Sunday, September 25th, 2022
ভোটার উপস্থিতি কম ও বিক্ষিপ্ত ঘটনায় খুলনায় ভোটগ্রহণ সম্পন্ন
May 15th, 2018 at 6:09 pm
ভোটার উপস্থিতি কম ও বিক্ষিপ্ত ঘটনায় খুলনায় ভোটগ্রহণ সম্পন্ন

খুলনা: কেন্দ্র দখল করে জাল ভোট, ব্যালটে জোর করে সিল মারা এবং এজেন্টদের মারধর ও বের করে দেয়াসহ বিক্ষিপ্ত ঘটনায় শেষ হয়েছে খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ভোটগ্রহণ। এখন চলছে গণনা। মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে একটানা বিকাল ৪টা পর্যন্ত এই সিটিতে প্রথমবারের মতো দলীয় প্রতীকে ভোটগ্রহণ করা হয়।

নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি কিছুটা কম হয়েছে বলে মনে করছেন নির্বাচন কর্মকর্তারা। দিনভর ভোটে বেশ কয়েকটি কেন্দ্রে নানা অনিয়ম, অভিযোগ, ব্যালট পেপারে জোরপূর্বক সিল মারার ঘটনা ঘটেছে। আবার ভালো ভোটও হয়েছে অনেক কেন্দ্রে। খুলনা ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থী বলছেন, ভোট ভালো হয়েছে। অন্যদিকে বিএনপির প্রার্থী বলছেন, অন্তত ৪০টি কেন্দ্রে অনিয়মের ঘটনা ঘটেছে।

অনিয়ম ও বুথ দখল করে ভোট দেওয়ার কারণে খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দুটি ভোটকেন্দ্রের ভোট গ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে। এগুলো হলো ইকবালনগর সরকারি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্র (পুরুষ) ও ৩১ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর কার্যালয় কেন্দ্র।

সকাল আটটা ৫০ মিনিটের দিকে নগরীর রহিমা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দেন বিএনপির মেয়র প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু। তিনি এ সময় সাংবাদিকদের কাছে ক্ষমতাসীন দলের বিরুদ্ধে কেন্দ্র থেকে তার এজেন্টদের মারধর ও বের করে দেয়ার অভিযোগ আনেন।

আওয়ামী লীগের প্রার্থী এ অভিযোগ অস্বীকার করলেও বাস্তবে অনেক কেন্দ্রেই বিএনপির কাউকে পাওয়া যায়নি।

এদিকে, ঢাকায় সংবাদ সম্মেলন করে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী দাবি করেন, খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোটের শুরুতেই ৪০টি কেন্দ্র দখল করে ধানের শীষ প্রার্থীর এজেন্টদের বের করে দেয়া হয়।

একইভাবে সংবাদ সম্মেলন করে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক দাবি করেন, জনগণের বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখে এবং নিশ্চিত ভরাডুবি জেনে বিএনপি তাদের ধারাবাহিক মিথ্যাচারের অংশ হিসেবে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টা চালিয়েছে। আদৌতে খুলনায় সুষ্ঠু এবং শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হয়েছে।

তবে খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে বিএনপির করা অভিযোগ সুনির্দিষ্ট নয় এবং দু’একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া সুষ্ঠুভাবে ভোট হয়েছে বলে দাবি করেছেন নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহাদাত হোসেন চৌধুরী।

খুলনার নির্বাচনে মেয়র পদে এবার পাঁচজন প্রার্থী। আওয়ামী লীগের তালুকদার আবদুল খালেক নৌকা এবং বিএনপির নজরুল ইসলাম মঞ্জু ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করছেন। এ ছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মুজ্জাম্মিল হক হাতপাখা, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) মিজানুর রহমান বাবু (কাস্তে) এবং জাতীয় পার্টির এস এম শফিকুর রহমান (লাঙ্গল) মেয়র পদে লড়বেন।

খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ৩১টি সাধারণ ওয়ার্ডে কাউন্সিলর প্রার্থী ১৪৮ জন এবং ১০টি সংরক্ষিত ওয়ার্ডে ৩৫ জন নারী কাউন্সিলর পদে লড়ছেন। এবারের সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোটার ৪ লাখ ৯৩ হাজার ৯৩ জন। ভোট হবে ২৮৯টি ভোটকেন্দ্রে। দুটি ওয়ার্ডের দুটি ভোটকেন্দ্রে ভোট হবে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম)। সেখানে মেয়র প্রার্থীদের নাম ও প্রতীক এবং সাধারণ কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর প্রার্থীদের প্রতীকে বোতাম চেপে ইভিএমে ভোট দেবেন ভোটাররা।

নির্বাচন কমিশন বলছে, খুলনায় মোট ২৮৯টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ২৩৪টিকেই ঝুঁকিপূর্ণ (কমিশনের ভাষায় গুরুত্বপূর্ণ)। আর ৫৫টি সাধারণ বা ঝুঁকিমুক্ত কেন্দ্র আছে।

খুলনায় ২০১৩ সালে সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপি-সমর্থিত প্রার্থী মনিরুজ্জামান মনি বিজয়ী হন। ওই নির্বাচনে তালুকদার আবদুল খালেক পরাজিত হন। ২০০৮ সালের নির্বাচনে খালেক মেয়র নির্বাচিত হন।

গ্রন্থনা ও সম্পাদনা: এম কে রায়হান


সর্বশেষ

আরও খবর

বাংলাদেশের কষ্টার্জিত জয়


বোদায় নৌকাডুবি নারী-শিশুসহ ২৪ জনের মরদেহ উদ্ধার


কলকাতায় এশিয়ান যুব নেতৃত্ব সম্মাননায় ভূষিত আলতামিশ নাবিল

কলকাতায় এশিয়ান যুব নেতৃত্ব সম্মাননায় ভূষিত আলতামিশ নাবিল


জেসিআই ঢাকা ওয়েস্টের তৃতীয় জিএমএম অনুষ্ঠিত

জেসিআই ঢাকা ওয়েস্টের তৃতীয় জিএমএম অনুষ্ঠিত


সংসদে ৬,৭৮,০৬৪ কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব

সংসদে ৬,৭৮,০৬৪ কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব


আ’লীগ নেতা বিএম ডিপোর একক মালিক নন

আ’লীগ নেতা বিএম ডিপোর একক মালিক নন


চীনের সাথে বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে চায় বাংলাদেশ

চীনের সাথে বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে চায় বাংলাদেশ


ভোজ্যতেল ও খাদ্য নিয়ে যা ভাবছে সরকার

ভোজ্যতেল ও খাদ্য নিয়ে যা ভাবছে সরকার


তৎপর মন্ত্রীগণ, সীতাকুণ্ডে থামেনি দহন

তৎপর মন্ত্রীগণ, সীতাকুণ্ডে থামেনি দহন


অত আগুন, এত মৃত্যু, দায় কার?

অত আগুন, এত মৃত্যু, দায় কার?