Thursday, June 30th, 2022
ভরা মৌসুমে চড়া সবজি বাজার
November 18th, 2016 at 6:36 pm
ভরা মৌসুমে চড়া সবজি বাজার

ঢাকা: গ্রামে শীত আসলেও শহরে এখনো শীত আসেনি। শহরবাসী শীতের অপেক্ষায়। কিন্তু শীতের সবজি শহরে এসেছে বেশ কয়েকদিন আগেই। প্রথম দিকে দাম চড়া থাকবে এটা স্বাভাবিক ব্যাপার। কিন্তু সরবরাহ বাড়ার পরও দাম কমছে না।

চড়া দামের মূল কারণ ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট। বিভিন্ন কৌশল ও কারসাজির মাধ্যমে প্রতিটি সবজির দাম বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে ৫ থেকে ১০ টাকা। খুচরা ব্যবসায়ীরা এর দোষ চাপাচ্ছেন আড়ৎদারদের ওপর। আর আড়ৎদাররা দোহাই দিচ্ছেন বাড়তি পরিবহন ব্যয়ের ওপর। যদিও ক্রেতারা এর জন্য বরাবরের মতো বিক্রেতাদের অতিমুনাফা লাভকেই দায়ী করছেন।

ক্রেতাদের অভিযোগ সরকার তেলের দাম কমানোর আভাস দেয়ায় সবজির দাম বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে। তাদের মতে, তেলের দাম কমলে পরিবহন ব্যয় কমবে। তাতে সরকার সবজিসহ সব পণ্যের দাম কমাতে ব্যবসায়ীদের ওপর চাপ দিবে। সরকারের সেই চাপ সামলাতে আগে থেকেই কৃত্রিমভাবে পণ্যের দাম বাড়িয়ে পরে তা সামঞ্জস্য করার ফন্দি এটেছে ব্যবসায়ীরা।

শুক্রবার রাজধানীর ফকিরাপুল, শান্তিনগর ও মগবাজার ঘুরে দেখা যায়, বাজারে শীতকালীন সবজির পসরা সাজানো হয়েছে। রকমভেদে প্রতিকেজি সবজি বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা। সপ্তাহ খানেক আগে এ সবজির দাম ছিল কেজিপ্রতি ৪০ থেকে ৫০ টাকা। মাছ বাজারে ভরপুর চাষ করা দেশি মাছের পাশাপাশি ইলিশসহ সামুদ্রিক অন্যান্য মাছ। রকমভেদে এসব মাছের দামও বেড়েছে ১৫ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত। এছাড়া বাজারে চাল, ডাল, তেল, মাংস ও মসলা জাতীয় পণ্যগুলো আগের বাড়তি দামেই বিক্রি হচ্ছে।

রাজধানীর মগবাজারে সবজি কিনতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী নাজমা সুলতানা নিদ্রা বলেন, গত কয়েক সপ্তাহ আগে থেকে বাজারে শীতের নতুন সবজি আসছে। তাতে প্রথম অবস্থায় দাম বেশি থাকলেও আস্তে আস্তে যেন একটু স্বস্তি মিলছিল। কিন্তু আজ আবার দেখলাম হঠাৎ সবজির দাম বেড়ে গেছে। আমি গত সপ্তাহে যে বেগুন ৪৫ টাকায় কিনেছি আজ তা ৫৫ টাকা নিল। অবশ্য দরাদরি করে ৫০ টাকা দিয়েই কিনেছি।

বাজারে সবজির এ বাড়তি দামের বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন খন্দকার আরিফুল ইসলাম। মালিবাগ বাসা থেকে শান্তিনগর বাজারে আসা সরকারি চাকরিজীবী ওই কর্মকর্তা বলেন, শীতের ভরা মৌসুমে শীতকালীন সবজির দাম কমবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু আজ দেখছি তার উল্টো। গত সপ্তাহের ২০ টাকার আলু আজ ২৫ টাকা দিয়ে কিনতে হচ্ছে। কথা হল আলু তো আর দুই দিনেই পঁচে যাওয়ার সবজি না। তবে এটার দাম বাড়ল কেন?

তিনি বলেন, আসলে এটা ব্যবসায়ীদের কারসাজি। পুরো বাজারটা ব্যবসায়ীদের কাছে জিম্মি।

তিনি আরো বলেন, প্রতি বছর রমজান আসার আগেই পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেয়া হয়। পরে সরকারের চাপে তা আবার কমানো হয়। কোরবানি ঈদ এলে বেড়ে যায় মসলার দাম। পরে তা আবার কমে আসে। আজ হঠাৎ সবজির দাম বাড়ানো হলো নিশ্চয় কোনো কারণ ব্যবসায়ীদের কাছে আছে। যা আমরা হয়তো বুঝতে পারছি না। এ কারণ সরকারকেই খুঁজে বের করতে হবে।

রাজধানীর ফকিরাপুল বাজারে খুচরা ব্যবসায়ী আব্দুল গফুরের কাছে হঠাৎ দাম বাড়ার কারণ জানতে চাইলে বলেন, দেখেন সবজির দাম বেশি হলে তা দিয়ে ব্যবসা হয় না। কারণ কম দামে কিনলে তো কম দামেই বিক্রি করতে হয়। বেশি দাম হাকানো যায় না। বেশি দাম না পেলে ব্যবসা পরিবহন খরচের মধ্যেই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে। তাই আড়ৎদাররা নির্দিষ্ট পরিমান পণ্যের দাম কমিয়ে আর কমাতে চায় না।

ব্যবসায়ীদের বিপক্ষে কিছু না লেখার শর্তে ওই খুচরা ব্যবসায়ী বলেন, গতকাল মাল (সবজি) আনতে গেলে দাম বাড়ার কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে আড়ৎ মালিক বলেন, সরকার তেলের দাম কমাতে চেয়েছে। তেলের দাম কমালে সবজির পরিবহন ব্যয়ও কমবে। তখন আর এক দফা পণ্যের দাম কমানো হবে। আর এখনই যদি কমানো থাকে তবে সরকারের চাপে আরো এক দফা কমাতে হবে। তখন আমাদের (আড়ৎদার) ব্যবসা (লাভ) থাকবে না। তাই দাম কমানোর আগাম প্রস্তুতি হিসেবে আগেই দাম বাড়িয়ে রাখা হয়েছে। যাতে সামাঞ্জস্য থাকে।

খুচরা ব্যবসায়ী বলেন, এতে আমাদের (খুচরা ব্যবসায়ীদের) কোনো হাত নেই।

সরকারের কাছে এটা আড়ৎদারদের এক ধরণের কারসাজি কিনা?  এমন প্রশ্নের জবাবে খুচরা ব্যবসায়ী বলেন, সরকার যায়ই করুক ব্যবসায়ীদের কারসাজি কমাতে পারবে না। যদি ব্যবসায়ীরা নিজের থেকে কারসাজি বন্ধ না করে।

কাঁচা বাজার, সবজি: শুক্রবার রাজধানীর কাঁচাবাজারগুলোতে দেখা গেছে, প্রতিকেজি লম্বা বেগুন ৫০ টাকা, গোল বেগুন ৫৫ টাকা, শিম ৫০ থেকে ৬০ টাকা, ঝিঙ্গা ৬০ টাকা, মূলা ৩০ টাকা, চিচিঙ্গা ৬০ টাকা, আলু ২৫ টাকা, গাজর ৪৫ টাকা, করল্লা ৫৫ টাকা, ঢেঁড়স ৫৫ টাকা, পটল ৫০ টাকা, শসা ৪০ থেকে ৫০ টাকা, কাঁচামরিচ ৭০ টাকা, পেঁপে ৩০ টাকা থেকে ৪০ টাকা, কচুর লতি ৬০ টাকা, কচুর মুখি ৫০ টাকা, বরবটি ৬৫ টাকা, মটরশুটি ৭০ টাকা, মাঝারি আকৃতির প্রতিটি ফুলকপি ৩৫ টাকা, ব্রকলি (সবুজ ফুলকপি) ৪৫ টাকা, বাঁধাকপি ৩০ টাকা, লাউ ৫০ টাকা, জালি কুমড়া ৩০ থেকে ৪০ টাকা পিস, প্রতিহালি কাঁচকলা ২৫ টাকা ও লেবু ২০ থেকে ৩২ টাকা, কাঁচা টমেটো ৪০ টাকা, হাইব্রিড টমেটো ৮০ এবং দেশি টমেটো ৯০ টাকা এবং আদা ৯০ টাকা থেকে ১০০ কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

শাক: বাজারে পালংশাক, মুলাশাক, কুমড়াশাক, লালশাক, লাউশাক, ডাটাশাকসহ নানা ধরনের শাকের আঁটি ১০ থেকে ৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে এবং পুদিনাপাতা ১০০ গ্রাম ২৫ টাকা, ধনেপাতা প্রতি ১০০ গ্রাম ৪০ টাকা, লেটুস পাতা প্রতিটি ২০ টাকা, চায়নাশাক ২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

মাছ: দেশি আইর মাছ ৩০০ টাকা, বাইম ৪০০ টাকা, ফলুই ৩৫০ টাকা, গুলশা ৩৫০ টাকা, কাইবা ২৫০ টাকা, পাবদা ৬০০ টাকা, কাজুলি ৩০০ টাকা, পুটি ৩০০ টাকা বেলে ৩৫০ টাকা, মেনি ৪০০ টাকা, দেশি কই ৩০০ থেকে ৯০০ টাকা, দেশি শিং ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা, বোয়াল ৩৫০ থেকে ৬০০ টাকা, টাকি ২৫০ টাকা, গজাল ৪০০ টাকা, মাগুর ৫০০ টাকা, ভেদা ৩০০ টাকা, মলাঢেলা ২০০ টাকা, কাচকি মাছ ২৫০ টাকা, শোল মাছ ৩০০ টাকা ও সুরমা মাছ ১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এছাড়া জাটকা ইলিশ ৩০০ টাকা, চন্দনা ইলিশ ১৫০ টাকা, ৭০০ থেকে ৯০০ গ্রাম ওজনের বেশি প্রতি হালি ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৮০০ টাকায়, কাতল মাছ ৩৫০ টাকা, রুই মাছ ৩০০ টাকা, তেলাপিয়া ১২০ টাকা, চায়না পুটি ১২০ টাকা, পাঙ্গাস ১২০ টাকা, চিংড়ি (বড়) ১ হাজার ২০০ টাকা, চাষের কৈ ১৫০ টাকা, সিলভার কার্প ১১০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

চাল: প্রতিকেজি নাজিরশাইল চাল ৫৫ থেকে ৬০ টাকায়, মিনিকেট ৪৮ থেকে ৫০ টাকা, মোটা চাল ৪২ টাকা, জিরা নাজির ৫৫ টাকা, আটাশ ৪২ টাকা, পাইজাম ৪০ টাকা, চিনি গুড়া ১১০ টাকা, পারিজা ৩৮ টাকা, বিআর-২৮ ৪৩ টাকা, বিআর-২৯ ৪৩ টাকা, হাসকি ৪২ টাকা, স্বর্ণা ৩৬ টাকা থেকে ৩৮ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

মসলা জাতীয় পণ্য: প্রতিকেজি নতুন পেঁয়াজ ৩০ টাকা থেকে ৪৫ টাকা, চায়না বড় রসুন ১৯০ টাকা, দেশি রসুন ১২০ টাকা, একদানা রসুন ১৫০ টাকা, দেশি মশুর ডাল ১৩৫ টাকা, ভারতীয় মশুর ডাল ১২০ টাকা, খেসারি ডাল ৫৫ টাকা, মুগ ডাল ১২০ টাকা, ছোলা ৬০ টাকা, চিনি ৫০ টাকা ও প্রতি লিটার সয়াবিন খোলা ১১৫ টাকা ও বোতলজাত সয়াবিন ১২৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

মাংস: মাংসের বাজারে দেখা গেছে, গরুর মাংস ৪৩০ টাকা, খাসির মাংস ৫৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এক কেজি ওজনের প্রতিটি দেশি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩২৫ থেকে ৩৬০ টাকা, ব্রয়লার মুরগি ১৩৫ টাকা, লেয়ার মুরগি ১৫৫ টাকা, হাঁস ৩০০ টাকা, ভেড়া ও ছাগীর মাংস ৪৫০ টাকা এবং কবুতরের বাচ্চা ২৫০ টাকা জোড়া হিসেবে বিক্রি হচ্ছে।

ফল: বাজারে পেয়ারা পাওয়া যাচ্ছে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা, আপেল ১৫০ থেকে ১৮০ টাকায়, মালটা ১৫০ টাকা, আঙুর ৪৫০ টাকা, প্রতি ডজন কমলা ২০০ থেকে ২২০ টাকা, বেদানা ২৫০ টাকা, আমড়া ১২০ টাকা, আমলকি ১৫০ টাকা, সবেদা ৮০ টাকা, জলপাই ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

প্রতিবেদক: রিজাউল করিম, সম্পাদনা: জাহিদ


সর্বশেষ

আরও খবর

সংসদে ৬,৭৮,০৬৪ কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব

সংসদে ৬,৭৮,০৬৪ কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব


আ’লীগ নেতা বিএম ডিপোর একক মালিক নন

আ’লীগ নেতা বিএম ডিপোর একক মালিক নন


চীনের সাথে বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে চায় বাংলাদেশ

চীনের সাথে বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে চায় বাংলাদেশ


ভোজ্যতেল ও খাদ্য নিয়ে যা ভাবছে সরকার

ভোজ্যতেল ও খাদ্য নিয়ে যা ভাবছে সরকার


তৎপর মন্ত্রীগণ, সীতাকুণ্ডে থামেনি দহন

তৎপর মন্ত্রীগণ, সীতাকুণ্ডে থামেনি দহন


অত আগুন, এত মৃত্যু, দায় কার?

অত আগুন, এত মৃত্যু, দায় কার?


যে গল্প এক অদম্য যোদ্ধার

যে গল্প এক অদম্য যোদ্ধার


আফগান ও ভারতীয় অনুপ্রবেশ: মে মাসে আটক ১০

আফগান ও ভারতীয় অনুপ্রবেশ: মে মাসে আটক ১০


সীমান্ত কাঁটাতারে বিদ্যুৎ: আলোচনায় বিজিবি-বিজিপি

সীমান্ত কাঁটাতারে বিদ্যুৎ: আলোচনায় বিজিবি-বিজিপি


চালের বাজার নিয়ন্ত্রণে কঠোর সরকার

চালের বাজার নিয়ন্ত্রণে কঠোর সরকার