Tuesday, November 8th, 2016
মাশরাফির গৌরবের ১৫ বছর
November 8th, 2016 at 11:43 am
মাশরাফির গৌরবের ১৫ বছর

ডেস্ক: আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আজ ১৫ বছর পূর্ণ করলেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। দেখতে দেখতে এই উত্থান-পতনকে সাক্ষী করে কিংবদন্তি হয়ে ওঠা মাশরাফি আজ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে পূর্ণ করছেন পনেরো বছর।

এ পনেরো বছরে অন্তত এগারো বার মনে হয়েছে, আর পারবেন না। মাশরাফি হারিয়ে যেতে বসেছিলেন। প্রতিবার উঠে দাঁড়িয়েছেন তিনি। প্রতিবার উঠে দাঁড়িয়ে লড়াই করেছেন, ফিরে এসেছেন।

২০০১ সালের ৮ নভেম্বর জিম্বাবুয়ের সাথে টেস্টের মধ্য দিয়ে যাত্রা শুরু করেছিলেন। পরের বছরই নিউজিল্যান্ড সফরে গিয়ে ক্যারিয়ারের প্রথম এবং ভয়াবহতম ইনজুরিতে পড়েন। এরপর দফায় দফায় সাতবার শুধু দুই হাঁটুতে অস্ত্রপাচার হয়েছে, অধিনায়কত্ব পেয়েও দুই দিনের বেশি সেটা করতে পারেননি। দেশকে জিতিয়েছেন অনেক অনেক ম্যাচ। এক সময় ছিলেন দেশের সবচেয়ে বেশি ম্যাচ সেরার পুরস্কার জেতা খেলোয়াড়।

সেখান থেকে সরে গিয়ে হারিয়ে যেতে বসেছিলেন। ২০১১ বিশ্বকাপে ঘরের মাটির আসরে দলেই ঠাঁই হয়নি। সেই মাশরাফি আবার ফিরে এসেছেন। জাতীয় দলের অধিনায়কত্ব পেয়েছেন। জাতীয় দলের অধিনায়ক হিসেবে হয়ে উঠেছেন কিংবদন্তী। টানা ছয়টা ওয়ানডে সিরিজ জিতিয়েছেন বাংলাদেশকে, তুলেছেন বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে।

সোমবার বলছিলেন, এই পনেরো বছর ধরে খেলে যাওয়ার কোনো অর্জন তাকে আপ্লুত করে না। তার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি ১৫ বছর ধরে বাংলাদেশের লাল-সবুজ জার্সিটা পরতে পারা, ‘এই মুহূর্তে খুব ভালো লাগছে। আমি কী করতে পেরেছি, সে কারণে নয়। বাংলাদেশ দলের একজন সদস্য হিসেবে ১৫ বছর পার করলাম, এটাই আমার কাছে অনেক বড়।’

মাশরাফির মতো ইনজুরি আক্রান্ত খেলোয়াড়ের জন্য পনেরো বছর খেলে যাওয়াটা শুধু বিস্ময় নয়, মহাবিস্ময়ের ব্যাপার। তিনি নিজে বলছেন, এই পারার প্রধান কারণ, উপভোগ করতে পারা, ‘ক্রিকেট খেলে যদি উপভোগ না করতাম, আনন্দ না পেতাম, তাহলে খেলতে পারতাম না। বিশেষ করে আমার যত সমস্যা ছিল।’

একটু আক্ষেপ আছে, ইনজুরি না থাকলে এই পনেরো বছরে তার অর্জনটাও হয়তো আরেকটু সমৃদ্ধ হতো। তবে আক্ষেপের চেয়ে ভালো লাগাই বেশি, ‘ইনজুরি না থাকলে হয়ত আরো ভালো কিছু হতে পারতো। পরিসংখ্যান আরো সমৃদ্ধ হতে পারতো। তবে সেই আক্ষেপের চেয়েও ভালো লাগাটা বেশি যখন ভাবি, যে এতো সমস্যার ভেতরও আমি খেলতে পেরেছি। সবার দোয়া ছিল।’

mashrafe

এক নজরে মাশরাফি

  • ২০০১: জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ঢাকা টেস্টের মধ্য দিয়ে ৮ নভেম্বর শুরু জাতীয় দলের হয়ে খেলা; ১৯ নম্বর টেস্ট ক্রিকেটার। একই মাসে একই প্রতিপক্ষের সাথে ওয়ানডে অভিষেক।
  • ২০০২: ইনজুরিতে বসে রইলেন সারাটা বছর। নিউজিল্যান্ড সফরে চোট লেগেছিলো। বাড়িতে রিহ্যাব করার সময় লিগামেন্ট ছিঁড়ে যায়।
  • ২০০৩: দক্ষিণ আফ্রিকায় বিশ্বকাপ দিয়ে আবার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরলেন। পুরো বিশ্বকাপ শেষ করতে পারেননি। গোড়ালি মচকে ফিরে এসেছিলেন। বছরের শেষদিকে ইংল্যান্ডকে কাঁপিয়ে দেওয়া বোলিংয়ের পর আবারও ইনজুরিতে পড়েন।
  • ২০০৪: অলরাউন্ড পারফরম্যান্স দিয়ে প্রথমবারের মতো হারালেন ভারতকে। ডেভ হোয়াটমোরের সাথে জুটি শুরু হলো।
  • ২০০৫: বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট সিরিজ জয়ের অংশীদার। তিন বছর পর প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট খেললেন ঘরোয়া ক্রিকেটে।
  • ২০০৬: অস্ট্রেলিয়াকে কার্ডিফে হারানোর অন্যতম নায়ক হয়ে উঠলেন। কেনিয়ার বিপক্ষে ২৬ রানে ৬ উইকেট এবং পরপর দুই ম্যাচে ম্যাচসেরা। বিয়ে করলেন এ বছর। ভারতের বিপক্ষে টেস্টে অসামান্য ব্যাটিংয়ের কারণে আলোচনায় ছিলো মাশরাফির ব্যাটিং।
  • ২০০৭: ওয়েস্ট ইন্ডিজ বিশ্বকাপে ভারতকে হারানোর পথে অবিস্মরণীয় বোলিং। বিশ্বকাপের আগে নিউজিল্যান্ডকে হারানোর পথে অলরাউন্ড পারফরম্যান্স।
  • ২০০৮: প্রথম দল থেকে বাদ পড়েছিলেন ইনজুরি থেকে ফেরার পর। আইসিএলে যাওয়ার প্রস্তাব ফেরালেন। জাতীয় দলের সহ-অধিনায়ক হলেন; অধিনায়ক মোহাম্মদ আশরাফুল।
  • ২০০৯: আইপিএলে ডাক পেলেন। ৪ কোটি টাকায় কলকাতা নাইট রাইডার্স কিনে নিলো তাকে দুই বছরের জন্য। মোহাম্মদ আশরাফুলকে সরিয়ে পূর্ণাঙ্গ অধিনায়ক করা হলো। ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজে গিয়ে টেস্টের দ্বিতীয় দিনেই ইনজুরিতে পড়ে সে অধ্যায় শেষ।
  • ২০১০: জাতীয় দলের সাথে সামান্য টানাপোড়েন হলো। ইনজুরি থেকে ফিরে এসে ছন্দ পাচ্ছিলেন না। দলে জায়গা হারালেন। তবে একই বছর আবার ইংল্যান্ডে ও আয়ারল্যান্ডে সীমিত ওভারের দলে অধিনায়কত্ব করলেন।
  • ২০১১: পরপর দুই দফা ইনজুরি। সেরে উঠছিলেন বিশ্বকাপকে মাথায় রেখে। এ অবস্থায় আবাহনীর হয়ে খেলতে গিয়ে আবার ইনজুরিতে পড়ায় অনিশ্চিত হলো বিশ্বকাপ। ঘরের মাঠে বিশ্বকাপে বিতর্কিতভাবে রাখা হলো না দলে। সে নিয়ে অনেক তোলপাড়, চোখের পানি। প্রথম বাবা হলেন এই বছর। মাঠের বাইরে থাকলেন প্রায় সারা বছর।
  • ২০১২: প্রথম বিপিএলে প্রায় অপাংক্তেয় ছিলেন। ঘটনাচক্রে ঢাকার অধিনায়ক হলেন এবং শিরোপা জিতলেন।
  • ২০১৩: আবারও বিপিএল শিরোপা। ফিটনেস ইস্যুতে খুব ভুগছিলেন। অপারেশন করিয়ে দারুণ ফিটনেস কাজ করলেন বছর জুড়ে।
  • ২০১৪: পূর্ণ ছন্দে ফিরে এলেন বল হাতে; বছরের মাঝামাঝি মুশফিকের ইনজুরিতে টি-টোয়েন্টি অধিনায়কত্ব করলেন। আর বছর শেষে বাংলাদেশ জাতীয় দলের সীমিত ওভারের অধিনায়ক করা হলো তাকে। টানা ছয়টা ওয়ানডে সিরিজ জিতে উদযাপন করেছেন।
  • ২০১৫: কিংবদন্তী হয়ে ওঠার বছর। ঘরের মাঠে জিম্বাবুয়ে, ভারত, পাকিস্তান, দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজ জয়। অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালে যাওয়া। আবারও বিপিএল শিরোপা জয়।

গ্রন্থনা: জাবেদ, সম্পাদনা: প্রণব


সর্বশেষ

আরও খবর

করোনায় মৃতের সংখ্যা ছাড়াল ১০ হাজার

করোনায় মৃতের সংখ্যা ছাড়াল ১০ হাজার


জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বের হলেই জরিমানা

জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বের হলেই জরিমানা


লকডাউনের নামে সরকার ক্র্যাকডাউন চালাচ্ছে: ফখরুল

লকডাউনের নামে সরকার ক্র্যাকডাউন চালাচ্ছে: ফখরুল


আসামে বন্দী রোহিঙ্গা কিশোরীকে কক্সবাজারে চায় পরিবার

আসামে বন্দী রোহিঙ্গা কিশোরীকে কক্সবাজারে চায় পরিবার


ছয় দিনে নির্যাতিত অর্ধশত সাংবাদিক: মামলা নেই, কাটেনি আতঙ্ক

ছয় দিনে নির্যাতিত অর্ধশত সাংবাদিক: মামলা নেই, কাটেনি আতঙ্ক


ঢাকা-দিল্লি ৫ সমঝোতা স্মারক সই

ঢাকা-দিল্লি ৫ সমঝোতা স্মারক সই


করোনায় আরও ৩৯ মৃত্যু

করোনায় আরও ৩৯ মৃত্যু


করোনায় আক্রান্ত শচীন

করোনায় আক্রান্ত শচীন


নাশকতা ঠেকাতে র‍্যাব-পুলিশের কঠোর অবস্থান

নাশকতা ঠেকাতে র‍্যাব-পুলিশের কঠোর অবস্থান


শুক্র ও শনিবার যান চলাচল নিয়ন্ত্রিত থাকবে

শুক্র ও শনিবার যান চলাচল নিয়ন্ত্রিত থাকবে