Thursday, November 10th, 2016
যুক্তরাষ্ট্রে ইলেভেন নাইনের ট্রাম্পপেট
November 10th, 2016 at 1:15 pm
যুক্তরাষ্ট্রে ইলেভেন নাইনের ট্রাম্পপেট

মাসকাওয়াথ আহসান: মার্কিন নির্বাচন কমিশন সদ্য সমাপ্ত রাষ্ট্রপ্রধান নির্বাচনটিকে সুষ্ঠু হয়েছে বলে দাবী করলেও বাধ সেধেছে দক্ষিণ এশিয়া থেকে যাওয়া একটি নির্বাচনী পর্যবেক্ষক দল। তারা অভিমত প্রকাশ করেছেন, এই কি ইউএস নির্বাচনের ছিরি! দেখে মনে হলো বাংলা, বিহার, পাঞ্জাবের নির্বাচন। কী ছিলো না সেখানে! ভোটারদের মধ্যে নগদ ডলার বিতরণ; ভোট কেন্দ্র দখল, ভোট কারচুপি, জাল ভোট প্রদান, অস্ত্র নিয়ে শো ডাউন, ধর্ম নিয়ে রাজনীতি।

প্রতিবেদনে লেখা হয়: ফ্লোরিডা রাজ্যে ডেমোক্র্যাট ক্যাডারদের বিরুদ্ধে ভোটকেন্দ্র দখল করে জালভোট দেবার অভিযোগ রয়েছে। ভোটারদের মাঝে বিতরণকালে নগদ ডলারসহ গ্রেফতার এক ডেমোক্র্যাট ইউপি চেয়ারম্যান। পেনসিলভেনিয়ায় আগ্নেয়াস্ত্রসহ ভোটকেন্দ্র দখলের অভিযোগ রিপাবলিকান ক্যাডারদের বিরুদ্ধে। গুলিবিদ্ধ ৪।

বোরকা পরিহিত এক পুরুষ জালভোটার ধরা পড়লো নিউ ইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসে। টেক্সাসে সংখ্যালঘু ভোটারদের ভোটদানে বাধা। জর্জ ডব্লিউ বুশের বিরুদ্ধে সংখ্যালঘুদের পিস্তল উঁচিয়ে হুমকি প্রদানের অভিযোগ।

1

ইন্ডিয়ানা রাজ্যে ভোটারদের তৃষ্ণা মেটাতে পানির বোতল বিতরণের অভিযোগ বিল ক্লিনটনের বিরুদ্ধে। ইন্ডিয়ানা রাজ্যের আদালত কেন এটাকে “পানির বিনিময়ে ভোট ক্রয়” বলা যাবে না এই মর্মে স্যুয়োমটো রুল জারি করেছে।

বোস্টনে ভোটকেন্দ্র দখলকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে ককটেল বিস্ফোরণ। পুলিশের মৃদু লাঠিচার্জে ছত্রভঙ্গ ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান ক্যাডাররা।আরকানসাসে ভোটকেন্দ্রের বাইরে ছাত্র-রিপাবলিকানদের সশস্ত্র শো-ডাউন। সন্ত্রস্ত ভোটাররা।

নির্বাচন কমিশন এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলে, কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা বাদ দিলে নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হয়েছে। যেসব অভিযোগ এসেছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

নির্বাচনে গো-হারা হেরে হিলারি ক্লিনটন রীতিমত শয্যাশায়ী হয়ে পড়েন। এরপরও হিলারি যেন কোন হরতাল-টরতাল ডেকে উন্নয়নকে বাধাগ্রস্থ করতে না পারেন; তাই বিজয়ী প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প তার ক্যাডার দিয়ে হিলারির বাড়ির সামনে কয়েকটি কার্পাস তুলার ট্রাক পাঠিয়ে দেন তাকে বাড়িতে অবরুদ্ধ রাখতে।

ট্রাম্প বিরোধী শ্লোগান: "Not my President, not today"

হিলারি বিদায়ী প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাকে ফোন করে কার্পাস তুলার ট্রাকের বিপদের কথা জানান। ওবামা বলেন, বড়ই পরিতাপের বিষয়; গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের এ কী অবক্ষয়! কিন্তু আমি যেহেতু নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়া লোক; এখন কোন অশান্তির মধ্যে যেতে পারবো না।

ট্রাম্পের নির্বাচনী দপ্তরের সামনে প্ল্যাকার্ড নিয়ে হাজির হয় ওলামা রিপাবলিকানের একটি মিছিল। তারা শ্লোগান দেয়, খ্রীস্টানের দেশ চাই; অন্য কারো বেইল নাই।

পরিতৃপ্তির হাসি সহযোগে ট্রাম্প ওলামাদের উদ্দেশ্যে বলেন, চিন্তা নাই; যুক্তরাষ্ট্র এখন থেকে ওল্ড টেস্টামেন্ট সনদ অনুযায়ী চলবে।

কিছুক্ষণের মধ্যেই হেলিকপ্টারে করে হাজির হন এক বিশিষ্ট ধর্মীয় নেতা জোসেফ শফিস্টাইন। এই নেতা নির্বাচনের আগে বারবার ফতোয়া দিয়েছেন, খ্রীস্টধর্মে নারী নেতৃত্ব হারাম। খুশি হয়ে ফিলাডেলফিয়ার জামিয়া উলুম চার্চের যাজক ও হেফাজতে খেরেস্তান প্রধান জোসেফ শফিস্টাইনকে খাসজমি উপহার ঘোষণা করেন নবনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্পের বিজয় উপলক্ষে আগামী রোববার চার্চসমূহে বিশেষ দোয়া খায়েরের বন্দোবস্ত করা হয়েছে বলে জানান হেফাজতে খেরেস্তান প্রধান।

1

রিপাবলিকান ছাত্রী সংস্থার কিছু নান মিছিল করে ট্রাম্পের নির্বাচনী অফিস অভিমুখে আসার পথে এক নারী সাংবাদিক তাদের পথ আটকে জিজ্ঞেস করেন, এই যে ট্রাম্প নামের লোকটি নারীদের নিয়ে এতো নোংরা কথাবার্তা বলে, তবুও আপনারা নারী হয়ে তাকে ভোট দিলেন?

ছাত্রী সংস্থার একনেত্রী উত্তর দেন, ঈশ্বর উনাকে ক্ষমা করে দিয়েছেন। কারণ উনি খ্রীস্টান যুক্তরাষ্ট্র গড়ার শপথ করেছেন।

একদল প্রগতিশীল নারীবাদীকে বিজয় মিছিল নিয়ে আসতে দেখে সাংবাদিক তাদের কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করেন, আপনারা একজন নারীকে ভোট না দিয়ে পুরুষকে ভোট দিলেন কেন?

তাদের নেত্রী বলেন, আমরা হিলারিকে নারী সমাজের প্রতিনিধি মনে করি না। উনি পুরুষতন্ত্রের হাতের পুতুল। উনি বিল ক্লিনটনের লটর পটরের খবর চাউর হবার পরও মুখে কুলুপ এঁটে রইলেন। আমরা হইলে তো চিল্লায়া পাড়া মাথাত তুলতাম। ন্যুনতম আত্মসম্মানবোধ নেই হিলারির।

সাংবাদিক জিজ্ঞেস করেন, তাহলে ট্রাম্পের এতো লটর পটরের খবর জানার পরেও আপনারা তাকে ভোট দিলেন যে!

নেত্রী বলেন, এইটা উনার ব্যক্তিগত বিষয়।

হঠাৎ দেখা যায় দক্ষিণ এশীয় একদল নারী-পুরুষ বিজয় মিছিল নিয়ে আসছে ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রতীক “সোনার হাতি”নিয়ে। অমনি যুব রিপাবলিকান ক্যাডাররা গিয়ে তাদের উদুম পুদুম পিটাতে থাকে লোহার রড দিয়ে।

–অই তরা এইহানে ক্যান। টেণ্ডারে ভাগ বসাইতে চাস! যুক্তরাষ্ট্রে আর কোনো কাউয়া দরকার নাই। এইডা হইবো শ্বেতাঙ্গ চেতনার যুক্তরাষ্ট্র।

president-hilary

মনে বড়ো ব্যথা নিয়ে ফিরে যায় দক্ষিণ এশীয় বিজয় মিছিলটি। বাড়িতে ফেরার পথে সবাই ফেয়ার এণ্ড লাভলি কিনে নেয়। দুই সপ্তাহ মুখে মেখে তারপর আবার তারা ট্রাম্পকে সোনার হাতি উপহার দেবে এমন সিদ্ধান্ত হয়।

হঠাৎ ট্রাম্পের কাছে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ফোন আসে, ইয়াদ পিয়া কী আয়ে!

ট্রাম্প আনন্দের সঙ্গে উত্তর দেয়, ইয়াড পিয়া খী আয়ে!

মোদি গুণগুণ করে গেয়ে ওঠেন, আয়োগে যাব তুম ও সাজনা আঙ্গনা ফুল খিলেঙ্গে।

ট্রাম্প জিজ্ঞেস করেন, মোদি ব্রো আমার তো একটু খ্রীস্টত্ববাদি ইমেজ দাঁড়িয়ে গেছে। এখন কী করি!

–আমি তো বলেছিলাম টয়লেট ফার্স্ট; টেম্পল লেইটার। কিন্তু মুশকিল হলো যুক্তরাষ্ট্রে তো টাট্টিখানার অভাব নেই।

–এসকর্ট ফার্স্ট; চার্চ লেইটার বললে কেমন হয়!

–দরকার নাই। ইমপিচমেন্ট আইসা পড়তে পারে।

–দেখি তাইলে পুতিন ব্রোকে ফোন করি।

–তাই করেন। জয় হিন্দ।

–জয় খ্রিস্ট।

মিশরের মুসলিম ব্রাদারহুডের এক খতিব এসে পড়েন পুতিনকে ফোন করার আগেই।

–আপনার জন্য এতো খাটাখাটনি করলাম। বিভিন্ন রাজ্যে মসজিদে গিয়া খোতবা দিছি, তোমরা যারা সিটিজেন হইয়া গেছো; তাগোর চেষ্টা হওয়া উচিত আর কোন মুসলমান জানি আইতে না পারে। এমনিতেই এইখানে চাকরি-বাকরির অভাব। আর এই হিলারি আমাগো তাহরির স্কোয়ারের শারিয়াহ বিপ্লব ভন্ডুল কইরা মুরসিরে মিশরের তখতে বসাইছে আমগো হাত থিকা তখত কাইড়া নিয়া। মুরসি অনেকগুলি মসজিদ-মাদ্রাসা বন্ধ কইরা ইসলামের অবমাননা করছে! তা-ও তুমরা কোন মুখে হিলারিরে ভোট দিতে চাও! তোমরা কী জানো না, ইসলামে নারী নেতৃত্ব হারাম।

100-days-trump

ট্রাম্প খুব খুশী হয়ে বলেন, আপনাদের জন্য হুরের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এক্ষুণি আপনাদের এক গোপন হেভেনে নিয়ে যাবে আমার যুব-রিপাবলিক নেতারা।

খুশীতে বাকবাকুম হয়ে বেরিয়ে যায় ব্রাদারহুড নেতা।

হঠাৎ খবর আসে কয়েকটি রাজ্যে “যীশু অনুভূতি”-তে আঘাতের অভিযোগে মুসলিমদের ঘরবাড়িতে লুটপাট হয়েছে।

কাজটা অতিউৎসাহী রিপাবলিকান ইউপি চেয়ারম্যানের নেতৃত্বেই ঘটেছে। কিন্তু ট্রাম্প টুইট করেন, নির্বাচনে হেরে ডেমোক্র্যাটরাই এ ঘটনা ঘটিয়েছে; দেশকে অস্থিতিশীল করে তুলতে।

নির্বাচনে জেতার খবরে গত আট বছর ক্ষমতা থেকে দূরে থাকা যেসব রিপাবলিকান কর্মী ট্যাক্সি চালাতো; তারা দ্রুত গিয়ে আদিবাসীদের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। গুলিতে নিহত হন দুই আদিবাসী।

ট্রাম্প বিরক্ত হন। এতো তাড়াহুড়ার কী ছিলো! কাজটা ধীরে ধীরে করলেই তো হয়। ট্রাম্পের পরামর্শক বলেন, মি প্রেসিডেন্ট ইলেক্ট; এখন আর সবকিছুতে প্রতিক্রিয়া দেখাবেন না। সংখ্যালঘু বা আদিবাসী নির্যাতনের খবরে বোবায় ধইরা থাকবেন।

লাস্যময়ী পরামর্শক জুলিয়ানার দিকে তাকিয়ে ট্রাম্প বলেন, আজকের সন্ধ্যাটা বড্ড সুন্দর। ইচ্ছা করছে আমার এক্সদের ডেকে পাঠাই; যাদের বিস্মৃত হয়েছিলাম। যুক্তরাষ্ট্রকে আমি ভালোবাসার যৌথ খামার হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।

জুলিয়ানা বলেন, মি প্রেসিডেন্ট ইলেক্ট; আপনাকে অভিশংসনের ব্যাপারে খুবই সাবধানে থাকতে হবে।

শপথ গ্রহণের আগে নিয়ম অনুযায়ী এফবিআই ও সিআই এ-র ডিরেক্টর আসেন দেখা করতে।

তাদেরকে দেখে ট্রাম্প বলেন, তা বলুন আপনাদের জন্য কী করতে পারি!

trump-women

–মি প্রেসিডেন্ট ইলেক্ট আপনাকে কিছুই করতে হবে না। আপনি হোয়াইট হাউজে থাকবেন। ঘুরবেন, ফিরবেন, খাবেন। বিভিন্ন দেশের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাত করবেন। জর্জ ওয়াশিংটন, আব্রাহাম লিংকন ইত্যাদিদের মাজার জিয়ারত করবেন। ভিয়েতনাম, আফঘানিস্তান, ইরাক ইত্যাদি ওয়ার ভেটেরানদের মেডেল-টেডেল পরিয়ে দেবেন। বাকিটা আমরাই করবো।

ট্রাম্প অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করেন, তার মানে; আমি কী আপনাদের হাতের খেলার পুতুল।

–এতো তাড়াতাড়ি সব কিছু বুঝে ফেলার দরকার নেই মি প্রেসিডেন্ট ইলেক্ট। ও হ্যা আপনার প্রতিটি যোগাযোগের দিকে আমাদের নজর আছে। পুতিনের সঙ্গে আপনার যোগাযোগ যত কম হয় ততই ভালো। আমরা যেহেতু গর্বাচেভকে দিয়ে সোভিয়েত ভেঙ্গেছি; বলাতো যায় না, এর প্রতিশোধ নিতে পুতিন হয়তো আপনাকে ট্রাম্পচভ বানিয়ে ছাড়বে।

maskaoath 2

লেখক: প্রবাসী সাংবাদিক ও ব্লগার


সর্বশেষ

আরও খবর

মহামারী, পাকস্থলির লকডাউন ও সহমতযন্ত্রের নরভোজ

মহামারী, পাকস্থলির লকডাউন ও সহমতযন্ত্রের নরভোজ


ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল করুন

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল করুন


নাচ ধারাপাত নাচ!

নাচ ধারাপাত নাচ!


মাতৃভাষা বাংলা’র প্রথম লড়াই ১৮৩৫ সালে হলেও নেই ইতিহাসে!

মাতৃভাষা বাংলা’র প্রথম লড়াই ১৮৩৫ সালে হলেও নেই ইতিহাসে!


তারুণ্যের ইচ্ছার স্বাধীনতা কোথায়!

তারুণ্যের ইচ্ছার স্বাধীনতা কোথায়!


সমাজ ব্যর্থ হয়েছে; নাকি রাষ্ট্র ব্যর্থ হয়েছে?

সমাজ ব্যর্থ হয়েছে; নাকি রাষ্ট্র ব্যর্থ হয়েছে?


যুদ্ধ এবং প্রার্থনায় যে এসেছিলো সেদিন বঙ্গবন্ধুকে নিয়েই আমাদের স্বাধীনতা থাকবে

যুদ্ধ এবং প্রার্থনায় যে এসেছিলো সেদিন বঙ্গবন্ধুকে নিয়েই আমাদের স্বাধীনতা থাকবে


বঙ্গবন্ধু কেন টার্গেট ?

বঙ্গবন্ধু কেন টার্গেট ?


আমি বাংলার, বাংলা আমার, ওতপ্রোত মেশামেশি…

আমি বাংলার, বাংলা আমার, ওতপ্রোত মেশামেশি…


শেখ হাসিনার ৭৪ তম জন্মদিন: ‘পুতুল’ খেলার আঙিনায় বেজে উঠুক ‘জয়’র বাঁশি

শেখ হাসিনার ৭৪ তম জন্মদিন: ‘পুতুল’ খেলার আঙিনায় বেজে উঠুক ‘জয়’র বাঁশি