Thursday, July 21st, 2016
ভাষা শহীদ: দিব্যেন্দু ও জগন্ময়
July 21st, 2016 at 6:05 pm
ভাষা শহীদ: দিব্যেন্দু ও জগন্ময়

ডেস্কঃ বাংলা ভাষার মর্যাদা রক্ষায় প্রাণ দেয়ার জন্য সালাম, রফিক, জব্বার এবং শফিউরের নাম খোদাই করা আছে আজ প্রতিটি বাংলা ভাষাভাষির হৃদয়ে। কিন্তু পাশের দেশ ভারতের আসাম রাজ্যে, আমাদের ভাষা আন্দোলনের পথ ধরে ১৯৬১ সালে মাতৃভাষা বাংলার মর্যাদা রক্ষার একই উদ্দেশ্যে যে সংগ্রাম সংগঠিত হয়েছিল লাঞ্চিত বাঙালী জনগোষ্ঠী দ্বারা, আর সে আন্দোলনে সরকারি অস্ত্রধারী বাহিনীর হাতে প্রাণ দিতে হয়েছিল যে ভাষাপ্রেমীদের, তাদের ইতিহাসে এপার বাংলায় অনেকেরই অজানা, ভাষা আন্দোলনের প্রসঙ্গেও তারা থাকে উহ্য। আজ ২১ জুলাই, সেই আসামীয় বাংলা ভাষাভাষি শহীদদের দু’জন- জগন্ময় দেব ও দিব্যেন্দু দাশ এর প্রাণ বলিদানের ৩০ বছর পূর্ণ হলো।

১৯৬০ সালের এপ্রিলে, আসাম প্রদেশ কংগ্রেস কমিটিতে অসমীয়া ভাষাকে প্রদেশের একমাত্র দাপ্তরিক ভাষা হিসেবে ঘোষণা দেয়া হয়। জনসংখ্যার এক উল্লেখযোগ্য অংশ বাংলাভাষী হওয়া সত্যেও অসমীয়া ভাষাকে রাজ্যের একমাত্র দাপ্তরিক ভাষা করার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ গড়ে ওঠে বরাক উপত্যকায়। অসমীয়া উত্তেজিত জনতা বাঙালি হিন্দু অভিবাসীদের আক্রমণ করে। জুলাই ও সেপ্টেম্বরে সহিংসতা উচ্চ রূপ নেয় যখন প্রায় ৫০,০০০ বাঙালি হিন্দু ব্রহ্মপুত্র উপত্যকা ছেড়ে পশ্চিমবঙ্গে পালিয়ে যায়। অন্য ৯০,০০০ বরাক উপত্যকা ও উত্তর-পূর্বের অন্যত্র পালিয়ে যায়। গোপাল মেহরোত্রার নেতৃত্বে এক ব্যক্তির একটি তদন্ত কমিশন গঠন করা হয়। কমিশনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কামরূপ জেলার ২৫ গ্রামের ৪,০১৯টি কুঁড়েঘর এবং ৫৮টি বাড়ি ধ্বংস ও আক্রমণ করা হয়; সেই জেলা ছিল সহিংসতার সবচেয়ে আক্রান্ত এলাকা। নয়জন বাঙালি হিন্দুকে হত্যা করা হয় এবং একশতর বেশি আহত হয়। এই ঘটনার সূত্র ধরে ১৯৬১ সালের ১৯ মে ১১ জন প্রতিবাদীকে শিলচরে হত্যা করে প্রাদেশিক পুলিশ। আসামের বরাক উপত্যকার তৎকালীন অবিভক্ত কাছাড় জেলার সদর শহর শিলচরের রেল স্টেশনে পুলিশের গুলিতে জীবন আত্মাহুতি দেয়া সেই ১১ জন তরুণ তরুণী হলেন-

কানাইলাল নিয়োগী, চন্ডীচরণ সূত্রধর, হিতেশ বিশ্বাস, সত্যেন্দ্র দেব, কুমুদরঞ্জন দাস, সুনীল সরকার, তরণী দেবনাথ, শচীন্দ্র চন্দ্র পাল, বীরেন্দ্র সূত্রধর, সুকমল পুরকায়স্থ এবং কমলা ভট্টাচার্য।

পরবর্তীতে, ১৯৮৬ সালের জুলাই মাসে আসামের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বরাক উপত্যকার করিমগঞ্জ সফর করেন। এই কালপর্বে আসাম সরকার নতুন ভাবে বরাক উপত্যকার সকল স্কুলে অসমীয়া ভাষাশিক্ষা বাধ্যতামূলক করার নির্দেশ জারি করে। ২১ জুলাই মুখ্যমন্ত্রীর আগমনের দিন উক্ত নির্দেশ বাতিলের দাবিতে করিমগঞ্জে বিক্ষোভ মিছিল কর্মসূচী পালন করা হয়। পুলিশ ঐ মিছিলে গুলিবর্ষণ করলে নিহত হন জগন্ময় দেব ও দিব্যেন্দু দাশ। এই দু’জন নিয়ে নিহতের সংখ্যা গিয়ে পৌঁছায় ১৩ তে। এভাবে করিমগঞ্জে আরেকটি ভাষা দিবসের উন্মেষ ঘটে। বাংলা ভাষার অধিকার রক্ষায় বারবার আন্দোলন ও প্রাণ বিসর্জনের মধ্য দিয়ে বরাক উপত্যকা ভাষা আন্দোলনের পীঠভূমি হয়ে উঠেছে। শুধু বাংলা ভাষার জন্য নয়, মণিপুরি বিষ্ণুপ্রিয়া ভাষার অধিকার রক্ষা করতে গিয়ে এখানে মণিপুরি কন্যা সুদেষ্ণাকেও প্রাণ দিতে হয়েছে।

নিউজনেক্সটবিডিডটকম/এসকেএস


সর্বশেষ

আরও খবর

২৫ সেপ্টেম্বর ১৯৭৪, জাতিসংঘে বঙ্গবন্ধু

২৫ সেপ্টেম্বর ১৯৭৪, জাতিসংঘে বঙ্গবন্ধু


করোনা সংক্রমন ঠেকাতে ব্রিটিশ সরকারের নতুন আইন লঙ্ঘন করলে সর্বোচ্চ  ১০ হাজার পাউন্ড জরমিানা

করোনা সংক্রমন ঠেকাতে ব্রিটিশ সরকারের নতুন আইন লঙ্ঘন করলে সর্বোচ্চ ১০ হাজার পাউন্ড জরমিানা


ভাইরাসের সাথে বসবাস

ভাইরাসের সাথে বসবাস


মুজিববর্র্ষে লন্ডনে জয় বাংলা ব্যান্ডের রঙ্গিন ভালবাসা

মুজিববর্র্ষে লন্ডনে জয় বাংলা ব্যান্ডের রঙ্গিন ভালবাসা


অস্ট্রিয়ায় চালু হলো করোনাভাইরাস ট্রাফিক লাইট ব্যবস্থা

অস্ট্রিয়ায় চালু হলো করোনাভাইরাস ট্রাফিক লাইট ব্যবস্থা


কটন টপ ট্যামারিন, খোঁজা বানর!

কটন টপ ট্যামারিন, খোঁজা বানর!


প্রকৃতির স্থিতি আর আমাদের অস্থিরতা: কোভিড-১৯ পরবর্তী ভাবনা

প্রকৃতির স্থিতি আর আমাদের অস্থিরতা: কোভিড-১৯ পরবর্তী ভাবনা


রানীর ভাষণ: খুঁটিনাটি

রানীর ভাষণ: খুঁটিনাটি


মুজিব বর্ষঃ স্মৃতিচারন করলেন মুক্তিযোদ্ধাদের দুই সহচর

মুজিব বর্ষঃ স্মৃতিচারন করলেন মুক্তিযোদ্ধাদের দুই সহচর


মুজিব বর্ষঃ আওরঙ্গজেব’র বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারন

মুজিব বর্ষঃ আওরঙ্গজেব’র বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারন