Monday, July 4th, 2022
যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ অভিবাসী প্রবেশের সংখ্যা বাড়ছে 
November 2nd, 2016 at 10:41 pm
যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ অভিবাসী প্রবেশের সংখ্যা বাড়ছে 

ফারহানা করিম চৌধুরী, ডেস্ক: বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী প্রবেশের সংখ্যা ক্রমেই বেড়ে যাচ্ছে। এধরনের পরিস্থিতিতে গত বছর মেক্সিকোর সীমান্তে হাজার হাজার অবৈধ অভিবাসী যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের চেষ্টাকালে ধরা পড়েন। তাদের বেশিরভাগই ল্যাটিন আমেরিকার নাগরিক।

সম্প্রতি মার্কিন বার্তা সংস্থা এপির সাংবাদিক অ্যালিশিয়া এ. কাল্ডওয়েল বিভিন্ন পরিসংখ্যানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে প্রবেশকারীদের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি তুলে ধরেছেন।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্টের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের অক্টোবর থেকে চলতি বছরের আগস্টের শেষ পর্যন্ত সময়ে বাংলাদেশ, ভারত, চীন, রোমানিয়া এবং নেপালের ৮ হাজারের বেশি নাগরিককে অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের চেষ্টা করার অপরাধে গ্রেফতার করা হয়েছে। ফলে দেশটির অভিবাসন কর্মকর্তারা নতুন একটি চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হচ্ছেন। এর আওতায় বৈধ অভিবাসীদের সম্পূর্ণভাবে চিহ্নিত করা ছাড়াও সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে যারা প্রবেশ করবেন তাদের দ্রুত বিতাড়িত করতে হবে।

গত বছর মেক্সিকোর সীমান্ত অতিক্রম করে অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের চেষ্টাকালে ৪ লাখ ৮ হাজারের বেশি মানুষ ধরা পড়েন।এই গ্রেফতারের ঘটনা প্রমাণ করে, বিভিন্ন পথে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের প্রবণতা ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিপুল সংখ্যক মানুষ দক্ষিণ আমেরিকা থেকে সাগরে অতিক্রম করে, সেন্ট্রাল আমেরিকা থেকে স্থলপথে এবং পরবর্তীকালে মেক্সিকোর সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করছে।

Mexico US Haitian Migrantsবিগত কয়েক দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ অভিবাসনের ক্ষেত্রে মেক্সিকানদেরই প্রাধান্য ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মেক্সিকান নাগরিকদের অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সংখ্যা কমে গেছে। এর পরিবর্তে বর্তমানে ভারত এবং চীনা বংশোদ্ভূতদের সংখ্যা বেড়ে গেছে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে প্রবেশের চেষ্টা করার সময় ধরা পড়াদের বেশিরভাগই এই দুটি দেশের নাগরিক। অবশ্য ভারত এবং চীনের বিপুল সংখ্যক অভিবাসী বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে বাস করছেন এবং ভিসার মেয়াদ বাড়িয়ে সেখানে অবস্থান করছে্ন। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা পাওয়া কঠিন হয়ে যাওয়ায় এখন কিছু কিছু মানুষ মেক্সিকো দিয়ে অবৈধ উপায়ে দেশটিতে প্রবেশের সর্বতোভাবে চেষ্টা করে যাচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক বর্ডার প্যাট্রল সেক্টর প্রধান এবং টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর ল অ্যান্ড হিউম্যান বিহেভিয়ার বিভাগের পরিচালক ভিক্টর মার্টিনেজ জানান, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিপুল সংখ্যক অভিবাসীর যুক্তরাষ্ট্রের দিকে অগ্রসর হওয়ার বিষয়টি উদ্বেগের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত।

তিনি বলেন, ‘এটা খুবই অস্বাভাবিক। আমি যদি টেক্সাসের এল পেসো কিংবা অ্যারিজোনার তাকসান শহরের প্রধান থাকতাম, তাহলে আমি কিছুটা উদ্বিগ্ন হতাম। বৃহৎ পরিকল্পনার আওতায়, শতকরার হিসাবে এই সংখ্যা অপেক্ষাকৃত ছোট হতে পারে কিন্তু সংখ্যার হিসেবে ঐতিহাসিকভাবে এটিকে বড় উল্লম্ফন বলা যেতে পারে।’

যুক্তরাষ্ট্র এবং মেক্সিকোর সীমান্তে অবৈধ অভিবাসনের যে রূপান্তর দেখা যাচ্ছে, তা বৈশ্বিক অভিবাসনের যে বৃহত্তর প্রবণতার সৃষ্টি হয়েছে তার  সামান্য একটি অংশ মাত্র। বর্তমানে লাখ লাখ মানুষ তাদের নিজের দেশ থেকে পালিয়ে উন্নত দেশে অভিবাসী হওয়ার স্বপ্নে বিভোর। কিন্তু বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিপুল সংখ্যক মানুষের মার্কিন সীমান্তে উপস্থিতির কারণে দেশটির সীমান্ত নিরাপত্তা রক্ষায় বিভিন্ন অভিবাসন সংক্রান্ত কর্মকাণ্ডের প্রয়োগ ঘটাতে হচ্ছে।

বর্তমানে সীমান্ত অতিক্রম করে যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ প্রবেশকারীদের গ্রেফতার, কারাগারে পাঠানো এবং বিতাড়িত করাকেই অভিবাসন কর্মকর্তাদের জন্য শীর্ষ অগ্রাধিকার হিসেবে নির্ণয় করেছে দেশটির হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্ট। এর ফলে সীমান্তে আটক বেশীরভাগ মেক্সিকান নাগরিকদের কয়েকদিনের মধ্যেই নিজদেশে ফেরত পাঠিয়ে দেয়া হচ্ছে। কিন্তু প্রতিবেশি দেশের নাগরিকদের দ্রুত ফেরত পাঠানো গেলেও বিশ্বের দূর দূরান্ত থেকে যেসব অবৈধ অভিবাসী এসেছেন, তাদের ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া বেশ ব্যয়সাধ্য এবং দীর্ঘমেয়াদী ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে মার্কিন সরকারের জন্য। এক্ষেত্রে অভিবাসীরা নিজ দেশে ফেরত যাওয়ার জন্য ভ্রমণ সংক্রান্ত দলিলের অপেক্ষায় ইমিগ্রেশন জেলে প্রহর গুণতে থাকেন অথবা তাদের ভাগ্য নির্ধারণের জন্য বিচারকের রায়ের পানে চেয়ে থাকেন।

migrant-us-1বিগত ১২ মাসে সীমান্ত অতিক্রম করে আসা অভিবাসী এবং অন্যান্য মহাদেশ থেকে আসা অভিবাসীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে অতিরিক্ত ৪০ হাজারের বেশি মানুষকে ইমিগ্রেশন জেলে রাখা  হয়েছে।

ইমিগ্রেশন এবং কাস্টমস কর্তৃপক্ষের বাজেটে ৩৪ হাজার মানুষের বাসস্থানের নির্মাণের জন্য যথেষ্ট পরিমাণ অর্থ রয়েছে। কিন্তু অভিবাসীর বর্তমান সংখ্যা বৃদ্ধিতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। তাদের ধারণা, এই সংখ্যা যদি সামনের মাসগুলিতে আরো বাড়তে থাকে তাহলে ১৩০ মিলিয়নের বেশি বাজেট ঘাটতির সম্মুখীন হতে পারেন তারা।

এছাড়া অবৈধ অভিবাসীদের মোকাবিলা করার জন্য বর্ডার এজেন্ট এবং অভিবাসন কর্মকর্তারা বহুমুখী চ্যালেঞ্জেরও সম্মুখীন হচ্ছেন। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে, ভাষা সমস্যা এবং জনাকীর্ণ ডিটেনশন সেন্টার। তবে সবচেয়ে কঠিন কাজ হচ্ছে বৈধ অভিবাসীদের চিহ্নিত করা।

ল্যাটিন আমেরিকার মেক্সিকো প্রোগ্রামের ওয়াশিংটন কার্যালয়ের পরিচালক মাউরিন মেয়ার জানান, বিদেশি অভিবাসীদের অনেকেই ব্রাজিলসহ দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলি থেকে মেক্সিকো সীমান্ত দিয়ে প্রবেশ করে থাকেন। এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তাদের চূড়ান্ত গন্তব্য হচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।

তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, এটা ক্রমান্বয়ে একটি প্রবণতার সৃষ্টি করছে।বিশেষ করে গত বছর থেকে এটা শুরু হয়েছে।’ মেয়ার জানান, চোরাচালানকারীরা সাধারণত মেক্সিকোকে ট্রানজিট দেশ হিসেবে ব্যবহার করে থাকে। এটি চোরাচালানের জন্য ক্রমেই জনপ্রিয় একটি রুটে পরিণত হয়েছে। মানব পাচারকারীদের বিস্তৃত একটি নেটওয়ার্কও এই রুটের সুবিধা গ্রহণ করছে।

তিনি উল্লেখ করেন, মেক্সিকো দিয়ে বিপুল পরিমাণ জিনিস চোরাচালান হয়।এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ অভিবাসীদের ক্ষমা করে দেয়ার ব্যাপারে যে গুজব প্রচলিত আছে তাও মানব পাচারের ক্ষেত্রে বড় একটি ফ্যাক্টর হতে পারে।

মেক্সিকোর ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত সময়ে মেক্সিকোতে ৭ হাজারের বেশি অবৈধ আফ্রিকান অভিবাসীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এধরনের অভিবাসীর সংখ্যা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ক্রমান্বয়েই বেড়ে যাচ্ছে।

২০১৩ সালে মেক্সিকোর ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ এশিয়া এবং আফ্রিকার দেশগুলি থেকে আসা হাজারের কম অবৈধ অভিবাসীকে গ্রেফতার করেছিল। কিন্তু চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্টের মধ্যে এই সংখ্যা বেড়ে প্রায় ১১ হাজারে পৌঁছেছে।সূত্র: এবিসি নিউজ

সম্পাদনা: জাহিদ

 


সর্বশেষ

আরও খবর

সংসদে ৬,৭৮,০৬৪ কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব

সংসদে ৬,৭৮,০৬৪ কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব


আ’লীগ নেতা বিএম ডিপোর একক মালিক নন

আ’লীগ নেতা বিএম ডিপোর একক মালিক নন


চীনের সাথে বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে চায় বাংলাদেশ

চীনের সাথে বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে চায় বাংলাদেশ


তৎপর মন্ত্রীগণ, সীতাকুণ্ডে থামেনি দহন

তৎপর মন্ত্রীগণ, সীতাকুণ্ডে থামেনি দহন


অত আগুন, এত মৃত্যু, দায় কার?

অত আগুন, এত মৃত্যু, দায় কার?


যে গল্প এক অদম্য যোদ্ধার

যে গল্প এক অদম্য যোদ্ধার


আফগান ও ভারতীয় অনুপ্রবেশ: মে মাসে আটক ১০

আফগান ও ভারতীয় অনুপ্রবেশ: মে মাসে আটক ১০


সীমান্ত কাঁটাতারে বিদ্যুৎ: আলোচনায় বিজিবি-বিজিপি

সীমান্ত কাঁটাতারে বিদ্যুৎ: আলোচনায় বিজিবি-বিজিপি


চালের বাজার নিয়ন্ত্রণে কঠোর সরকার

চালের বাজার নিয়ন্ত্রণে কঠোর সরকার


সাংবাদিকতা বিরোধী আইন হবে না: মন্ত্রী

সাংবাদিকতা বিরোধী আইন হবে না: মন্ত্রী