Thursday, June 16th, 2016
মানিকগঞ্জে কাঁচা মরিচে ঝাল কম
June 16th, 2016 at 5:16 pm
মানিকগঞ্জে কাঁচা মরিচে ঝাল কম

শাহজাহান বিশ্বাস,মানিকগঞ্জ: মানিকগঞ্জে এবার কাঁচা মরিচের ফলন ভালো হলেও দাম পাচ্ছেন না কৃষক। খেত থেকে মরিচ তুলে বাজারে নিয়ে বিক্রি করতে যে টাকা খরচ হয় ওই টাকাও উঠছে না। উৎপাদন খরচতো দূরের কথা।  ফলে মরিচ নিয়ে চাষীরা পড়েছে মহাবিপাকে।

দাম কম হওয়ায় অনেক চাষী খেত থেকে এখন মরিচ তোলা বন্ধ করে  দিয়েছেন। মরিচের দাম আর যদি না বাড়ে তাহলে মোটা অংকের টাকা লোকসান গুণতে হবে এ অঞ্চলের চাষীদের।

মানিকগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, গত বছর মরিচের দাম ভালো হওয়াতে এবার মরিচের আবাদ বেড়েছে এবং ফলনও ভালো হয়েছে। কিন্তু মরিচের দাম কম।

এ বছর ৫ হোজার ৭০৯ হেক্টর জমিতে মরিচ আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হলেও আবাদ হয়েছে ৬ হাজার ৭৫০ হেক্টর জমিতে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৮ হাজার ২৭৮ মেট্রিক টন। আর গত বছর ৫ হাজার ৫৫০ হেক্টর জমিতে  ৮ হাজার ৩৩৮ মেট্রিক টন মরিচ উৎপাদন হয়েছিল।

জেলার হরিরামপুর উপজেলার মরিচ চাষী আজিমুদ্দিন বিশ্বাস জানান, স্বপ্ন ছিল অন্যান্য পণ্য সামগ্রির মতো রমজান মাসে মরিচের বাজার চড়া থাকবে। পরিবার পরিজন নিয়ে ঈদও ভালো কাটবে। কিন্তু সেই আশা আর বাস্তবে রূপ নিচ্ছে না।

গতবার মরিচের ভালো দাম পাওয়ায় এ বছর ৩ বিঘা জমিতে মরিচের আবাদ করেছেন তিনি। মরিচের ফলন অনেক ভালো। ক্ষেত থেকে প্রতি কেজি মরিচ তুলতে খরচ হয় ৫ টাকা, বাজারে নিতে পরিবহ খরচ ১ টাকা। ক্ষেত থেকে মরিচ তুলে বাজার নিয়ে বিক্রি করতে মোট খরচ হচ্ছে ৬ টাকা। জমি চাষবাস থেকে শুরু করে চারা লাগান এবং পরিচর্যাসহ উৎপাদন খরচতো রয়েই গেছে। অথচ গত এক সপ্তাহ ধরে পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি মরিচ ৩/৪ টাকা দরে বিক্রি করছেন। মরিচের দাম কমে যাওয়ার কারণে এখন আর খেত থেকে মরিচ তোলবো না বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। মরিচের এরকম দাম অব্যাহত থাকলে এবার মোটা অংকের টাকা লোকসান গুণতে হবে বলে জানান তিনি।

জেলার হরিরামপুর উপজেলার ঝিটকা, বাল্লা, মাচাইন, শিবালয় উপজেলার বরংগাইল, নালী, রুপসা, তাড়াইল, শাকরাইল এবং ঘিওর উপজেলার ঘিওর হাট মরিচ কেনা-বেচার জন্য বিখ্যাত।

গত বুধবার সরজমিনে মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার বরংগাইল বাজারে গিয়ে দেখা গেছে, জেলার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে শত শত কৃষক বস্তা, বস্তা মরিচ নিয়ে বসে আছেন একটু ভালো দাম পেয়ে বিক্রির আশায়। কিন্ত তাদের এই আশা সফল হয়নি। এক সপ্তাহ ধরে কাঁচা মরিচের দাম একই জায়গাতেই রয়ে গেছে। প্রতি কেজি ৩ থেকে ৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

হাট সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান,এই হাট থেকে প্রতিদিন ৫০ থেকে ৬০ ট্রাক মরিচ যাচ্ছে ঢাকার কাওরান বাজার, শ্যাম বাজার, কুমিল্লা ও চট্রগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলায়। পাশাপাশি দেশের গন্ডি পেরিয়ে এখান থেকে সৌদি, কুয়েত, দাম্মাম, দুবাইসহ আরো কয়েকটি দেশেও মরিচ রফতানি করা হয়ে থাকে।

হাটে মরিচ বিক্রি করতে আসা বেশ কয়েকজন কৃষকের সাথে কথা বলে জানা যায়, এবার মরিচের বাম্পার ফলনই কাল হয়েছে কৃষকের। উৎপাদন কম হলে দাম ভালো পাওয়া যেতো এমন কথা অনেকের। আবার অনেকে বলছে, রমাজান মাসে বাজারে সব কিছুর দাম চড়া হলেও একমাত্র কাঁচা মরিচই পানির দরে বিক্রি হচ্ছে। যা কৃষক কখনোই আশা করেনি।

শিমুলিয়া গ্রামের  চাষী আফছার আলী ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, সরকার আমাগো দিকে তাকায় না। যখন মরিচের দাম বাড়ে তখন মোবাইল কোর্ট বসিয়ে আমাদের হুমকি দিয়ে যায় দাম কমানো জন্য। কিন্ত এখন মরিচের দাম না পেয়ে কৃষক মাঠে মারা যাচ্ছে। কই কেউ তো এখন  খোঁজ নেয় না, কোথায় গেল তাদের মোবাইল কোর্ট।

বরংগাইল হাটে মরিচ বিক্রি করতে আসা কৃষানী মমতাজ বেগম জানান, অন্যের কাছ থেকে এক বছরের জন্য বর্গা নিয়ে ১৪ হাজার টাকা খরচ করে  মরিচ ক্ষেত করেছিলাম। কিন্ত আমাগো এখন মাথায় হাত। মরিচের দাম নাই। কিভাবে খরচ উঠবে তা এক মাত্র আল্লাহ তায়ালাই ভালো জানেন। এই হাটে মরিচ বিক্রি করতে আসা অনেক  কৃষকের ধারণা,এখান  থেকে  পাইকরারা কম দামে মরিচ কিনে শহরের বেশি দামে বিক্রি করছে। শহরের সঙ্গে গ্রামে দামের ফারাক আকাশ পাতাল।

গাংডুবী গ্রামের মরিচ চাষী আনোয়ার বলেন, শুনেছি ঢাকায় এখনো এক কেজি মরিচ ৪০-৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর গ্রামের খুচরা বাজারে সর্বচ্চ ৮ থেকে ১০ টাকায় বিক্রি হয়। আসলে গ্রামের কৃষক মরলো না বাঁচলো সে দিকে কারো মাথা ব্যথা নেই।

বরংগাইল হাটের আড়ৎদার ও পাইকার বেপারীদের সাথে কথা হলে তারা জানিয়েছে, পানির দরে মরিচ কেনা বেচা হওয়ায় একদিকে কৃষক মরছে অন্যদিকে পাইকারদেরও  লাখ লাখ টাকা লোকসান গুণতে হচ্ছে।

পাইকার মনির হোসেন জানান, এবার দুই লাখ টাকা নিয়ে মরিচ কেনা বেচায় নেমেছিলাম। এ পর্যন্ত ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা খোয়া গেছে।

তিনি বলেন, বরংগাইল হাট থেকে প্রতিদিন মরিচ কিনে চট্রগামে পাঠাই। প্রতি কেজি মরিচ চার টাকা দিয়ে কিনতে হয় আর এক কেজি মরিচ পাঠাতে সব মিলে খরচ পড়ে ৮ টাকা।  আর সেখানে বিক্রি হয় ৭ টাকা কেজি। প্রতি কেজিতে এক টাকা লোকসান হচ্ছে। ব্যবসা টিকিয়ে রাখার জন্য এই ক্ষতি মেনে নিতে হচ্ছে।

বরংগাইল হাটের আড়ৎদার ওয়াজেদ আলী বলেন, মরিচের দাম চড়া থাকলে কৃষক ও আমরা সবাই লাভবান হই। কিন্ত দাম নেমে গেলেও উভয়কে লোকসান গুণতে হয়। কয়েক দিন ধরে লাভ কাকে বলে জানি না। ঢাকার কারওয়ান বাজার, শ্যামবাজার ও চট্রগ্রামেও মরিচের দাম কম বলে তিনি জানান।

শিবালয় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ আনোয়ার হোসেন বলেন, এবার আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় মরিচের উৎপাদন ভালো হয়েছে। দাম কয়েকদিন আগেও ভালো ছিল। কি কারণে যে হঠাৎ করে মরিচের দাম কমে গেলে বুঝতে পারছি না। মরিচ কেনা-বেচার সঙ্গে যারা জড়িত তাড়াই ভালো বলতে পারবে।

নিউজনেক্সটবিডি ডটকম/জাই

 


সর্বশেষ

আরও খবর

দু-তিন দিনের মধ্যে আলুর দাম কমবে: বাণিজ্যমন্ত্রী

দু-তিন দিনের মধ্যে আলুর দাম কমবে: বাণিজ্যমন্ত্রী


আবারও বাড়লো স্বর্ণের দাম

আবারও বাড়লো স্বর্ণের দাম


পেঁয়াজে আমদানি শুল্ক প্রত্যাহার

পেঁয়াজে আমদানি শুল্ক প্রত্যাহার


হিলি স্থলবন্দর দিয়ে আটকেপড়া পেঁয়াজ ঢুকছে বাংলাদেশে

হিলি স্থলবন্দর দিয়ে আটকেপড়া পেঁয়াজ ঢুকছে বাংলাদেশে


স্বর্ণের দাম বাড়ল ভরিতে ২ হাজার ৪৪৯ টাকা

স্বর্ণের দাম বাড়ল ভরিতে ২ হাজার ৪৪৯ টাকা


ভারত থেকে আসছে না পেঁয়াজ

ভারত থেকে আসছে না পেঁয়াজ


রোববার থেকে ৩০ টাকা কেজিতে পেঁয়াজ বিক্রি করবে টিসিবি

রোববার থেকে ৩০ টাকা কেজিতে পেঁয়াজ বিক্রি করবে টিসিবি


সৌন্দর্যসেবায় আয় কমেছে সবার: বেকার ৪০ শতাংশ উদ্যোক্তা-কর্মী

সৌন্দর্যসেবায় আয় কমেছে সবার: বেকার ৪০ শতাংশ উদ্যোক্তা-কর্মী


ইভ্যালির ব্যবসা পর্যালোচনায় ই-ক্যাবের কমিটি গঠন

ইভ্যালির ব্যবসা পর্যালোচনায় ই-ক্যাবের কমিটি গঠন


অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখোমুখি সংবাদপত্র শিল্প

অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখোমুখি সংবাদপত্র শিল্প