Thursday, December 22nd, 2016
যেন হরতালের দিন শেষ
December 22nd, 2016 at 8:57 am
যেন হরতালের দিন শেষ

ঢাকা:

হরতাল! ২০১৬ সালে এই শব্দটি যেন সাধারণের মধ্যে ছিলোই না। বিগত কয়েক বছরে হরতালের যে ভয়াবহ রূপ দেখেছে বাংলাদেশ তার তুলনা দিতে গিয়ে সাধারণ মানুষ বলছে ‘হরতালের দিন শেষ’। ২০১৬ সাল যেন তারই প্রমাণ। এ বছর অন্যতম রাজনৈতিক দল বিএনপি’র কোনো হরতাল কর্মসুচি ছিলো না। শুধুমাত্র দুই মানবতাবিরোধী অপরাধীর রায়কে কেন্দ্র করে জামায়াতে ইসলামী দেশব্যপী ছয়টি হরতাল কর্মসুচি দেয়। তবে কর্মসূচিগুলোতে দলটির নেতা-কর্মীদের রাজপথে দেখা যায়নি। শুধু বিজ্ঞপ্তি দিয়েই কর্মসুচি দিয়েছে তারা। অন্যদিকে হরতালে রাজপথে দেখা যায়নি নেতাকর্মীদের, তবে ছিলো শত শত পুলিশের উপস্থিতি। আর দূরপাল্লার যানবাহন বাদ দিয়ে অন্যান্য যান চলাচল ছিলো স্বাভাবিক। প্রতিবেদক ময়ূখ ইসলামের গ্রন্থনায় এক নজরে ফিরে দেখা যাক ২০১৬ সালের হরতাল পরিস্থিতি।

৫ সেপ্টেম্বর: একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধে মীর কাসেম আলীর ফাঁসি কার্যকর করায় সারাদেশে হরতাল পালন করে জামায়াতে ইসলামী। ওইদিন সকাল ৬টা থেকে দেশব্যাপী হরতাল শুরু হয়।

তবে হরতালে সড়কে যানবাহনের সংখ্যা ছিলো অন্যান্য দিনের মতোই স্বাভাবিক। হরতালের সমর্থনে দেখা মেলেনি কোনো মিছিল বা পিকেটিং।

৩১ আগস্ট: জামায়াতে ইসলামীর নেতা মীর কাসেম আলীর রিভিউ আবেদন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ খারিজ করে দেয়ায় সারাদেশে হরতাল পালন করে জামায়াত।ওই দিন সকাল ৬টা থেকে দেশব্যাপী হরতাল শুরু হয়ে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত চলে। তবে হরতালের সমর্থনে দলটির কোনো মিছিল ও পিকেটিংয়ের খবর পাওয়া যায়নি।

১২ মে: একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধে জামায়াতের আমির মতিউর রহমান নিজামীর ফাঁসি কার্যকর করার প্রতিবাদে দুই দিনের হরতাল কর্মসুচি দেয় জামায়াত। ওই দিন ভোর ৫টা থেকে দেশব্যাপী হরতাল শুরু হয়।

এই হরতালে রাজপথ স্বাভাবিক থাকলেও প্রভাব পড়ে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায়। হরতালের কারণে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা ১২ মে বৃহস্পতিবার পিছিয়ে যায়; যা ২০ মে অনুষ্ঠিত হয়।

৮ মে: মতিউর রহমান নিজামীর রিভিউ আবেদন খারিজ হওয়ার প্রতিবাদে এ দিন সারাদেশ হরতাল পালন করে জামায়াতে ইসলামী। তবে রাজধানী ঢাকায় এ হরতালের কোনো প্রভাব পড়েনি। ওই দিনের নির্ধারিত এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। যা ২২ মে অনুষ্ঠিত হয়।

৯ মার্চ: একাত্তরের মানবতা বিরোধী অপরাধে মীর কাসেম আলীর মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহাল রাখার প্রতিবাদে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল পালন করে জামায়াত। এতেও দেখা যায়নি মিছিল বা পিকেটিং।

৭ জানুয়ারি: মতিউর রহমান নিজামীর মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহাল রাখার প্রতিবাদে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল কর্মসুচি পালন করে জামায়াত।

প্রসঙ্গত, ২০১৫ সালের ৮ নভেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে উপস্থাপিত ‘সাত দশকের হরতাল ও বাংলাদেশের রাজনীতি’ শীর্ষক এক বিশ্লেষণে দেখা যায়, ১৯৪৭ থেকে ২০১৫ সালের ৩ নভেম্বর পর্যন্ত জাতীয় হরতালের সংখ্যা ছিল ৬০৫টি এবং স্থানীয় ও আঞ্চলিক হরতালের সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৬১৯টি। এর মধ্যে ১ হাজার ৫৫০টি হরতাল রাজনৈতিক ইস্যুতে হয়েছিল।

২০০১ থেকে ২০০৬ সালে আওয়ামী লীগ ১৬৭টি হরতালের সঙ্গে যুক্ত ছিল। অপরদিকে, ২০০৯ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত বিএনপি ৪০০টি এবং জামায়াত ৪৭৩টি হরতালের সঙ্গে যুক্ত ছিল।

গবেষকরা ২০১৩ সালকে হরতালের বছর উল্লেখ করে বলেন, ওই বছর জাতীয় হরতাল হয়েছিল ৮৬টি যার মধ্যে ৮৫ টিই ছিল পূর্ণ দিবস এবং স্থানীয় হরতাল হয়েছিল ২৭৯টি যার মধ্যে ২১৫টি ছিল পূর্ণ দিবস।

সম্পাদনা: প্রণব


সর্বশেষ

আরও খবর

সাঁওতালদের আর্তচিৎকারের বছর

সাঁওতালদের আর্তচিৎকারের বছর


বৃক্ষমানব, বৃক্ষহীনমানব

বৃক্ষমানব, বৃক্ষহীনমানব


আতঙ্কে ছিল নাসিরনগরের হিন্দুরা

আতঙ্কে ছিল নাসিরনগরের হিন্দুরা


বিদায়ী বছরের আলোচিত হত্যাকাণ্ড

বিদায়ী বছরের আলোচিত হত্যাকাণ্ড


টাম্পাকো শ্রমিকদের কান্নার বছর

টাম্পাকো শ্রমিকদের কান্নার বছর


বিএনপি শুধু হারিয়েছে, পায়নি কিছুই

বিএনপি শুধু হারিয়েছে, পায়নি কিছুই


পুলিশ আইকনের করুণ পরিনতির বছর

পুলিশ আইকনের করুণ পরিনতির বছর


বছরজুড়ে উদ্বেগজনক নারী নির্যাতন

বছরজুড়ে উদ্বেগজনক নারী নির্যাতন


জঙ্গি আতঙ্কের বছর

জঙ্গি আতঙ্কের বছর


ক্রিকেটে ভালো-মন্দের একটি বছর

ক্রিকেটে ভালো-মন্দের একটি বছর