Sunday, July 3rd, 2022
‘যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল সরালেও বিচারে প্রভাবে পড়বে না’
August 24th, 2016 at 3:14 pm
‘যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল সরালেও বিচারে প্রভাবে পড়বে না’

ঢাকা: অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট মাহবুবে আলম বলেছেন, পুরাতন হাইকোর্ট ভবন থেকে যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল অন্যত্র সরিয়ে নিলেও তাতে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার কার্যক্রমে কোনো প্রভাব পড়বে না। বুধবার অ্যাটর্নি জেনারেলের নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন।

অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘প্রধান বিচারপতি যদি মনে করেন পুরাতন হাইকোর্ট ভবনটি সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের প্রয়োজন তাহলে নিশ্চয় রাষ্ট্র যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের জন্য অন্যত্র জায়গা ঠিক করে নিবে। এ নিয়ে উদ্বেগের কোনো কারণ দেখছি না।’

তিনি বলেন, ‘যুদ্ধাপরাধের বিচার করছেন বিচারপতিরা। এখানে ভবনের কোনো গুরুত্ব নাই। ট্রাইব্যুনালের রায়ের মধ্য দিয়েই মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের ঘটনাপুঞ্জি সংরক্ষিত থাকবে।’

উল্লেখ্য, সোমবার যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল অন্যত্র সরিয়ে নিতে আইন মন্ত্রণালয়েক চিঠি দেন হাইকোর্ট।

মীর কাসেম আলীর সময় আবেদনের বিষয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ইতোমধ্যে দেরি হয়ে গেছে। এ পর্যন্ত যুদ্ধাপরাধের দায়ে কাদের মোল্লার রিভিউ পিটিশন যেদিন দায়ের করা হয়েছে, তার পরদিনই শুনানি হয়েছে। তারপর কামারুজ্জামানের মামলায় রিভিউ দায়েরের ৩১ দিনের মাথায় শুনানি হয়েছে। মুজাহিদের মামলা ৩৪দিনের মাথায়, সালাউদ্দিন কাদেরের মামলায় ৩৪দিন, নিজামীর মামলায় ৩৭দিনের মাথায় রিভিউ শুনানি হয়েছে। মীর কাসেমের মামলায় রিভিউ দায়ের হয়েছে গত ১৯জুন, বুধবার পর্যন্ত ৬৬দিন চলে গেছে।

নানা অজুহাতে তারা বলেছেন, মীর কাসেমের ছেলেকে পাওয়া যাচ্ছে না। সেজন্য আইনজীবী সময় চেয়েছেন। আপিল বিভাগ তাদের এই বক্তব্য গ্রহণ করেননি। আপিল বিভাগ শুনানি শুরু করতে বলেছেন, আগামী রোববার বাকি শুনানিতে অংশগ্রহণ করবেন বলে কথা দিয়েছেন, ওইদিন শুনানি শেষ হবে বলে আমরা আশা করি।

আমার বক্তব্য হলো- এটা রিভিউ আবেদন, সার্টিফিকেট দেন সিনিয়র অ্যাডভোকেট। এই মামলার পুরো শুনানিতে ছিলেন অ্যাডভোকেট শাহজাহান, উনি পাশে উপস্থিত ছিলেন। কাজেই এখানে মীর কাসেমের ছেলের অনুপস্থিতির জন্য মামলার শুনানি বন্ধ করা যায় না।

আদালত বলেছে, আইনে রিভিউর কোন বিধান নাই। রিভিউ যে নাই- সে বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষ থেকে জোরালো যুক্তি তুলে ধরা হয়েছিলো। তার ন্যায় বিচারের স্বার্থে আপিল বিভাগ সহজাত ক্ষমতায় তা দিয়েছেন।

কাদের মোল্লার রায়েও বিস্তারিত নিয়ম বলে দেওয়া হয়েছে। ৩০-৩৫ দিনের মাথায় নিষ্পত্তি করা হয়েছে। মীর কাসেম আলীর বুধবার ৬৬দিন পার হয়ে গেছে। আরও একমাস স্থগিতের আবেদন এটা আদালত গ্রহণ করেন নাই। এটাতো নিশ্চয়ই এই যে সময় নেওয়া হচ্ছে, যেসব প্রার্থনা করা হচ্ছে যে, মীর কাসেমের ছেলে না থাকলে মামলার শুনানি হবে না। এটা তো কোনরকম যৌক্তিক কথা বলে আমি মনে করি না। প্রধান বিচারপতি সঠিকভাবেই আজকে তাদের প্রার্থণা নামঞ্জুর করেছেন এবং বিজ্ঞ আইনজীবীকে মামলা উপস্থাপন করতে বলেছেন।

সময় ক্ষেপণের জন্য করা হচ্ছে কি-না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমার বিবেচনায় তাই।

মামলার নথি সুপ্রিম কোর্টের রিভিউ’র নথি মক্কেলের কাছে থাকার কথা না, সেটা আইনজীবীর কাছে থাকবে, অ্যাডভোকেট অন রেকর্ডের কাছে থাকবে।

প্রধান বিচারপতি যদি মনে করেন, যেখানে বিচার হচ্ছে, এই ভবন প্রয়োজন, রাষ্ট্র নিশ্চয়ই বিচারের স্থান ঠিক করে দিবে। এটা নিয়ে চিন্তার কোন কারণ নাই। বিচার প্রক্রিয়ায় এটার কোন প্রভাব বিস্তার করবে না।

সড়ক ভবন পাওয়ার পরও পুরাতন পরিত্যক্ত ভবন দরকার- কত দিনে রিভিউ দায়ের হয়েছে, নিষ্পত্তি হয়েছে, এটার জন্য আমি আপিল বিভাগের রেকর্ড রুমে গিয়েছিলাম, সেখানে গিয়ে আমি স্তম্ভিত হয়ে গিয়েছি। যে মামলার নথি যেভাবে রাখা হয়েছে, সেখানে নড়াচড়া করার জায়গা নাই। আসলে আদালতের প্রচুর জায়গা দরকার। বিচারপতিদের বসার জায়গা নাই, তারা বারান্দাতে বসছেন, রেকর্ড যেভাবে রাখা হচ্ছে, খুবই ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থাতে। সত্যিকার অর্থে এই ভবন যখন করা হয়েছে, তখন পূর্ব পাকিস্তান একটা প্রদেশ ছিল। এখন বাংলাদেশ একটা স্বাধীন রাষ্ট্র, শুধু স্বাধীন রাষ্ট্র না, একটি অগ্রসরগামী দেশ। যে দেশ অন্য দেশের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলছে। বিশেষ করে, মানবাধিকার, আইনের শাসন ও বিচার বিভাগ ইত্যাদির ব্যাপারে।

পৃথিবীর অন্য দেশে যেভাবে আন্ডারগ্রাউন্ডে রেকর্ড রুম থাকে, আমাদেরকে সেভাবে চিন্তা করতে হবে। আমার খুব বেশি টেনশন হলো, এগুলো স্থানের অভাবে যেভাবে রাখা হয়েছে বা সুপ্রিম কোর্টের নথিগুলো যেভাবে আছে, সেটা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছে।

এই ভবনটা দেখতে খুবই সুন্দর। এটা হয়েছে ১৯০৫ সালে। আমি আমার গ্রামে যেখানে পড়েছি, সেই স্কুলটা হয়েছে ১৯০৫ সনে। কাজেই সময়ের দিক থেকে এই ভবনটা এমন কোন পুরনো ভবন না। যুদ্ধাপরাধের বিচার করেছেন বিচারকরা। বিল্ডিং করে নাই। সেগুলো সংরক্ষিত হবে রায় দিয়ে। রায়গুলো চিরদিন থাকবে।

সোহরাওয়ার্দী উদ্যান সংরক্ষণের প্রয়োজন এই জন্য যে, বহুদিন যাবত এটা খোলা ময়দান হিসাবে আছে। ঐতিহাসিক কিছু ঘটনা ঘটেছে-এখানে। এই রাষ্ট্রের অভ্যুদয়ের শুরু হয়েছে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান থেকে। এগুলো সরকার ও জনগণের অভিমতের ভিত্তিতে যাই হোক করা হবে, এটা কোন অভিমত দেওয়ার বিষয় না।

প্রতিবেদন: ফজলুল, সম্পাদনা: মাহতাব শফি

 


সর্বশেষ

আরও খবর

সংসদে ৬,৭৮,০৬৪ কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব

সংসদে ৬,৭৮,০৬৪ কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব


আ’লীগ নেতা বিএম ডিপোর একক মালিক নন

আ’লীগ নেতা বিএম ডিপোর একক মালিক নন


চীনের সাথে বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে চায় বাংলাদেশ

চীনের সাথে বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে চায় বাংলাদেশ


ভোজ্যতেল ও খাদ্য নিয়ে যা ভাবছে সরকার

ভোজ্যতেল ও খাদ্য নিয়ে যা ভাবছে সরকার


তৎপর মন্ত্রীগণ, সীতাকুণ্ডে থামেনি দহন

তৎপর মন্ত্রীগণ, সীতাকুণ্ডে থামেনি দহন


অত আগুন, এত মৃত্যু, দায় কার?

অত আগুন, এত মৃত্যু, দায় কার?


যে গল্প এক অদম্য যোদ্ধার

যে গল্প এক অদম্য যোদ্ধার


আফগান ও ভারতীয় অনুপ্রবেশ: মে মাসে আটক ১০

আফগান ও ভারতীয় অনুপ্রবেশ: মে মাসে আটক ১০


সীমান্ত কাঁটাতারে বিদ্যুৎ: আলোচনায় বিজিবি-বিজিপি

সীমান্ত কাঁটাতারে বিদ্যুৎ: আলোচনায় বিজিবি-বিজিপি


চালের বাজার নিয়ন্ত্রণে কঠোর সরকার

চালের বাজার নিয়ন্ত্রণে কঠোর সরকার