Tuesday, March 13th, 2018
মধু-ফাঁদের খোয়ারি
March 13th, 2018 at 7:10 pm
মধু-ফাঁদের খোয়ারি

মাসকাওয়াথ আহসান: ফুল বিষয়ক মন্ত্রী লক্ষ্য করেন নগরে আর ফুল ফোটে না। নগরীর সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য কত বাগান বিলাস প্রকল্প অনুমোদিত হয়েছে; সে প্রকল্পে জড়িত লোকেদের পশ্চিমের দেশে বেগম পাড়ায় বাগান বাড়ি হয়েছে; কারো কারো ঠোঁটে ফুল ফুটেছে; মুখমণ্ডলে ফুলের পরাগ মাখা; কেউ কেউ সন্ধ্যে হলেই ফুল খেলে, ফুলের বুকে ঘুমিয়ে পড়ে ফুলের মধু খেয়ে। কিন্তু নগরীতে আর কোন ফুল ফোটে না।

ফুল বিষয়ক মন্ত্রী ডেকে পাঠান নগরীর সৌন্দর্য বর্ধকদের। জিজ্ঞেস করেন, কী ব্যাপার ফুল ফুটছে না কেনো! বসন্ত এসে গেলো তবু ফুলের দেখা নেই!

সৌন্দর্য সচিব বলেন, মাননীয় ফুলমন্ত্রী, কেন ফুটছে না এর কারণ উদঘাটন করতে ছয় সদস্যের একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিশন গঠন করা প্রয়োজন। অবসরপ্রাপ্ত কোন বিচারপতিকে প্রধান করে তদন্ত কমিশনটি গঠন করা যায়।

–করুন; যা করার দ্রুত করুন; বসন্ত যে যায় যায়। এই বসন্তে আমি যে একটি ফুলেরও দেখা পেলাম না।

ফুল মন্ত্রী এই বসন্তে ফুল দেখেননি এ খবর চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে। সত্যিই তো এ নগরীর কোথাও ফুলের দেখা নেই। ফুল গাছ আছে; তাতে পানি দেয়া হয়, সার দেয়া হয়, গাছগুলো মোটা-তাজা হয়; কিন্তু ফুল ফুটে না কিছুতেই।

ফুল মন্ত্রীর একান্ত সচিব একটি নির্দেশনা জারি করেন, মন্ত্রী মহোদয়দের দর্শনপ্রার্থীদের ফুল নিয়ে আসা বাঞ্চনীয়।

এই নির্দেশনা পেয়ে মাথায় হাত পড়ে যায় ফুল মন্ত্রীর দর্শনপ্রার্থীদের। মোহর-উপঢৌকন উনি যা চান তা নিয়ে যেতে কোন সমস্যা নেই; কিন্তু ফুল কোথায়; ফুল ফুটছে না; ফুল ফুটছে না; ফুল আর কিছুতেই ফুটছে না।

দর্শনপ্রার্থীরা তাই নিজেরাই গোলাপ, বকুল, জবা, বেলিফুলের মত কস্টিউম পরে-সৌরভ মেখে ফুল মন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে আসে। কিন্তু তা দেখে ফুল মন্ত্রী অত্যন্ত বিরক্ত হন। উনি নতুন বাগান বিলাস প্রকল্পের ফাইলে স্বাক্ষর করা বন্ধ করে দেন। উনার একটাই কথা, আমায় ফুল এনে দাও।

সৌন্দর্য বর্ধন কমিটির লোকেরা সড়কের ডিভাইডারগুলোতে প্লাস্টিকের ফুল লাগিয়ে রেখে মুখ রক্ষার চেষ্টা করে। নগরবাসীকে নির্দেশ দেয়া হয় এবার ফুল-কর দিতে হবে। নগরবাসী খুবই বিপদে পড়ে যায়। এ নগরীতে কতকাল আর ফুল ফোটে না। কোত্থেকে আসবে ফুল কর।

বিশিষ্ট জাস্টিফিকেশানবিদ পুষ্প মান্নান এই পরিস্থিতিতে পত্রিকায় একটি কলাম লেখেন। ফুল খেলবার দিন নয় অদ্য; এখন উন্নয়নকাল। যখন ফুল ছিলো; তখন অনাহার ছিলো। যখন ফুল ছিলো তখন দারিদ্র্য ছিলো। ফুল খেয়ে কী মানুষ বাঁচে! খাদ্য লাগে। জোটে যদি একটি পয়সা খাদ্য কিনিও ক্ষুধার লাগি। মানুষ বাঁচলে তারা নিজেরাই ফুলের মতো ফুটে ওঠে। কলামের এক পাশে কলামিস্টের ছবি ফুলের মতো ফুলে ফেঁপে ওঠা; পরিতৃপ্তির প্রস্ফুটিত ফুল যেন তার ঠোঁট দুটি।

ফুল না ফোটা বিষয়ক তদন্ত কমিশনের রিপোর্টে জানানো হয়, আজকাল উন্নয়নের পরাগায়নে পরিসংখ্যানের এতো ফুল ফুটছে যে গাছে ফুল ফোটানোর জন্য পরাগায়ন শ্রমিক আর পাওয়া যাচ্ছে না।

তদন্ত কমিশন আরো জানায়, আগে যেসব সাংস্কৃতিক মৌমাছিরা ফুলের গান গেয়ে পরাগায়ন ঘটাতো তারাও এখন উন্নয়নের গান গেয়ে পরিসংখ্যানের ফুল ফোটাচ্ছে। এখন সবাই উন্নয়ন মৌমাছি।

নগরীর ফুলগুলো বাগানে বাগানে হাহাকার করে, মৌমাছি মৌমাছি কোথা যাও নাচি নাচি; একবার দাঁড়াওনা ভাই।

উন্নয়ন মৌমাছি উত্তর দেয়, ওই ফুল ফোটে উন্নয়নে; যাই মধু আহরণে

দাঁড়াবার সময় তো নাই।

লেখক: ব্লগার ও প্রবাসী সাংবাদিক


সর্বশেষ

আরও খবর

ফেসবুক ভেরিফাইড হলেন আলতামিশ নাবিল

ফেসবুক ভেরিফাইড হলেন আলতামিশ নাবিল


জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রে আলতামিশ নাবিলের ‘লুমিয়ের থেকে হীরালাল’

জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রে আলতামিশ নাবিলের ‘লুমিয়ের থেকে হীরালাল’


দ্য ডেইলি হিলারিয়াস বাস্টার্ডস

দ্য ডেইলি হিলারিয়াস বাস্টার্ডস


করোনা নিয়ে ওবায়দুল কাদেরের কবিতা

করোনা নিয়ে ওবায়দুল কাদেরের কবিতা


পাথর সময় ও অচেনা বৈশাখ

পাথর সময় ও অচেনা বৈশাখ


৭২-এর ঝর্ণাধারা

৭২-এর ঝর্ণাধারা


বইমেলায় আলতামিশ নাবিলের ‘লেট দেয়ার বি লাইট’

বইমেলায় আলতামিশ নাবিলের ‘লেট দেয়ার বি লাইট’


নাচ ধারাপাত নাচ!

নাচ ধারাপাত নাচ!


ক্রোকোডাইল ফার্ম

ক্রোকোডাইল ফার্ম


সামার অফ সানশাইন

সামার অফ সানশাইন