Saturday, August 27th, 2016
ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনে হুমকিতে স্কুলসহ সহস্রাধিক ঘরবাড়ি
August 27th, 2016 at 4:11 pm
ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনে হুমকিতে স্কুলসহ সহস্রাধিক ঘরবাড়ি

কিশোরগঞ্জ: কয়েকদিনে ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙনে হোসেনপুর উপজেলার সাহেবেরচর গ্রামের শতাধিক ঘরবাড়ি নদীতে বিলীন হয়েছে। প্রতিদিনই ঘরবাড়ি, ফসলি জমি নদীতে বিলীন হচ্ছে।

চরাঞ্চলের একমাত্র সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, শুলু শাহর মাজার, কবরস্থান, মসজিদসহ আরো সহস্রাধিক বাড়িঘর ভাঙনের মুখে রয়েছে।ইতোমধ্যে গ্রামের বিস্তৃর্ণ এলাকা নদীতে বিলিন হয়ে গেছে। ফলে অনেক পরিবার এখন ভিটে মাটি ছাড়া।

এলাকাবাসী জানান, জমি, সহায়-সম্বল, ঘরবাড়ি হারিয়ে তারা এখন দিশেহারা। কেউ পাগল প্রায় আবার কেউ কেউ ভিটে বাড়ি হারিয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছেন।

Kishoreganj, Erosion Photo (2)

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার সাহেবেরচর গ্রামের লোকজনের কাছে ব্রহ্মপুত্র যেন সাক্ষাৎ যম। তাদের ঘরবাড়ি, জমিজিরাত সবই কেড়ে নিয়েছে এ নদ। সহায়-সম্পদ, পেশা হারিয়ে গ্রামের বেশির ভাগ বাসিন্দা নিঃস্ব-অসহায়। এক সময়ের বিশাল গ্রাম পরিণত হয়েছে একচিলতে জনপদে। গত ১৪ বছরে এখানকার বহু মানুষ তাদের পৈতৃক ভিটা হারিয়ে গ্রামছাড়া। যারা গ্রামে রয়ে গেছে, ঝুঁকি, আতঙ্ক আর হতাশাই এখন তাদের নিত্যসঙ্গী।

সপ্তাহখানেক ধরে আবার নতুন করে ভাঙন দেখা দিয়েছে গ্রামটিতে। এলাকার একমাত্র সাহেবের চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও বন্যার্তদের জন্য আশ্রয় কেন্দ্রটি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। নদের পানিতে আগেই চলে গেছে স্কুলের টয়লেট। পশ্চিম দিকে দেখা দিয়েছে ফাটল। শিক্ষকরা এ ভবনে শিক্ষার্থীদের ক্লাস নিতে সাহস পাচ্ছেন না।

Kishoreganj, Erosion Photo (4)

বুধবার থেকে পানি উন্নয়ন বোর্ড বালির বস্তা ফেলে বিদ্যালয়টি রক্ষার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু এলাকাবাসী বলছে, কেবল স্কুল নয়, মানুষের বসতবাড়ি, জমিজমা রক্ষা করাও সরকারের দায়িত্ব। এলাকায় মানুষ না থাকলে স্কুল দিয়ে কী হবে! এখানে পড়বে কারা!

গত রোববার সরেজমিনে কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরের সিদলা ইউনিয়নের ভাঙনকবলিত সাহেবেরচর গ্রামে গিয়ে দেখা যায় প্রায় আড়াই কিলোমিটার ভাঙনে বিলীন হওয়ার দৃশ্য, ব্রহ্মপুত্র নদটি বাঁক নিয়ে গ্রামের ভেতরে ঢুকে গেছে। স্থানীয়রা মনে করছে, এ অবস্থা অব্যাহত থাকলে কিছুদিনের মধ্যে দুই ভাগ হয়ে যেতে পারে গ্রামটি। তারা জানায়, গ্রাম থেকে দুই কিলোমিটার দূরে থাকা নদটি ধীরে ধীরে গ্রামের ভেতরে ঢুকে পড়েছে।

Kishoreganj, Erosion Photo (5)

ব্রহ্মপুত্রের দুর্যোগ গ্রামের ধনী-গরিব সবাইকে এক কাতারে নিয়ে এসেছে। তাদের বাড়ি ও জমি এখন ব্রহ্মপুত্রের পেটে। যার শত কাঠা জমি ছিল, তিনিও আজ ভূমিহীন। এক সময়ের সচ্ছল কৃষক কামলা খাটে, নৌকা চালায়। কেউ কেউ এলাকা ছেড়ে শহরে গিয়ে রিকশা চালাচ্ছে। কেউ আবার পরিবার পরিজন নিয়ে ইটভাটায় শ্রম বিক্রি করছে।’ এভাবেই আক্ষেপ করে কথাগুলি বলেছেন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মো. সিরাজ উদ্দিন।

নদের ভাঙন থেকে বসতঘর রক্ষা করতে তিনবার সরিয়েও এলাকার মোক্তার উদ্দিন ও আমেনা আক্তার শেষ রক্ষা পায়নি। নিরুপায় হয়ে তার এখন অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। অনেকেই জায়গা না পেয়ে সরকারি রাস্তায়ও আশ্রয় নিয়েছেন।

Kishoreganj, Erosion Photo (7)

জীবন-জীবিকা নিয়ে সংকটে থাকা রিয়াজ উদ্দিন জানান, তাদের ৪০ কাঠা জমি ছিল। সবই চলে গেছে ব্রহ্মপুত্রের পেটে। এখন তিনি অন্যের জমিতে দিনমজুর হিসেবে কাজ করে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। এ গ্রামের রবি মিয়া, নুরুল ইসলাম, জুয়েল মিয়া, বাক্কার মিয়া, বাহার উদ্দিন, নাজিম উদ্দিন, আল-আমিন, মুকসুদ মিয়া, হাবিুবর রহমানের ঘরবাড়ি বিলীন হয়ে যায় নদীগর্ভে। ওরা এখন প্রতিবেশী ও স্বজনদের জায়গায় চিলে ঘর তৈরি করে কোনো রকমে দিন যাপন করছেন। এছাড়া, ভাঙ্গনে ঘরবাড়ি, জমিজমা নদীতে চলে যাওয়ায় জলিল মিয়া, স্বপন মিয়া ও শাহজাহান মিয়া এলাকা ছেড়ে পাশের ময়মনসিংহ জেলার গফরগাঁও এলাকায় বসতি নিয়েছেন।

এলাকাবাসী জানান, গত এক সপ্তাহ ধরে যেভাবে ভাঙ্গন শুরু হয়েছে এটা অব্যাহত থাকলে সাহেবের চর গ্রামের কমপক্ষে দুই হাজার বাড়ি হুমকির মধ্যে রয়েছে। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে তাদের জন্য কিছুই করা হয়নি।

সাহেবেরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. রফিকুল আলম জানান, ২০০৮ সালে স্থাপিত বিদ্যালয়টি  ব্রহ্মপুত্রের পানিতে তলিয়ে যায়। পরে এলাকার বন্যার্তদের জন্য আশ্রয় কেন্দ্রটিকে বিদ্যালয় হিসেবে চালানো হচ্ছে। গত বছর স্কুলের টয়লেট নদীগর্ভে চলে যায়। পরে টিনের একটি টয়লেট দিয়ে ২২৪ শিক্ষার্থীর এই স্কুলটিতে শিক্ষা কার্যক্রম চলছে। গত এক সপ্তাহের ভাঙ্গনে এখন আবার চরম হুমকির মুখে আছে স্কুলটি।

তিনি বলেন, ঝুঁকি নিয়ে চালানো হচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম। কোনো কোনো সময় বিদ্যালয়ের মাঠেও করানো হয় ক্লাস।

কিশোরগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, ব্রহ্মপুত্রের তলদেশ ভরাট হয়ে যাওয়ায় বর্ষাকালে নদের দুকূল ছাপিয়ে পানি এ গ্রামটিতে আঘাত করে। তীব্র স্রোতে ভাঙন মারাত্মক আকার ধারণ করে। এ কারণে দীর্ঘদিন গ্রামটি ভাঙছে। গ্রামটি রক্ষায় একটি জরুরি প্রকল্পের অনুমোদনের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, বালির বস্তা ফেলে বিদ্যালয়টি রক্ষার চেষ্টা করা হচ্ছে। এলাকার অনেক পরিবারের ঘরবাড়ি চরম হুমকির মুখে। বহু পরিবার এরই মধ্যে ঘরবাড়ি হারিয়ে এলাকাছাড়া। গ্রামটিই এখন ছোট হয়ে আসছে। গ্রামটি রক্ষায় এক কিলোমিটার দীর্ঘ প্রতিরক্ষা বাঁধের জরুরি প্রকল্প ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। এর অনুমোদন পেলে গ্রামটির কিছু অংশ রক্ষা করা সম্ভব হবে বলে জানান তিনি।

প্রতিনিধি, সম্পাদনা- জাহিদুল ইসলাম


সর্বশেষ

আরও খবর

সাগরে ৪ নম্বর সংকেত, বৃষ্টি অব্যাহত থাকবে আরও দুই দিন

সাগরে ৪ নম্বর সংকেত, বৃষ্টি অব্যাহত থাকবে আরও দুই দিন


দু-তিন দিনের মধ্যে আলুর দাম কমবে: বাণিজ্যমন্ত্রী

দু-তিন দিনের মধ্যে আলুর দাম কমবে: বাণিজ্যমন্ত্রী


সারা দেশের নৌ ধর্মঘট প্রত্যাহার

সারা দেশের নৌ ধর্মঘট প্রত্যাহার


অতিরিক্ত মূল্যে আলু বিক্রির দায়ে বরিশালে চার ব্যবসায়ীকে জরিমানা

অতিরিক্ত মূল্যে আলু বিক্রির দায়ে বরিশালে চার ব্যবসায়ীকে জরিমানা


করোনায় প্রাণ গেল আরও ২১ জনের

করোনায় প্রাণ গেল আরও ২১ জনের


শিশু ধর্ষণের মামলায় দ্রুততম রায়ে আসামির যাবজ্জীবন

শিশু ধর্ষণের মামলায় দ্রুততম রায়ে আসামির যাবজ্জীবন


মাস্ক পরা নিশ্চিত করতে নির্দেশ মন্ত্রিসভার

মাস্ক পরা নিশ্চিত করতে নির্দেশ মন্ত্রিসভার


দেশে করোনায় আরও ২৩ জনের মৃত্যু

দেশে করোনায় আরও ২৩ জনের মৃত্যু


ভোট সুষ্ঠু হয়েছে; দাবি প্রধান নির্বাচন কমিশনারের

ভোট সুষ্ঠু হয়েছে; দাবি প্রধান নির্বাচন কমিশনারের


বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার খসড়া তালিকায় গ্লোব বায়োটেকের ভ্যাকসিন

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার খসড়া তালিকায় গ্লোব বায়োটেকের ভ্যাকসিন