Thursday, July 21st, 2016
মহাকবি কায়কোবাদ স্মরণে
July 21st, 2016 at 7:14 pm
মহাকবি কায়কোবাদ স্মরণে

ঢাকা:

‘অধরে রক্তিম রেখা মুখে মৃদু হাসি,
পাগল করিল মোরে ঐ রুপরাশি
কারে ভালবাসি’

ওপরের পংতিগুলো বাংলা কবিতার মহাকবি কায়কোবাদের রচিত কাব্যের অংশ। ভালোবাসার মোহনীয় প্রকাশ, এমন মধুর কাব্যের ঢঙ্গে আর ক’জন ই বা করতে পারে বলুন? আজ ২১ জুলাই উনিশ শতকের মহান এই কবির জন্মদিনে তার স্মৃতি কে স্মরণ করছি শ্রদ্ধাভরে। বাঙ্গালী মুসলিম কবিদের মধ্যে তিনিই প্রথম সনেট রচয়িতা।

জন্ম ও পরিবার  

১৮৭৫ খ্রিষ্টাব্দে ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ থানার অন্তর্গত আগলা পূর্বপাড়া গ্রামে জন্ম গ্রহন করে তিনি। কায়কোবাদের আসল নাম ‘মোহাম্মদ কাজেম আলী কোরেশি’। তার পিতার নাম শাহমত উল্লাহ আল কোরেশি। মায়ের নাম জরিফুন্নেসা খাতুন। কায়কোবাদের জন্ম সন নিয়ে অবশ্য বেশ কিছু মতভেদ রয়েছে। চুরানব্বই বছরের জীবনে মোট বিরাশি বছর কবি বাংলা সাহিত্য নিয়ে চর্চা করেন।

সাহিত্য জীবন 

১৮৭০ সালে মাত্র বারো বছর বয়সে তার রচিত কাব্যগ্রন্থ ‘বিরহ বিলাপ’ প্রকাশিত হয়।১৮৭৩ সালে প্রকাশিত তার দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থের নাম ছিলো ‘কুসুম কাননে’ ১৮৯৬ সালে প্রকাশিত হয় তার তৃতীয় কাব্যগ্রন্থ ‘অশ্রুমালা’। এই কাব্যগ্রন্থ দিয়েই তিনি সাহিত্যিক হিসেবে সামাজিক প্রতিষ্ঠা পান। কবি নবীন চন্দ্র সেন, সম্পাদক বঙ্গবাসী, ঢাকা গেজেট ও কলকাতা গেজেটে অশ্রুমালার দারুণ প্রশংসা করেন। পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের ঐতিহাসিক ঘটনা অবলম্বনে রচিত শ্রেষ্ঠ রচনা ‘মহাশশ্মান’ মহাকাব্যে সাহিত্যের প্রতি কবির তীব্র অনুরাগ আর নিষ্ঠার পরিচয় পাওয়া যায়।

মহাকাব্যটি তিনি তিন খন্ডে বিভক্ত করেন। প্রথম খন্ডে ঊনত্রিশ সর্গ, দ্বিতীয় খন্ডে চব্বিশ সর্গ, এবং তৃতীয় খন্ডে সাত সর্গ। মোট ষাট সর্গে প্রায় নয়শ পৃষ্ঠার এই কাব্য বাংলা ১৩৩১, ইংরেজি ১৯০৪ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়। একটি ঐতিহাসিক যুদ্ধযজ্ঞকে রূপায়িত করতে গিয়ে কবি বিশাল কাহিনী, ভয়াবহ সংঘর্ষ, গগনস্পর্শী দম্ভ,এবং মর্মভেদী বেদনাকে নানাভাবে চিত্রিত করেছেন। বিশালতার যে মহিমা রয়েছে তাকেই রূপ দিতে চেয়েছিলেন এই কাব্যে।  তার জীবদ্দশায় প্রকাশিত আরো কাব্যগ্রন্থের ভেতরে রয়েছে, শিব মন্দির, অমিয় ধারা, মহরম শরীফ বা আত্ম বিসর্জন কাব্য, শ্মশান ভষ্ম। কবির মৃত্যুর পর প্রকাশিত হয় ‘প্রেমফুল, প্রেমের রাণী, প্রেম পারিজাত, মন্দাকিনি ধারা’ এই মহান কবি তার রচিত মোট তেরোটি কাব্যগ্রন্থ বাংলা সাহিত্য কে উপহার দিয়ে গেছেন।

প্রাপ্তির ঝুলিতে 

১৯৩২ খ্রিস্টাব্দে কলকাতায় অনুষ্ঠিত বঙ্গীয় মুসলিম সাহিত্য সম্মেলনের মুল অধিবেশনে তিনি সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। বাংলা কাব্য সাহিত্যে অবদানের জন্য নিখিল ভারত সাহিত্য সংঘ তাকে ‘কাব্যভূষণ’, ‘বিদ্যাভূষণ’ ও ‘সাহিত্যরত্ন’ উপাধিতে ভূষিত করেন।

মৃত্যু  

কবি কায়কোবাদ ১৯৫১ সালে ২১ জুলাই বার্ধক্য জনিত কারণে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করেন। রাজধানীর পুরাতন আজিমপুর কবরস্থানে তার সমাধি হয়।

নিউজনেক্সটবিডি ডটকম/এসএনডি/টিএস


সর্বশেষ

আরও খবর

প্রধানমন্ত্রীপরিচয়ে তাজউদ্দীন ইন্দিরার সমর্থন আদায় করেন যেভাবে!

প্রধানমন্ত্রীপরিচয়ে তাজউদ্দীন ইন্দিরার সমর্থন আদায় করেন যেভাবে!


প্রকৃতির নিয়ম রেখেছিল ঢেকে রাতের কালো, বিধাতার ডাকে বঙ্গবন্ধু এলো

প্রকৃতির নিয়ম রেখেছিল ঢেকে রাতের কালো, বিধাতার ডাকে বঙ্গবন্ধু এলো


সৈয়দ আবুল মকসুদঃ মৃত জোনাকির থমথমে চোখ

সৈয়দ আবুল মকসুদঃ মৃত জোনাকির থমথমে চোখ


বঙ্গবন্ধুর মুক্তির নেপথ্যে

বঙ্গবন্ধুর মুক্তির নেপথ্যে


প্রয়াণের ২১ বছর…

প্রয়াণের ২১ বছর…


বীর উত্তম সি আর দত্ত আর নেই, রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর শোক

বীর উত্তম সি আর দত্ত আর নেই, রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর শোক


সংগীতের ভিনসেন্ট নার্গিস পারভীন

সংগীতের ভিনসেন্ট নার্গিস পারভীন


সিরাজগঞ্জে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে কামাল লোহানীকে

সিরাজগঞ্জে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে কামাল লোহানীকে


জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান আর নেই

জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান আর নেই


ওয়াজেদ মিয়ার ১১তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

ওয়াজেদ মিয়ার ১১তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ