Monday, September 6th, 2021
মহামারিতেও থেমে নেই সংখ্যালঘু পীড়ন
September 6th, 2021 at 1:08 am
নোয়াগাঁওয়ের ঝুমন ও শিয়ালীর শিবের গল্প একই সুঁতোয় গাঁথা।
মহামারিতেও থেমে নেই সংখ্যালঘু পীড়ন

শরীফ খিয়াম, ঢাকা

করোনা মহামারিতেও কমেনি ধর্মীয় সংখ্যালঘু পীড়ন। বরং সাম্প্রতিক কালে সংখ্যাগুরুর অত্যাচারের মাত্রা অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেড়েছে বলে দাবি আক্রান্ত জনগোষ্ঠীর সংগঠনগুলোর।

সংখ্যালঘু নেতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের জেলা সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার হবিবপুর ইউনিয়ননের নোয়াগাঁও গ্রামের ঝুমন দাশ আপন আর দক্ষিণাঞ্চলীয় জনপদ খুলনার রূপসা উপজেলার ঘাটভোগ ইউনিয়নের শিয়ালী গ্রামের নিপুন কুমার ধর ওরফে শিব ধরের পরিবারের গল্প একই সুঁতোয় গাঁথা। যে কারণে এই মুহুর্তে করোনার চেয়েও সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী নিয়ে বেশি আতঙ্কিত তারা।

উদ্বেগ প্রকাশ করে দেশের ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের সবচেয়ে বড় সংগঠন হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মনীন্দ্র কুমার নাথ নিউজনেক্সটবিডিকে বলেন, “রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম সংযোজনের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধে অর্জিত ১৯৭২ সালের অসাম্প্রদায়িক সংবিধানকে ক্ষত-বিক্ষত করে সংখ্যালঘুদের দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিকে পরিণত করা হয়েছে।”

১৯৭৫ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যাকাণ্ড পরবর্তী সবগুলো সরকার রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের জন্য ধর্মকে ব্যবহার করেছে অভিযোগ করে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান মনীন্দ্র বলেন, “ধর্মীয় উন্মাদণায় সাম্প্রদায়িকতা ও সন্ত্রাসবাদ সৃষ্টি করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে আমরা দেখছি- এটা ক্রমান্বয়ে বেড়েই চলেছে।”

“বিশ্বব্যাপী চলমান মহামারী হয়তো কয়েক বছরের মধ্যেই নিয়ন্ত্রণে আসবে। কিন্তু স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীর বছরেও বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাস নিয়ন্ত্রণহীন এবং এক্ষেত্রে মানবতা একেবারেই বিপর্যস্ত। সেইদিক থেকে আমরা মনে করি, এটা করোনার চেয়েও ভয়াবহ।”

হিন্দুদের আক্রমণের মধ্য দিয়ে মৌলবাদি গোষ্ঠী মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় আঘাত করছে দাবি করে জাতীয় হিন্দু মহাজোটের নির্বাহী মহাসচিব পলাশ কান্তি দে নিউজনেক্সটবিডিকে বলেন, “এই গোষ্ঠীর কাছে করোনা বলে কিছু নেই। এই দেশকে হিন্দু শূন্য করতে হবে, তাদের জমিজমা কেড়ে নিতে হবে, এই নীতিতে আগাচ্ছে তারা।”

“করোনার সময়ে সংখ্যালঘু পীড়ন আগের তুলনায় বহুগুনে বেড়ে গেছে,” উল্লেখ করেন তিনি বলেন, “সব জায়গায় প্রায় একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি দেখছি। তুচ্ছ বিষয়কে কেন্দ্র করে সূত্রপাত; তারপর হিন্দু সম্প্রদায়ের বসতি আর উপাসনালয়ে আক্রমণ করা হচ্ছে।”

সাম্প্রতিক সময়ে নির্যাতন বৃদ্ধি পাওয়ার ব্যাপারে সংখ্যালঘু নেতাদের দেওয়া তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন বিষয়টি পর্যবেক্ষণকারী গবেষণা প্রতিষ্ঠান রিসার্চ এন্ড এমপউয়ারমেন্ট অর্গানাইজেশনের (আরইও) চেয়ারম্যান প্রফেসর চন্দন সরকার।

আরইও-র চলতি বছরের কয়েকটি মাসিক প্রতিবেদনও নিউজনেক্সটবিডির হাতে এসেছে। সেগুলোয় দেখা গেছে- ফেসবুকে মতপ্রকাশের জন্য হিন্দুদের গ্রেপ্তারের মতো ঘটনা প্রায়ই ঘটছে। নিয়মিত হামলারও শিকার হচ্ছে তারা। গত জুনে নোয়াখালীর হাতিয়ার চর ঈশ্বর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য রবীন্দ্র চন্দ্র দাস নিহত হওয়ার ঘটনাটিও উল্লেখ রয়েছে গবেষণা প্রতিবেদনে।

উল্লেখিত ঝুমন এবং শিব ধরের গ্রাম চলতি বছরের মার্চ এবং আগস্ট মাসে আক্রান্ত হয়েছিল। এছাড়া আগস্টে উত্তরাঞ্চলীয় জেলা বগুড়ার শেরপুর উপজেলার ও গাইবান্ধা জেলার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় মন্দির ভাংচুরের খবর পেয়েছে নিউজনেক্সটবিডি। একই মাসের শুরুতেই হিন্দু ধর্মালম্বী কলেজ শিক্ষক মিন্টু চন্দ্র বর্মনের দেহের পাঁচটি খণ্ড এবং মাথা উদ্ধার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) তথ্যানুযায়ী চলতি বছরে জুলাই পর্যন্ত, অর্থাৎ প্রথম সাত মাসে সংখ্যালঘু বসতির ৯৭টি ঘর ও ৪৬টি উপাসনার প্রতীমা আক্রান্ত হয়েছে এবং আহত হয়েছে তিনজন। ২০২০ সালের বার্ষিক হিসাবে এই সংখ্যাগুলো ছিল যথাক্রমে ১২, ৭১ ও ৬৭।

গত বছরের তূলনা চলতি বছরে আক্রান্ত ব্যক্তির সংখ্যা কম হওয়া কারণ জানা যায় শিয়ালীর শিব ধরের বক্তব্যে। তাঁর গ্রামের চারটি মন্দিরসহ হিন্দু বসতিতে গত ৭ আগস্ট হামলা চালায় সংখ্যাগুরু উগ্রবাদীরা। সেই ধ্বংসস্তুপে দাঁড়িয়ে নিউজনেক্সটবিডিকে ভিডিও কলে শিব জানিয়েছিলেন, ভাংচুর ও লুটপাটে চলাকালে আক্রান্তরা ছিল প্রতিবাদহীন; লুকিয়ে দেখেছে সেই তাণ্ডব।

“আমি স্থানীয় মন্দির কমিটিগুলোর প্রধান হওয়ার কারণেই সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে আমার পরিবার,” বলেন তিনি।

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ সভাপতি মিলন কান্তি দত্ত নিউজনেক্সটবিডিকে বলেন, “বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন এবং সুশীল সমাজের এ ব্যাপারে আরও সক্রিয় হতে হবে। শুধু বিবৃতি দিয়ে প্রতিবাদ জানিয়ে দায়িত্ব শেষ করলে হবে না। করোনারটিকাদানের ব্যাপারে সকল দলমত-প্রশাসন যেভাবে যুথবদ্ধতা হয়েছ, সাম্প্রদায়িক অপশক্তিকে মোকাবেলার ক্ষেত্রেও এই মনোভাব প্রয়োজন।”

পাঁচ মাসেও মুক্ত হননি ঝুমন: রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় প্রগতিশীল ও সংখ্যালঘুদের সংগঠনগুলো অনবরত মুক্তির দাবি জানালেও সাড়ে পাঁচ মাসের বেশি সময় ধরে কারাগারে আছেন সুনামগঞ্জের নোয়াগাঁওয়ের ঝুমন দাশ আপন।

গত মার্চে সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে হেফাজতে ইসলামের আলোচিত নেতা মামুনুল হককে সমালোচনার জন্য পুলিশের দায়ের করা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় গ্রেফতার দেখানোর পাঁচদিন আগেই তাঁকে সন্দেহভাজন হিসেবে কারাগারে পাঠানো হয়।

সুনামগঞ্জের জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত এবং জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আদালতে মোট পাঁচবার ঝুমনের জামিনের আবেদন নাকচ করেছে জানিয়ে তাঁর বড়ভাই নুপুর চন্দ্র দাশ নিউজনেক্সটবিডিকে বলেন, “সর্বশেষ গত মাসে ঢাকার আইনজীবীর মাধ্যমে হাইকোর্টে করা জামিনে আবেদনটি বর্তমানে শুনানির জন্য অপেক্ষমান রয়েছে।”

“আশা করছি, দ্রুতই তাঁর জামিন হয়ে যাবে। কিন্তু জেল থেকে বের হওয়াটা ভালো হবে না খারাপ তা আমরা কীভাবে নিশ্চিত হই? দেশব্যাপী আলোচনায় আসার কারণে তাঁর মৃত্যুর আশঙ্কাও তৈরী হয়েছে,” উল্লেখ করে তিনি বলেন, “অর্থনৈতিকভাবে সমাজের নীচু স্তরের মানুষ আমরা। যে কারণে তাঁর নিরাপত্তার ঝুঁকি কমাতে নিজেরা কিছুই করতে পারবো না।”

সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে ১৫ মার্চ শানে রিসালত সম্মেলন নামে এক সমাবেশের আয়োজন করে হেফাজতে ইসলাম। জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য ও সরকার বিরোধী বক্তব্য দিয়ে আলোচিত হেফাজতের তৎকালীণ যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হক সেই সমাবেশে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সফরের বিরোধিতা করতে গিয়ে সাম্প্রাদায়িক বিদ্বেষমূলক বক্তব্য দেন।

পরদিন ১৬ মার্চ ফেসবুকে মামুনুলে ওই আচরণের সমালোচনা করেছিলেন পার্শ্ববর্তী উপজেলা শাল্লার নোয়াগাঁওয়ের যুবক ঝুমন। স্ট্যাটাসে তিনি মামুনুলের বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের অভিযোগ আনেন। এরপরই ক্ষেপে যান হেফাজত ইসলাম ও মামুনুলের স্থানীয়া অনুসারীরা।

ওই দিন রাতেই তারা হিন্দু পল্লী নোয়াগাঁও আক্রমণ করতে আসে৷ তখন স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতারা ঝুমনকে পুলিশে হাতে তুলে দিয়ে উত্তেজিত হেফাজত সমর্থকদের শান্ত করেন৷ হামলা না করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে চলে গেলেও পরদিন ১৭ মার্চ সকালে সারাদেশ যখন বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনে ব্যস্ত তখন মাইকে ঘোষণা দিয়ে তারা শাল্লা উপজেলার কাশিপুর এবং দিরাই উপজেলার নাসনি, সন্তোষপুর ও চন্দ্রপুর গ্রামের কয়েক হাজার মানুষকে জড়ো করে তাণ্ডব চালায়। আটটি পরিবারিক মন্দিরসহ মোট ৮৮-৮৯ টি ঘর ভাংচুর ও লুটপাট করে।

ঘটনার পরপরই ১৮ মার্চ রাতে দেড় হাজার লোককে আসামি করে শাল্লা থানায় পৃথক দুটি মামলা করেন হবিবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিবেকানন্দ বকুল এবং ওই থানারই উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুল করিম। এর মধ্যে গ্রামবাসীর পক্ষে ইউপি চেয়ারম্যানের মামলার এজাহারে ৫০ আসামির নাম উল্লেখ করা হয়।

পরবর্তীতে ২৫ মার্চ ঝুমনের মা নিভা রানী দাশ ৭২ জনের নাম উল্লেখ করে মোট দুই হাজার আসামির বিরুদ্ধে শাল্লা থানায় মামলা দায়ের করতে গেলেও তা গ্রহণ করেনি পুলিশ। পহেলা এপ্রিল দুপুরে জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখাকে (ডিবি) তদন্তের নির্দেশ দেয়।

তিনটি মামলারই প্রধান আসামি দিরাই উপজেলার নাচনী গ্রামের বর্তমান ইউপি সদস্য ও সরমঙ্গল ইউনিয়ন যুবলীগের ওয়ার্ড সভাপতি শহীদুল ইসলাম ওরফে স্বাধীন মেম্বারকে ২০ মার্চ দিবাগত রাতে মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া থেকে গ্রেফতার করে সিলেটের পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

সুনামগঞ্জ জেলা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হলে ২৩ মার্চ স্বাধীনকে (স্বাধীন মেম্বার) আদালতে হাজির করে পাঁচদিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ। রিমান্ড শেষে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে ২১ জুন স্থানীয় জেলা ও দায়রা জজ আদালত তার জামিন মঞ্জুর করেন।

“শাল্লার ওই সাম্প্রদায়িক হামলায় জড়িত ১০৫ জনকে বিভিন্ন সময়ে গ্রেপ্তার করা হলেও তাদের সবারই জামিন হয়ে গেছে,” নিউজনেক্সটবিডিকে জানান সুনামগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) দেবাংশু শেখর দাস।

এর আগে ১৬ মার্চ রাতে আটক করা ঝুমনকে ১৭ মার্চ ৫৪ ধারায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে হাজির করা হলে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন বিচারক। পরে ২২ মার্চ রাতে শাল্লা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আবদুল করিম তাঁর বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা দায়ের করেন।

বর্তমানে সেই মামলাতেই তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হচ্ছে। আলোচিত ওই আইনটির সমালোচনা করে মানবাধিকার কর্মী নূর খান লিটন নিউজনেক্সটবিডিকে বলেন, “স্বাধীনতার ৫০ বছর পরও মানুষের স্বাধীনভাবে কথা বলার বা চিন্তা ও মত প্রকাশের যে অধিকার তা ক্রমান্বয়ে সংকোচিত হচ্ছে। এটা দুঃখজনক।”

গত ২১ মার্চ শাল্লার ঘটনার সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরে সুনামগঞ্জ জেলা পুলিশের সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার (এসপি) মো. মিজানুর রহমান জানান, ঝুমন বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। তখন হামলার ঘটনায় হওয়া মামলাগুলোর তদন্ত দ্রুত সময়ে শেষ করার কথাও জানিয়েছিলেন তিনি।

গত শুক্রবার নিউজনেক্সটবিডিকে তিনি বলেন, “ঝুমনের মায়ের মামলাটি তদন্তের ব্যাপারে আদালত আমাদের কোনো নির্দেশনা দেননি। যে কারণে হামলা সংক্রান্ত তিনটি নয়, দুটি মামলা থানায় তদন্ত করছি আমরা।”

“আমাদের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। অল্প সময়ের আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিতে পারবো,” উল্লেখ করে তিনি জানান, আসামির সংখ্যা অনেক হওয়ায় তাদের সম্পর্কিত সঠিক তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই করতে সময় লাগছে। অভিযোগপত্র ত্রুটিমুক্ত রাখতে তাড়াহুরো না করে সতর্কতার সাথে আগাচ্ছে তারা।

আলোচনা কম হওয়াই ভালো: হিন্দু বসতির আশেপাশের পাঁচ গ্রামের মানুষের বিরুদ্ধে হামলা সংক্রান্ত মামলাগুলো হয়েছে উল্লেখ করে এসপি নিউজনেক্সটবিডিকে বলেন, “এই বিষয়টি নিয়ে যতো বেশি আলোচনা হবে সেখানকার হিন্দুরা ততো বেশি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকবে।”

ঝুমনের পক্ষে লড়াইকারী আইনজীবী দেবাংশু শেখর দাসেরও ভাষ্য, “নোয়াগাঁওয়ের প্রেক্ষাপটে এসব নিয়ে বেশি আলোচনা হওয়াটা ঝুমনের এবং তাঁর পরিবারের জন্য ক্ষতিকর।”

ঝুমনের ভাই নুপুর নিউজনেক্সটবিডিকে জানান, “আমি দূরে (সিলেটে) চাকরি করার কারণে একটু নিরাপদে আছি। কিন্তু বাড়িদে আমার মা-বোন ও ঝুমনের বউ-বাচ্চা আতঙ্কের মধ্যে আছে। অভিযুক্তরা জামিনে মুক্ত হয়ে এলাকায় ফেরায় অনেক ভেবেচিন্তে চলাফেরা করতে হচ্ছে তাদের।”

“সেখানকার সংখ্যালঘুদের নিরাপদে রাখতে অত্যন্ত যৌক্তিকভাবে ও সতর্কতার সাথে আইনের প্রয়োগ করতে হবে এবং আমি সেটাই করছি,” বলেন এসপি।

শাল্লার ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা তদন্তে সিলেট রেঞ্জের উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মফিজ উদ্দিনকে প্রধান করে দুই সদস্যের কমিটি গঠন করে পুলিশ সদর দপ্তর। এই তদন্ত দলটি ২৬ এপ্রিল জমা দেওয়া প্রতিবেদনে হামলার ঘটনায় পুলিশের গাফিলতির প্রমাণ পাওয়ার কথা উল্লেখ করে এসপিসহ ১১ জনকে বদলি এবং ছয় জনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করে।

প্রতিবেদনটি সদর দপ্তরে পৌঁছানোর আগেই তালিকায় থাকা শাল্লা থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয় এবং দিরাই থানার ওসি আশরাফুল ইসলামকে মৌলভীবাজারে বদলি করা হয়।


সর্বশেষ

আরও খবর

করোনায় চার মাস পর সর্বনিম্ন ২১ জনের মৃত্যু

করোনায় চার মাস পর সর্বনিম্ন ২১ জনের মৃত্যু


ডিসেম্বরের মধ্যে দেওয়া হবে ১০ কোটি টিকা: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

ডিসেম্বরের মধ্যে দেওয়া হবে ১০ কোটি টিকা: স্বাস্থ্যমন্ত্রী


গ্রামীণ ব্যাংকের বিরুদ্ধে ২ মামলা

গ্রামীণ ব্যাংকের বিরুদ্ধে ২ মামলা


করোনায় সারাদেশে আরও ২৪ জনের মৃত্যু

করোনায় সারাদেশে আরও ২৪ জনের মৃত্যু


দাখিল পরীক্ষা শুরু ১৪ নভেম্বর

দাখিল পরীক্ষা শুরু ১৪ নভেম্বর


এ বছরই দেশে ফাইভ জি চালু হবে: জয়

এ বছরই দেশে ফাইভ জি চালু হবে: জয়


বিমানবন্দরে শুরু হলো করোনার পরীক্ষামূলক পরীক্ষা

বিমানবন্দরে শুরু হলো করোনার পরীক্ষামূলক পরীক্ষা


ই-কমার্স বন্ধ না করে প্রতারণা ঠেকাতে আইন করার মতামত ৪ মন্ত্রীর

ই-কমার্স বন্ধ না করে প্রতারণা ঠেকাতে আইন করার মতামত ৪ মন্ত্রীর


করোনায় আরও ২৬ জনের মৃত্যু, চার মসে সর্বনিম্ন

করোনায় আরও ২৬ জনের মৃত্যু, চার মসে সর্বনিম্ন


ভারতে দুই হাজার টন ইলিশ রফতানির অনুমতি

ভারতে দুই হাজার টন ইলিশ রফতানির অনুমতি