Monday, July 4th, 2022
মজুদ ইলিশে বাজার সয়লাব, মরিচ ও সবজিতে স্বস্তি
November 4th, 2016 at 7:38 pm
মজুদ ইলিশে বাজার সয়লাব, মরিচ ও সবজিতে স্বস্তি

ঢাকা: জাতীয় মাছ ইলিশ বেঁচাকেনায় রমরমা হয়ে উঠেছে রাজধানীর কাঁচাবাজার। প্রতিটি দোকানেই শোভা পাচ্ছে ভোজন রসিক বাঙালির প্রিয় খাদ্য উপাদান ইলিশ। দীর্ঘদিন ইলিশ ধরার সরকারি নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাজার সয়লাব হয়েছে। ইলিশ মাছের পাশাপাশি বাজারে শীতের নতুন সবজির সরবরাহও বেড়েছে। রকম ভেদে এসব সবজির দাম কমেছে ৫ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত। সবচেয়ে বেশি কমেছে কাঁচা মরিচের দাম। কেজিতে কমেছে ৪০ টাকা পর্যন্ত।

বাংলাদেশ মৎস্য অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, সরকার দেশের জাতীয় সম্পদ রক্ষায় প্রজনন মৌসুমে ইলিশ ধরার ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করে। নিষেধাজ্ঞা অনুযায়ী, গত অক্টোবরের ১২ তারিখ থেকে ২২ দিন ইলিশ ধরা, পরিবহন ও মজুদকরণসহ সব ধরণের প্রক্রিয়াজাতকরণ বন্ধ ছিল। ফলে ওই সময়ে রাজধানীর মাছবাজারে অন্য মাছ চোখে পড়লেও ইলিশের দেখা মেলেনি। গত বৃহস্পতিবার নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার পরপরই ইলিশে ভরে গেছে বাজার।

জানা গেছে, এগুলোর অধিকাংশই মজুদ ইলিশ। আড়ৎদার ও ব্যবসায়ীরা এতদিন সরকারি নিষেধাজ্ঞা থাকার কারণে মজুদ থাকা এ ইলিশগুলো বিক্রি করেনি। অপেক্ষাকৃত বেশি দামে বিক্রির সুযোগ নিতে তারা এ মাছগুলো আটকে রেখেছিল। এখন নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ায় তাদের বেশি দামে ইলিশ বিক্রির সুযোগ আর থাকছে না। তাই এখন সব মাছ কম লাভেই ছেড়ে দিচ্ছেন। তাই ভরপুর ইলিশের বাজারও ক্রেতাদের ক্রয় সামর্থের ভিতরেই রয়েছে।

শুক্রবার রাজধানীর কারওয়ান বাজার, মগবাজার, মালিবাগ ও শান্তিনগর বাজার ঘুরে দেখা যায়, বাজারের প্রতিটি মাছের দোকানে সাজিয়ে রাখা হয়েছে ইলিশের ঝুঁড়ি। ব্যবসায়ীরা এর আকার ও ওজন অনুযায়ী দামও হাঁকিয়েছেন। মাঝারি আকারে ইলিশ জোড়া ৬০০ টাকা থেকে ১০০০ টাকা পর্যন্ত। তবে বাজারে অপেক্ষাকৃত ছোট সাইজের ইলিশ ২টা থেকে ৩ টায় এক কেজি হবে। এমন ইলিশের দাম জোড়া প্রতি ৮০০ থেকে ১০০০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।

বাজারে মাছ কিনতে আসা আরিফুল ইসলামের সঙ্গে কথা হয়। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি রত এই ক্রেতা বলেন, আমি মূলত বাজারে মাছ কিনতে আসি নাই। এসেছি কিছু সবজি ও মাংস কেনার উদ্দেশ্যে। কিন্তু এসে দেখি বাজারে প্রচুর ইলিশ উঠেছে। তাই কৌতুহলী দামও জিজ্ঞেস করলাম। দেখলাম দামও অনেকটা নাগালের মধ্যে। কাছে বাড়তি টাকাও আছে। তাই দুইটা ছোট সাইজের কিনলাম। দাম নিছে ৬০০ টাকা।

তিনি বলেন, বাজারে শীতের সবজির সরবরাহ বাড়ায় অনেকটা কম দামে পাচ্ছি। তাই সবজিতে বেঁচে যাওয়া টাকার সঙ্গে কিছূ যোগ করেই ইলিশ কেনার আগ্রহ করেছি।

এদিকে বাজারে ইলিশের এমন রমরমা পরিস্থিতিতে ব্যবসায়ীরা যা বলছেন তা কখনও ভালো খবর নয়। নাম  প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন মাছ ব্যবসায়ী থেকে জানা যায়, ঢাকার বাজারে যে ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে তার অধিকাংশই ২২ দিন আগের মাছ। তারা এ মাছগুলো রেখে দিয়েছিল নিষেধাজ্ঞার মধ্যে কৌশলে বিক্রির জন্য। কিন্তু সেটা করতে না পারায় নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার পর এখন নতুন মাছ বলে বিক্রি করছে। আগে থেকে ধরে রাখা এসব মাছের স্বাদ কমলেও তাজা দেখা যায়।

ব্যবসায়ী সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীতে টাটকা ইলিশ আসতে এখনো বেশ কিছুদিন সময় লাগবে। কারণ বৃহস্পতিবার থেকে ইলিশ ধরতে নদীতে নেমেছে জেলেরা। ওই ইলিশ বাজারে আসতে এখনো ২ থেকে ৩ দিন সময় লাগবে। এই সময়ের  মধ্যেই বাজারে মজুদকৃত ইলিশ বিক্রি করতে চায় ব্যবসায়ীরা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যবসায়ী বলেন, ইলিশ মাছ মজুদ করে রাখা কোনো কঠিন কাজ না। স্বাভাবিকভাবে বরফ দিয়ে ১০ থেকে ১৫ দিন পর্যন্ত মাছ রাখ যায়। তাছাড়া একটু বেশি বরফ দিয়ে বড় কম্পার্টমেন্টের মধ্যে যেখানে বাতাস ঢুকতে পারে না; সেখানে কমপক্ষে ১ মাস পর্যন্ত মাছ মজুদ রাখা যায়। তাতে মাছের কোনো ক্ষতি হয় না।

এদিকে বাজারে ইলিশের পাশাপাশি স্থিতিশীল রয়েছে অন্যান্য মাছের দাম। কেজিপ্রতি তেলাপিয়া ১৮০ থেকে ২০০ টাকা, রুই ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা এবং কই (৩০টি) ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকা। মুরগির মধ্যে কেজি প্রতি ব্রয়লার (ছোট) ১৩০ টাকা, বড় ১২৫ টাকা। খাসি ৬৫০ থেকে ৭০০ টাকা এবং গরুর মাংস ৪৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে ইলিশে ভরপুর এ বাজারে এসেছে শীতের সবজিও। নতুন সবজির আগমনে সপ্তাহের ব্যবধানে রাজধানীর খুচরা বাজারগুলোতে স্বস্তি মিলেছে সবজির দামে। প্রতিকেজি সবজিতে দাম কমেছে ৫ থেকে ১০ টাকা। সবচেয়ে বেশি কেজি প্রতি ৪০ থেকে ৫০ টাকা কমেছে কাঁচা মরিচের দাম। গত সপ্তাহে ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা করে কাঁচা মরিচ বিক্রি হলেও শুক্রবার বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১২০ টাকার মধ্যে।

রাজধানীর কয়েকটি সবজির বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বেগুন প্রতিকেজি ৭০ থেকে ৮০ টাকা, টমেটো ৭০ টাকা, লাউ ৫০ টাকা, পটল ৪০ টাকা, বরবটি ৮০ টাকা, সিম ৮০ টাকা, গাজর ৫০ টাকা, কাঁচাকলা ৩৫ টাকা, ফুলকপি-বাঁধাকপি ৩৫ টাকা, পুরান আলু ২৮ থেকে ৩২ টাকা, নতুন আলু ১০০ টাকা, মূলা ৪০ টাকা, চিচিঙ্গা ৫০ টাকা। এছাড়া লেবু হালিপ্রতি ৩৫ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। শাঁকের মধ্যে আঁটিপ্রতি লালশাক ১৫ টাকা, পুঁইশাক ৩০ টাকা, লাউশাক ৩০ টাকা এবং মূলাশাক ১৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মসলা জাতীয় পণ্যের মধ্যে পেঁয়াজ দেশি ৩৫ টাকা, আমদানি করা পেঁয়াজ ২৫ থেকে ২৮ টাকা, রসুন দেশি ১৫০ টাকা, আমদানি ১৯০ টাকা। এছাড়া দেশি আদা ৯০ টাকা এবং চায়না আদা ৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া বাজারে চাল, ডাল ও তেলের দামে গত এক সপ্তাহে উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তন নেই। চাল আগের বাড়তি দামেই বিক্রি হচ্ছে।

প্রতিবেদক: রিজাউল করিম, সম্পাদনা: জাহিদ

 


সর্বশেষ

আরও খবর

সংসদে ৬,৭৮,০৬৪ কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব

সংসদে ৬,৭৮,০৬৪ কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব


আ’লীগ নেতা বিএম ডিপোর একক মালিক নন

আ’লীগ নেতা বিএম ডিপোর একক মালিক নন


চীনের সাথে বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে চায় বাংলাদেশ

চীনের সাথে বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে চায় বাংলাদেশ


ভোজ্যতেল ও খাদ্য নিয়ে যা ভাবছে সরকার

ভোজ্যতেল ও খাদ্য নিয়ে যা ভাবছে সরকার


তৎপর মন্ত্রীগণ, সীতাকুণ্ডে থামেনি দহন

তৎপর মন্ত্রীগণ, সীতাকুণ্ডে থামেনি দহন


অত আগুন, এত মৃত্যু, দায় কার?

অত আগুন, এত মৃত্যু, দায় কার?


যে গল্প এক অদম্য যোদ্ধার

যে গল্প এক অদম্য যোদ্ধার


আফগান ও ভারতীয় অনুপ্রবেশ: মে মাসে আটক ১০

আফগান ও ভারতীয় অনুপ্রবেশ: মে মাসে আটক ১০


সীমান্ত কাঁটাতারে বিদ্যুৎ: আলোচনায় বিজিবি-বিজিপি

সীমান্ত কাঁটাতারে বিদ্যুৎ: আলোচনায় বিজিবি-বিজিপি


চালের বাজার নিয়ন্ত্রণে কঠোর সরকার

চালের বাজার নিয়ন্ত্রণে কঠোর সরকার