Monday, October 3rd, 2016
রং তুলির আঁচড়ে দেবী বরণের প্রস্তুতি
October 3rd, 2016 at 7:58 pm
রং তুলির আঁচড়ে দেবী বরণের প্রস্তুতি

প্রীতম সাহা সুদীপ, ঢাকা: দোর গোড়ায় কড়া নাড়ছে বাঙালি হিন্দুধর্মাবলম্বীদের অন্যতম আনন্দঘন পার্বণ শারদ উৎসব। চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। দেবীকে বরণ করে নিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন আয়োজকরা। এদিকে রং তুলির আঁচড়ে দেবীকে রাঙ্গিয়ে তুলতে নির্ঘুম সময় কাটাচ্ছেন প্রতিমা শিল্পীরা।

রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির, রামকৃষ্ণ মিশন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হল, সিদ্ধেশ্বরী কালী মন্দির, সূত্রাপুর, শাঁখারী বাজার, তাঁতীবাজার, রমনা কালী মন্দির ও জয়কালী মন্দির ঘুরে দেখা গেছে প্রায় প্রতিটি মণ্ডপের প্রতিমা শিল্পীরাই প্রতিমায় মাটি লাগানোর কাজ প্রায় শেষ করেছেন। এখন তুলির আঁচড়ে প্রতিমার সৌন্দর্য বাড়ানোর কাজে ভীষণ ব্যস্ত কারিগররা। আরেকটু নিপুণ করে দেবীকে সাজাতে উৎসাহেরও কমতি নেই তাদের মধ্যে।

সূত্রাপুরের সবচেয়ে খ্যাতনামা পূজা কমিটি ‘সম্মিলনী’ প্রতিবছরই নিজেদের প্রতিমায় ভিন্নতা রাখার চেষ্টা করে। এ পর্যন্ত পর পর বেশ কয়েক বছর এ কমিটি প্রতিমার ক্ষেত্রে ঢাকা মহানগর পূজা উদযাপন কমিটির সেরাদের তালিকায় উল্ল্যেখযোগ্য স্থান অর্জন করে পুরস্কার পেয়েছে।

এ পূজা মণ্ডপের প্রতিমাশিল্পী সুবল পাল নিউজনেক্সট’কে বলেন, ‘সম্মিলনীর প্রতিমার কাজ করতে খুব খাটতে হয় বলে এবার অর্ডার অনেক কম নিয়েছি। হাতে ৯টা মণ্ডপের কাজ আছে কিন্তু তাতেই হিমসিম খেতে হচ্ছে। সম্মিলনীর প্রতিমা বাদে ইতিমধ্যেই বাকি প্রতিমাগুলোর মাটি লাগানোর কাজ শেষ করেছি, এখন রং এর কাজ চলছে।’

durga-2

দিন দিন প্রতিযোগিতা বাড়ায় অনেক প্রতিমাশিল্পী ছেড়ে দিচ্ছেন এই পেশা। কারন এ পেশায় যাদের কাজ সুক্ষ তাদেরই চাহিদা বেশি। পেশার বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে এমনটাই জানালেন প্রতিমাশিল্পী সুবল পাল। বংশানুক্রমে বাবা গোপাল পালের হাত ধরেই এ পেশায় এসেছিলেন তিনি। কিন্তু বর্তমানে দেশের খ্যাতনামা প্রতিমা শিল্পীদের মধ্যে একজন সুবল পাল।

কিভাবে এ পেশায় আসা জানতে চাইলে সুবল পাল বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই কাজে বাবাকে সাহায্য করতাম। দেখতে দেখতেই একটা সময় এ কাজকে ভালোবেসে ফেলেছি। একধরনের নেশা চেপে বসেছিল কাজের প্রতি। আর সে নেশা থেকেই এ পেশাতে আসা। বাকি জীবনটুকুও এ পেশায়ই কাটিয়ে দিতে চাই।’

কোন কোন পূজোর মুর্তি তৈরি করেন এমন প্রশ্নের জবাবে এ প্রতিমাশিল্পী বলেন, ‘সারা বছরই তো কোনো না কোনো পূজা থাকে। তাই সব সময়ই হাতে থাকে কাজ। দুর্গাপূজাসহ কালী, লক্ষী, সরস্বতী, বাসন্তী শীতলা, জগদ্ধাত্রী, বিপদনাশিনী, মনসা, গৌরনিতাই বিগ্রহসহ বিভিন্ন পূজার মূর্তি তৈরির কাজ করি প্রায় সারা বছর জুড়েই।’

প্রতিমার সাইজ ও ডিজাইন অনুযায়ী পারিশ্রমিক নেন সুবল পাল। পারিশ্রমিক সম্পর্কে তিনি নিউজনেক্সটবিডি ডটকম’কে বলেন, ‘প্রতিমার উচ্চতা, স্টাইল ও ডিজাইন অনুযায়ী মজুরী নিয়ে থাকি। পূজোর আগে কাস্টমাররা কিছু পয়সা অগ্রিম দিয়ে বায়না করে যান। মূর্তি তৈরী করে ডেলিভারি দিয়ে পুরো টাকা নেই। তবে আমার কাজ একটু এদিক ওদিক হবে না। পারিশ্রমিক বেশি নিলেও আমার কাজ একদম পারফেক্ট। দুর্গাপূজার মূর্তি তৈরীতে সাধারণত ৫০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে দুই লক্ষ টাকা পর্যন্তও মূর্তির কাজ নেই আমি।’

প্রতিমা তৈরীর কাঁচামাল কোথা থেকে সংগ্রহ করেন এমন প্রশ্নের জবাবে সুবল বলেন, ‘আমার গ্রামের বাড়ি বিক্রমপুর থেকে প্রতিমার জন্য এটেল আর বেলে মাটি সংগ্রহ করি। সুতলি আর তারকাটা কিনি ইমামগঞ্জ থেকে। নয়াবাজার থেকে কেনা হয় কাঠ। খড় মিটফোর্ড থেকে আর বাঁশ জিঞ্জিরা থেকে সংগ্রহ করা হয়।’

durga-4

সুবল পাল বলেন, ‘এ পেশাকে সমৃদ্ধ করতে আমি কাজ করে যেতে চাই। আমার অধীনে আরো অনেক কারিগর কাজ করে। তারা কেউই এই পেশা ছাড়বে না। তাদের একেক জনের কাজের অভিজ্ঞতা ২০/২৫ বছরের। তাদের আমি এ কাজকে ভালোবাসতে শিখিয়েছি। এ কাজ যেমন নিজের ভেতরের প্রতিভাকে বাড়ায়, তেমনি এক অন্য রকম প্রশান্তি পাওয়া যায়, যা বলে বোঝানো যাবে না।’

শাঁখারী বাজারের সবচেয়ে খ্যাতনামা প্রতিমা শিল্পী ‘শিমুলিয়া ভাস্কর শিল্পালয়’র কর্ণধার হরিপদ পাল বলেন, ‘এ বছর আমি ১৫টি মণ্ডপের প্রতিমা বানানোর অর্ডার পেয়েছি। তাই দম ফেলারও সময় পাচ্ছি না। মহালয়ার মধ্যেই সব কটি প্রতিমায় মাটি লাগানো আর ফিনিশিং এর কাজ শেষ করেছি। এখন রং এর কাজ করছি, তবে হাতে একসাথে অনেক মণ্ডপের কাজ থাকায় প্রচুর চাপ সহ্য করতে হচ্ছে।’

আর মাত্র তিনদিন পরই শুরু হচ্ছে বাঙালি হিন্দুদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। এবার সারাদেশে ৩০ হাজার ও ঢাকায় ২০২টি পূজা মণ্ডপে এ উৎসব উদযাপিত হবে। আগের বছরের তুলনায় এবার রাজধানীতে পূজা মণ্ডপের সংখ্যা কমলেও বেড়েছে সারাদেশে। নিউজনেক্সটবিডি ডটকম’কে এমনটাই জানিয়েছেন মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির পূজা অনুষ্ঠান বিষয়ক সম্পাদক ও বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সদস্য দিলীপ ঘোষ।

বিশুদ্ধ পঞ্জিকামতে, এবার দুর্গা দেবী আসছেন ‘ঘোটক’-এ চড়ে। গমনও করবেন একই বাহনে। ফল-ছত্রভঙ্গস্তুরঙ্গমে। এবার ১৯ আশ্বিন (৬ অক্টোবর) সায়ংকালে দেবীর বোধন হবে। এরপর ২০ আশ্বিন (৭ অক্টোবর) ষষ্ঠীবিহীত পূজা অনুষ্ঠিত হবে। পর্যায়ক্রমে ২১ আশ্বিন (৮ অক্টোবর) মহাসপ্তমী, ২২ আশ্বিন (৯ অক্টোবর) মহাষ্টমী, ২৩ আশ্বিন (১০ অক্টোবর) মহানবমী এবং ২৪ আশ্বিন (১১ অক্টোবর) বিজয়া দশমী ও প্রতিমা বিসর্জনের মাধ্যমে এই মহানুষ্ঠানের সমাপ্তি হবে।

সম্পাদনা: সজিব ঘোষ


সর্বশেষ

আরও খবর

করোনায় ৩৭ জনের মৃত্যু

করোনায় ৩৭ জনের মৃত্যু


শিমুলিয়া-বাংলাবাজার নৌপথে যাত্রী ও গাড়ির প্রচণ্ড চাপ, উপেক্ষিত স্বাস্থ্যবিধি

শিমুলিয়া-বাংলাবাজার নৌপথে যাত্রী ও গাড়ির প্রচণ্ড চাপ, উপেক্ষিত স্বাস্থ্যবিধি


দাম বাড়ল মুরগি ও চিনির

দাম বাড়ল মুরগি ও চিনির


ভারতে আবার সংক্রমণের রেকর্ড, একদিনে মৃত্যু প্রায় ৪০০০

ভারতে আবার সংক্রমণের রেকর্ড, একদিনে মৃত্যু প্রায় ৪০০০


দেশে করোনায় আরও ৪১ মৃত্যু, নতুন শনাক্ত ১৮২২

দেশে করোনায় আরও ৪১ মৃত্যু, নতুন শনাক্ত ১৮২২


খালেদা জিয়ার বিদেশ যাওয়া প্রসঙ্গে সিদ্ধান্ত শিগগিরই: আইনমন্ত্রী

খালেদা জিয়ার বিদেশ যাওয়া প্রসঙ্গে সিদ্ধান্ত শিগগিরই: আইনমন্ত্রী


যে যেখানে আছেন সেখানেই সবাইকে ঈদ উদযাপন করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

যে যেখানে আছেন সেখানেই সবাইকে ঈদ উদযাপন করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর


ছিনতাইকারীর টানে রিকশা থেকে পড়ে নারীর মৃত্যু

ছিনতাইকারীর টানে রিকশা থেকে পড়ে নারীর মৃত্যু


করোনায় কমলো মৃত্যু ও শনাক্তের হার; মৃত্যু ৫০ আর শনাক্ত ১ হাজার ৭৪২

করোনায় কমলো মৃত্যু ও শনাক্তের হার; মৃত্যু ৫০ আর শনাক্ত ১ হাজার ৭৪২


১৬ মে পর্যন্ত লকডাউনের প্রজ্ঞাপন জারি

১৬ মে পর্যন্ত লকডাউনের প্রজ্ঞাপন জারি