Saturday, February 25th, 2017
মুক্তচিন্তার নির্ভীক যোদ্ধার মৃত্যুর দুই বছর
February 25th, 2017 at 9:35 pm
মুক্তচিন্তার নির্ভীক যোদ্ধার মৃত্যুর দুই বছর

ঢাকা: মুক্তচিন্তা আন্দোলনের নির্ভীক অকুতোভয় যোদ্ধা লেখক, ব্লগার ও এ্যাক্টিভিস্ট মুক্তমনা ব্লগের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ রায়’র ২য় মৃত্যুবার্ষিকী রোববার।

২০১৫ সালের এই দিনে একুশে বইমেলা থেকে বের হওয়ার সময় ধর্মান্ধ মৌলবাদীরা রাত সোয়া নয়টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের পাশে সন্ত্রাসীরা অভিজিৎ​ রায় ও তাঁর স্ত্রী নাফিজা আহমেদকে কুপিয়ে জখম করে। আহত অবস্থায় তাঁদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে রাত সাড়ে ১০টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান অভিজিৎ​।

১ মার্চ অভিজিতের মৃতদেহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবনের সামনে অপরাজেয় বাংলা ভাস্কর্য্যের নিকট রাখা হয়, যেখানে বিভিন্ন ক্ষেত্রের মানুষ তাকে শেষ শ্রদ্ধার্ঘ্য প্রদান করেন। অভিজিৎ রায়ের ইচ্ছানুসারে তার মৃতদেহ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে চিকিৎসাশাস্ত্রের গবেষণার জন্য প্রদান করা হয়।

অভিজিৎ রায়ের মৃত্যুর একদিন পরে আনসার বাংলা-৭ নামক একটি সংঘঠন এই হত্যাকাণ্ডের দায়িত্ব গ্রহণ করে। তার পিতা অজয় রায় ২৭ ফেব্রুয়ারি শাহবাগ থানায় হত্যার অভিযোগ দায়ের করেন। যে মামলার এখনো তেমন কোন অগ্রগতি হয়নি। অভিজিৎ রায়ের পিতা একুশে পদকপ্রাপ্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞানের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ড. অজয় রায়।

অভিজিৎ রায় বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যন্ত্র কৌশলে স্নাতক ডিগ্রী প্রাপ্ত এবং উচ্চ শিক্ষার জন্য বাংলাদেশ ছাড়ার আগে একই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক হিসেবে কাজ করেছিলেন। তিনি সিঙ্গাপুরের জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতকোত্তর এবং ডক্টরেট ডিগ্রী অর্জন করেন।

তিনি পেশায় প্রকৌশলী তবে নিয়মিত ব্লগ ও বিজ্ঞান বিষয়ক লেখালেখি করতেন। ২০০১ সালের দিকে সমমনা কয়েকজন লেখকদের নিয়ে মুক্তমনা নামক একটি ওয়েবসাইট তৈরি করেন। এই ওয়েবসাইটটি দ্য ববস সেরা অনলাইন পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়।

২০০৭ সালে মুক্তবুদ্ধি, নাস্তিকতা, বিজ্ঞানমনস্কতার প্রসার আর মানবাধিকার ও সমকামীদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় অবদান রাখার প্রেক্ষিতে মুক্তমনা ওয়েবসাইট শহীদ জননী জাহানারা ইমাম স্মৃতি পদক অর্জন করে।

অভিজিৎ রায় বাংলাদেশে সরকার সেন্সরশিপ এবং ব্লগারদের কারাদণ্ডের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক প্রতিবাদের সমন্বয়কারক ছিলেন।

বিজ্ঞান, নাস্তিকতাবাদ, বাস্তববাদ, সন্দেহবাদ ও যৌক্তিকতার ওপর ভিত্তি করে রচিত অবিশ্বাসের দর্শন এবং বিশ্বাসের ভাইরাস নামক তাঁর দুটি বাংলা বই পাঠক মহলে বহুমুখী সমালোচনা ও জনপ্রিয়তা লাভ করে।

তিনি বাংলাদেশে সরকার সেন্সরশিপ এবং ব্লগারদের কারাদণ্ডের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক প্রতিবাদের সমন্বয়কারক ছিলেন।

অভিজিত রায় তার রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত আদর্শভিত্তিক রচনাগুলির জন্য বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দলের কট্টরপন্থী সমর্থকদের নিকট হতে হত্যার হুমকি পেয়েছিলেন।

মৃত্যুর পূর্বে প্রকাশিত অভিজিৎ রায়ের বইগুলো হল- আলো হাতে চলিয়াছে আঁধারের যাত্রী  (২০০৫), মহাবিশ্বে প্রাণ ও বুদ্ধিমত্তার খোঁজে (২০০৭),স্বতন্ত্র ভাবনা : মুক্তচিন্তা ও বুদ্ধির মুক্তি (২০০৮), সমকামিতা: বৈজ্ঞানিক এবং সমাজ-মনস্তাত্ত্বিক অনুসন্ধান (২০১০),ভালবাসা কারে কয় (২০১২),শূন্য থেকে মহাবিশ্ব (২০১৪), বিশ্বাসের ভাইরাস (২০১৪)।

প্রতিবেদন: শেখ রিয়াল, সম্পাদনা: প্রীতম


সর্বশেষ

আরও খবর

বগুড়ায় বাস-সিএনজি সংঘর্ষে নিহত ৫

বগুড়ায় বাস-সিএনজি সংঘর্ষে নিহত ৫


উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে শাবি শিক্ষার্থীদের আমরণ অনশন

উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে শাবি শিক্ষার্থীদের আমরণ অনশন


দেশে আরও ৯৫০০ জনের করোনা শনাক্ত, হার ২৫ ছাড়াল

দেশে আরও ৯৫০০ জনের করোনা শনাক্ত, হার ২৫ ছাড়াল


টানা তৃতীয়বারের মতো নির্বাচিত হলেন আইভী

টানা তৃতীয়বারের মতো নির্বাচিত হলেন আইভী


অর্ধেক আসন ফাঁকা রেখে বাস চলার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন

অর্ধেক আসন ফাঁকা রেখে বাস চলার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন


আগুনে পুড়ল রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ১২০০ ঘর

আগুনে পুড়ল রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ১২০০ ঘর


এবারের বিজয় দিবসে দেশবাসীকে শপথ পড়াবেন প্রধানমন্ত্রী

এবারের বিজয় দিবসে দেশবাসীকে শপথ পড়াবেন প্রধানমন্ত্রী


কমলো এলপিজির দাম

কমলো এলপিজির দাম


উন্নয়নশীল দেশ নিয়ে খুশি না হয়ে, উন্নত দেশ গড়ার লক্ষ্যে কাজ করার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

উন্নয়নশীল দেশ নিয়ে খুশি না হয়ে, উন্নত দেশ গড়ার লক্ষ্যে কাজ করার আহ্বান রাষ্ট্রপতির


জাতীয় অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম মারা গেছেন

জাতীয় অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম মারা গেছেন