Saturday, July 23rd, 2016
যতীন্দ্রমোহন সেনগুপ্ত স্মরণে
July 23rd, 2016 at 6:59 pm
যতীন্দ্রমোহন সেনগুপ্ত স্মরণে

ঢাকা: যতীন্দ্রমোহন সেনগুপ্ত ছিলেন একজন দক্ষ আইনজীবী, রাজনীতিবিদ। চট্টগ্রাম জেলার চন্দনাইশ উপজেলার বরমা গ্রামে ১৮৮৫ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি তার জন্ম। তার  পিতা যাত্রামোহন সেনগুপত  ছিলেন আইনজীবী ও বঙ্গীয় ব্যবস্থাপক সভার সদস্য।

শিক্ষাজীবন

যতীন্দ্রমোহন কলকাতার হেয়ার স্কুল থেকে ১৯০২ সালে এন্ট্রান্স পাস করেন। এরপর ভর্তি হন কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজে। যতীন্দ্রমোহন ১৯০৪ সালে ব্যারিস্টারি পড়ার জন্য বিলাত যান। বিলাতের কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাউনিং কলেজে ভর্তি হন তিনি। ১৯০৮ সালে স্নাতক ও পরের বছর আইন বিষয়ে ডিগ্রি লাভ করেন।

বিলাতে থাকাকালে তিনি খেলাধুলা ও সামাজিক ক্রিয়াকর্মে জড়িত হন এবং ইন্ডিয়ান মজলিসের বিতর্ক সভা ও ইস্ট অ্যান্ড ওয়েস্ট সোসাইটির প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। যতীন্দ্রমোহন ১৯০৯ সালে ব্যারিস্টারি পাস করেন।

বৈবাহিক জীবন 

বিলাতে অবস্থানকালে যতীন্দ্রমোহন পরিচিত হন গ্রে পরিবারের সাথে। এই পরিবারের নেলী গ্রে’র সাথে ১৯০৯ সালের ১ আগস্ট যতীন্দ্রমোহন আবদ্ধ হন বিবাহ বন্ধনে।

পেশাগত জীবন 

দেশে ফিরে এসে যতীন্দ্রমোহন চট্টগ্রাম জেলা আদালতে আইন পেশায় নিয়োজিত হন। এক বছর পর তিনি  কলকাতা হাইকোর্টে আইন পেশায় যোগ দেন। এসময় কিছুদিন তিনি কলকাতা রিপন ল’ কলেজে অধ্যাপনা করেন। ধীরে ধীরে কলকাতা হাইকোর্টে তার সুনাম বৃদ্ধি পেতে থাকে।

শুরু হলো রাজনৈতিক জীবন 

১৯১১ সালে তিনি কংগ্রেসের রাজনীতিতে যোগ দেন এবং ওই বছর চট্টগ্রামের প্রতিনিধি হয়ে ফরিদপুরে অনুষ্ঠিত দলীয় কংগ্রেসে যোগদান করেন। সে সময় পাঞ্জাবের জালিয়ানওয়ালাবাগে ব্রিটিশ সৈন্যদের নৃশংস হত্যাকান্ডের প্রতিবাদে সারাদেশে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন তীব্র আকার ধারণ করে। শুরু হয় অসহযোগ আন্দোলন। চট্টগ্রামেও আন্দোলন তীব্র হয়ে উঠে। যতীন্দ্রমোহন কোলকাতা ছেড়ে চট্টগ্রাম চলে আসেন। তিনি প্রথমে সিদ্ধান্ত নেন তিন মাসের জন্য আইন পেশা ত্যাগ করবেন। একইসাথে চট্টগ্রামে এসে জনগণের মধ্যে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন জোরদার করবেন। কিন্তু চট্টগ্রামে এসে আন্দোলনে এতোটাই জড়িয়ে পড়েন যে পুরো দু’বছর তাকে পেশার বাইরে থাকতে হয়।

১৯২১ সালে অসহযোগ আন্দোলন তীব্র আকার ধারণ করে। সে বছরই বার্মা অয়েল কোম্পানি (চট্টগ্রাম) ও আসাম বেঙ্গল রেলওয়ে ধর্মঘট পরিচালনা করে যতীন্দ্রমোহন গ্রেফতার হন। তার স্ত্রী নেলী সেনগুপ্ত আন্দোলনে যোগ দেন ও গ্রেফতার হন। ধর্মঘটকৃত শ্রমিক-কর্মচারীদের পরিবারের সদস্যদের জন্য যতীন্দ্রমোহন চল্লিশ হাজার টাকা ঋণ গ্রহণ করেন। তিনি এ সময় ‘দেশপ্রিয়’ উপাধি পান। চট্টগ্রামের মানুষ তাকে ‘মুকুটহীন রাজা’  নামে আখ্যায়িত করে।

১৯৩০ সালে ভারতবর্ষ থেকে বার্মাকে বিচ্ছিন্ন করার প্রতিবাদে অনুষ্ঠিত কর্মসূচিতে যোগ দিতে যতীন্দ্রমোহন রেঙ্গুন যান। সেখানে জনসমাবেশে বক্তৃতা দেয়ার সময় তিনি আবার গ্রেফতার হন। যতীন্দ্রমোহন ১৯২২ সালে জাতীয় কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির সদস্য হন। পরবর্তী সময়ে দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ স্বরাজ পার্টি প্রতিষ্ঠা করলে যতীন্দ্রমোহন স্বরাজ পার্টিতে যোগ দেন। ১৯২৩ সালে তিনি চট্টগ্রাম থেকে বঙ্গীয় ব্যবস্থাপক পরিষদে সদস্য নির্বাচিত হন। চিত্তরঞ্জন দাশের মৃত্যুর পর (১৯২৫) যতীন্দ্রমোহন সেনগুপ্ত স্বরাজ পার্টির বিশেষ অধিবেশনে দলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। একই বছর তিনি বাংলা প্রাদেশিক কংগ্রেস কমিটির প্রেসিডেন্ট এবং কোলকাতা কর্পোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হন। তিনি পরপর পাঁচ মেয়াদে কর্পোরেশনের মেয়র ছিলেন।

ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে যতীন্দ্রমোহন ছিলেন সমগ্র বাংলার অবিসংবাদিত নেতা। দেশবন্ধু পরিচালিত ফরোয়ার্ড পত্রিকার সাথে তিনি সম্পৃক্ত ছিলেন। অ্যাডভান্স নামে একটি দৈনিক পত্রিকাও প্রকাশ করেন তিনি।

যতীন্দ্রমোহন ১৯৩২ সালে কিছুদিনের জন্য তার স্ত্রী কে সহ লন্ডন যান। লন্ডন থেকে ফেরার পথে জাহাজ বোম্বে বন্দরে ভিড়তেই ২০ জানুয়ারি  পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে। ব্রিটিশ সরকারের বিরুদ্ধে রাজদ্রোহাত্মক কাজে লিপ্ত থাকার অভিযোগে কিছুদিন কলকাতায় বন্দী থাকার পর ১৯৩৩ সালের ৫ জুন যতীন্দ্রমোহনকে বন্দী অবস্থায় রাঁচীতে পাঠানো হয়। দেড় বছর ধরে জেলে থেকে যতীন্দ্রমোহন অসুস্থ হয়ে পড়েন। ১৯৩৩ সালের ২৩ জুলাই যতীন্দ্রমোহন মৃত্যুবরণ করেন।১৯৫৩ সালে কোলকাতায় প্রতিষ্ঠিত চট্টগ্রাম পরিষদ প্রতিবছর দেশপ্রিয় যতীন্দ্রমোহন সেনগুপ্ত ও নেলী সেনগুপ্তর জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকী যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করে। দক্ষিণ কলকাতায় স্থাপিত হয়েছে ‘দেশপ্রিয় পার্ক’ ও পার্কের অভ্যন্তরে এই দুই কৃতি ব্যক্তিত্বের যুগল মূর্তি। জন্মস্থান চট্টগ্রামের বরমা গ্রামে বাড়ির সামনে স্থাপিত হয়েছে যাত্রামোহন সেনগুপ্ত, যতীন্দ্রমোহন সেনগুপ্ত ও নেলী সেনগুপ্তর আবক্ষ মূর্তি।

নিউজনেক্সটবিডি ডটকম/এসএনডি/টিএস


সর্বশেষ

আরও খবর

প্রয়াণের ২১ বছর…

প্রয়াণের ২১ বছর…


বীর উত্তম সি আর দত্ত আর নেই, রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর শোক

বীর উত্তম সি আর দত্ত আর নেই, রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর শোক


সংগীতের ভিনসেন্ট নার্গিস পারভীন

সংগীতের ভিনসেন্ট নার্গিস পারভীন


সিরাজগঞ্জে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে কামাল লোহানীকে

সিরাজগঞ্জে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে কামাল লোহানীকে


জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান আর নেই

জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান আর নেই


ওয়াজেদ মিয়ার ১১তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

ওয়াজেদ মিয়ার ১১তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ


একুশে পদকপ্রাপ্তদের হাতে পুরষ্কার তুলে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী

একুশে পদকপ্রাপ্তদের হাতে পুরষ্কার তুলে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী


প্রধানমন্ত্রীর হাতে রান্না করা খাবার সাকিবের বাসায়

প্রধানমন্ত্রীর হাতে রান্না করা খাবার সাকিবের বাসায়


জাতীয় কবির মৃত্যুবার্ষিকী আজ

জাতীয় কবির মৃত্যুবার্ষিকী আজ


জাপানে হেইসেই যুগের অবসান হচ্ছে আজ

জাপানে হেইসেই যুগের অবসান হচ্ছে আজ