দুর্গন্ধযুক্ত টয়লেট আর সুষ্ঠু দেখশোনার কথা।

রাত্রি নিবাস কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা মাওলানা রফিকুল ইসলামের কাছে এসব বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, ‘কোন ধরণের সরকারি অনুদান না থাকায় রাত্রিনিবাস কোনো রকম চলছে ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের সহায়তায়। তাই অনেক চেষ্টার পরেও এটি ভাল ভাবে চালানো সম্ভব হচ্ছে না।’

বাংলাদেশের মত এমন একটা উন্নয়নশীল দেশে এমন উদ্যোগ অনেক আশার প্রতিফলন ঘটায়। আর অনেক ছিন্নমূল মানুষের হাসির কারণ হতে পারে এমন উদ্যোগ। তাই সেবার মান নিশ্চিত করে আরো এমন আবাসন কেন্দ্র গড়ে তুললে উপকৃত হবে এদেশের খেটে খাওয়া ভাসমান অসহায়–দুস্থ কর্মজীবি মানুষেরা।

সম্পাদনা: তুসা


সর্বশেষ

আরও খবর

২৫ সেপ্টেম্বর ১৯৭৪, জাতিসংঘে বঙ্গবন্ধু

২৫ সেপ্টেম্বর ১৯৭৪, জাতিসংঘে বঙ্গবন্ধু


করোনা সংক্রমন ঠেকাতে ব্রিটিশ সরকারের নতুন আইন লঙ্ঘন করলে সর্বোচ্চ  ১০ হাজার পাউন্ড জরমিানা

করোনা সংক্রমন ঠেকাতে ব্রিটিশ সরকারের নতুন আইন লঙ্ঘন করলে সর্বোচ্চ ১০ হাজার পাউন্ড জরমিানা


ভাইরাসের সাথে বসবাস

ভাইরাসের সাথে বসবাস


মুজিববর্র্ষে লন্ডনে জয় বাংলা ব্যান্ডের রঙ্গিন ভালবাসা

মুজিববর্র্ষে লন্ডনে জয় বাংলা ব্যান্ডের রঙ্গিন ভালবাসা


অস্ট্রিয়ায় চালু হলো করোনাভাইরাস ট্রাফিক লাইট ব্যবস্থা

অস্ট্রিয়ায় চালু হলো করোনাভাইরাস ট্রাফিক লাইট ব্যবস্থা


কটন টপ ট্যামারিন, খোঁজা বানর!

কটন টপ ট্যামারিন, খোঁজা বানর!


প্রকৃতির স্থিতি আর আমাদের অস্থিরতা: কোভিড-১৯ পরবর্তী ভাবনা

প্রকৃতির স্থিতি আর আমাদের অস্থিরতা: কোভিড-১৯ পরবর্তী ভাবনা


রানীর ভাষণ: খুঁটিনাটি

রানীর ভাষণ: খুঁটিনাটি


মুজিব বর্ষঃ স্মৃতিচারন করলেন মুক্তিযোদ্ধাদের দুই সহচর

মুজিব বর্ষঃ স্মৃতিচারন করলেন মুক্তিযোদ্ধাদের দুই সহচর


মুজিব বর্ষঃ আওরঙ্গজেব’র বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারন

মুজিব বর্ষঃ আওরঙ্গজেব’র বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারন