Saturday, July 2nd, 2022
ট্রাম্পের যে ৭ নীতি যুক্তরাষ্ট্রকে বদলাবে
November 9th, 2016 at 8:52 pm
ট্রাম্পের যে ৭ নীতি যুক্তরাষ্ট্রকে বদলাবে

ফারহানা করিম চৌধুরী, ডেস্ক: মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিস্ময়কর বিজয়ের পর দেশটির বৈদেশিক এবং অভ্যন্তরীণ নীতিতে বেশ কিছু পরিবর্তন আসতে পারে বলে ধারণা করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। ট্রাম্পের প্রেসিডেন্সির সময় বারাক ওবামার শাসনামলের গুরুত্বপূর্ণ কিছু অর্জন যেমন, ওবামাকেয়ার, জলবায়ু পরিবর্তন নীতি এবং ইরানের সঙ্গে পরমাণু চুক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ডেমোক্রেটিকরা আশা করেছিল সুপ্রিম কোর্টের পরিবর্তন ঘটাতে কিন্তু বর্তমানে তা আরো বেশি রক্ষণশীল আদালতে পরিণত হচ্ছে। এছাড়া পররাষ্ট্র নীতির ক্ষেত্রেও নাটকীয় পরিবর্তন আসতে পারে।

অবশ্য অনেক বিশ্লেষক বলছেন, নির্বাচনি প্রচারণার প্রতিশ্রুতি এবং রাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক নীতির মধ্যে বড় ধরনের ফারাক রয়েছে। কিন্তু প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের শাসনামলে যে ৭টি নীতির পরিবর্তন ঘটতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে সেগুলি হলো:

বাণিজ্য: ডোনাল্ড ট্রাম্প, প্রস্তাবিত ট্রান্স-প্যাসিফিক পার্টনারশিপের(টিপিপি) চুক্তির বিরোধী। এছাড়া তিনি মেক্সিকো এবং কানাডার সঙ্গে নাফটা চুক্তির মৌলিক পরিবর্তনের পক্ষে। তার এধরনের নীতি যুক্তরাষ্ট্রের শিল্পাঞ্চল হিসেবে পরিচিত মধ্যপশ্চিমাঞ্চলের রাজ্যগুলির মানুষের মধ্যে আশার সঞ্চার করেছে।এই অঞ্চলের শিল্পকারখানাগুলো বর্তমানে বেশিরভাগই বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে চাকরি হারিয়েছে লাখ লাখ শ্বেতাঙ্গ শ্রমিক।তিনি এই অঞ্চলের মানুষের মধ্যে এই বিশ্বাস ঢুকাতে পেরেছেন যে, এই চুক্তিগুলিই তাদের সর্বনাশের কারণ। এছাড়া চীন থেকে আমদানি করা পণ্যের উপর শাস্তিমূলকভাবে শতকরা ৪৫ ভাগ শুল্ক আরোপ করার হুমকি দিয়েছিলেন তিনি।

বিদেশ নীতি: বারাক ওবামা সরকারের করা ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক চুক্তি বাতিল কিংবা পুনর্বিন্যাসের অঙ্গীকার করেছিলেন ট্রাম্প। একদিকে ওবামা প্রশাসনের আকাঙ্ক্ষা ছিল পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত বিশ্ব গড়ার অন্যদিকে ট্রম্পের ইচ্ছা পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার করা। তিনি জাপান এবং দক্ষিণ কোরিয়ায় পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হবে বলে উল্লেখ করেছিলেন।

এছাড়া তিনি উত্তর আটলান্টিক নিরাপত্তা জোট বা ন্যাটোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গীকার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। ন্যাটোর পরিবর্তে তিনি বরং রাশিয়ার সঙ্গে অধিকতর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলার বিষয়ে সুপারিশ করেন।

স্বাস্থ্যসেবা: নির্বাচনি প্রচারণার সময় ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার স্বাস্থ্যসেবা যা ওবামাকেয়ার নামে পরিচিত, তার বিরুদ্ধে ব্যাপক সোচ্চার ছিলেন। তিনি এটি বাতিল করে পরিবর্তে অন্য কিছু দেয়ার অঙ্গীকার করেছিলেন। যদিও এটির বিকল্প কোনো কিছু তিনি জনগণের সামনে উপস্থিত করতে পারেননি। ট্রাম্প বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের বাজারের মধ্যে প্রতিযোগিতাকে উৎসাহিত করবেন বলে জানিয়েছিলেন।

কর নীতি: মার্কিন প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যানের পর সবচেয়ে বড় কর বিপ্লব ঘটাবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। সবার জন্য কর কর্তন করার অঙ্গীকার করেন তিনি। তিনি জানান, মার্কিন ব্যবসার ক্ষেত্রে মুনাফার উপর ১৫ শতাংশের বেশি কর দেয়ার প্রয়োজন নেই। কিন্তু বর্তমানে সর্বোচ্চ ৩৫ শতাংশ কর দিতে হয়।

সুপ্রিম কোর্ট: যুক্তরাষ্ট্রের বেশিরভাগ রাজনৈতিক কর্মীদের ধারণা, এই নির্বাচনের পরিণাম বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটাতে পারে। দেশটির সর্বোচ্চ আদালতে বর্তমানে ৪ জন রক্ষণশীল এবং ৪ জন উদার বিচারপতি রয়েছেন। হিলারি ক্লিনটনের সমর্থকরা আশা করেছিলেন, তিনি প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলে তার পছন্দের কেউ নবম বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পেতেন।

এর পরিবর্তে ডোনাল্ড ট্রাম্প রিপাবলিকান সিনেটের অনুমোদনে সহজেই তার পছন্দের প্রার্থীকে বেছে নিতে পারবেন। এছাড়া অপেক্ষাকৃত বয়স্ক উদার বিচারকদের কয়েকজনকে প্রতিস্থাপন করার সুযোগও এখন তার সামনে রয়েছে।

জলবায়ু পরিবর্তন: বৈশ্বিক উষ্ণতার বিরুদ্ধে বর্তমানে পরিবেশবাদীদের থেকে শুরু করে সকলেই সোচ্চার। কিন্তু ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে বিষয়টি চীনের উদ্ভাবিত একটি প্রতারণা ছাড়া আর কিছুই নয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উৎপাদকদের প্রতিযোগিতামূলক বাজার থেকে দূরে রাখার জন্যই তারা এধরনের বিভ্রান্তিমূলক তথ্য আবিস্কার করেছে বলে ধারণা করেন তিনি।

ট্রাম্প গত বছরে প্যারিসে অনুষ্ঠিত জলবায়ু চুক্তিকে বাতিল করার অঙ্গীকার করেন।বারাক ওবামা চীনের সঙ্গে এই চুক্তিটি করেছিলেন। এছাড়া জাতিসংঘের বৈশ্বিক উষ্ণতা প্রতিরোধে যেসব কর্মসূচি রয়েছে তাতে যুক্তরাষ্ট্রের তহবিল দেয়া বন্ধ করে দিবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

অভিবাসী: ট্রাম্প তার নির্বাচনি প্রচারণার সময় অভিবাসী ইস্যুতে কঠোর অবস্থান নিয়ে বিশ্ববাসীর নজর কাড়তে সক্ষম হন। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের ভিতরও ব্যাপক সমর্থন পান তিনি। ট্রাম্প মেক্সিকো সীমান্তে দেয়াল তোলার পক্ষে সোচ্চার ছিলেন। তিনি মুসলিম অভিবাসীদের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি এবং ১১ মিলিয়ন অবৈধ অভিবাসীকে বিতাড়িত করার আহ্বান জানিয়েছিলেন। ফলে হিস্পানিক ভোটাররাও হোয়াইট হাউজে তার প্রবেশ ঠেকাতে চেয়েছিলেন।

এদিকে অভিবাসীদের প্রশ্নে ডেমোক্রেটিক প্রার্থী হিলারি ক্লিনটন এবং বিদায়ী মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার নীতি বেশ নমনীয় ছিল।তারা উভয়েই অভিবাসন আইনের ব্যাপক সংস্কার করে অবৈধ অভিবাসীদের বৈধ নাগরিকতা দিতে চেয়েছিলেন।

সূত্র: ফিন্যান্সিয়াল টাইমস, সম্পাদনা: জাহিদ

 


সর্বশেষ

আরও খবর

সংসদে ৬,৭৮,০৬৪ কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব

সংসদে ৬,৭৮,০৬৪ কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব


আ’লীগ নেতা বিএম ডিপোর একক মালিক নন

আ’লীগ নেতা বিএম ডিপোর একক মালিক নন


চীনের সাথে বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে চায় বাংলাদেশ

চীনের সাথে বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে চায় বাংলাদেশ


তৎপর মন্ত্রীগণ, সীতাকুণ্ডে থামেনি দহন

তৎপর মন্ত্রীগণ, সীতাকুণ্ডে থামেনি দহন


যে গল্প এক অদম্য যোদ্ধার

যে গল্প এক অদম্য যোদ্ধার


আফগান ও ভারতীয় অনুপ্রবেশ: মে মাসে আটক ১০

আফগান ও ভারতীয় অনুপ্রবেশ: মে মাসে আটক ১০


সীমান্ত কাঁটাতারে বিদ্যুৎ: আলোচনায় বিজিবি-বিজিপি

সীমান্ত কাঁটাতারে বিদ্যুৎ: আলোচনায় বিজিবি-বিজিপি


চালের বাজার নিয়ন্ত্রণে কঠোর সরকার

চালের বাজার নিয়ন্ত্রণে কঠোর সরকার


সাংবাদিকতা বিরোধী আইন হবে না: মন্ত্রী

সাংবাদিকতা বিরোধী আইন হবে না: মন্ত্রী


সেনাবাহিনীতে নিরপেক্ষ মূল্যায়ন চান প্রধানমন্ত্রী

সেনাবাহিনীতে নিরপেক্ষ মূল্যায়ন চান প্রধানমন্ত্রী