Saturday, August 20th, 2016
মাওলানা আবদুর রশিদ তর্কবাগীশ’র ৩০ তম মৃত্যুবার্ষিকী
August 20th, 2016 at 11:53 am
মাওলানা আবদুর রশিদ তর্কবাগীশ’র ৩০ তম মৃত্যুবার্ষিকী

ডেস্ক: খিলাফত আন্দোলন, অসহযোগ আন্দোলন বা সলঙ্গা আন্দোলন থেকে ভাষা আন্দোলন হয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও নব্য স্বাধীন দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় নেতৃত্ব দেয়ার পাশাপাশি সর্বদা দেশ ও দেশের মানুষের স্বার্থে কার্যকরী সক্রিয় ভূমিকা পালনকারী মাওলানা আবদুর রশীদ তর্কবাগীশ’র ৩০ তম মৃত্যুবার্ষিকী শনিবার। তিনি ১৯৮৬ সালের ২০ আগস্ট ৮৫ বছর বয়সে ঢাকাস্থ পিজি হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন।

এ উপলক্ষে সিরাজগঞ্জের মাওলানা তর্কবাগীশ গবেষণা কেন্দ্র, সলঙ্গা থানার চড়িয়া মাওলানা আব্দুর রশিদ তর্কবাগীশ বিজ্ঞান মাদ্রাসা, সলঙ্গা মাওলানা তর্কবাগীশ পাঠাগার, রায়গঞ্জের বেগম নুরুন্নাহার তর্কবাগীশ সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, পাটধারী মাওলানা আব্দুর রশিদ তর্কবাগীশ উচ্চ বিদ্যালয় ও মাওলানা আব্দুর রশিদ তর্কবাগীশ ফাউন্ডেশনসহ ভিন্ন ভিন্ন প্রতিষ্ঠান পৃথক পৃথক কর্মসূচী হাতে নিয়েছে। এসব কর্মসূচীর মধ্যে রয়েছে মরহুমের মাজারে পুষ্পস্তর্বক অর্পণ ও মাজার জিয়ারত, ফাতেহা পাঠ ও দোয়া মাহফিল।

উল্লেখ্য, ১৯২২ সালের ২৭ জানুয়ারি তার নেতৃত্বে বিলেতি পণ্য বর্জন আন্দোলনে সলঙ্গা হাটে ব্রিটিশ পুলিশের গুলিতে নিহত হয় চার হাজারেরও বেশি মানুষ। এছাড়াও, ১৯৫৫ সালের ১২ আগস্ট পাকিস্তানের গণ পরিষদে রাষ্ট্র ভাষা বাংলার দাবিতে তিনিই প্রথম বাংলা ভাষায় বক্তব্য রাখেন। ১৯৫৬ সাল থেকে ১৯৬৭ সালের প্রারম্ভ পর্যন্ত নিখিল পাকিস্তান আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মাওলানা আব্দুর রশিদ তর্কবাগীশ। তার সভাপতিত্বের শেষ ভাগে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দলের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন শুরু করেছিলেন। ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্টের নির্বাচন, ১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলন, ৬৯’র গণঅভ্যূত্থান এবং ৭১ সালের মহান স্বাধীনতা সংগ্রামে তার ভূমিকা ছিল অসামান্য। তার ভেতরে দেশপ্রেমের নিদর্শন পরিলক্ষিত হয় শৈশবেই৷ মাত্র ১৩ বছর বয়সে তিনি জমিদার মহাজনদের বিরুদ্ধে অসহায় দুধ বিক্রেতাদের সংগঠিত করে দুধের ন্যায্যমূল্য প্রদানে মহাজনদের বাধ্য করেন।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের পটভূমি নির্মাণে যে সব মনীষী কালজয়ী অবদান রেখেছেন মাওলানা আবদুর রশীদ তর্কবাগীশ ছিলেন তাদের মধ্যে অন্যতম৷ রাজনৈতিক জীবনের পাশাপাশী তিনি সাহিত্যচর্চাও করেছেন৷ তার রচিত গ্রন্থগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে: শেষ প্রেরিত নবী, সত্যার্থে ভ্রমণে, ইসলামের স্বর্ণযুগের ছিন্ন পৃষ্ঠা, সমকালীন জীবনবোধ, স্মৃতির সৈকতে আমি, ইসমাইল হোসেন সিরাজী ইত্যাদি৷ স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধে তার গৌরবোজ্জ্বল ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ মরহুম মাওলানা আবদুর রশীদ তর্কবাগীশকে “স্বাধীনতা দিবস পুরস্কার ২০০০(মরণোত্তর)” প্রদান করা হয়।

১৯০০ সালের ২৭শে নভেম্বর সিরাজগঞ্জ জেলার উল্লাপাড়া উপজেলাধীন তারুটিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পূর্বপুরুষ বড়পীর হযরত আবদুল কাদির জিলানী (রঃ) এর বংশধর শাহ সৈয়দ দরবেশ মাহমুদ ১৩০৩ খৃষ্টাব্দে ইসলাম প্রচারের উদ্দেশ্যে বাগদাদ থেকে বাংলাদেশে আসেন।

প্রতিবেদন: এস. কে. সিদ্দিকী, সম্পাদনা: ইয়াসিন

 


সর্বশেষ

আরও খবর

বীর উত্তম সি আর দত্ত আর নেই, রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর শোক

বীর উত্তম সি আর দত্ত আর নেই, রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর শোক


সংগীতের ভিনসেন্ট নার্গিস পারভীন

সংগীতের ভিনসেন্ট নার্গিস পারভীন


সিরাজগঞ্জে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে কামাল লোহানীকে

সিরাজগঞ্জে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে কামাল লোহানীকে


জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান আর নেই

জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান আর নেই


ওয়াজেদ মিয়ার ১১তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

ওয়াজেদ মিয়ার ১১তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ


একুশে পদকপ্রাপ্তদের হাতে পুরষ্কার তুলে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী

একুশে পদকপ্রাপ্তদের হাতে পুরষ্কার তুলে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী


প্রধানমন্ত্রীর হাতে রান্না করা খাবার সাকিবের বাসায়

প্রধানমন্ত্রীর হাতে রান্না করা খাবার সাকিবের বাসায়


জাতীয় কবির মৃত্যুবার্ষিকী আজ

জাতীয় কবির মৃত্যুবার্ষিকী আজ


জাপানে হেইসেই যুগের অবসান হচ্ছে আজ

জাপানে হেইসেই যুগের অবসান হচ্ছে আজ


হাঁটাহাঁটি করছেন ওবায়দুল কাদের

হাঁটাহাঁটি করছেন ওবায়দুল কাদের