Thursday, August 11th, 2016
মৃত্যুঞ্জয়ী ক্ষুদিরাম
August 11th, 2016 at 1:14 pm
মৃত্যুঞ্জয়ী ক্ষুদিরাম

ডেস্ক: ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের কিংবদন্তি বিপ্লবী ক্ষুদিরাম বসুর ১০৮তম মৃত্যু বার্ষিকী বৃহস্পতিবার। ১৯০৮ সালে মাত্র ১৮ বছরে ভারতীয় দণ্ডবিধি আইনের ৩০২ ধারা মোতাবেক ১১ আগস্ট ক্ষুদিরামের ফাঁসি কার্যকর করা হয়। অগ্নিযুগের এই মহান বিপ্লবী ১৯৮৯ সালের ৩ ডিসেম্বর পশ্চিম বাংলার মেদিনীপুর জেলা শহরের কাছাকাছি হাবিবপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা ত্রৈলকানাথ বসু এবং মা লক্ষীপ্রিয় দেবী। খুব ছোটবেলায়  মা-বাবাকে হারান ক্ষুদিরাম। বড় হয়েছেন দিদি অপরূপা দেবীর কাছে।

১৯০২-০৩ খ্রিস্টাব্দ কালে যখন বিপ্লবী নেতা শ্রী অরবিন্দ এবং ভগিনী নিবেদিতা মেদিনীপুর ভ্রমণ করে জনসম্মুখে বক্তব্য রাখেন এবং বিপ্লবী দলগুলোর সাথে গোপন পরিকল্পনা করেন, তখন তরুণ ছাত্র ক্ষুদিরাম বিপ্লবে যোগ দিতে অনুপ্রাণিত হন। ক্ষুদিরাম ছিলেন সেই কিশোর-তরুণ সমাজের একজন যারা ব্রিটিশদের হাত থেকে ভারতকে মুক্ত করার স্বপ্ন দেখতেন।

এখানে থেকেই ‘যুগান্তর’ দলের সদস্য হন। দলের কাজকে এগিয়ে নেয়ার জন্য তাতশালা স্থাপন করেন। এ তাতশালার পেছনে লাঠিখেলা, তরবারি চালানো, বোমা তৈরি, পিস্তল বন্দুক ছোড়া শিখানো হতো। দ্রুত এসব বিদ্যায় পারদর্শী হয়ে উঠেন ক্ষুদিরাম। একদিন দিদির বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়েন। রাজনৈতিক নিষিদ্ধ পত্র-পত্রিকা বিলি করার জন্য পুলিশের হাতে ধরা পড়লে অল্প বয়সের কারণে পুলিশ মামলা প্রত্যাহার করে।

বিপ্লবীদের শাস্তি দিতে মরিয়া হয়ে উঠেন চিফ প্রেসিডেন্সি ম্যাজিস্ট্রেট কিংসফোর্ড। দলীয়ভাবে সিদ্ধান্ত হয় কিংসফোর্ডকে হত্যা করতে হবে। দায়িত্ব দেওয়া হয় ক্ষদিরাম বসু ও প্রফুল্ল চাকীকে। দুই তরুণ বিপ্লবী  রওনা হন মজফফরপুর আশ্রয় নেন কিংসফোর্ডের বাসভবনের পাশের একটি হোটেলে।

১৯০৮ সালের ৩০ এপ্রিল রাত আটটায় ইউরোপিয়ান ক্লাব থেকে খেলা করে একই রকম গাড়িতে গেট পার হচ্ছেলিন অন্য দুই ব্রিটিশ নাগরিক। দুই বিপ্লবীর ছোড়া বোমায় তারা  ঘটনাস্থলে মারা যান। আর যে কিংসফোর্ডকে মারার জন্য এ প্রচেষ্টা তার গাড়ি কয়েক হাত দূরে দাঁড়িয়ে। পালানোর পথে রেলস্টেশনে ধরা পড়েন ক্ষুদিরাম আর প্রফুল্ল চাকী। প্রফুল্ল চাকীও পুলিশের হাতে ধরা পড়তেই নিজের পিস্তলের গুলিতে আত্মহত্যা করেন। আটক হন ক্ষুদিরাম।

বিচারপতি মিঃ কর্ন্ডোফ, বিচারপতি নাথুনিপ্রসাদ ও বিচারপতি জানাকপ্রসাদের আদালতে ক্ষুদিরামের ঐতিহাসিক বিচারকাজ শুরু হয়। কিন্তু বিংশ শতাব্দীর শুরুতে যখন ভারতে ব্রিটিশ রাজত্ব হুমকির মুখে, তখন ব্রিটিশরা কোন বিপ্লবীকে ধরার পর ছেড়ে দিবে তা ছিল অকল্পনীয়। অতএব, ক্ষুদিরামের মৃত্যুদণ্ড ঘোষিত হলো। ফাঁসিতে ঝোলানোর আগে কারা কর্তৃপক্ষ তার কাছে শেষ ইচ্ছা জানতে চাইলে, ক্ষুদিরাম এক সেকেন্ড অপেক্ষা না করেই বলেছিলেন, ‘আমি ভালো বোমা বানাতে পারি, মৃত্যুর আগে সারা ভারতবাসীকে সেটা শিখিয়ে দিয়ে যেতে চাই।’

ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে বিপ্লবী ক্ষুদিরাম বসু  এক ইতিহাসের নাম। সম্ভবত তিনি ছিলেন এই আন্দোলনের সর্ব কনিষ্ঠ বিপ্লবী। দেশ থেকে ব্রিটিশ হঠাও আন্দোলনের এক পর্যায়ে তিনি হাসি মুখে ফাঁসীর মঞ্চে গিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। তার এই আত্মত্যাগ ভারতবর্ষকে স্বাধীনতা লাভে অনেকদূর এগিয়ে নিয়েছিল। তিনি হয়ে উঠেন ভারতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনের কিংবদন্তী মহানায়ক। মৃত্যুবার্ষিকীতে এই নির্ভীক দেশপ্রেমিকের জন্য রইল বুকভরা শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা।

নিউজনেক্সটবিডি ডটকম/এসপিকে/ওয়াইএ


সর্বশেষ

আরও খবর

প্রধানমন্ত্রীপরিচয়ে তাজউদ্দীন ইন্দিরার সমর্থন আদায় করেন যেভাবে!

প্রধানমন্ত্রীপরিচয়ে তাজউদ্দীন ইন্দিরার সমর্থন আদায় করেন যেভাবে!


প্রকৃতির নিয়ম রেখেছিল ঢেকে রাতের কালো, বিধাতার ডাকে বঙ্গবন্ধু এলো

প্রকৃতির নিয়ম রেখেছিল ঢেকে রাতের কালো, বিধাতার ডাকে বঙ্গবন্ধু এলো


সৈয়দ আবুল মকসুদঃ মৃত জোনাকির থমথমে চোখ

সৈয়দ আবুল মকসুদঃ মৃত জোনাকির থমথমে চোখ


বঙ্গবন্ধুর মুক্তির নেপথ্যে

বঙ্গবন্ধুর মুক্তির নেপথ্যে


প্রয়াণের ২১ বছর…

প্রয়াণের ২১ বছর…


বীর উত্তম সি আর দত্ত আর নেই, রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর শোক

বীর উত্তম সি আর দত্ত আর নেই, রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর শোক


সংগীতের ভিনসেন্ট নার্গিস পারভীন

সংগীতের ভিনসেন্ট নার্গিস পারভীন


সিরাজগঞ্জে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে কামাল লোহানীকে

সিরাজগঞ্জে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে কামাল লোহানীকে


জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান আর নেই

জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান আর নেই


ওয়াজেদ মিয়ার ১১তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

ওয়াজেদ মিয়ার ১১তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ