Tuesday, July 26th, 2016
‘মঞ্জুরুল আলম বেগ’র প্রয়াণ দিবসে
July 26th, 2016 at 8:40 pm
‘মঞ্জুরুল আলম বেগ’র প্রয়াণ দিবসে

ডেস্ক: আজ ২৬ জুলাই, বাংলাদেশের আলোকচিত্র আন্দোলনের পথিকৃৎ ‘মঞ্জুরুল আলম বেগ’ এর প্রয়াণ দিবস। বাংলাদেশের আনাচে-কানাচে আলোকচিত্র আন্দোলন কে ছড়িয়ে দিতে ঘুরে বেড়িয়েছেন এই মানুষটি। ছবির এই কারিগরের কাছে বাংলার আলোকচিত্র জগত চিরকাল ঋণী হয়ে থাকবে। আজ তার স্মৃতি কে স্মরণ করছি শ্রদ্ধাভরে।

জন্ম ও শিক্ষাজীবন 

১৯৩১ সালে রাজশাহীতে জন্ম নেন এই কিংবদন্তী। তার পিতা প্রফেসর হোসামউদ্দিন বেগ। মাতার নাম যাহেদা চৌধুরী। ১৯৪৭ সালে ম্যাট্রিক এবং ১৯৪৯ সালে এইচ এস সি পাশকরেন ঢাকা বোর্ড থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা করেন তিনি।

পাকিস্থান এয়ার ফোর্স টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টারে আলোকচিত্র বিষয়ে ১৯৪৯ সালে এবং ১৯৫৭ সালে ইউনেস্কোর অধীনে মাইক্রোফিল্ম বিষয়ে করাচীতে প্রশিক্ষন লাভ করেন তিনি। এরপর  ইংল্যান্ডে হ্যাটফিল্ড কলেজ অফ টেকনোলজির ন্যাশনাল রিপোগ্রাফিক সেন্টার ফর ডকুমেন্টেশন-এ প্রশিক্ষন লাভ করেন তিনি। রঙ্গীন ছবির ওপরে ট্রেনিং লাভ করেন কোডাক ফটোগ্রাফি স্কুল থেকে।

১৯৭৬ সালে তিনি ইউনেস্কোর বৃত্তি লাভ করে বাংলাদেশ সরকার থেকে থাইল্যান্ডে ফেডারেশন অফ ইন্টারন্যাশনাল ডকুমেন্টেশন এর ৪র্থ কংগ্রেসে যোগ দেন। ১৯৮০-৮১ সালে ভারত সরকার এবং ইউনেস্কোর যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠিত ‘TRAINING COURSE FOR INFORMATION CENTRE MANAGERS’  প্রশিক্ষনে নিউদিল্লীতে অংশগ্রহন করেন তিনি।

পেশা  

১৯৪৯-৫৫ সাল পর্যন্ত তিনি ফটোগ্রাফি বিষয়ে পাকিস্তান এয়ারফোর্সে চাকুরিরত ছিলেন। সেখানে স্থির  মুভি এবং এরিয়াল ফটোগ্রাফি বিষয়ে এয়ার ফোর্সের করাচি, লাহোর,  পেশোয়ার, কোয়েটা ইত্যাদি বিভিন্ন স্টেশনে কাজ করেন তিনি।  ঢাকা এবং ময়মনসিংহে ইউনাইটেড স্টেটস ইনফরমেশন সারভিস (USIS) অফিসে মোশন পিকচার্স সেকশনে চাকুরি করেন। ১৯৫৭-৬০ সাল পর্যন্ত চাকুরি করেন করাচিতে CSIR এর অধীনে প্যান্সডকে। ১৯৬৩ সালে প্যান্সডকের শাখা অফিস খোলা হয়  ঢাকার সায়েন্স ল্যাব এ।  তখন সিনিয়ার রিপোগ্রাফিক অফিসার পদে যোগ দেন এবং ১৯৮৮ সালে তিনি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রনালয়ের অধীনে ব্যান্সডক থেকে অবসর গ্রহণ নেন।

শিক্ষকতা  

১৯৬০ সাল থেকে ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত বেগ আর্ট ইন্সটিটিউট অফ ফটোগ্রাফিতে তিনি ফটোগ্রাফি বিষয়ে ৩৮ বছর শিক্ষকতা করেছেন। তিনি টিচার্স ট্রেনিং কলেজের অডিও ভিজুয়াল সেন্টারে প্রশিক্ষক ছিলেন দীর্ঘদিন। ১৯৭৫-১৯৭৭ সালে তিনি খন্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে বুয়েটের স্থাপত্য বিভাগে ছিলেন।

উপদেষ্টা ও বিচারক 

বারডেমে ফটোগ্রাফি বিষয়ের উপদেষ্ঠা হিসেবে তিন বছর কাজ করেছেন তিনি। বাংলা একাডেমি, জাতীয় প্রেস ইন্সটিটিউট, এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে রিসোর্স পারসোনাল হিসেবেও কাজ করেছেন দীর্ঘ সময়। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীতে ফটোগ্রাফি উপদেষ্টা প্যানেলের সভাপতি ছিলেন বেশ কয়েক বছর। বিভিন্নসময় জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নানা ধরেনের আলোকচিত্র প্রতিযোগীতায় বিচারকের দ্বায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।

শিল্পকলা, ইউনেস্কো, ইউনিসেফ, পর্যটন এবং বিভিন্ন সোসাইটি আয়োজিত জাতীয় প্রতিযোগীতাসমূহতে তিনি প্রধাণ বিচারক হিসেবেও ছিলেন। সার্কভুক্ত দেশ সমূহের মধ্যে আয়োজিত আলোকচিত্র প্রদর্শনীতে তিনি বিচারকের দ্বায়িত্ব পালন করেছেন। তারসাথে বিচারকের ভূমিকা পালন করেছেন শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন, শিল্পী কামরুল হাসান, শিল্পী মুস্তফা মনোয়ার, চিত্র পরিচালক আলমগীর কবিরসহ অনেক জ্ঞানী-গুণী মানুষ।

প্রকাশনাসমূহ  

তার ফটোগ্রাফি বিষয়ে প্রথম লেখা প্রকাশিত হয় করাচীর ‘দিগন্ত’ পত্রিকায়। ‘আলোকচিত্রে আরবের দান’ ছাপা হয় দৈনিক ইত্তেফাকে ৭০ দশকে। কলকাতা থেকে ‘ফটোগ্রাফি চর্চা’ এবং ঢাকা থেকে প্রকাশিত মাসিক ‘ফটোগ্রাফি’ পত্রিকায় প্রায় প্রতিটি সংখ্যায় তার লেখা নিয়মিত প্রকাশিত হয়েছে। ‘REPORT ON REPROGRAPHY’, ‘আধুনিক ফটোগ্রাফি’, ‘ফটোগ্রাফি ফরমূলা’, ‘ফটোগ্রাফি ডাইজেস্ট’, ‘রঙ্গিন প্রিন্ট করা’, ‘মাইক্রোফিল্ম কি ও কেন?’, ‘RURAL BANGLADESH’, ‘আলোকচিত্র সাদাকালো ও রঙ্গিন’, ‘ডার্করূম সলিউশন’ তার লেখা এই বই গুলো বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত হয়েছে।

সাংগঠনিক কাজ 

বেগ আর্ট ইন্সটিটিউট অফ ফটোগ্রাফি এবং বাংলাদেশ ফটোগ্রাফিক সোসাইটি প্রতিষ্ঠাসহ ছাত্রদের উদবুদ্ধ করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ফটোগ্রাফিক সোসাইটি এবং ক্লাব গঠনে কার্যকর ভূমিকা রাখেন তিনি। যার কারণে চট্টগ্রাম ফটোগ্রাফিক সোসাইটি, ঢাকা সিনেসিক ক্লাব, ব্রাহ্মনবাড়ীয়া ফটোগ্রাফিক সোসাইটি, রাজশাহী ফটোগ্রাফিক সোসাইটি, নারায়নগঞ্জ ফটোগ্রাফিক সোসাইটি এবং দিনাজপুর ফটোগ্রাফিক সোসাইটি গঠিত হয় । ঐ সকল ক্লাব গুলোকে এক সাথে কাজ করাবার জন্য আলোকচিত্রাচার্য মঞ্জুর আলম বেগ বাংলাদেশ ফটোগ্রাফিক সোসাইটিকে ফেডারেশনে রূপ দেন। যার জন্য বিপিএস আন্তর্জাতিক ফটোগ্রাফিক ফেডারেশনের (FIAP) সদস্যপদ লাভ করে এবং নিজেদের অবস্থান আরো নান্দনিক ভাবে জানান দেয়।

শিল্পের সম্মাননা 

১৯৮২ সালে ভারতের প্রথম আন্তর্জাতিক ফটোগ্রাফি সন্মেলন হয় কলকাতায়। যেখানে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে এম এ বেগ সহ মোট এগারোজনকে ফটোগ্রাফি বিষয়ক শ্রেষ্ঠ ফেলোশিপ (Hon.FPAD) সন্মানে ভূষিত করা হয়। এ সম্মান দলিল হস্তান্তর করেছিলেন নির্মাতা সত্যজিৎ রায়।

১৯৮৩ সালে বাংলাদেশ ফটোগ্রাফিক সোসাইটি তাকে  Hon. Fellowship (Hon.FBPS) উপাধিতে ভূষিত করে। ১৯৮৩ সালে ওয়ার্ল্ডভিউ ইন্টারন্যাশনাল ফাউন্ডেশন নামের একটি জাতিসংঘ অনুমোদিত আন্তর্জাতিক সংগঠন জনাব বেগকে আজীবন সদস্যপদ প্রদান করে শ্রীলঙ্কায় অবস্থিত তাদের কেন্দ্রীয় দফতর থেকে। ১৯৮৬ তে পান সিনেসিক পদক।

১৯৮৭ সালে The International Federation of Photographic Art (FIAP) জার্মানিতে অনুষ্ঠিত তাদের ১৯তম কংগ্রেসে জনাব বেগকে সন্মানে ভূষিত করে। ESFIAP (FIAP Excellence for Services Rendered) নিউ দিল্লীর ইন্ডিয়া-ইন্টারন্যাশনাল ফটোগ্রাফি কাউন্সিল থেকে তাকে ASIIPC সন্মানে ভূষিত করা হয়।চলচ্চিত্র নির্মাতা মৃণাল সেন ১৯৯৭ সালে কলকাতা বই মেলাতে দুই বাংলাতে ফটোগ্রাফি উন্নয়ণে বিশেষ অবদান রাখার জন্য ফটোগ্রাফি চর্চা পদক প্রদান করেন তাকে। ইন্ডিয়া-ইন্টারন্যাশনাল ফটোগ্রাফি কাউন্সিল বিশ্ব আলোকচিত্র দিবসে fsips সম্মান পান ১৯৪৭ সালে। বাংলাদেশ ফটোগ্রাফিক সোসাইটি ১৯৯৮ সালে তাকে আলোকচিত্রের সর্বোচ্চ সম্মান ‘আলোকচিত্রাচার্য’ উপাধিতে ভূষিত করে।

নিউজনেক্সটবিডি ডটকম/এসএনডি/টিএস


সর্বশেষ

আরও খবর

প্রয়াণের ২১ বছর…

প্রয়াণের ২১ বছর…


বীর উত্তম সি আর দত্ত আর নেই, রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর শোক

বীর উত্তম সি আর দত্ত আর নেই, রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর শোক


সংগীতের ভিনসেন্ট নার্গিস পারভীন

সংগীতের ভিনসেন্ট নার্গিস পারভীন


সিরাজগঞ্জে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে কামাল লোহানীকে

সিরাজগঞ্জে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে কামাল লোহানীকে


জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান আর নেই

জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান আর নেই


ওয়াজেদ মিয়ার ১১তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

ওয়াজেদ মিয়ার ১১তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ


একুশে পদকপ্রাপ্তদের হাতে পুরষ্কার তুলে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী

একুশে পদকপ্রাপ্তদের হাতে পুরষ্কার তুলে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী


প্রধানমন্ত্রীর হাতে রান্না করা খাবার সাকিবের বাসায়

প্রধানমন্ত্রীর হাতে রান্না করা খাবার সাকিবের বাসায়


জাতীয় কবির মৃত্যুবার্ষিকী আজ

জাতীয় কবির মৃত্যুবার্ষিকী আজ


জাপানে হেইসেই যুগের অবসান হচ্ছে আজ

জাপানে হেইসেই যুগের অবসান হচ্ছে আজ