Sunday, February 10th, 2019
মৃণাল হক: শিল্পকর্ম এবং শিল্পের ঠিকাদারী
February 10th, 2019 at 8:43 pm
মৃণাল হক: শিল্পকর্ম এবং শিল্পের ঠিকাদারী

কনক হায়দার;

সম্প্রতি গুলশান ১ -এ উদ্বোধন হওয়া ‘সেলিব্রিটি মিউজিয়াম’ বিষয়ে আবারো আলোচনায় এসেছেন মৃণাল হক। সমালোচকদের একাংশ খুঁজেছেন তাঁর কাজের ‘শিল্প মূল্য’, কেউ খুঁজেছেন তাঁর চিন্তা দর্শনের শেকড়ের হদিস, আবার কেউ বা তুলে ধরতে সচেষ্ট হ’য়েছেন তাঁর অতীত, ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের ইতিহাস। ইতোপূর্বে, মৃণাল হক নানা আলোচনা-সমালোচনায় এসেছেন, সুপ্রীম কোর্ট প্রাঙ্গনে তাঁর করা ‘থেমিস’ এর ভাস্কর্য আর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে স্থাপিত বঙ্গবন্ধুর একটি ভাস্কর্য প্রতিকৃতির কাজের বিষয়ে। এই আলোচনাটিতে আমরা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিশেষ করে তাঁর দায়িত্বে নির্মিত ভাস্কর্য নির্মাণের কাজ সম্পর্কে ভাস্কর্য সংশ্লিষ্ট কাজে শিল্পী সমাজের বক্তব্য ও মতামতের আলোকে বিষয়টি বিশ্লেষণ করব।

কবিগুরুর পেলিক্যান কালির দোয়াতটা এখন কোথায়

গুলশানের এই  ‘সেলিব্রিটি মিউজিয়াম’ এর যাত্রা শুরু হ’য়েছে মূলতঃ লন্ডনের মাদাম তুসোর ওয়াক্স ওয়ার্কের আদলে যদিও মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে ‘ফাইবার গ্লাস’। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রের বিখ্যাত ব্যক্তি বিশেষ করে রাজনীতিক, গায়ক, অভিনেতা, কবি ও লেখক, ক্রীড়াবিদ থেকে শুরু করে পশ্চিমা সিনেমার জনপ্রিয় কিছু চরিত্রের ভাস্কর্য স্থাপন করা হয়েছে এই ‘সেলিব্রিটি মিউজিয়ামে’। ফেসবুকে, টিভি সংবাদে দেখে প্রথমে একরকম মনে হয়েছিল। কারণ, ছবি তুলে সামাজিক মাধ্যমে যারাই শেয়ার করেছেন বা পোস্ট দিয়েছেন, তাদের বেশীরভাগেরই মন্তব্য দেখে ঠিক ঠাহর করতে পারছিলাম না মৃণালের এসব কাজ সম্পর্কে। কারণ, বহুদিন আগে আমার এক শিল্পী বন্ধু আক্ষেপ করেছিলেন, “মানুষ ভাবে যে, আমরা যারা শিল্পী, তারা অনেক উদার দৃষ্টিভঙ্গীর অধিকারী, অনেক মানবিক আর বিনয়ী। কিন্তু আমাদের ভেতরে কাঁদা ছোড়াছুড়ি, পেছনে অহেতুক, অযাচিত গল্প আর কারো সম্পর্কে সত্য-মিথ্যা বানিয়ে বলার মত ঘটনা অনেক বেশী”। চ্যানেল ৭১এ এই  ‘সেলিব্রিটি মিউজিয়াম’ বিষয়ে একটা টক’শোতে মৃণাল হকের এ প্রসঙ্গে তাঁকে ‘পচানো হচ্ছে’, এমন বক্তব্য শুনে জেদ্দা প্রবাসী সেই শিল্পী বন্ধু রাশিদের কথাটা মনে পড়ল। সিদ্ধান্ত নিলাম, কিছু লিখবার আগে আমি নিজেই একটু দেখে আসব।

কবি নজরুল

‘সেলিব্রিটি মিউজিয়াম’ এ প্রবেশ করতেই হাতের বায়ে প্রথমেই চখে পড়ে, আমার একজন খুব প্রিয় মানুষ ‘চে গুয়েভারা’র ভাস্কর্য। তাঁর পাশেই বসে কবিগুরু, লিখছেন, নিমগ্ন চিত্তে, কাগজের সামনেই ‘পেলিক্যান’ ব্র্যান্ডের একটা কালির একটি দোয়াত। ডানে দাঁড়িয়ে, দুটো বুড়ো আঙ্গুল উঁচিয়ে খোশ মেজাজে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্পের পাশে দাঁড়িয়ে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা। তারপরে, প্রয়াত মাদার তেরেসা এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। গ্যালারীর এই অংশটি পেড়িয়ে ভেতরে ঢুকতেই চোখে পড়ল বিদ্রোহী এবং আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম, কারাগারের পুরু গারদের পেছনে দাঁড়িয়ে। তাঁর সামনে দাঁড়াতেই বেজে উঠল, ‘কারার ঐ লৌহ কপাট…’ গানটি। গানের সুর আর বাণী কানে যেতেই, গায়ের লোম দাঁড়িয়ে গেল। এক অদ্ভুত অনুভূতি এসে ঘিরে ধরল আমাকে। ব্রিটিশ দখলদারী উপনিবেশবাদের বিরুদ্ধে সেই ছোট্টবেলায় অনুভূত এক বিদ্রোহী আবেগ ফুঁসে উঠল। কবি নজরুলের ঠিক উল্টো দিকেই, ফাঁসীর মঞ্চে দাঁড়িয়ে বিপ্লবী বাঙালী কিশোর ক্ষুদীরাম বসু। ক্ষুদীরামের সামনে দাঁড়াতেই বেজে উঠল, ‘একবার বিদায় দে মা ঘুরে আসি।’ ক্ষুদীরামের আত্মত্যাগ আর নিজেকে স্বাধীনতার জন্য উৎসর্গ করবার ইতিহাস স্মরণ করিয়ে দিল। আবারো ব্রিটিশ বিরোধী, স্বাধীনতাকামী বাঙালীর চির পরিচিত সেই অনুভূতি আমায় ঘিরে ধরল। কবি নজরুলের পাশেই দাঁড়িয়ে, অহিংস নীতির প্রবর্তক, ভারতীয় স্বাধীনতা ইতিহাসের স্বীকৃত পিতা ‘মহাত্মা গান্ধী’। এরপর, একে একে দাঁড়িয়ে বিশ্বখ্যাত গায়ক মাইকেল জ্যাকসন, চার্লি চ্যাপলিন, কলম্বিয়ান বংদ্ভুত গায়িকা শাকিরা, প্রয়াত প্রিন্সেস ডায়না, বম্বের ফিল্মী হিরো শাহরুখ খান, আর্জেন্টাইন ফুটবলার মেসি এবং জ্যামাইকান গায়ক বব মার্লী। এরপর, শেষের অংশটিতে আছে হলিউড সিনামার কিছু জনপ্রিয় চরিত্র – ক্যাপটেইন জ্যাক স্প্যারো, স্পাইডার ম্যান, থ্রী সটুজেসের ৩টি ফিগার এবং রোবো কপ।

একি কি আমাদের প্রিয় চ্যাপলিন, নাকি অন্য কেউ!

প্রদর্শিত ফাইবার গ্লাসের ভাস্কর্যগুলোর মধ্যে মাইকেল জ্যাকসন, মিঃ বিন, চার্লি চ্যাপলিনের চেহারা চুরি হয়ে গেছে। প্রকৃত চেহারার সাথে ভাস্কর্যের চেহারার মিল কম। শাহরুখ খানকে চিনে নিতে কষ্ট হচ্ছে। বিশেষ করে ‘সাইলেন্ট মুভি’-র জনপ্রিয় অভিনেতা এবং চলচ্চিত্রকার চ্যাপলিনকে লুঙ্গি আর গেঞ্জি পড়িয়ে দিলে চেহারা চেনা কষ্টদায়ক হবে বৈকি। শাকিরাকে একেবারেই চেনা যায় না। প্রিন্সেস ডায়নার প্রতি চরম অবিচার করা হয়েছে। “লায়নেল মেসি হ্যাজ বীন অ্য মেসি জব সো ফার”।

ডায়ানার বেশে ইনি কে!

জাতীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক মহলে বিরূপ সমালোচনা হ’তে পারত, যদি জীবিত এবং ক্ষমতাধর রাজনীতিকদের ভাস্কর্যের চেহারার প্রোফাইল বুঝতে সমস্যা হত। তা হয়নি। সময় নিয়ে, যত্ন করে তা করা হয়েছে। মৃণাল হকের তৈরিকৃত কবিগুরু রবিন্দ্রনাথ ঠাকুর কিংবা জাতীয় কবি নজরুল ইসলামকে চিনতে খুব একটা কষ্ট হচ্ছে না। এই গ্যালারীর কাজ সম্পর্কে যে যাই বলুক , এটা একটা বিনোদনের জায়গা। একটা বাণিজ্যিক উদ্যোগ। মাদাম তুসোর আদলে করা ‘সেলিব্রিটি মিউজিয়াম’টিতে তরুণ প্রজন্মের সেই অংশটিই আসবে যারা ‘সেলফি ক্রেজ’ এ আসক্ত। কিংবা,  অনেকেই আসবেন তাদের শিশু সন্তানদেরকে সাথে নিয়ে বিখ্যাত ব্যক্তির সাথে পরিচয় করাতে। এক্ষেত্রে, মৃণাল হকের এই কাজের শিল্পের সূত্র খুঁজে দেখবার প্রচেষ্টা অপ্রয়োজনীয়। কারণ, এটা স্পষ্টতঃই একটি বাণিজ্যিক প্রচেষ্টা। শিল্প বোদ্ধা ব্যক্তির ক্ষেত্রে শিল্পের সন্ধানে যাবার মত আরও অনেক জায়গা এই বাঙলাতেই রয়েছে, সেটা জোর দিয়ে বলা যায়।

শাকিরার ভূমিকায় কে দাঁড়িয়ে!

সেলিব্রিটি মিউজিয়ামে প্রাথমিকভাবে উপস্থাপিত ৩২টি ভাস্কর্য তৈরিতে সময় লেগেছে মাত্র ৬ মাস বা ১৮০ দিন। তাতে করে, ভাস্কর্য প্রতি গড় সময় ব্যয় হয়েছে ৫ দিন ১৫ ঘণ্টা। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠবে কাজের মান সম্পর্কে। হয়তোবা সেকারণেই ভাস্কর্যের মূল ব্যক্তিকে চিনে নিতে প্রয়োজন হ’য়েছে পেছনে মূল ব্যক্তির প্রমাণ সাইজের ছবি সম্বলিত পোস্টার আর ইনফ্রারেড সেন্সরে বাজানো গান।

মেসির চেহারা চুরি করেছে কেউ

রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠিত স্বাধীন বাংলাদেশে, ১৯৭৩ সালে নির্মিত হয় উল্লেখযোগ্য প্রথম ভাস্কর্য ‘জাগ্রত চৌরঙ্গী’, নির্মাণ করেন ভাস্কর শিল্পী আব্দুর রাজ্জাক (১৯৩২-২০০৫)। আব্দুর রাজ্জাক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের ভাস্কর্য বিভাগের প্রতিষ্ঠাকালীন শিক্ষক। এটি জয়দেবপুর চৌরাস্তার মোড়ে স্থাপন করা হয় যার উচ্চতা ৪২ ফিট (১৮’ + ২৪’)। এরপর, সৈয়দ আব্দুল্লাহ খালিদ ১৯৭৩ এ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের সামনে শুরু করেন ‘অপরাজেয় বাংলা’ যার কাজ থেমে যায় ’৭৫ এর আগস্টে, বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পরে। খালিদ সেই কাজ অনেক বাধার মুখে সম্পন্ন করেন ১৯৭৯ সালের বিজয় দিবসে, ১৬ই ডিসেম্বর তারিখে। ভাস্কর্যটির উদ্বোধন করানো হয় যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের দিয়ে। বাংলাদেশে সাধারণ নাগরিকসহ সকল মহলে আব্দুল্লাহ খালিদ তাঁর এই কাজটির কারণে এক শ্রদ্ধার আসন তৈরি করে নিয়েছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলের সামনে, স্থপতি আজিজুল জলিল পাশার তৈরি দৃষ্টিনন্দন একজোড়া দোয়েল পাখি। জায়গাটি ‘দোয়েল চত্বর’ নামে পরিচিতি পায়। ঢাকা শহরের উল্লেখযোগ্য ভাস্কর্য কাজের তালিকায় এই কাজগুলো ‘মাইলফলক’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

জ্যাকসনের গানের সুর ভেসে না আসলে বোঝা যেত না ইনি কে

১৯৯০ এর মহান স্বাধীনতা দিবসে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় পাঠাগারের সামনে উদ্বোধন করা হয় ব্রোঞ্জ ধাতুতে নির্মিত ‘সংশপ্তক’। এটি উচ্চতায় ১৫ ফিট। শিল্পী ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের ভাস্কর্য বিভাগের শিক্ষক হামিদুজ্জামান খান।

শাহরুখ বেশে এই লোকটা কে!

একই সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি-র ‘ক্যাম্পাস স্যাডো’-র পেছনে শামিম শিকদার তৈরি করেন স্বোপার্জিত স্বাধীনতা। এর অদুরেই, টিএসসি-র সড়ক দ্বীপে ১৯৯৭ এর ১৭ই সেপ্টেম্বরে উদ্বোধন করা হয় সন্ত্রাস বিরোধী ‘রাজু ভাস্কর্য’। এটির শিল্পী ছিলেন শ্যামল চৌধুরী।

ভাস্কর্য নির্মাণের ক্ষেত্রে আরও অনেক প্রথিতযশা শিল্পী ঢাকাসহ সারা দেশেই কাজ করেছেন যা উল্লেখ করবার মত। এঁদের মধ্যে আছেন নীতিন কুণ্ডু (১৯৩৫-২০০৬)। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁর নির্মিত মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ঘিরে ভাস্কর্য ‘শাবাস বাংলাদেশ’ আরেকটি উল্লেখযোগ্য কাজ। কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘যুদ্ধভাসান’ নির্মাণ করেন ভাস্কর্য শিল্পী এজাজ কবির। ঢাকা শহর জুড়ে দৃষ্টি নন্দন কাজের মধ্যে নীতিন কুণ্ডুর উল্লেখযোগ্য কাজ হল কাওরান বাজারের ‘সার্ক ফোয়ারা’ এবং জাতীয় প্রেস ক্লাবের সম্মুখে ‘’কদম ফোয়ারা’। স্বাধীনতা যুদ্ধ কালীন সময়কে স্মরণে রেখে মুজিবনগরে আরেকটি বড় মাপের কাজ হয় যাতে অনেক শিল্পী ও স্থপতি অংশ নেন। ১৯৮৩ সালে একটি প্রতিযোগিতায় স্থপতি জালাল আহমেদ প্রদত্ত একটি নকশা গৃহীত হয়। পরবর্তীতে, বাস্তবায়নের সময়টিতে স্থপতি তানভীর নাকীবও তাঁর কাজের সাক্ষর রাখেন এই বড় মাপের কাজটিতে।

গুগল সার্চ ইঞ্জিনের ফলাফল থেকে মৃণাল হকের বিষয়ে জানা যায়, তাঁর কাজের বিশেষত্ব রয়েছে ‘টাইলস পেইন্টিং’ এর ক্ষেত্রে (মোটামুটি ৩৬,০০০ বর্গফুট)। তাঁর উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে র’য়েছে শাহ জালাল বিমান বন্দরের ভিআইপি টার্মিনাল এবং বিমান বন্দরের সম্মুখ সড়কে নির্মিত ম্যুরাল। এছাড়াও ঢাকা শহরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা আরও অনেক একই ধরণের কাজ তিনি করেছেন। তাঁরই ভাষায় তিনি নিজে পরিশ্রম করে কাজ তৈরি করে নিয়েছেন। ঢাকায় তাঁর তৈরিকৃত ভাস্কর্যের মধ্যে রয়েছে, মতিঝিল এলাকার ‘বলাকা’, রাজারবাগ পুলিশ লাইনের ‘দুর্জয়’, ‘প্রত্যাশা’ (বঙ্গবাজার), ‘অর্ঘ্য’ (সাইন্স ল্যাব), ‘সাম্যবাদ’ (কাকরাইল), ‘বর্ষারানী’ (তেজগাঁও)।

ঢাকা শহরে, উন্মুক্ত জায়গায় সুন্দর স্থাপনার কাজে বিভিন্ন সরকারী, বেসরকারী এবং স্বায়ত্বশাসিত সংস্থায় ছিল না কোন নিয়ম কানুন, এখনও গৃহীত হয়নি কোন সুনির্দিষ্ট নীতিমালা। বিভিন্ন সময়ে মৃণালের ভাষ্যমতে, ব্যক্তিগত উদ্যোগে, নিজের প্রচেষ্টায় নিজের পকেটের পয়সায় তিনি অনেক কাজ করেছেন। সমালোচকদের একটি অংশের দাবী অনুযায়ী, এসব কাজ পেতে তিনি তাঁর রাজনৈতিক পরিচয়কে পুঁজি করেছেন। জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির (প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ের পরে ২য় কমিটিতে) ‘সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক’ হিসেবে তাঁর ছিল বিশেষ প্রভাব, যদিও তিনি তাঁর এই ভূতপূর্ব পরিচয় অস্বীকার করেন। পরে, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এনামুল করিম শহীদ নিশ্চিত করেন, ছাত্রদলের গোলাম সরোয়ার মিলনের কমিটিতে (২য় কমিটি) মৃণাল ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক। তাঁর পিতা ছিলেন বিএনপির নীতি নিরধারক কমিটির স্থায়ী সদস্য। ভগ্নিপতি জঙ্গী বাংলা ভাইয়ের কথিত মদতদাতা ব্যারিস্টার আমিনুল হক বিএনপির মন্ত্রী। সম্ভবতঃ রাজনৈতিক এসব প্রভাবকেই হয়তোবা কাজে লাগিয়ে করে গেছেন, একের পর এক, অনেকগুলো কাজ। এমনতর কাজে ছিল বিস্তর অর্থযোগ। একারনেই কি নিন্দুকের দলের তাঁকে ঘিরে সদা ব্যস্ততা ?

২০০৭ সালের সেনা সমর্থিত সরকারের সময়টিতে তারেক জিয়ার কেন্দ্রীয় কারাগারে থাকাকালীন সময়ে কেন্দ্রীয় কারাগারের দেয়ালে একটি মুরাল স্থাপন করেন বলে জানা যায়। এই ম্যুরালটিতে দৃশ্যমান ছিল, বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান হাত ওঠালেন, কয়েকটি কবুতর উড়ে গেল, অবমুক্ত হল।

অতিসম্প্রতি, সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গনে স্থাপিত গ্রীক ন্যায় বিচারের দেবী থেমিসের কথিত ভাস্কর্যটি নিয়ে বিতর্কের অবতারণা হয়েছিল যা আমাদের জাতিগত কাঙালিপনাকেই স্পষ্ট করেছিল। একদিকে নারী বিদ্বেষী, অতি মৌলবাদী ধারার হেফাজতের ওই ভাস্কর্যটি সরিয়ে ফেলবার দাবী, আর সে দাবীর প্রেক্ষিতে স্বাধীনতার পক্ষের চেতনার নাগরিক-সমাজ হিসেবে পরিচিত গোষ্ঠীর তা টিকিয়ে রাখবার দাবী। ভাস্কর্যটি সরিয়ে ফেলতে হ’ল। এটা সম্ভব ছিল না যদি কথিত থেমিসের মূর্তির শিল্পমূল্য বিষয়ে কোন প্রশ্ন না উঠত। যদিও মৃণাল হক দাবী করেছিলেন, এটি তৈরি করবার আগে উনি নকশা পেশ করেছিলেন যার অনুমোদন করেছিলেন দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত সুপ্রীম কোর্টের সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা। এক্ষেত্রে সরকারী, বেসরকারি বা স্বায়ত্ব শাসিত সংস্থার কাজের প্রক্রিয়া কিভাবে সম্পন্ন হয়, সে বিষয়ে সবাই জানেন। এই সময়ের বাস্তবতায়, ‘উন্নয়ন বা মেরামতি কাজে’ একজন ঠিকাদার একটি কাজের ক্ষেত্র তৈরি করতে গিয়ে কিভাবে বিভিন্ন টেবিলে ‘লাল ফিতেয়’ মোড়ানো ফাইল নিয়ে ছুটোছুটি করেন, সেটা অধিকাংশের বোধের সীমার ভেতরে বাস করে। এক্ষেত্রেও সম্ভবতঃ কোন ব্যত্যয় ঘটেনি বলে অনেকেই মনে করেন।

কথিত ন্যায় বিচারের গ্রীক দেবী থেমিসের ভাস্কর্যটি সরিয়ে ফেলবার অব্যবহিত পরেই, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থাপিত বঙ্গবন্ধুর বিশালকায় ভাস্কর্যটিও রাতের আধারে সরিয়ে ফেলতে হয়েছে। অভিযোগ আছে ভাস্কর্য নির্মাণে ব্যবহৃত নিম্নমাণের সামগ্রীর বিষয়ে, মাপজকেও ছিল ত্রুটি। ১৫ ফিট উচ্চতার ভাস্কর্যটি দাঁড়ায় ১১ ফিটে। স্থাপনের অল্প সময়ের মধ্যে ভাস্কর্যটির নানাস্থানে রঙ উঠে যাওয়া, আস্তর খুলে পরা এবং ফাটল দেখা দেয়া ছিল অনাকাঙ্ক্ষিত। ২০১৭এর মার্চে তৈরি করা এই ভাস্কর্যটি স্বল্প সময়ের মধ্যে ৩ বার সংস্কার কাজের প্রয়োজন হয়। টেণ্ডার প্রক্রিয়াকে কৌশলে এড়িয়ে মৃণাল হককে কাজটি পাইয়ে দিতে, দুই অর্থ বছরে, দুটি ধাপে ১০ লক্ষ টাকা হিসেবে মোট ২০ লক্ষ টাকা প্রদান করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের বিরুদ্ধেও ওঠে দুর্নীতির অভিযোগ। পরবর্তীতে, কুবি অফিস সূত্র জানায়, জাতির জনকের ম্যুরাল নিয়েও যদি কেউ এমন বাণিজ্যিক চিন্তা করে থাকে, তাহলে তা মেনে নেয়া যায় না। একই সুত্রের অভিযোগ মতে, ২০ লাখ টাকা দিয়ে মৃণাল হক যে মানের ম্যুরাল তৈরি করেছিলেন তা সত্যিই বিস্ময়ের ব্যাপার, কারণ যে কাজ হয়েছে, তাতে করে ‘এ ধরনের ম্যুরাল তৈরি করতে ২ লক্ষ টাকাও লাগবার কথা নয়’।

লেডি ডি, শাকিরা আর চ্যাপলিনের চেহারা কোথায় গেল

বছর তিনেক আগে, বুদ্ধিজীবী মহলে এ সংক্রান্তে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় ওঠে। ৪০০ বছরের পুরানো শহর রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন জায়গায় যত্রতত্র ভাস্কর্য নির্মাণের যে র‍্যালী শুরু হয়, তাতে করে রাজধানী শহর ঢাকার এক কিম্ভুতকিমাকার চেহারার প্রকাশ ঘটেছে। তাদের মতে, এই যাত্রার শুরু হয়েছিল ৮০-র দশকের মধ্য ভাগে। ৯০-র দশক পেরিয়ে নতুন সহস্রাব্দে তা এক প্রকট আকার ধারন করে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এবং বিশিষ্ট শিল্প সমালোচক অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম ঢাকা শহরে সৃষ্ট এই “দৃষ্টি দূষণ” প্রসঙ্গে বলেন, “আমি একমত। রাজধানীতে হঠাৎ গজিয়ে ওঠা অনেক কদাকার ভাস্কর্য আছে। এগুলো প্রতিস্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া উচিত সরকারের। যে কোনও ভাস্কর্য করার আগে কোনও ব্যক্তি যদি বিনামূল্যেও করে দিতে চান, তাও শিল্পবোদ্ধা একটি কমিটির মধ্য দিয়ে কাজটি সম্পাদন হওয়া জরুরি। তা না হলে, এসব জিনিস তৈরি হতে থাকবে এবং একসময় দেখবো শিল্পগুনহীন সংস্কৃতি বিচ্ছিন্ন কিছু এলোমেলো ভাস্কর্যে চারপাশ ভরে গেছে”। (সুত্রঃ দৈনিক আমাদের সময়, ২৯শে ফেব্রুয়ারী, ২০১৬)

মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে, ইসলাম আর পাকিস্তানের অখণ্ডতা রক্ষার নামে চালানো হ’য়েছে অসংখ্য গনহত্যা। আর বাঙালী জাতিকে বুদ্ধিশূন্য করতে হত্যা করা হ’য়েছে আমাদের বুদ্ধিবৃত্তিক সমাজের নেতৃত্বে থাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিল্পী, লেখক, কবি, সাংবাদিক, চলচিত্রকারসহ অনেককেই। ফলশ্রুতিতে, জাতিগতভাবেই স্বাধীনতা উত্তর যুগে, সাধারণের মধ্যে, বিশেষ করে সরকারে, আমলাতান্ত্রিকতায়, রাজনীতিতে শৈল্পিক চেতনা বোধের মানুষ পাবার ক্ষেত্রে ছিল এক শূন্যতা। হয়তোবা, একারণে এমন প্রশ্ন উঠতেই পারে যে, শৈল্পিক চেতনা বিবর্জিত এসব কর্মকর্তারাই দৃষ্টি দূষণীয় কাজের জন্য দায়ী ? নাকি, এর সাথে মিলে মৃণাল হকের রাজনৈতিক প্রভাব-পরিচয়ই শহর জুড়ে এসব কাজের কারণ ?

মৃণাল হকের অতীতের রাজনৈতিক পরিচয়কে ছাপিয়েও যে প্রসঙ্গটি সম্প্রতি সবার নজরে এসেছে তা’হল, তাঁর ৯০-র দশকে নিউইয়র্কে থাকাকালীন, নিউইয়র্কের ‘ঠিকানা’ নামক পত্রিকায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সম্পর্কে তাঁর একটি মন্তব্য। সেখানে কোন এক সাক্ষাৎকারে তিনি ঔদ্ধত্যের সুরে বলেছিলেন, “ইচ্ছে ছিল আমি নিজে গিয়ে শেখ মুজিবকে হত্যা করি” যদিও তিনি এই সাক্ষাতকারের বিষয়টি অস্বীকার করেন। এতসব সমালোচনা সত্বেও সম্প্রতি চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিষদের উদ্যোগে এই একই শিল্পীকে দিয়ে তৈরির সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে, বঙ্গবন্ধুর ১০০ ফিট উচ্চতার একটি ভাস্কর্য নির্মাণের। প্রশ্ন উঠতেই পারে, এই সময়ে এই ভাস্কর্য তৈরির ক্ষেত্রে তাঁর হয়ে তদ্বিরের দায়িত্বে কে বা কারা সক্রীয় ???

বিগত কয়েক দশকে, সরকারী-বেসরকারী এবং স্বায়ত্বশাসিত সংস্থাগুলোতে, সৌন্দর্য চর্চায় ও শোভা বর্ধনের অংশ হিসেবে, শৈল্পিক কাজের ক্ষেত্রে দুর্নীতি আর অনিয়মের যে সংস্কৃতি তৈরি হ’য়েছে, আজ তারই ধারাবাহিকতায় বঙ্গবন্ধুর আরেকটি (কথিত) ভাস্কর্য রাঙ্গামাটি শহরের প্রবেশ মুখে দাঁড়িয়ে আছে, তাঁর ৭ই মার্চের ভাষণের বহুল পরিচিত ভঙ্গীকে স্মরণ করে রাখবার এক ব্যর্থ চেষ্টা স্পষ্ট পরিলক্ষিত হয় তাতে। আমার সাথে প্রকৃত শিল্প বোদ্ধা বা সমালোচকেরা সবাই একমত হবেন, নির্মিত ভাস্কর্যটি কোনভাবেই বঙ্গবন্ধুর হতে পারে না। শিল্পী নয়, নির্মাণকারী ঠিকাদারের নাম জানতে অনেক সচেষ্টা হয়েছি, কেউ বলতে পারেননি। চারুকলার ভাস্কর্য বিভাগ সংশ্লিষ্ট কেউই এই ঠিকাদারের নাম বলতে পারেননি। কারণ, সরকারী নথি পত্রে হয়তোবা দেখানো হয় কোন শিল্পীর নাম, কাজের করানো হয়ে থাকে কোন রাজমিস্ত্রী কিংবা স্থানীয় ভাষায় কোন ‘ওস্তাগার’কে দিয়ে। একজন প্রকৃত শিল্পীর পক্ষে এই মাত্রার ব্যত্যয় ঘটানো আদৌ সম্ভব কি ? শৈল্পিক কাজের ক্ষেত্রে কোন সুস্পষ্ট নীতিমালা তৈরি না হবার কারণেই হয়তোবা দৃষ্টি দূষণের এক অসম প্রতিযোগিতায় মেতেছেন গুটি কয়েক শিল্পী পরিচয় দেয়া শিল্পের ঠিকাদার, যারা ঘুরে ফিরে বারবার কাজ পেয়ে যান, যাদের সহায়তায় থাকেন শিল্প-জ্ঞান বিবর্জিত গুটি কয়েক দুর্নীতির সংস্কৃতিতে আকণ্ঠ ডুবে থাকা আমলা, আর প্রকৌশল কাজ সংশ্লিষ্ট কর্তাব্যক্তি।

আমরা কথা বলি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ইন্সটিটিউট অব ফাইন আর্টসে’র ভাস্কর্য বিভাগের একজন জ্যেষ্ঠ শিক্ষকের সাথে। বিষয় ছিল মৃণাল হকের সার্বিক কাজের ওপর একটা নিরপেক্ষ মতামত। ভাস্কর্য বিভাগের সিনিয়র এই অধ্যাপক হামিদুজ্জামান খান যোগ করেন, একজন ভাস্করের ভাস্কর্য কাজে অধিকতর যত্নবান হওয়া উচিৎ। একজন ভাস্কর্য শিপ্লী তাঁর কাজে, সাবজেক্টের যথাযথ মাপজোক এর ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, কিছু কাজ দীর্ঘ সময় ধরে থাকবে। কাজের ক্ষেত্রে, যে কোন ত্রুটি আগত সময়ে যে বিরূপ সমালোচনার জন্ম দেবে, সেটা একজন শিল্পীকে আগেই ভাবতে হবে। কারণ, এক্ষেত্রে যে কোন ব্যত্যয় ঘটলে নান্দনিকতা খুঁজে পাওয়া যাবে না। যে কোন কাজ দৃষ্টিনন্দন না হলে, তা পরবর্তী সময়ে, অনভিপ্রেত বাস্তবতার জন্ম দিবে।

একই প্রতিষ্ঠানের ভাস্কর্য বিভাগের একজন সহযোগী অধ্যাপক ‘লালা রুখ সেলিম’ দৃষ্টি দূষণে দুষ্ট ভাস্কর্যের কারণ হিসেবে বলেছেন, “এখানে একাধারে আছে পদ্ধতিগত দোষত্রুটি এবং দুর্নীতি”। একই বিভাগের একজন সহকারী অধ্যাপক ‘মোঃ কাওসার হোসেন টগর’ বলেন, উন্মুক্ত জায়গার এই জাতীয় কাজ চিন্তা ভাবনা করে হওয়া উচিৎ।” এঁরা কেউই মৃণাল হকের কাজকে মানদণ্ডের বিচারে ‘ভাল’ বলতে রাজী নন। মৃণালের কোন কাজে শিল্প মান বজায় থেকেছে, এটা কেউই স্বীকার করতে রাজী নন। উন্মুক্ত সরকারী জায়গায় কোন কাজ উপযুক্ত কিনা, সেটা বিবেচনা করা উচিৎ। সামষ্টিক মতামতকে গুরুত্ব দেয়া প্রয়োজন। তাঁরা আরও যোগ করেন, “সরকারকে ১০ দফা দাবী পেশ করা হয়েছে, যাতে করে ঢাকাসহ বড় শহরগুলোতে এধরনের কাজের ক্ষেত্রে একটা কমিটি থাকবে। স্থাপত্যবিদ, পরিবেশবিদ এবং শহর পরিকল্পনায় সংশ্লিষ্টজনেরা সেসব প্রস্তাবনার ক্ষেত্রে যথাযথ মতামত প্রদান করবেন, যাতে করে পরবর্তী সময়ে বিরূপ পরিস্থিতির উদ্ভব না হয়, দৃষ্টি দূষণের দায়ে কেউ অভিযোগের আঙুল তুলতে পারেন”।

হ্যা। আমরা সাধারণ নাগরিক সমাজও আশা করি, শৈল্পিক কাজের স্থাপনার প্রক্রিয়াগত অব্যবস্থাপনা এবং দৃষ্টি দূষণ তৈরির এই অনাকাংখিত সংস্কৃতির হোক অবসান। তৈরি হোক এই জাতীয়ভাবে শিল্প নির্ভর কাজের ক্ষেত্রে প্রক্রিয়াগত স্বচ্ছতা এবং সুনির্দিষ্ট নীতিমালা যা আগত যুগে, আগত প্রজন্মসহ সবার কাছেই নান্দনিক বিচারে সৌন্দর্য হিসেবে ধরা দেবে।

দর্শনার্থীদের এরা সাধারণ নাগরিকের প্রতিনিধিত্ব করে কি!

পরিশেষে, এটা না বললেই নয়, মৃণাল হকের দাবী মতে এই ‘সেলিব্রিটি মিউজিয়াম’ সাধারণ নাগরিকের জন্য। প্রবেশের নির্ধারিত মুল্যের পরিমাণ (৳-৫০০.০০) তেমন বক্তব্যকে সমর্থন করে না। ‘সেলিব্রিটি মিউজিয়াম’কে ঘিরে বিভিন্ন বক্তব্যে, মৃণাল হক সরকারের সহায়তা চেয়েছেন। এই ব্যবসায়ী উদ্যোগে বাংলাদেশ সরকার কোন উদ্যোগ নেবে না, সেটাই স্বাভাবিক। অবশ্য এই উদ্যোগটিতে যদি শিল্প সংশ্লিষ্ট বিষয় থাকত যা বাঙ্গালীকে, বাঙালীর সংস্কৃতিকে প্রতিনিধিত্ব করে, তেমন কিছু থাকলে হয়তোবা সরকারের সহায়তা পাওয়া সম্ভব হত। উপরন্তু, এই গ্যালারীতে আমার অবস্থান কালীন সময়ে, আমার দেখা দর্শনার্থীরা কেউই সাধারণ নাগরিক সমাজকে প্রতিনিধিত্ব করেন না। আমার দেখা দর্শনার্থীরা সবাই অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোন থেকে সমাজের উঁচুতলার নাগরিক সমাজকেই প্রতিনিধিত্ব করেন।


সর্বশেষ

আরও খবর

সড়কে কম গণপরিবহন, পায়ে হেঁটে গন্তব্যে যাচ্ছেন যাত্রীরা

সড়কে কম গণপরিবহন, পায়ে হেঁটে গন্তব্যে যাচ্ছেন যাত্রীরা


সারাদেশে পরিবহন ধর্মঘটে নাকাল যাত্রীরা

সারাদেশে পরিবহন ধর্মঘটে নাকাল যাত্রীরা


শাকিব খানকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা করলো রাজউক

শাকিব খানকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা করলো রাজউক


র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ারকে হাইকোর্টে তলব

র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ারকে হাইকোর্টে তলব


যত চাপই আসুক সড়ক পরিবহন আইন বাস্তবায়ন হবে: কাদের

যত চাপই আসুক সড়ক পরিবহন আইন বাস্তবায়ন হবে: কাদের


স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি নির্মল রঞ্জন ও সাধারণ সম্পাদক বাবু

স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি নির্মল রঞ্জন ও সাধারণ সম্পাদক বাবু


প্রাথমিক ও ইবতেদায়ি সমাপনী শুরু রোববার

প্রাথমিক ও ইবতেদায়ি সমাপনী শুরু রোববার


রবি-সোমবারের মধ্যে কার্গো বিমানে পেঁয়াজ আসছে: প্রধানমন্ত্রী

রবি-সোমবারের মধ্যে কার্গো বিমানে পেঁয়াজ আসছে: প্রধানমন্ত্রী


দ্রুতবিচার ট্রাইব্যুনালে ফাহাদ হত্যার বিচার হবে: আইনমন্ত্রী

দ্রুতবিচার ট্রাইব্যুনালে ফাহাদ হত্যার বিচার হবে: আইনমন্ত্রী


আবরার হত্যা মামলার চার্জশিট, ছাত্রলীগের নেতাসহ আসামি ২৫

আবরার হত্যা মামলার চার্জশিট, ছাত্রলীগের নেতাসহ আসামি ২৫