Sunday, July 3rd, 2016
মৃত্যু যেনেও কেন প্রশান্তির হাসি?
July 3rd, 2016 at 10:04 pm
মৃত্যু যেনেও কেন প্রশান্তির হাসি?

ঢাকা: তথাকথিত ইসলামিক স্টেট যে পাঁচজন জিহাদির ছবি প্রকাশ করেছে তাদের দেখে বিস্মিত নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা। এই জিহাদিরা ঢাকার গুলশানে শুক্রবার রাতে একটি রেস্তোরাঁয় অতিথিদের জিম্মি করে ২০ জনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে জবাই করে হত্যা করে।

এধরনের একটি হত্যাকাণ্ডের ঠিক কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কোন একটি সংগঠনের পক্ষ থেকে জিহাদিদের ছবি এরকম ঘোষণা দিয়ে প্রকাশের ঘটনা আগে কখনো ঘটেনি। ফলে এটা পরিষ্কার জিহাদিদের ছবি প্রকাশের মধ্য দিয়ে আইএস যে বার্তাটি দিতে চেয়েছে সেটি অত্যন্ত জোরালো এবং স্পষ্ট।

160702173341_bangladesh_is_attacker_640x360_facebook_nocredit

স্পষ্ট ঘোষণা

বিশ্লেষকরা বলছেন, তাদের কাছে এই অভিযানের উদ্দেশ্য ছিলো অত্যন্ত পরিষ্কার। কীভাবে সেটা করতে হবে সেবিষয়েও তাদের ধারণা ছিলো স্পষ্ট। সেনাবাহিনীর সাবেক এক কর্মকর্তা ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক সাখাওয়াৎ হোসেন বলেন, ‘ছবিগুলোতে হামলাকারীদের অভিব্যক্তিতে এটা স্পষ্ট তারা পরিষ্কার করেই জানতো তারা কোথায় যাচ্ছে, কী করতে যাচ্ছে। তাদের পরিণতি কী হতে পারে। এই অভিযান শেষে তারা সেখান থেকে পালাতে আসেনি।’

ছবিগুলোতে দেখা যায় সবাই কালো পাঞ্জাবি পরে আছে। দেখতে একই রকমের পাঞ্জাবি। এসব পোশাক হয় একই জায়গা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে অথবা একই দর্জির কাছে বানানো হয়েছে।

160702170433_bangladesh_is_attackers_640x360_site_nocredit

কালো এই জামাটি আইএসের পোশাক

সাখাওয়াৎ হোসেন বলেন, ‘পশ্চিমা নাগরিকদের জবাই করে হত্যার যেসব ভিডিও আইএস ইন্টারনেটে ছেড়েছে সেগুলোতে জিহাদিদেরকে এরকম কালো রঙের পোশাক পরে থাকতে দেখা যায়। এটা আইএসের জল্লাদ বা একজিকিউশনারের ইউনিফর্ম।’

এই কালো রঙের আরেকটি অর্থ হচ্ছে আত্মত্যাগ। অর্থাৎ তারা যে তাদের জীবন উৎসর্গ করতে যাচ্ছে সেটা তাদের পোশাকের মধ্যেও ঘোষণা করা হচ্ছে। খোরাসান ব্রিগেডের সদস্যরাও প্রতীক হিসেবে এধরনের পোশাক পরিধান করতো বলেও জানান তিনি।

160702170401_bangladesh_is_attackers_640x360_site_nocredit

পেছনে কালো পতাকা

অস্ত্র হাতে এই তরুণরা পেছনে আইএসের পতাকা রেখে দাঁড়িয়ে আছে। কালো পতাকায় শাদা রঙে লেখা লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু। তাদের মাথায় আরবদের মতো করে ফেটি বা কেফেয়া বাঁধা। সাখাওয়াৎ হোসেন বলেন, ‘আরব যোদ্ধারা এই কেফায়া পরে থাকে। রণক্ষেত্রে যারা যুদ্ধ করছে তাদের কাছে এটি একটি প্রতীকের মতো।’

পেশাদারি কায়দায়

পাঁচজন জিহাদি প্রায় একই কায়দায় অস্ত্র ধরে হাস্যমুখে তাকিয়ে আছে ক্যামেরার দিকে। দেখে মনে হয় তাদের সবার হাতে একটাই অস্ত্র। অত্যন্ত পেশাদারদের ভঙ্গিতে তারা সেই অস্ত্রটি ধরে রেখেছে।

এই নিরাপত্তা বিশ্লেষক বলেন, ‘তাদের হাতে যে অস্ত্রটি দেখা যাচ্ছে সেটি একে মডেলের। মধ্যপ্রাচ্যে জিহাদিদের লড়াই-এ এখন এই অস্ত্রটির প্রচুর ব্যবহার হচ্ছে। বর্তমানে সন্ত্রাসীদের কাছে সবচে পছন্দের অস্ত্র হচ্ছে এই একে ফোরটি সেভেন। তাদের হাতে যে অস্ত্রটি দেখা যাচ্ছে সেটি একে ফোরটি সেভেন না হলেও, একে সিরিজের।’

একজন বাদে প্রত্যেকেরই হাতের আঙ্গুল বন্দুকের ট্রিগার থেকে দূরে। তিনি বলেন, ‘এই পজিশনের অর্থ হচ্ছে তারা পুরোপুরি প্রস্তুত। হাত ট্রিগারের বাইরে। রাইফেলটা এমনভাবে রাখা যে এটিকে শুধু একটু উপরের দিকে তুলে গুলি করতে হবে ব্যাস এতোটুকুই।’

160702170305_bangladesh_is_attackers_640x360_site_nocredit

প্রশিক্ষণ

বলা হচ্ছে, এই তরুণদের কেউ কেউ চার পাঁচ মাস ধরে নিখোঁজ ছিলো। ধারণা করা হচ্ছে, এই সময়ে তাদেরকে বড়ো ধরনের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। এই প্রসঙ্গে সাখাওয়াৎ বলেন, ‘শুধু মগজ ধোলাই করা নয়, এরকম একটি অভিযানের জন্যে তাদের প্রশিক্ষণ দিয়ে পুরোপুরি প্রস্তুত করা হয়েছে।’

শুধু হত্যা করার ব্যাপারেই তাদেরকে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়নি। কীভাবে ইন্টারনেট পরিচালনা করতে হবে, ছবি পাঠাতে হবে, সেসব ছবি কিভাবে আপলোড করতে হবে, কীভাবে নিরীহ মানুষের মতো কথা বলতে হবে সেসব বিষয়েও তাদেরকে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। এই অপারেশনের জন্যেই তাদেরকে পুরোপুরি প্রস্তুত করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

কোথায় তাদেরকে এই প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে সেটি একটি বড়ো প্রশ্ন। দেশের ভেতরে এমনকি মধ্যপ্রাচ্যে গিয়েও তারা প্রশিক্ষণ নিয়ে থাকতে পারে। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আফগানিস্তান, পাকিস্তান, ওয়াজিরিস্তান, ফ্রন্টিয়ার ও কাশ্মীরের মতো জায়গায় গিয়েও তাদের প্রশিক্ষণ হতে পারে। এসব জায়গায় যাওয়াও আজকাল খুব কঠিন কিছু নয়। শুধু সীমান্ত পাড়ি দিতে হয়।’

160702170234_bangladesh_is_attackers_640x360_site_nocredit

‘এছাড়াও আজকাল সশরীরে কোথাও গিয়ে প্রশিক্ষণ নিতে হয় না। জিহাদিদের কাছে ইন্টারনেটেও এই প্রশিক্ষণের মডিউল সরবরাহ করা হতে পারে। প্রশিক্ষণের ভিডিও মডিউলও পাওয়া যায়।’

দেশের বাইরে প্রশিক্ষণ নিয়ে থাকলে দেখতে হবে গত কয়েক বছরে এই ছেলেগুলো কোথায় ছিলো, কোথায় কোথায় গিয়েছিলো। ছবিতে দেখা যায় যে তাদের সবার মুখে নির্মল হাসি। এই বিশ্লেষকরা বলছেন, এর অর্থ হচ্ছে তারা পুরোপুরি মোটিভেটেড। তাদের ভেতরে কোনো সংশয়, কোন রকমের দ্বিধাদ্বন্দ্ব নেই।

সে যে জোর করে হাসছে না সেটাও বোঝা যাচ্ছে। নিজের জীবন উৎসর্গ করার জন্যে সে প্রস্তুত। ইহজগতে নয় পরকালে সে যা কিছু পাবে তার জন্যে সে প্রস্তুত। তাদের সবার মুখে সেরকমই এক প্রশান্তির হাসি বলেও মনে করেন তিনি। সূত্র: বিবিসি

নিউজনেক্সটবিডি ডটকম/এসজি


সর্বশেষ

আরও খবর

করোনায় আরও ৩০ জনের মৃত্যু, ৭৮ দিনের মধ্যে সর্বোচ্চ শনাক্ত

করোনায় আরও ৩০ জনের মৃত্যু, ৭৮ দিনের মধ্যে সর্বোচ্চ শনাক্ত


মানুষের জন্য কিছু করতে পারাই আমাদের রাজনীতির লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী

মানুষের জন্য কিছু করতে পারাই আমাদের রাজনীতির লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী


আনিসুল হত্যা: মানসিক স্বাস্থ্য ইন্সটিটিউটের রেজিস্ট্রার গ্রেপ্তার

আনিসুল হত্যা: মানসিক স্বাস্থ্য ইন্সটিটিউটের রেজিস্ট্রার গ্রেপ্তার


পাওয়ার গ্রিডের আগুনে বিদ্যুৎ-বিচ্ছিন্ন পুরো সিলেট, ব্যাপক ক্ষতি

পাওয়ার গ্রিডের আগুনে বিদ্যুৎ-বিচ্ছিন্ন পুরো সিলেট, ব্যাপক ক্ষতি


বাস পোড়ানোর মামলায় বিএনপির ২৮ নেতাকর্মী রিমান্ডে

বাস পোড়ানোর মামলায় বিএনপির ২৮ নেতাকর্মী রিমান্ডে


অবশেষে পাঁচ বছর পর নেপালকে হারালো বাংলাদেশ

অবশেষে পাঁচ বছর পর নেপালকে হারালো বাংলাদেশ


মাইন্ড এইড হাসপাতালে তালা, মালিক গ্রেপ্তার

মাইন্ড এইড হাসপাতালে তালা, মালিক গ্রেপ্তার


বিরোধী নেতাদের কটাক্ষ করতেন না বঙ্গবন্ধু: রাষ্ট্রপতি

বিরোধী নেতাদের কটাক্ষ করতেন না বঙ্গবন্ধু: রাষ্ট্রপতি


মসজিদ-মন্দিরে মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করলো সরকার

মসজিদ-মন্দিরে মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করলো সরকার


করোনায় একদিনে আরও ১৮ প্রাণহানি

করোনায় একদিনে আরও ১৮ প্রাণহানি