Wednesday, November 9th, 2016
মার্কিন নির্বাচন, কেন ভোটারদের ‘ইউটার্ন’?
November 9th, 2016 at 4:54 pm
মার্কিন নির্বাচন, কেন ভোটারদের ‘ইউটার্ন’?

ইলিয়াস খান: মি. আলেকজান্ডার মেরিল্যান্ডের রকভিলে বাস করেন। তিনি এখানে বসবাসকারী তৃতীয় প্রজন্মের আমেরিকান। শান্ত, সুনিবিড় এই রকভিল। আশ পাশে কোন দোকানপাটও নেই। বাড়ির পাশেই রয়েছে সবুজ বন। প্রায়ই বন থেকে বেরিয়ে আসে মায়াবি হরিণ। বারান্দায় দাড়িয়ে দেখা যায়। কৌতুহলী এই প্রাণিটি নির্ভার, নির্ভয়ে অনেক সময় আলেকডান্ডারের দিকে তাকিয়েও থাকে। অনেক সময় কাঠবিড়ালিও এসে দুষ্টুমি করে বারান্দায় ঝুলে ঝুলে।

আলেকজান্ডার সকালে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে ওয়াশিংটন ডিসিতে যান অফিস করতে। সন্ধ্যায় আবার ফেরেন নিজেই গাড়ি চালিয়ে। আলেকজান্ডারের এই সুনসান জীবনে ইদানিং কিছুটা হলেও ছন্দপতন ঘটেছে। তার বাড়ির আশেপাশে অনেক অভিবাসী এসে ঘর গড়েছেন। এদের মধ্যে রয়েছেন এশিয়ান, আফ্রিকান, দক্ষিণ আমেরিকান। কোলাহল অনেক বেড়েছে। এমনকি অনেক সময় দু’একটা মারামারির ঘটনাও ঘটছে। গল্পটির চরিত্র কল্পিত। কিন্তু বাস্তবে এ রকম ঘটছে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমনকালে এমনচিত্র অনেক যায়গায়ই দেখেছি। বাংলাদেশি অভিবাসীদের অনেকেই বলেছেন, ‘মার্কিনীদের অনেকেই অভিবাসীদের ওপর বিরক্ত’।

আর এই সুযোগটিই নিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই আসল আমেরিকানদের বোঝাতে সক্ষম হয়েছেন, অভিবাসীদের কারণে মার্কিনীদের অনেক সমস্যা পোহাতে হচ্ছে। নিরাপত্তা থেকে শুরু করে নানা সমস্যা মোকাবেলা করতে হচ্ছে তাদের। ‘আসল সাদা চামড়ার আমেরিকান’ প্রায় সব একাট্টা হয়ে যায় ৪৫ তম প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে। আসল আমেরিকানরা বলা যায়, অনেক দিন পর একজন একান্ত নিজেদের লোক প্রার্থী হিসেবে পান। আর এই মোক্ষম সুযোগটিই কাজে লাগান। বিগত নির্বাচনগুলোতে যেসব সাদা মানুষ ডেমোক্র্যাটদের ভোট দিয়েছে এবার তাদের বড় একটি অংশ ইউটার্ন নিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসীদের মধ্যে বড় একটি অংশ হিস্পানিক। স্পেনিশ ভাষাভাষীর এই জনগোষ্ঠি ২০০৮ ও ২০১২ সালে নির্বাচনে বারাক ওবামার জন্য যারপরনাই প্রচার চালিয়েছে। সবাই দলবেধে কেন্দ্রে গিয়েছেন এবং ভোট দিয়েছে। নিউইয়র্ক টাইমস বলেছে, ‘হিস্পানিকরা এবার হিলারির জন্য খাটেনি’।

আমেরিকানরা অনেক ক্ষেত্রে উদারতা দেখালেও মানসিকভাবে তারা পুরুষতান্ত্রিক। একজন মহিলা আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হবেন-এটা অনেকেই মানতে পারেননি। নির্বাচনের দু’এক মাস আগে এ নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দে থাকলেও তারা শেষ মূহুর্তে এসে ট্রাম্পের পক্ষেই সিল মেরেছেন।

রিপাকলিকান পার্টির মধ্যে বিরাট একটি অংশ ট্রাম্প বিরোধী ছিল। এদের অনেকের সিদ্ধান্ত ছিল তারা হিলারীকে ভোট দিবেন অথবা ভোটদানে বিরত থাকবেন। কিন্তু নির্বাচনের দু’একদিন আগে তারা মত পরিবর্তন করেন। তারা ট্রাম্পের দিকেই ঘুরে যান।

যত সমালোচনাই থাক, ট্রাম্প নিজেকে একজন দৃঢ়চিক্তের মানুষ হিসেবে উপস্থাপন করতে সক্ষম হয়েছেন। বিশ্বব্যাপী জঙ্গিবাদ ও মৌলবাদের যে বিস্তৃতি ঘটেছে তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক রয়েছে। অনেকেই মনে করেন, এর প্রভাব যে কোন সময় যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখন্ডে এসে পড়তে পারে। এই সম্ভাব্য প্রভাব মোকাবেলার জন্য ট্রাম্পই যোগ্য হিলারী নন-এমন ভাবনা অনেকের মধ্যেই কাজ করেছে।

ইতোপূর্বের নিবাচনে দেখা গেছে, কম আয়ের চাকরিজীবীরা ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে থাকে, ভোট দেয়। কিন্তু এবার তার ব্যতিক্রম ঘটেছে। এদের বড় অংশ রিপাবলিকানদের ওপর আস্থা রেখেছে।

গত আট বছর হোয়াইট হাউস দখলে রেখেছে ডেমোক্র্যাটরা। রেকর্ড গড়ে টানা তৃতীয়বারের জন্য আবারো তাদের দখলে থাকবে পেনসিলভাসিনা এভিনিউর এই ভবনটি -এমনটাই ভেবেছিলেন অনেকে। বিভিন্ন জনমত জরিপ সে রকম ধারনাই পাওয়া যাচ্ছিল। কিন্ত যুক্তরাষ্ট্রের অনেক মানুষ সেটা চায়নি। নানা দোটানায় থাকলেও শেষে এসে তারা ঐতিহ্যমূখী হয়েছে। ট্রাম্পকে নির্বাচিত করেছে।

গত ক’মাস থেকে শুরু করে নির্বাচনের দিন পর্যন্ত বিভিন্ন জনমত জরিপে এগিয়ে ছিলেন হিলারী। কিন্ত শেষ রক্ষা হয়নি। শেষ মূহুর্তে এসে অনেক ভোটার ইউটার্ন নেন। মোটা দাগে, উপরের কারণগুলোই ইউটার্ন দেয়ার অন্যতম কারণ।

সম্পাদনা: সজিব ঘোষ


সর্বশেষ

আরও খবর

করোনা নিয়ে ওবায়দুল কাদেরের কবিতা

করোনা নিয়ে ওবায়দুল কাদেরের কবিতা


আলেমদের ওপর জুলুম আল্লাহ বরদাশত করবেন না: বাবুনগরী

আলেমদের ওপর জুলুম আল্লাহ বরদাশত করবেন না: বাবুনগরী


সকালে কন্যা সন্তানের জন্ম, বিকালেই করোনায় মায়ের মৃত্যু

সকালে কন্যা সন্তানের জন্ম, বিকালেই করোনায় মায়ের মৃত্যু


করোনায় দেশে একদিনে শতাধিক মৃত্যুর রেকর্ড

করোনায় দেশে একদিনে শতাধিক মৃত্যুর রেকর্ড


করোনায় মৃতের সংখ্যা ছাড়াল ১০ হাজার

করোনায় মৃতের সংখ্যা ছাড়াল ১০ হাজার


জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বের হলেই জরিমানা

জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বের হলেই জরিমানা


লকডাউনের নামে সরকার ক্র্যাকডাউন চালাচ্ছে: ফখরুল

লকডাউনের নামে সরকার ক্র্যাকডাউন চালাচ্ছে: ফখরুল


আসামে বন্দী রোহিঙ্গা কিশোরীকে কক্সবাজারে চায় পরিবার

আসামে বন্দী রোহিঙ্গা কিশোরীকে কক্সবাজারে চায় পরিবার


ছয় দিনে নির্যাতিত অর্ধশত সাংবাদিক: মামলা নেই, কাটেনি আতঙ্ক

ছয় দিনে নির্যাতিত অর্ধশত সাংবাদিক: মামলা নেই, কাটেনি আতঙ্ক


ঢাকা-দিল্লি ৫ সমঝোতা স্মারক সই

ঢাকা-দিল্লি ৫ সমঝোতা স্মারক সই