Monday, April 6th, 2020
মানবিক হও!
April 6th, 2020 at 3:49 pm
মানবিক হও!

কাজী ফৌজিয়া;

আবার আসিব ফিরে ধানসিঁড়িটির তীরে-এই বাংলায়/ হয়তো মানুষ নয় হয়তো বা শঙ্খচিল শালিকের বেশে/ হয়তো ভোরের কাক হয়ে এই কার্তিকের নবান্নের দেশে/…

প্রিয় বন্ধু,

কেমন আছো তুমি, অনেক চিন্তা হয় তোমাকে নিয়ে,বাংলাদেশে থাকা আমার পরিবার নিয়ে, আত্মীয় স্বজন বন্ধু বান্ধব নিয়ে। আমরা যারা প্রবাসে থাকি তাদের এই হল সমস্যা, নিজের থেকে দেশের ভাবনা বেশী। আমাদের ভালবাসা বাংলাদেশে থাকা মানুষ  যদি বুঝত তাহলে প্রবাসীদের বিরুদ্ধে এই সময়ে সামাজিক মাধ্যমে ট্রল করত না।   

বন্ধু, তোমাকে লিখতে গিয়ে আজ কুল কিনারা পাচ্ছি না, কোথা থেকে শুরু করবো কোথায় শেষ করব। আন্তর্জাতিক খবরগুলো তো দেখতেই পাচ্ছ আমারা কেমন আছি, মনে হচ্ছে আমেরিকা সব কিছুতে চ্যাম্পিয়ন থাকার প্রতিযোগিতা করতে করতে করোনা ভাইরাস সংক্রমণেও চ্যাম্পিয়ন থাকবে।

আজ রোববার সকালের হিসেবে পুরো যুক্তরাষ্ট্রে ৩২৩,৫৬৮ জন সংক্রমিত, মারা গিয়েছেন  ৯,১৭২ জন, সুস্থ হয়ে ঘরে ফিরেছেন ১২,৭১৩ জন।

আজকের হিসেবে  যদি নিউ ইয়র্কের নাম্বার টা দেখ তবে ১২২,০৩১ জন সংক্রমিত, মারা গেছেন  ৪,১৫৯ জন, আর সুস্থ হয়ে ঘরে ফিরেছেন ১০,৪৭৮ জন। নভেল করোনা ভাইরাস বা কভিড-১৯ এর সংক্রমণের নাম্বারে একটা ফাঁকি আছে, এই নাম্বার শুধু যারা পরীক্ষা করতে হসপিটাল গিয়েছেন তাদের নাম্বার।  যারা পরীক্ষা করতে যাননি, তাদের সংখ্যা এর চেয়ে তিনগুণ ধরে নিতে পার, অবাক হয়েছ বন্ধু? অবাক হবার কিছু নেই। আমি কিছু অভিজ্ঞতার কথা বলি শুনো, অনেক ফ্যামিলির একজন হসপিটালে বা মারা গেছেন তাদেরকেই শুধু পরীক্ষা করেছে, বাড়ীর অন্য সদস্যদের পরীক্ষা না করে শুধু বলে দেয় কোরেনটাইন এ থাকো।

এখানে কারো যদি জ্বর, গলাব্যথা, মাথাব্যথা থাকে বলবে পর্যাপ্ত কিট নাই বা হসপিটালে সিট নাই, যখন শ্বাস নিতে কষ্ট হবে তখন এসো বা আমাদের কল দিও। আমার জানামতে অনেক পরিবার আছে ৪ থেকে ৬ জন সদস্য – এক একটি পরিবারে যারা পূর্ণ করোনা সিম্পটম নিয়ে বাসায় বসে আছেন , হসপিটালে যায় না।

যদি বলি হসপিটালে যায় না তবে ভুল বলা হবে, হসপিটাল এ শুধু মারাত্মক শ্বাস কষ্ট শুরু হয়েছে তাদের ভর্তি করছে, আর টেস্ট এর জন্য ৫ থেকে ৭ ঘণ্টা লাইন এ দাড়িয়ে থাকতে হয়। অনেকের সিম্পটম থাকার পরেও টেস্ট করাতে যায় না, তাদের ধারনা টেস্ট এর লাইনে এত লম্বা সময় দাড়িয়ে থেকে করোনা না থাকলেও লাইনে যাদের পজিটিভ তাদের কাছ থেকে সংক্রমিত হবার আশংকা থাকে।

যারা হসপিটালে ভর্তি হয়েছেন  তাদের অভিজ্ঞতা অনেক খারাপ,একজন তো বলেই ফেললো আপা নরক থেকে বের হয়ে এসেছি।আমাদের অফিসের কাছে এলমার্সট হসপিটাল আছে সেখানে মৃত্যুর হার এতো বেশী যে সেখানে মানুষ যেতে ভয় পাচ্ছে। কেন্দ্রীয় সরকার, মানে ট্রাম্প প্রশাসনের হঠকারিতা তো আসমান ছুঁয়েছে।  সে করোনা কমিটিতে তার মেয়ের জামাই কে নিয়েছে, সেই মেয়ের জামাইকে যখন সাংবাদিকরা প্রশ্ন করল যে কেন্দ্র সরকারের কাছে ভেন্টিলেটর জমা থাকার পরেও কেন নিউ ইয়র্ককে দেওয়া হচ্ছে না, সে বলে কেন দিব ! এটা তো আমাদের। পরের দিন সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিক যখন ট্রাম্পকে জিজ্ঞাসা করল তোমার মেয়ের জামাই কেন্দ্র সরকারের জিনিষ কে “আমাদের” বলে কি করে? ট্রাম্প এর উত্তর “আমাদের” বলতে সে নিজের জিনিস বুঝাতে চাই নি সে বলতে চেয়েছে আমাদের মানে কেন্দ্রের – আর বলে সব সোজা জিনিষ কে বাঁকা করে দেখার মত নোংরামি করবে না।

আমি এত অবাক হলাম দেখে যে কি করে একজন প্রেসিডেন্ট এত খারাপ হতে পারে,আজ এমন সহজ করে বলল কতজন মারা যেতে পারে আগামী ৩ দিন – মনে হল আমরা তার কাছে এক একটি  নাম্বার মাত্র।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আর গভর্নর কুমোর দেরিতে কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণে আজ আমাদের এই হাল, এখন গভর্নর কুমোর ইমোশনাল কথাবার্তা তাই জনগণের মনে তেমন আশা জাগাতে পারে না। গত কাল ওয়াশিংটন পোস্ট এর একটি টি পোস্ট জনগণের মনে বেশ প্রশ্ন তুলছে সেটি হল চায়নার সরকার বলেছে যে সরকারী হিসাব মতো হবে উহানে  ২,৫৬৩ জন মানুষ মারা গেছে কিন্তু যখন থেকে মানুষ ফিউনারেল হোম থেকে তাদের প্রিয়জনদের শরীরের শেষ স্মৃতি বা ছাই সংগ্রহ করার অনুমতি পেল তখন অন্যরকম হিসাব শুরু হল।

হাজার হাজার লোকজন লাইনে দাড়িয়ে আছে আর সামাজিক মাধ্যমে ছবি পোষ্ট দেওয়া শুরু করছে। বেসরকারি হিসাব বলছে ৪২০,০০ লোক উহানে মারা গেছে। তার মানে হল চায়না পুরো দুনিয়াকে মিথ্যা কথা বলে এক্সপার্ট হওয়ার ভান  করছে যে তারা ভালভাবে ভাইরাস মোকাবিলা করেছে। কী  ভয়ংকর মিথ্যাচার নিজের দেশ তথা পুরো দুনিয়ার সাথে। ২য় খবরটি হল নিউ ইয়র্কস টাইমস এর- যখন থেকে করোনা ভাইরাস চায়নাতে সংক্রমিত হল তখন থেকে ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞা পর্যন্ত ৪৩০,০০০ মানুষ চায়না থেকে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছে, ১,৩০০ সরাসরি ফ্লাইট ১৭ টি শহরে নেমেছে!

আমি তোমাকে গত দুই সপ্তাহ পূর্বের চিঠিতে লিখেছিলাম রোগটি সম্পর্কে। অজ্ঞতা, আর চায়নাতেই এই সমস্যা – আমাদের হবে না – এই উদাসীনতাই আজ আমাদের শেষ করে দিচ্ছে। এই অযোগ্যতার দায় ট্রাম্প প্রশাসন কেই নিতে হবে, যদি কভিড-১৯ মহামারি ১ লক্ষ আমেরিকার জনগণের প্রাণ হরণ করে শেষও হয়ে যায় তারপর ও অর্থনৈতিক মন্দার হাত থেকে কি করে রেহাই পাবে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বিষয়ে আরেকটি হাস্যকর কথা না বললেই নয় সেটি হল- সে পরামর্শ দিচ্ছে কভিড-১৯ রুগীকে কুইনাইন দিতে।  যখন সাংবাদিকরা জানতে চাইল কাজ হবে তো ? সে বলে আমি কি জানি আমি কি ডাক্তার! চিন্তার বিষয় বন্ধু ডাক্তার না সে তো আমরাও জানি তবে পরামর্শ দিতে কে বলল, এমন অযোগ্য অদক্ষ প্রেসিডেন্ট কি পারবে তার প্রিয় ইকোনমি বাঁচাতে? সেটাই এখন দেখার বিষয়।

বন্ধু, আমেরিকা নিয়ে অনেক হতাশার কথা বললাম এবার আশার কথা বলি।  নিউ ইয়র্কের বেহাল অবস্থা দেখে সারা দেশ থেকে গভর্নরের ডাকে সারা দিয়ে ৮৫ হাজারের উপর অবসরপ্রাপ্ত ডাক্তার-নার্স ইমারজেন্সি রেসপন্স কর্মী, মেন্টাল হেলথ বিশেষজ্ঞ ও বিভিন্ন স্তরের হসপিটাল কর্মীরা যোগ দিয়েছেন । সামাজিক মাধ্যমে তো দেখতেই পাচ্ছ ডাক্তার-নার্স টেকনিশিয়ানের জন্য পর্যাপ্ত সুরক্ষা পোশাক, মাস্ক নাই, রুগীর জন্য ভেন্টিলেটর নাই, তারপরেও দূর-দূরান্ত থেকে প্রতিদিন লোকজন আসছে এই শহরের লোকজনকে বাঁচাতে। জনগণ চাঁদা তুলে মাস্ক কিনে হসপিটালে দিয়ে আসছে, চায়না সরাসরি নিউ ইয়র্ক কে ১,০০০ ভেন্টিলেটর দিয়েছে।

বন্ধু, এত লম্বা লিস্ট এর পরেও হিমসিম খাচ্ছে নিউ ইয়র্ক , অনেক ডাক্তার-নার্স  পুলিশ ফায়ার ডিপার্টমেন্ট এর লোকজন আক্রান্ত, জেল ডিটেনশন এর প্রহরী-কয়েদীরা আক্রান্ত, আমাজনের কর্মীরা আক্রান্ত, এয়ারপোর্ট সিকিউরিটির লোকজন আক্রান্ত, অনেকে মারা গেছেন,  তারপরেও এই অগ্রগামী সৈনিকেরা থেমে নেই। অনেক হসপিটালে মৃত সহকর্মীদের ছবি হাতে নিয়ে সুরক্ষা পোশাক আর মাস্ক সরবরাহের দাবী জানাচ্ছে, কিন্তু কাজ বন্ধ নেই, মানবতাকে মাথায় তুলে মৃত্যুর মুখে নিজেদের ঠেলে দিয়েছে। বিভিন্ন হসপিটালের যখন শিফট চেঞ্জ হয় আশে পাশের বিল্ডিং থেকে জনগণ যা হাতে পায় তাই দিয়ে আওয়াজ করে এই সম্মুখ যোদ্ধাদের সম্মান দেখায়।

আমাদের বাংলাদেশি সমাজের অনেক মানুষ আক্রান্ত অনেক পরিচিত মুখ হারিয়ে যাচ্ছে, মৃত্যুর মিছিলে প্রতিদিন শামিল হচ্ছে অনেক আপনজন।

গত কয়দিন আগে চলে গেলেন সংবাদপত্র জগতের চেনা মুখ স্বপন হাই, আজ চলে গেলেন বাংলাদেশ সোসাইটির প্রেসিডেন্ট কামাল ভাই, কত যে লম্বা হচ্ছে এই চেনা জানা মানুষের লাইন আল্লাহ জানে।  যদি করোনার ছোবল থেকে বেঁচেও যাই এই শোক নিয়ে কি করে বেঁচে থাকব।

গত মার্চ মাসের ৩০ তারিখে আমাদের সোহেল মাহমুদ ভাই কল দিয়ে বলল উনার সাথে একটা ফেইস বুক লাইভ করতে হবে আমি উনাকে না করতে গিয়েও পারলাম না,রাতে উনার লাইভে যুক্ত হলাম কি কি বললাম মনে নাই, এই লাইভ অনুষ্ঠান টি বাংলাদেশ থেকে একজন দেখে সোহেল ভাইকে জানাল তার এক আত্মীয় পুরো পরিবার নিয়ে ভাইরাস আক্রান্ত; সাহায্য দরকার।

সোহেল ভাই যখন মেসেজ দিয়ে বলল এই পরিবারটির সাহায্য লাগবে স্টাফ তখন মিটিং এ ছিলাম।  শেষ করেই কল দিলাম, কল যাচ্ছিল না, পরে সে নিজেই কল করে বলল আপা আমার স্বামী কে বাঁচান।

সে নিজেও প্রচন্ড অসুস্থ, তবু বলছে আপা আমি অক্সিজেন ছাড়া বাঁচতে পারব কিন্তু আমার স্বামী শ্বাস নিতে পারছে না।  কিছু করেন আপা। আমি সব শুনে কয়েক জায়গায় কল করে তাকে পরামর্শ দিলাম ৩১১ আর ৯১১ কল করে কি বলতে হবে। আমার উপদেশ মত সে কল দিয়ে বলল আমার স্বামী মারা যাচ্ছে এখনি আস।  তারা আসল আর উনাকে নিয়ে গেলেন। মহিলা তাদের বলল আমার বাচ্চাদের জন্য চাইল্ড সাপোর্ট লাগবে, তারা বলল “আমরা শুধু ইমারজেন্সি রেসপন্স করি” এবং  উনাকে নিয়ে চলে গেল।  মা আর বাচ্চাদের ঘরে রেখে গেল।মহিলাটি এত অসুস্থ যে নিজে খেতে পারছে না বাচ্চাদের ও খেয়াল রাখতে পারছে না।

যতবার কল করি কষ্ট চেপে শুধু বলি বোন বাঁচতে হবে কিছু খাওয়ার চেষ্টা কর। আমি বললাম কাল থেকে রেডি খাবার পাঠাব একটু কষ্ট করে শুধু খেতে চেষ্টা করবে বোন, সে বলে আল্লাহ আপনাকে ফেরেশতা করে পাঠিয়েছেন  আমার বাচ্চাদের জন্য। আমি শুধু বললাম আমি ফেরেশতা নই, মানুষ অতি ক্ষুদ্র মানুষ।  উনার স্বামীকে এলমার্স্ট হসপিটাল থেকে ভেলভিউ হসপিটালে তে নিয়ে যায় ৩ দিন অক্সিজেন দেওয়ার পরে আজ বাসায় পাঠিয়ে দিয়েছে, যদিও উনার অবস্থা এখনও ভাল নয়।

আজ মেয়েটির জন্য কিছু খাবার দিয়ে এসেছে আমাদের মিউচুয়াল এইড নিয়ে কাজ করা মহান সেচ্ছাসেবকগন, অল্প বয়সের ছেলে মেয়ে ও আমার বস ফাহাদ এই নিরাপত্তা ঝুকিঁ নিয়ে খাবার দিতে যায়। সারাদিন ফোন কলে বুঝিয়ে ওঁকে খাওয়ানোর চেষ্টা করি।  আজ বাচ্চাদেরও কিছুটা খাওয়াতে পেরেছ। গত দুইদিন পূর্বে সন্ধ্যা বেলা সোহেল ভাই আরও একটি নাম্বার দিয়েছে কল দিয়ে কথা বললাম এক বাংলাদেশী ভাই পুরো পরিবার নিয়ে আক্রান্ত।  একটি বাচ্চা ২ বছর বয়স ও অন্য বাচ্চাটি ৬ বছর বয়স।ফোনে ভাইটিকে অনেক বুঝালাম সাহস যোগানোর চেষ্টা করলাম, আমি কোন সুপার ওম্যান নই তবু যদি এই ভয়াবহ সময়ে আমার বাক্য কারও মনে বাঁচার লড়াই চালাতে সাহস যোগায় মনে করব আমার বেচে থাকা অর্থবহ।

এপ্রিলের ৩ তারিখ বিকালে খবর পেলাম আমার এক্স কলিগ নিঝুমের মামা মারা গেছেন। নিঝুমর আম্মা, খালা দুজনেই আমাদের মেম্বার। নিঝুমের মামা  ছিল রিটায়ার্ড ফার্মাসিস্ট। ওদের পরিবারের বটবৃক্ষ । উনার ওপেন হার্ট সার্জারি ছিল, ফুসফুস অপারেশন হয়েছিল ৩ বার, বাইপাস অপারেশন ও হয়েছিল। গভর্নর কুমোর আহ্বানে সাড়া দিয়ে উনিও মানবতার সেবায় এগিয়ে গিয়েছিল করোনার এই মহাবিপদের সময় আবার জয়েন করেছিল। উনার পরিবার মানা করেছিল জয়েন করতে, উনি শুধু বলেছিল করোনার এই ভয়াবহ বিপর্যয়ে মানবতার ডাকে সাড়া দেওয়া আমার ধর্ম, করোনার ভয়াল ছোবল উনাকেও কেড়ে নিলো। নিঝুমের মামা আমাদের বাংলাদেশী তথা মানব সমাজের গর্ব, আমাদের সামাজিক মাধ্যমের এই সব মহান মানুষদের মহান গল্পগুলো পড়ছি দেখছি।      

বন্ধু, অনেক হল আমাদের আমেরিকার কথা. এবার আসি বাংলাদেশের কথায়,বাংলাদেশে এসব কি হচ্ছে ? করোনা চিকিৎসার জন্য নির্মাণাধীন হসপিটাল ভাংচুর! করোনা চিকিৎসা  করা যাবে না লিখে হসপিটালে সাইন!  প্রাইভেট হসপিটাল বন্ধ,সরকারি হসপিটালে করোনা চিকিৎসা করবে না বলে ডাক্তার আন্দোলন করে! করোনায় মৃত কারো কবর হবেনা কবরস্থানে সাইন! প্রবাসীদের বাড়ীতে হামলা ও পুলিশের চাঁদাবাজি !প্রবাসীদের হুমকি দিয়ে এয়ারপোর্টে টাকা আদায়! হসপিটালে সাধারণ সর্দি কাশি রুগীদের চিকিৎসা  না করা! ত্রাণ এর নামে ফটো-সেশন ও সাধারণ জনগণকে হয়রানী! করোনা দুর্গতদের বরাদ্দকৃত চাল লুটপাট!

গতকাল যা ঘটল তা দেখে তো রাগে দুঃখে চোখে পানি চলে আসল ।বলছিলাম গার্মেন্টস শ্রমিক দের কথা, সারাদেশ যেখানে লক-ডাউন পাড়া মহল্লা গ্রামে গঞ্জে পুলিশ-আর্মি সামাজিক দূরত্ব ভঙ্গের দায়ে মানুষ জনকে নাজেহাল করছে। গণ পরিবহণ বন্ধ রেখে গার্মেন্টস খোলার ঘোষণা কি করে দেয়? সারাদেশ থেকে পায়ে হেটে শ্রমিকদের শয়ে শয়ে মাইল চলা দেখার পূর্বে গার্মেন্টস মালিক নেতাদের মরণ হওয়া দরকার। শ্রমিক রক্তাত্ত পা, চামড়া উঠে যাওয়া দেখে কার ভালো লাগে। এই পা চালিয়ে দেশের জন্য বৈদেশিক মুদ্রা এনে দেয় আর ঐ শুয়োর গুলি সেই টাকা দিয়ে বিদেশে ছেলে মেয়ে পড়ায়, বাড়ি গাড়ি কিনে টাকার পাহাড় জমায়। এই শ্রমজীবী মানুষগুলোকে  কষ্ট দেওয়ার পূর্বে তারা কী একবারও ভাবল না। একটা ফালতু মহিলাকে বানিয়েছে গার্মেন্টস নেত্রী যে বলে মালিকেরা আমার কথা শুনে না! জানতে ইচ্ছা করে মালিকেরা  কথা না শুনলে আপনি কার নেত্রী?

রাষ্ট্রের কথা বলি।  পুরো দেশে পরিবহণ খোলা রেখে লক-ডাউন দেয়ায় মানুষগুলো সমানে ছুটে গেল গ্রামে।  সেই প্রতিশোধ নিতেই কি পরিবহণ না খুলে গার্মেন্টস খোলার ব্যবস্থা করলো ?  আর রাষ্ট্র তাকিয়ে তাকিয়ে মানবিকতার এই মহা বিপর্যয় আবলোকন করল।  গার্মেন্টস মালিকদের শাস্তির আওতায় আনবে কে? গার্মেন্টস মালিক নেত্রী বলে যে শ্রমিক রা নাকি পেটের দায়ে এসেছে হেঁটে, হা অবশ্যই পেটের দায়ে এসেছে হাজার হাজার শ্রমিক।এখন প্রশ্ন প্রধানমন্ত্রীর কোটি কোটি টাকা কারা পাবে ? রক্তচোষা মালিকেরা না শ্রমিকেরা? এই যে দল বেধে মানুষ আসল এরা তো সব দক্ষ শ্রমিক, আজ যদি এদের সামাজিক দূরত্ব রক্ষা না করার কারণে ব্যাপক ভাবে আক্রান্ত হয় আর মারা যায় ঐ মুনাফাখোর মালিকরা  শ্রমিক পাবে কই? আল্লাহ মাফ করুক এমন যেন না হয়! কিন্তু যদি হয় তবে এই শহর এই রাষ্ট্র কেমন করে রক্ষা করবে ঢাকাবাসীদের।বড় বড় রাষ্ট্র  যেখানে হিমসিম খাচ্ছে সামাল দিতে সেখানে বাংলাদেশে এই অসাবধানতা কেন? সব দেখে শুনে মনে শুধু একটি কথা বাংলাদেশে কি তাহলে মানবিকতা মূল্যবোধ ০% এ চলে গেছে? নিজেদের দেশ আর যে দেশে আমরা থাকি তুলনা করে আজ আমরা প্রবাসীরা চিৎকার করে বলছি “বাংলাদেশ তুমি মানবিক হও।”

বন্ধু, বড় ব্যথিত হৃদয় নিয়ে আজ তোমাকে লিখলাম গার্মেন্টস শ্রমিক ভাই বোনদের রক্তাক্ত পা আমাদের হৃদয় কে রক্তাক্ত করেছে। ভাল থাক  বন্ধু ভাল থাকুক আমার দেশ ও দেশের মানুষেরা।       

ইতি

তোমার বন্ধু যাকে কোনো নামেই ডাকোনা

লেখক: মানবাধিকার কর্মী

সর্বশেষ

আরও খবর

সহমর্মিতার জয় হোক

সহমর্মিতার জয় হোক


মহামারীর এই সময়ে মানুষের পাশে থাকুন

মহামারীর এই সময়ে মানুষের পাশে থাকুন


আসছে শুভদিন!

আসছে শুভদিন!


আমাদের ঝালমুড়ি দাদা ও গরীবের শ্রেণী সংগ্রাম

আমাদের ঝালমুড়ি দাদা ও গরীবের শ্রেণী সংগ্রাম


জন্মভূমির টান মানসিক কষ্টে ফেলে দেয়

জন্মভূমির টান মানসিক কষ্টে ফেলে দেয়


‘মুসলিম সমাজের বিভাজন বন্ধ করুন’

‘মুসলিম সমাজের বিভাজন বন্ধ করুন’


আজ জুইস-মুসলিম এক কাতারে দাঁড়িয়েছে

আজ জুইস-মুসলিম এক কাতারে দাঁড়িয়েছে


সর্ব পর্যায়ে আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে

সর্ব পর্যায়ে আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে


ভাবতেই কষ্ট হয় আমিও বাঙালি

ভাবতেই কষ্ট হয় আমিও বাঙালি


‘তুরস্ক টিকবে তো?’

‘তুরস্ক টিকবে তো?’