Monday, October 10th, 2016
ভুটান ফুটবলের উত্থানের নেপথ্যে
October 10th, 2016 at 2:57 pm
ভুটান ফুটবলের উত্থানের নেপথ্যে

কবিরুল ইসলাম, ভুটান (থিম্পু) থেকে:

গত এক দশকে নিজেদের ফুটবলে দারুণ উন্নতি করেছে ভুটান। দক্ষিণ এশিয়ার ছোট এ দেশটির ফিফা র‌্যাংকিংয়ে অবস্থান ১৮৯। আর্থিক অনটনের কারণে আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা কম হয় তাদের। তাই র‌্যাংকিংয়ের অবস্থানটা নিচের দিকেই। তবে র‌্যাংকিং দিয়ে শান্তির দেশটির ফুটবলের উন্নতির বিচার করাটা মোটেও ভালো দেখাবে না। ভুটান ফুটবলের যে প্রভুত উন্নতি হয়েছে, সেটা গত কয়েক বছরের আন্তর্জাতিক ম্যাচগুলোর দিকে তাকালেই স্পষ্ট হয়ে যাবে।

img_20161010_102337একটা সময় ভুটানকে হেসে-খেলেই হারাতো বাংলাদেশ। কিন্তু বর্তমানে সেই ভুটানের সাথেই জিততে ঘাম ঝরাতে হয়। বজ্র ড্রাগনের দেশটির ফুটবলের এমন অভাবনীয় সাফল্যের পেছনে রয়েছে তাদের ফুটবলের প্রতি অঘাত প্রেম আর ভালোবাসা। নিজের দেশকে তারা যেমন ভালোবাসে, তেমনই ফুটবলের প্রতিও রয়েছে তাদের শ্রদ্ধা-ভক্তি। ভুটানে ক্রিকেটের প্রচলন নেই। তাই ধ্যান-জ্ঞান বলতে একমাত্র ফুটবল।

বাংলাদেশে কাড়ি কাড়ি অর্থ থাকলেও সঠিক পরিকল্পনার অভাবে এগোচ্ছে না বাঙালিদের প্রাণের খেলা ফুটবল। অথচ পাহাড় ঘেরা দেশটিতে ফুটবলের জন্য কোনো স্পন্সর নেই। একমাত্র ভরসা এএফসি ও ফিফা। এ দু’টি সংস্থার অনুদানের উপরই নির্ভর করতে হয় তাদের। সারা বছর লিগ চালানো থেকে শুরু করে জেলাভিত্তিক ফুটবলের সব খরচই বহন করতে চেয়ে থাকতে হয় ফিফা ও এএফসির দিকে। এমনকি একাডেমির কাজও চলে অনুদানের উপর।

ভুটানের ফুটবলের প্রভুত উন্নতির পেছনে কাজ করছে তাদের পরিকল্পনা। তারা তৃণমূলে কাজ ও কোচিং এডুকেশন চালিয়ে যাচ্ছে সমান তালে। ২০০৫ সালে ভূটানে কোনো এএফসি লাইসেন্সধারী কোচ ছিল না। এখন সেই দেশে এএফসি প্রো লাইসেন্সধারী একজন, এএফসি ‘এ’ লাইসেন্সধারী একজন, ‘বি’ লাইসেন্স ৮০ জন ও ‘সি’ লাইসেন্সধারী প্রায় ২০০ কোচ রয়েছেন। সাবেক ফুটবলার ও বর্তমানে ফেডারেশনের টেকনিক্যাল ডিরেক্টর চকিনিমা এখন দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম কোচিং ইন্সট্রাকটর। ২০০৫ সালে ভুটানে শুরু হয় একাডেমির কাজ। চাঞ্জিজি এলাকায় পাহাড়ঘেড়া মনোরম পরিবেশে অবস্থিত এই একাডেমি। গত এক দশকে এই একাডেমি থেকে কয়েক’শ ফুটবলার বেড়িয়েছে। বর্তমান জাতীয় ফুটবল দলের প্রায় ১৩জন একাডেমির প্লেয়ার। প্রতি ব্যাচে বালক-বালিকা উভয় বিভাগে প্রায় ৬০ জন ফুটবলার প্রশিক্ষণ নিয়ে থাকে। ভুটানে ব্যক্তিগত উদ্যেগে কোনো একাডেমি পরিচালনা করার অনুমতি নেই। একাডেমির ফুটবলারদের পড়াশোনার খরচও বহন করে থাকে ভুটান ফুটবল ফেডারেশন। সকাল-বিকাল দু’বেলা দুই ঘণ্টা করে প্র্যাকটিস হয়ে থাকে। একজন বিদেশি কোচের সাথে তিনজন লোকাল কোচ কাজ করে থাকেন একাডেমিতে। মহিলা দলের ক্ষেত্রেও আছে বিদেশি কোচ।

img_20161010_100022২০টি জেলার এ দেশটিতে প্রতি জেলায় ফেডারেশন থেকে একজন করে কোচ দেয়া হয়েছে। তাদের কাজই হচ্ছে তৃণমূল থেকে ফুটবলার খুঁজে বের করা। কোচদের নজরে কোন প্রতিভাবান ফুটবলার চোখে পড়লেই নিয়ে আসা হয় একাডেমিতে। ভুটান ফুটবল ফেডারেশনে ৩০ জনের মতো দেশি কোচ রয়েছে। স্থানীয় কোচদের বসে থাকার সময় নেই। কারণ সারা বছরই কোনো না কোনো প্রোগ্রাম থাকে ফুটবলের। আর একাডেমি চলে বছরে সাত মাস।

আসাম বর্ডারের গা-ঘেঁষা গ্রাম সান্দুয়া এলাকার ছেলে অজিত গত বছরই সুযোগ পেয়েছেন একাডেমিতে। রাইট ডিফেন্সে খেলা এ ফুটবলার একাডেমিতে সুযোগ পেয়েই দারুণ উচ্ছ্বসিত, ‘একাডেমিতে ভর্তি হওয়াটা আমার স্বপ্ন ছিলো। কারণ এতো টাকা খরচ করে ফুটবল প্রশিক্ষণ নেয়া আমার পক্ষে সম্ভব ছিলো না। একাদশ শ্রেণিতে পড়ুয়া এ ফুটবলারের স্বপ্ন এখন অনেক বড় মাপের ফটুবলার হওয়া। তিনি বলেন, ‘একাডেমিতে এসে আমার অনেক উন্নতি হয়েছে। দেশি-বিদেশি কোচদের তত্বাবধায়নে চলছে আমাদের প্রশিক্ষণ। কিভাবে বল কন্ট্রোল করতে হয়, কিভাবে বল পাস করতে হয় সেগুলো শিখেছি। এখানে সুযোগ না পেলে হয়তো আমার ফুটবল ক্যারিয়ার আর এগুতো না।’

ভুটান ফুটবল একাডেমিতে রয়েছে জিমের সুবিধা। ছাত্রদের স্কুল ফিও প্রদান করা হয়। তাই পড়াশোনা নিয়ে আলাদা করে চিন্তা করতে হয় না এখানে আসা ফুটবলারদের পরিবারকে। ফুটবলের সাথে সাথে সমান তালেই চলে পড়াশোনা।

ভুটান ফুটবল ফেডারেশনের টেকনিক্যাল ডিরেক্টর চকিনিমার স্ত্রী চাকরী করেন শ্রম মন্ত্রনালয়ে। তারপরও কোনো দম্ভ নেই চকিনিমার মনে। খুবই সাধারণ একজন মানুষ। সারাক্ষণই ফুটবল নিয়ে পড়ে থাকেন। এ নিয়ে স্ত্রী কিংবা সন্তানদের কোন আক্ষেপ নেই। নিজের কর্মদক্ষতার কারনেই ভারতের বেশ কয়েকটি ক্লাব দল, মালদ্বীপ এমনকি বাংলাদেশের একটি ক্লাব দলের টেকনিক্যাল ডিরেক্টর হওয়ার লোভনীয় প্রস্তাব পেয়েছিলেন। কিন্তু বিনয়ের সাথেই তিনি সেসব প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছেন দেশপ্রেম থেকে। নিজের দেশের জন্যই কাজ করতে চান। এগিয়ে নিতে চান ভুটানকে। বাংলাদেশের কোচদের নিয়ে কিছুটা আক্ষেপ প্রকাশ করলেন চকিনিমা, ‘আমাদের ‘এ’ লাইসেন্সধারী কোচ মাত্র একজন। অথচ বাংলাদেশে সে সংখ্যাটা বিশের কাছাকছি। মারুফ, টিটু, নিপু, জিলানী এরা সবাই বেশ উঁচু মানের কোচ। এরপরেও বাংলাদেশ ফুটবলে কাঙ্খিত মাত্রায় পৌছাতে পারছে না পরিকল্পনার অভাবে। আমরা সব সময়ই ব্যস্ত থাকি আমাদের দেশের ফুটবল নিয়ে। তৃনমূলের ফুটবলই আমাদের ভাবনার অধিকাংশ জায়গাটা দখল করে আছে। আর সবচেয়ে বড় কথা আমাদের ফুটবলে কোনো পলিটিক্স নেই। যার কারণে সব কাজই  সমানতালে এগিয়ে যাচ্ছে।’

ফুটবলের উন্নতি করতে হলে তৃণমূলে যেতে হবে বলেও জানালেন তিনি, ‘আপনি আপনার দেশের ফুটবলকে এগিয়ে নিতে চাইলে অবশ্যই তৃনমূলে নজর দিতে হবে। এর বিকল্প কিছুই নেই। আমাদের কোনো স্পন্সর নেই, তারপরও আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। সরকারের কাছ থেকে যা পাই তা যৎসামান্য। নির্ভর করতে হয় এএফসি ও ফিফার অনুদানের উপর।’

প্রতিবেদন: কবিরুল ইসলাম, সম্পাদনা: মাহতাব শফি

 


সর্বশেষ

আরও খবর

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ওয়ানডের জন্য ২৩ সদস্যের দল ঘোষণা

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ওয়ানডের জন্য ২৩ সদস্যের দল ঘোষণা


করোনায় আক্রান্ত শচীন

করোনায় আক্রান্ত শচীন


৩ কোটি ২০ লাখ রুপিতে কেকেআরে সাকিব

৩ কোটি ২০ লাখ রুপিতে কেকেআরে সাকিব


ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে বাংলাদেশের টেস্ট দল ঘোষণা

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে বাংলাদেশের টেস্ট দল ঘোষণা


জয়ে শুরু বাংলাদেশের ক্রিকেট, প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন

জয়ে শুরু বাংলাদেশের ক্রিকেট, প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন


বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজঃ ওয়ানডের দল ঘোষণা বিসিবির

বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজঃ ওয়ানডের দল ঘোষণা বিসিবির


আইসিসির দশক সেরা ওয়ানডে দলে সাকিব

আইসিসির দশক সেরা ওয়ানডে দলে সাকিব


ব্র্যাডম্যানের টেস্ট ক্যাপ ৩ কোটি টাকায় বিক্রি

ব্র্যাডম্যানের টেস্ট ক্যাপ ৩ কোটি টাকায় বিক্রি


যুক্তরাষ্ট্র পৌঁছানোর আগেই শ্বশুরকে হারালেন সাকিব

যুক্তরাষ্ট্র পৌঁছানোর আগেই শ্বশুরকে হারালেন সাকিব


অবশেষে পাঁচ বছর পর নেপালকে হারালো বাংলাদেশ

অবশেষে পাঁচ বছর পর নেপালকে হারালো বাংলাদেশ