Friday, June 24th, 2016
রণজিৎ বিশ্বাস, স্মরণেষু
June 24th, 2016 at 2:58 am
রণজিৎ বিশ্বাস, স্মরণেষু

টোকন ঠাকুর: রণজিৎ বিশ্বাস যে রসে রম্য গল্প লিখতেন, সাধারণত ওই টোনের রসের লেখক সচরাচর নয়, যে রস স্যার মুজতবা আলীতে মেলে। রস রচনা, কিন্তু নির্মাণ টোন উচুতে। সুতরাং নায়ক-নায়িকা নির্ভর গল্প-উপন্যাস যারা পড়ে আরাম পান, তারা ততটা সিলেটি-বিলেতি আলীতে মজতে পারে না। যারা বা এর বাইরের পাঠক, একটু ‘পড়ুয়া ধরনের পাঠক’, সেরকম কিছু পাঠক ছিল ‘চুপচাপ ধরনের’ লেখক রণজিৎ বিশ্বাসের। ২৩ জুন তিনি চলেন গেলেন।

‘কিন্তু জীবন আমাকে দুটো ট্র্যাজেডি দিয়েছে। এক, বাবার মৃত্যু, দুই, আমার উনিশ বছরের ছেলেটির মৃত্যু।’

রম্যরসের গল্পলেখক। আমি ডাকতাম, রণজিৎ দা। একদিন বললেন, ‘কিন্তু জীবন আমাকে দুটো ট্র্যাজেডি দিয়েছে। এক, বাবার মৃত্যু, দুই, আমার উনিশ বছরের ছেলেটির মৃত্যু।’

তার চাকরির চেয়ারে বসে, একদিন অনেক কথা বললেন। আমি বললাম, ‘রণজিৎ দা, এই অভাগা-গরিব বাংলায় যেখানে একটা সরকারি মানেই বিরাট ব্যাপার, সেখানে সরকারের একজন পূর্ণ দাপ্তরিক সচিব, আপনার একটা সাক্ষরের অনেক ক্ষমতা, আপনার রুমে ঢুকতেও কত পাশ-সিকিউরিটি, এসব কি?’
‘দায়িত্ব’
বললাম, ‘ধরেন জীবনানন্দ দাশ আপনার রুমে ঢুকে পড়েছেন, আপনার কি দায়িত্ব তখন?’
‘বলব, আপনাকে যদি একটা রবীন্দ্র সঙ্গীত শোনানোর ব্যবস্থা করি, আপনি কি বিরক্ত হবেন?’
বললাম, ‘রবীন্দ্রনাথ যদি সচিবালয়ে আসেন, তাকে কি বলবেন?’
রণজিৎ দা সিরিয়াসলি বললেন, ‘কিন্তু রবীন্দ্রনাথ কি সচিবালয়ে আসবেন? চা ঠাণ্ডা হচ্ছে, আপনার জন্যে কি ‘কোশেশ’ করতে পারি, বলুন?’

১৯৯৮ বা ৯৯ সালের দিকে, রণজিৎ দা তখন হয়তবা কোন এক জেলার প্রশাসক, তখন তার ষোল বছর বয়সি ছেলেটি একদিন হারিয়ে যায়। টি এস সি’র রেলিং এ বসে, সেদিন সঙ্গে বউদিও ছিলেন, তখন তাদের খুব খারাপ সময়, অনেকটা সময় নিয়ে আমাকে অনেক কথা বলেছিলেন। কীভাবে ছেলেটি হারিয়ে গেল? কীভাবে কয়েক মাস পর এক আস্তানায় ছেলেটিকে পাওয়া গেল, পাওয়া গেল বটে, ছেলে বাবা-মা’কে অস্বীকার করে বসল, ছেলেটিকে ‘ব্রেইন ওয়াশ’ করা হয়েছিল, ব্যাপারটা আদালতেও গড়াল…তারপর কত কী করে সেই ছেলে পরবর্তী বছরই মারা যায়।

দেখা হলে, তিনি নিজেই এত বিনয়ী হয়ে কথা বলতেন, এটা তার ব্যক্তি চরিত্র, চাকরি দিয়ে তিনি নিজের চরিত্র নষ্ট করেননি, এটা এই অভাগা-বাংলায় বিরল। একদিন শহীদুল জহিরকে নিয়ে অনেক কথা হল, জহির রণজিৎ দা’র চাকরির সহকর্মী ছিলেন, একত্রে চাকরিতে ঢুকেছিলেন ইত্যাদি।

রণজিৎ বিশ্বাস উঁচুমানের রম্যগল্পের লেখক। আজ, এ মুহূর্তে ওই কথাটি আমার আবার মনে পড়ছে, ‘কিন্তু আমাকে মুড়ে আছে দু’দুটো ট্র্যাজেডি’

Thokon Thakur

লেখক: কবি, শিল্পী ও চলচ্চিত্র নির্মাতা


সর্বশেষ

আরও খবর

জয়ে শুরু বাংলাদেশের ক্রিকেট, প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন

জয়ে শুরু বাংলাদেশের ক্রিকেট, প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন


টিকা দিতে রাজধানীতে ৩০০ কেন্দ্র করা হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

টিকা দিতে রাজধানীতে ৩০০ কেন্দ্র করা হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী


ভারতে টিকা নিয়ে অসুস্থ ৫১

ভারতে টিকা নিয়ে অসুস্থ ৫১


১২ মাসের বেতন না দিলে পরিষদ বাতিল: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী

১২ মাসের বেতন না দিলে পরিষদ বাতিল: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী


বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজঃ ওয়ানডের দল ঘোষণা বিসিবির

বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজঃ ওয়ানডের দল ঘোষণা বিসিবির


করোনা নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশের সুনাম বেড়েছে, দাবি স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

করোনা নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশের সুনাম বেড়েছে, দাবি স্বাস্থ্যমন্ত্রীর


স্বর্ণের দাম কমল ভরিতে ১৯৮৩ টাকা, অপরিবর্তিত রুপার দাম

স্বর্ণের দাম কমল ভরিতে ১৯৮৩ টাকা, অপরিবর্তিত রুপার দাম


বঙ্গবন্ধুর মুক্তির নেপথ্যে

বঙ্গবন্ধুর মুক্তির নেপথ্যে


ট্রাম্পের অ্যাকাউন্ট সাময়িক বন্ধ করল ফেসবুক-টুইটার-ইনস্টাগ্রাম

ট্রাম্পের অ্যাকাউন্ট সাময়িক বন্ধ করল ফেসবুক-টুইটার-ইনস্টাগ্রাম


সিইসিসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে দুদকে ১০ আইনজীবীর অভিযোগ

সিইসিসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে দুদকে ১০ আইনজীবীর অভিযোগ