Friday, September 30th, 2016
যেভাবে পাকিস্তানে আক্রমণ করলো ভারত
September 30th, 2016 at 8:56 pm
যেভাবে পাকিস্তানে আক্রমণ করলো ভারত

ফারহানা করিম চৌধুরী: কাশ্মীরের উরি সেনা ছাউনিতে সন্ত্রাসী হামলায় ১৮ ভারতীয় সেনা নিহতের পর এই হামলার জন্য পাকিস্তানকে দায়ী করে ভারত। ফলে উপমহাদেশের পারমাণবিক শক্তিধর দুটি দেশের মধ্যেই উত্তেজনা দ্রুত বাড়তে থাকে। এহেন পরিস্থিতিতে কূটনৈতিকভাবে পাকিস্তানকে কোণঠাসা করার পরিকল্পনা নেয়া ছাড়াও আকস্মিকভাবে ভারত গত বুধবার দিবাগত রাতে পাক-ভারত লাইন অব কন্ট্রোল বা নিয়ন্ত্রণরেখা অতিক্রম করে পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে এক অভিযান পরিচালনা করেছে বলে দাবি জানিয়েছে।

বিশেষ কমান্ডো দ্বারা পরিচালিত এই অপারেশনের নাম দেয়া হয়েছে ‘সার্জিকাল স্ট্রাইক’। ভারতীয় সেনাবাহিনীর দাবি অনুযায়ী, এই অভিযানে ২ জন পাকিস্তানি সেনা নিহত হওয়া ছাড়াও ৭টি সন্ত্রাসী শিবির ধ্বংস করা হয়। ভারতীয় গণমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে’তে দেয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এতে ৫০ জন সন্ত্রাসী হতাহত হয়েছেন।

বিহারের ঘাটক প্লাটুন এবং ১০ ডোগরা ইউনিটের সদস্যরা সার্জিকাল স্ট্রাইকে অংশ নেয়। কারণ সেনাবাহিনীর এই সদস্যরা অভিযানে অংশ নেয়া ভূখন্ডের সঙ্গে পরিচিত ছিল। ১৮ সেপ্টেম্বর উরির সেনা ছাউনিতে হামলায় সেনাবাহিনীর এই দুই ইউনিট ক্ষতির শিকার হয়। ফলে স্বাভাবিকভাবেই সহকর্মীদের মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতেও অধীর ছিল তারা।

surgical-strikes

স্পেশাল ফোর্সের প্রত্যেক সদস্যই প্যারা-কমান্ডো। সেনাবাহিনীতে যে সাধারণ প্রশিক্ষণ হয়, এই প্যারা-কমান্ডোদের প্রশিক্ষণ তার চেয়ে অনেক উন্নত মানের এবং অনেক বেশি কঠিন। বিশেষ অভিযান এবং নিখুঁত অভিযানই এই বাহিনীর একমাত্র কাজ। এদের অস্ত্রশস্ত্রও বাহিনীর অন্যান্য অংশের চেয়ে আলাদা। অপেক্ষাকৃত ছোট এবং হালকা অস্ত্রশস্ত্র ব্যবহার করেন তারা। কিন্তু সেই সব আগ্নেয়াস্ত্র উচ্চ মাত্রায় স্বয়ংক্রিয় এবং মারণ আঘাত হানতে সক্ষম। খুব গোপনে, অতর্কিতে এবং দ্রুত হামলা চালাতে হয় বলেই এই ধরনের অস্ত্র থাকে প্যারা-কমান্ডোদের কাছে।

পাক অধিকৃত কাশ্মীরের নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর ২৫০ কিলোমিটার জুড়ে ছড়িয়ে থাকা এলাকায় যে ভয়ঙ্কর আঘাত হানল ভারত, তা কিন্তু অত্যন্ত কঠিন কাজ ছিল। মাত্র ১৫০ জনের উপর সাতটা লঞ্চ প্যাডে হামলা চালানোর দায়িত্ব ছিল। পাক অধিকৃত কাশ্মীরের আরও অনেক ভিতরে জঙ্গিদের আসল ঘাঁটিগুলি রয়েছে। সেখান থেকেই লঞ্চ প্যাডে আসে তারা। ভারতীয় বাহিনীর দাবি, এবার আরো বড় জঙ্গি অনুপ্রবেশের পরিকল্পনা করা হয়েছিল।  

india-army

লঞ্চ প্যাডগুলো পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের ভিমবার, কেল, তাত্তাপানি এবং লিপা এলাকায় রয়েছে। এগুলো ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার নজরদারিতে ছিল। ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ এবং সামরিক গোয়েন্দা বাহিনী টার্গেট এলাকাগুলোর জঙ্গিদের প্রতিটি পদক্ষেপের প্রতি সতর্ক নজর রাখছিল।

সার্জিকাল স্ট্রাইকের সদস্যদের সঙ্গে ইসরাইলে তৈরি টেভর অ্যাসাল্ট রাইফেল, এম-ফোর বন্দুক, গ্রেনেড, স্মোক গ্রেনেড এবং রাতের বেলায় অন্ধকারে দেখার ডিভাইস ছিল। এছাড়া তারা ব্যারেল গ্রেনেড লঞ্চার বহন করছিল। তাদের হেলমেটে ক্যামেরা ছিল।

মধ্যরাতে সেনাবাহিনীর ধ্রুব এডভান্সড লাইট হেলিকপ্টার নিয়ন্ত্রণরেখা অতিক্রম করে পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে কমান্ডোদের নামিয়ে দেয়। এরপর হেলিকপ্টারটি ভারতীয় ভূখন্ডে ফিরে আসে।

প্যারা-কমান্ডোদের প্যারাড্রপিং করা হয়েছিল এমন কোনও জায়গায়, যে এলাকা পাকিস্তানের নজরদারির বাইরে ছিল। খাড়াই পাহাড় এবং ঘন জঙ্গলে ঢাকা ওই এলাকা অত্যন্ত দুর্গম। রাতের অন্ধকারে ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে কমান্ডোরা ২৫০ কিলোমিটার জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে।

এই ধরনের অভিযানের তিনটি পর্যায় থাকে— ইনফিল্ট্রেশন, এগজিকিউশন বা রেইড এবং এক্সফিল্ট্রেশন।

প্রথম ধাপটির অর্থ হল নিঃশব্দে শত্রুর এলাকায় ঢুকে পড়া। এই কাজটা করতেই সবচেয়ে বেশি সময় লেগেছে স্পেশাল ফোর্স বা বিশেষ বাহিনীর। যে লঞ্চ প্যাডগুলিতে হামলা হয়েছে, সেগুলি নিয়ন্ত্রণ রেখা থেকে ২ কিলোমিটারের মধ্যে অবস্থিত। পাক বাহিনী এবং গোয়েন্দাদের নজর এড়িয়ে পাক অধিকৃত কাশ্মীরের প্রায় ৮-১০ কিলোমিটার ভিতরে ঢুকে পড়েছিল স্পেশাল ফোর্স। এই ফোর্সের সবচেয়ে বড় অস্ত্র হল, প্রতিপক্ষকে অবাক করে দেওয়া। রাতের অন্ধকারে ঠিক এই কৌশল কাজে লাগিয়ে লঞ্চ প্যাডগুলিতে হাজির হন ভারতীয় কমান্ডোরা।

line-of-control

এর পর অভিযানের দ্বিতীয় ধাপ— এগজিকিউশন বা রেইড। অর্থাৎ হামলা চালানো। অতর্কিতে হামলা চালায় ভারতীয় বাহিনী। খুব দ্রুত বিধ্বস্ত করে দেয় লঞ্চ প্যাডগুলিকে। যেখানে ৫০ জন জঙ্গির মৃত্যু হয়।

অভিযানের তৃতীয় ধাপ হল এক্সফিল্ট্রেশন। অর্থাৎ শত্রুর এলাকা থেকে নিজের এলাকায় ফিরে আসা। সেই কাজটা করতে প্যারা-কমান্ডোদের খুব একটা সময় লাগেনি। কারণ ফেরার সময় আর ঘুরপথে ফিরতে হয়নি তাদের। ২ কিলোমিটার দূরেই নিয়ন্ত্রণ রেখা। কাজ শেষ করেই ক্ষিপ্র গতিতে নিয়ন্ত্রণ রেখা পেরিয়ে ফিরে আসে তারা।

এদিকে ভারতীয় সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে স্বীকার করেছে, চান্দু বাবুলাল চৌহান নামে একজন সৈন্য অনিচ্ছাকৃতভাবে অস্ত্রসহ নিয়ন্ত্রণরেখা অতিক্রম করার পর প্রতিপক্ষের কাছে ধরা পড়েন। তবে তিনি সার্জিকাল স্ট্রাইকে অংশ নেয়া কমান্ডোদের মধ্যে ছিলেন না।

এছাড়া এই অভিযানে ভারতীয়দের কোন ক্ষয়ক্ষতিও হয়নি। তবে স্ট্রাইকে অংশ নেয়া দু’জন প্যারা কমান্ডো ভূমি মাইনে আহত হন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং জানান, বাবুলালের মুক্তি নিশ্চিত করতে সবধরনের চেষ্টাই করা হবে।

সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে, এবিপি, এনডিটিভি, সম্পাদনা: তুসা


সর্বশেষ

আরও খবর

করোনায় ৩৭ জনের মৃত্যু

করোনায় ৩৭ জনের মৃত্যু


শিমুলিয়া-বাংলাবাজার নৌপথে যাত্রী ও গাড়ির প্রচণ্ড চাপ, উপেক্ষিত স্বাস্থ্যবিধি

শিমুলিয়া-বাংলাবাজার নৌপথে যাত্রী ও গাড়ির প্রচণ্ড চাপ, উপেক্ষিত স্বাস্থ্যবিধি


দাম বাড়ল মুরগি ও চিনির

দাম বাড়ল মুরগি ও চিনির


ভারতে আবার সংক্রমণের রেকর্ড, একদিনে মৃত্যু প্রায় ৪০০০

ভারতে আবার সংক্রমণের রেকর্ড, একদিনে মৃত্যু প্রায় ৪০০০


দেশে করোনায় আরও ৪১ মৃত্যু, নতুন শনাক্ত ১৮২২

দেশে করোনায় আরও ৪১ মৃত্যু, নতুন শনাক্ত ১৮২২


খালেদা জিয়ার বিদেশ যাওয়া প্রসঙ্গে সিদ্ধান্ত শিগগিরই: আইনমন্ত্রী

খালেদা জিয়ার বিদেশ যাওয়া প্রসঙ্গে সিদ্ধান্ত শিগগিরই: আইনমন্ত্রী


যে যেখানে আছেন সেখানেই সবাইকে ঈদ উদযাপন করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

যে যেখানে আছেন সেখানেই সবাইকে ঈদ উদযাপন করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর


করোনায় কমলো মৃত্যু ও শনাক্তের হার; মৃত্যু ৫০ আর শনাক্ত ১ হাজার ৭৪২

করোনায় কমলো মৃত্যু ও শনাক্তের হার; মৃত্যু ৫০ আর শনাক্ত ১ হাজার ৭৪২


১৬ মে পর্যন্ত লকডাউনের প্রজ্ঞাপন জারি

১৬ মে পর্যন্ত লকডাউনের প্রজ্ঞাপন জারি


২১ দিন পর বৃহস্পতিবার থেকে সড়কে গণপরিবহন

২১ দিন পর বৃহস্পতিবার থেকে সড়কে গণপরিবহন