Thursday, August 25th, 2016
মুহিতুল এক ইতিহাস
August 25th, 2016 at 9:11 pm
মুহিতুল এক ইতিহাস

ঢাকা: জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যা মামলার বাদী মহিতুল ইসলাম মারা গেছেন। এ যেন এক ইতিহাস। বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টায়  বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে (বিএসএমএমইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায়  শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

৬৩ বছর বয়সী এ মুক্তিযোদ্ধা ১২ জুলাই থেকে বিএসএমএমইউ’র কেবিন ব্লকের ৭ তলার নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন ছিলেন। তিনি কিডনি ও ফুসফুসের রোগে ভুগছিলেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রাষ্ট্রপতি থাকার সময় তার রিসিপসনিস্ট কাম রেসিডেন্ট পিএ ছিলেন মুহিতুল। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের সময় তিনি ধানমন্ডির ওই বাড়িতেই ছিলেন।

সর্বশেষ ত্রাণ ও দুর্যোগ অধিদফতরের সহকারী পরিচালক হিসেবে কর্মরত মুহিতুল রাজধানীর মিরপুর ১৪ নম্বরে অবস্থিত সরকারি কোয়ার্টারে স্ত্রী এবং একমাত্র কন্যা সানজিদা বিলকিস বাঁধনকে নিয়ে থাকতেন।

বঙ্গবন্ধু হত্যার পর ২১ বছর পর  ১৯৯৬ সালে ২ অক্টোবর ওই হত্যার বিচার চেয়ে একমাত্র ব্যক্তি হিসেবে মুহিতুলই

মামলা দায়েল করেছিলেন। ধানমণ্ডি থানায় তিনি মামলা দায়ের করেন। বঙ্গবন্ধুর কোনো স্বজন ওই সময় জীবিত না থাকায় তাকেই মামলাটি দায়ের করতে হয়।এই ঐতিহাসিক ঘটনার কারণে মুহিত এ এদেশের মানুষের মধ্যে চির স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।

জানা যায়, বঙ্গবন্ধু হত্যার পর ২১ বছর পর  ১৯৯৬ সালে ২ অক্টোবর ওই হত্যার বিচার চেয়ে একমাত্র ব্যক্তি হিসেবে মুহিতুলই হত্যা মামলা দায়ের করেছিলেন। ধানমণ্ডি থানায় তিনি মামলা দায়ের করেন। বঙ্গবন্ধুর কোনো স্বজন ওই সময় জীবিত না থাকায় তাকেই মামলাটি দায়ের করতে হয়।এই ঐতিহাসিক ঘটনার কারণে মুহিত এ এদেশের মানুষের মধ্যে চির স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।

মুহিতুল ইসলাম তার ঐতিহাসিক সেই এজাহারে বলেন- বিভিন্ন আলোচনা, দেশি-বিদেশি পত্র-পত্রিকা, ম্যাগাজিন, বই-পুস্তক পড়ে তিনি জানতে পারেন যে, খন্দকার মুশতাক, তাহের উদ্দিন ঠাকুর, মেজর রশিদ, মেজর পাশা, মেজর শরিফুল হোসেন, মেজর শাহরিয়ার, মেজর রাশেদ চৌধুরী, মেজর মহিউদ্দিন, ক্যাপ্টেন কিসমত, রিসালদার মোসলেহ উদ্দিনসহ সাঁজোয়া ও গোলন্দাজ অন্যান্য বাহিনীর কতিপয় বিপথগামী সৈনিক উচ্চাভিলাষী রাজনৈতিক নেতাদের সাথে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়ে রাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ও তার পরিবারবর্গকে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট নির্মমভাবে হত্যা করে।

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, ‘বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার বাদী এএফএম মুহিতুল ইসলাম শুধু একটি নাম নয়, একটি ইতিহাস।’

আনিসুল হক বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর তিনি যখন থানায় মামলা করতে গিয়েছিলেন তখন তাকে পাগল অ্যাখ্যা দিয়ে বের করে দেয়া হয় থানা থেকে। পরে আওয়ামী লীগ রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসার পর ১৯৯৬ সালে ২ অক্টোবর তিনি রাজধানীর ধানমন্ডি থানায় মামলাটি করেন। আইনমন্ত্রী এসময় মুহিতুল ইসলামের বিদেহী আত্মার জন্য দেশবাসীর নিকট দোয়া চেয়ে বলেন, এ রকম মানুষ বাংলাদেশের ইতিহাসে দ্বিতীয়জন হবেন না।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মুহিতুল ইসলামের সাহসী ভূমিকার কথা স্মরণ করে এক বিবৃতিতে বলেন, ১৫ আগস্টের নির্মম হত্যাকাণ্ডের সময় তিনি ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বাড়িতেই ছিলেন। ঘাতকদের হাত থেকে বাঁচানোর জন্য শিশু শেখ রাসেলকেও তিনি লুকিয়ে রেখেছিলেন। কিন্তু তার হাত থেকে কেড়ে নিয়ে ঘাতকরা নির্মমভাবে শেখ রাসেলকে হত্যা করে।

গ্রন্থনা ও সম্পাদনা- ময়ূখ ইসলাম


সর্বশেষ

আরও খবর

করোনায় আরও ৩০ জনের মৃত্যু, ৭৮ দিনের মধ্যে সর্বোচ্চ শনাক্ত

করোনায় আরও ৩০ জনের মৃত্যু, ৭৮ দিনের মধ্যে সর্বোচ্চ শনাক্ত


ঢাবি ছাত্রী ধর্ষণ মামলায় মজনুর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

ঢাবি ছাত্রী ধর্ষণ মামলায় মজনুর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড


আনিসুল হত্যা: মানসিক স্বাস্থ্য ইন্সটিটিউটের রেজিস্ট্রার গ্রেপ্তার

আনিসুল হত্যা: মানসিক স্বাস্থ্য ইন্সটিটিউটের রেজিস্ট্রার গ্রেপ্তার


পাওয়ার গ্রিডের আগুনে বিদ্যুৎ-বিচ্ছিন্ন পুরো সিলেট, ব্যাপক ক্ষতি

পাওয়ার গ্রিডের আগুনে বিদ্যুৎ-বিচ্ছিন্ন পুরো সিলেট, ব্যাপক ক্ষতি


দুইদিনের বিক্ষোভের ডাক বিএনপির

দুইদিনের বিক্ষোভের ডাক বিএনপির


অবশেষে পাঁচ বছর পর নেপালকে হারালো বাংলাদেশ

অবশেষে পাঁচ বছর পর নেপালকে হারালো বাংলাদেশ


অবশেষে গ্রেফতার হলো এসআই আকবর

অবশেষে গ্রেফতার হলো এসআই আকবর


থাইল্যান্ডে সেলিম প্রধানের ৭টি কোম্পানির খোঁজ পেয়েছে দুদক

থাইল্যান্ডে সেলিম প্রধানের ৭টি কোম্পানির খোঁজ পেয়েছে দুদক


মসজিদ-মন্দিরে মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করলো সরকার

মসজিদ-মন্দিরে মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করলো সরকার


করোনায় একদিনে আরও ১৮ প্রাণহানি

করোনায় একদিনে আরও ১৮ প্রাণহানি