Monday, February 20th, 2017
যেভাবে শোধ হবে রক্তেরঋণ
February 20th, 2017 at 1:17 pm
যেভাবে শোধ হবে রক্তেরঋণ

বাকী বিল্লাহ: ফেব্রুয়ারি মাসে বিশেষত ২১শে ফেব্রুয়ারির আগে আগে সর্বস্তরে বাংলা ভাষা চালু করার বিষয়টি আলোচিত হয়। সর্বস্তরে বাংলা ভাষা চালু করা ব্যাপারটা আসলে কী?

গত দুইদিন পত্রিকা, টিভি রিপোর্ট ও টকশোতে সর্বস্তরে বাংলা ভাষা চালু ও বাংলার নানান সমস্যা-সংকট নিয়ে আলাপগুলো খেয়াল করছি। এখানে একটা বিষয় প্রায় কমন—সবাই এটা করার দরকার মনে করছে যাতে ভাষা শহীদদের রক্তের সাথে বেইমানী না করা হয়। অর্থাৎ ব্যাপারটা মূলত ঈমানদারীর—আমাদের জাতীয় জীবনে এর গুরুত্ব বা প্রয়োজনীয়তার সম্পর্কটি তেমনভাবে আসছে না। সর্বস্তরে বাংলা ভাষা চালুর ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতাস্বরূপ নানারকম সংকট চিহ্নিত করা হচ্ছে। যেমন তরুণরা বাংলা বাক্যের মধ্যে প্রচুর ইংরেজী শব্দ ঢুকিয়ে দিচ্ছে বা সাইনবোর্ডে বাংলা ব্যবহারের নিয়ম মানা হচ্ছে না ইত্যাদি। টকশোতে একজন প্রথিতযশা কবি প্রমিত বানান রীতির বিশৃংখলাকেই এই মুহূর্তে ভাষার প্রধান সংকট হিসেবে হাজির করলেন। এর বাইরে আরো নানান পয়েন্ট আসছে।

বাস্তবতা হচ্ছে সর্বস্তরে বাংলা ভাষা চালু করার যে আকাঙ্খা তার সাথে এসব খুটিনাটি বিষয়ের সম্পর্ক একেবারেই কম। ব্যাপারটি নির্বাহী আদেশ দিয়ে কয়েকদিনের মধ্যে বাস্তবায়ন করে ফেলার বিষয়ও নয়। এটা একটা দীর্ঘমেয়াদী কাজ যা স্বাধীন বাংলাদেশে কখনো শুরুই হয়নি। এখানে আসল ইস্যুটি হল- বাংলা ভাষার শক্তি ও সামর্থ্য বৃদ্ধি করা। যাতে করে আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞান, দর্শন বা প্রযুক্তির বাহন হিসেবে বাংলাকে প্রতিষ্ঠিত করা যায়। যেই সক্ষমতা ইংরেজী, জর্মন, ফরাসী, জাপানী বা চীনা ভাষার আছে। আদতে এটা একটি বৈপ্লবিক কাজ, কাজটি আজই শুরু করলে এর পূর্ণাঙ্গ সুফল পেতে তিরিশ-চল্লিশ বছর লেগে যাবে। এবং অবশ্যই রাষ্ট্রকে এই কাজে নেতৃত্ব দিতে হবে, প্রচুর বিনিয়োগ করতে হবে।

এক জাপানী সাহিত্যিকের অভিজ্ঞতার গল্পটা বলি—আজ থেকে অনেক বছর আগে তার পিতামহ যখন জাপানের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েছেন, তখন পড়াশোনার পুরো কাজটিই তাকে ইংরেজী ভাষায় করতে হয়েছে। তার পিতা যখন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েছেন তখন অর্ধেক ইংরেজী এবং অর্ধেক জাপানী ভাষায় উচ্চ শিক্ষা নিয়েছেন। আর গল্পটি যার বলা তিনি তার বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে উচ্চ শিক্ষার ভাষা হিসেবে কেবল জাপানী ভাষাকেই পেয়েছেন। এই দীর্ঘ সময়ের পরিকল্পনার ফসল হিসেবে তারা সকল জ্ঞানকেই অনুদিত করে ভাষাকে পূনঃনির্মাণ করেছেন। এবং সত্যিটা হচ্ছে, বাঙালিকে জ্ঞান-বিজ্ঞানে ওই মাপে পৌঁছতে হলে বাংলা ভাষাকে শক্তিশালী ও আরো সামর্থ্যবান করে তোলার কোনো বিকল্প নেই। তাতে এক বিরাট জাতীয় প্রয়োজনীয়তা পূরণের পাশাপাশি ভাষা শহীদদের রক্তঋণও শোধ করা হবে।

লেখক: রাজনৈতিক কর্মী


সর্বশেষ

আরও খবর

সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাস, সংবিধান এবং আশাজাগানিয়া মুরাদ হাসান

সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাস, সংবিধান এবং আশাজাগানিয়া মুরাদ হাসান


গণতন্ত্রের রক্ষাকবজ হিসাবে গণমাধ্যম ধারালো হাতিয়ার

গণতন্ত্রের রক্ষাকবজ হিসাবে গণমাধ্যম ধারালো হাতিয়ার


মহামারী, পাকস্থলির লকডাউন ও সহমতযন্ত্রের নরভোজ

মহামারী, পাকস্থলির লকডাউন ও সহমতযন্ত্রের নরভোজ


ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল করুন

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল করুন


নাচ ধারাপাত নাচ!

নাচ ধারাপাত নাচ!


মাতৃভাষা বাংলা’র প্রথম লড়াই ১৮৩৫ সালে হলেও নেই ইতিহাসে!

মাতৃভাষা বাংলা’র প্রথম লড়াই ১৮৩৫ সালে হলেও নেই ইতিহাসে!


তারুণ্যের ইচ্ছার স্বাধীনতা কোথায়!

তারুণ্যের ইচ্ছার স্বাধীনতা কোথায়!


সমাজ ব্যর্থ হয়েছে; নাকি রাষ্ট্র ব্যর্থ হয়েছে?

সমাজ ব্যর্থ হয়েছে; নাকি রাষ্ট্র ব্যর্থ হয়েছে?


যুদ্ধ এবং প্রার্থনায় যে এসেছিলো সেদিন বঙ্গবন্ধুকে নিয়েই আমাদের স্বাধীনতা থাকবে

যুদ্ধ এবং প্রার্থনায় যে এসেছিলো সেদিন বঙ্গবন্ধুকে নিয়েই আমাদের স্বাধীনতা থাকবে


বঙ্গবন্ধু কেন টার্গেট ?

বঙ্গবন্ধু কেন টার্গেট ?